1 মহিষীর মিথ্যা ও বিভার আনন্দ

প্রতাপাদিত্যের পূর্ব্বেই মহিষী ও বিভা উদয়াদিত্যের পলায়ন-সংবাদ অবগত হইয়াছিলেন। উভয়েই ভয়ে অভিভূত হইয়া ভাবিতেছিলেন যে, মহারাজ যখন জানিতে পারিবেন, তখন না জানি কি করিবেন। প্রতিদিন মহারাজ যখন এক একটি করিয়া সংবাদ পাইতেছিলেন, আশঙ্কায় উভয়ের প্রাণ ততই আকুল হইয়া উঠিতেছিল। এইরূপে সপ্তাহ গেল, অবশেষে মহারাজ বিশ্বাসযোগ্য যথার্থ সংবাদ পাইলেন। কিন্তু তিনি কিছুই করিলেন না। ক্রোধের আভাস মাত্র প্রকাশ করিলেন না। মহিষী আর সংশয়ে থাকিতে না পারিয়া একবার প্রতাপাদিত্যের কাছে গেলেন। কিন্তু অনেকক্ষণ উদয়াদিত্য সম্বন্ধে কোন কথা জিজ্ঞাসা করিতে সাহস করিলেন না। মহারাজও সে বিষয়ে কোন কথা উত্থাপিত করিলেন না। অবশেষে আর থাকিতে না পারিয়া মহিষী বলিয়া উঠিলেন—“মহারাজ, আমার এক ভিক্ষা রাখ, এবার উদয়কে মাপ কর! বাছাকে আরো যদি কষ্ট দাও তবে আমি বিষ খাইয়া মরিব!”

প্রতাপাদিত্য ঈষৎ বিরক্তিভাবে কহিলেন,—“আগে হইতে যে তুমি কাঁদিতে বসিলে! আমি ত কিছুই করি নাই!”

পাছে প্রতাপাদিত্য আবার সহসা বাঁকিয়া দাড়ান, এই নিমিত্ত মহিষী ও-কথা আর দ্বিতীয় বার উত্থাপিত করিতে সাহস করিলেন না। ভীত মনে ধীরে ধীরে চলিয়া আসিলেন। এক দিন, দুই দিন, তিন দিন গেল, মহারাজের কোন প্রকার ভাবান্তর লক্ষিত হইল না। তাহাই দেখিয়া মহিষী ও বিভা আশ্বস্ত হইলেন! মনে করিলেন, উদয়াদিত্য স্থানান্তরে যাওয়ায় মহারাজ মনে মনে বুঝি সন্তুষ্ট হইয়াছেন।

এখন কিছু দিনের জন্য মহিষী একপ্রকার নিশ্চিন্ত হইতে পারিলেন।

ইতিপূর্ব্বেই মহিষী বিভাকে বলিয়াছেন ও বাড়িতে রাষ্ট্র করিয়া দিয়াছেন যে বিভাকে শ্বশুরবাড়ি পাঠাইতে অনুরোধ করিয়া রামচন্দ্র রায় এক পত্র লিখিয়াছেন। বিভার মনে আর আহ্লাদ ধরে না। রামমোহনকে বিদায় করিয়া অবধি বিভার মনে আর এক মুহূর্ত্তের জন্য শস্তি ছিল না। যখনি সে অবসর পাইত, তখনি ভাবিত “তিনি কি মনে করিতেছেন? তিনি কি আমার অবস্থা ঠিক বুঝিতে পারিয়াছেন? হয় ত তিনি রাগ করিয়াছেন! তাঁহাকে বুঝাইয়া বলিলে তিনি আমাকে কি মাপ করিবেন না? হা জগদীশ্বর, বুঝাইয়া বলিব কবে? কবে আবার দেখা হইবে?” উল্‌টিয়া পাল্‌টিয়া বিভা ক্রমাগত এই কথাই ভাবিত। দবিানিশি তাহার মনের মধ্যে একটা আশঙ্কা চাপিয়াছিল। মহিষীর কথা শুনিয়া বিভার কি অপরিসীম আনন্দ হইল, তাহার মন হইতে কি ভয়ানক একটা গুরুভার তৎক্ষণাৎ দূর হইয়া গেল। লজ্জাসরম দূর করিয়া হাসিয়া কাঁদিয়া সে তাহার মায়ের বুকে মুখ লুকাইয়া কতক্ষণ চুপ করিয়া রহিল। তাহার মা কাঁদিতে লাগিলেন। বিভা যখন মনে করিল তাহার স্বামী তাহাকে ভুল বুঝেন নাই, তাহার মনের কথা ঠিক বুঝিয়াছেন—তখন তাহার চক্ষে সমস্ত জগৎ নন্দনকানন হইয়া উঠিল। তাহার স্বামীর হৃদয়কে কি প্রশস্ত বলিয়াই মনে হইল। তাহার স্বামীর ভালবাসার উপর কতখানি বিশ্বাস, কতখানি আস্থা জন্মিল! সে মনে করিল, তাহার স্বামীর ভালবাসা এ জগতে তাহার অটল আশ্রয়। সে যে এক বলিষ্ঠ মহাপুরুষের বিশাল স্কন্ধে তাহার ক্ষুদ্র সুকুমার লতাটির মত বাহু জড়াইয়া নির্ভয়ে অসীম বিশ্বাসে নির্ভর করিয়া রহিয়াছে, সে নির্ভর হইতে কিছুতেই সে বিচ্ছিন্ন হইবে না। বিভা প্রফুল্ল হইয়া উঠিল। তাহার প্রাণ মেঘযুক্ত শরতের আকাশের মত প্রসারিত, নির্ম্মল হইয়া গেল। সে এখন তাহার ভাই সমরাদিত্যের সঙ্গে ছেলেমানুষের মত কত কি খেলা করে। ছোট স্নেহের মেয়েটির মত তাহার মায়ের কাছে কত কি আবদার করে, তাহার মায়ের গৃহকার্য্যে সাহায্য করে। আগে যে তাহার একটি বাক্যহীন, নিস্তব্ধ, বিষণ্ণ ছায়ার মত ভাব ছিল, তাহা ঘুচিয়া গেছে—এখন তাহার প্রফুল্ল হৃদয়খানি পরিস্ফুট প্রভাতের ন্যায় তাহার সর্ব্বাঙ্গে বিকশিত হইয়া উঠিয়াছে। আগেকার মত সে সঙ্কোচ, সে লজ্জা, সে বিষাদ, সে অভিমান, সেই নীরব ভাব আর নাই। সে এখন আনন্দভরে বিশ্বস্ত ভাবে মায়ের সহিত এত কথা বলে যে আগে হইলে বলিতে লজ্জা করিত, ইচ্ছাই হইত না। মেয়ের এই আনন্দ দেখিয়া মায়ের অসীম স্নেহ উথলিয়া উঠিল। মনের ভিতরে ভিতরে একটা ভাবনা জাগিতেছে বটে—কিন্তু বিভার নিকট আভাসেও সে ভাবনা কখন প্রকাশ করেন নাই। মা হইয়া আবার কোন্ প্রাণে বিভার সেই বিমল প্রশান্ত হাসিটুকু একতিল মলিন করিবেন! এই জন্য মেয়েটি প্রতিদিন চোখের সামনে হাসিয়া খেলিয়া বেড়ায়, মা হাস্য-মুখে অপরিতৃপ্ত নয়নে তাহাই দেখেন।

মহিষীর মনের ভিতর নাকি একটা ভয়, একটা সন্দেহ বর্ত্তমান ছিল, তারই জন্য আজ কাল করিয়া এ পর্য্যন্ত বিভাকে আর প্রাণ ধরিয়া শ্বশুরালয়ে পাঠাতে পারিতেছেন না। দুই এক সপ্তাহ চলিয়া গেল, উদয়াদিত্যের বিষয়ে সকলেই এক প্রকার নিশ্চিন্ত হইয়াছেন। কেবল, বিভার সম্বন্ধে যে কি করিবেন, মহিষী এখনো তাহার একটা স্থির করিতে পারিতেছেন না। এমন আরো কিছু দিন গেল। যতই বিলম্ব হইতেছে। —ততই বিভার অধীরতা বাড়িতেছে। বিভা মনে করিতেছে—যতই বিলম্ব হইতেছে, ততই সে যেন তাহার স্বামীর নিকট অপরাধী হইতেছে। তিনি যখন ডাকিয়া পাঠাইয়াছেন—তখন আর কিসের জন্য বিলম্ব করা! একবার তিনি মার্জ্জনা করিয়াছেন, আবার—। কয়েক দিন বিভা আর কিছু বলিল না—অবশেষে একদিন আর থাকিতে পারিল না; মায়ের কাছে গিয়া মায়ের গলা ধরিয়া, মায়ের মুখের দিকে চাহিয়া বিভা কহিল, “মা।” ঐ কথাতেই তাহার মা সমস্ত বুঝিতে পারিলেন, বিভাকে বুকে টানিয়া লইয়া কহিলেন, “কি বাছা!” বিভা কিয়ৎক্ষণ চুপ করিয়া থাকিয়া অবশেষে কহিল, “মা, তুই আমাকে কবে পাঠাইবি মা!” বলিতে বলিতে বিভার মুখ কান লাল হইয়া উঠিল। মা ঈষৎ হাসিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন —“কোথায় পাঠাইব বিভু!” বিভা মিনতির স্বরে কহিল—“বল না মা।” মহিষী কহিলেন, “আর কিছু দিন সবুর কর বাছা। শীঘ্রই পাঠাইব।” বলিতে বলিতে তাঁহার চক্ষে জল আসিল।

1 মহিষীর মিথ্যা ও বিভার আনন্দ

প্রতাপাদিত্যের আগেই মহিষী ও বিভা উদয়াদিত্যের পলায়নের খবর জানতে পেরেছিলেন। দুজনেই ভয়ে অভিভূত হয়ে ভাবছিলেন যে, মহারাজ যখন জানতে পারবেন, তখন না জানি কী করবেন। প্রতিদিন মহারাজ যখন একটি একটি করে খবর পাচ্ছিলেন, আশঙ্কায় দুজনের প্রাণ ততই আকুল হয়ে উঠছিল। এইভাবে এক সপ্তাহ গেল, অবশেষে মহারাজ বিশ্বাসযোগ্য আসল খবর পেলেন। কিন্তু তিনি কিছুই করলেন না। ক্রোধের সামান্যতম আভাসও প্রকাশ করলেন না। মহিষী আর সন্দেহে থাকতে না পেরে একবার প্রতাপাদিত্যের কাছে গেলেন। কিন্তু অনেকক্ষণ উদয়াদিত্য সম্বন্ধে কোনো কথা জিজ্ঞাসা করার সাহস করলেন না। মহারাজও সে বিষয়ে কোনো কথা তুললেন না। অবশেষে আর থাকতে না পেরে মহিষী বলে উঠলেন—"মহারাজ, আমার একটা অনুরোধ রাখো, এবার উদয়কে ক্ষমা করো! বাছাকে আরও যদি কষ্ট দাও তবে আমি বিষ খেয়ে মরব!"

প্রতাপাদিত্য সামান্য বিরক্ত হয়ে বললেন,—"আগে থেকেই যে তুমি কাঁদতে বসলে! আমি তো কিছুই করিনি!"

পাছে প্রতাপাদিত্য আবার হঠাৎ বেঁকে বসেন, এই কারণে মহিষী ওই কথা আর দ্বিতীয়বার তোলার সাহস করলেন না। ভীত মনে ধীরে ধীরে চলে এলেন। এক দিন, দুই দিন, তিন দিন গেল, মহারাজের কোনো প্রকার ভাবান্তর লক্ষ্য করা গেল না। তাই দেখে মহিষী ও বিভা আশ্বস্ত হলেন! মনে করলেন, উদয়াদিত্য অন্য জায়গায় যাওয়ায় মহারাজ মনে মনে হয়তো সন্তুষ্ট হয়েছেন।

এখন কিছু দিনের জন্য মহিষী একপ্রকার নিশ্চিন্ত হতে পারলেন।

এর আগেই মহিষী বিভাকে বলেছেন এবং বাড়িতে প্রচার করে দিয়েছেন যে বিভাকে শ্বশুরবাড়ি পাঠানোর অনুরোধ করে রামচন্দ্র রায় একটি চিঠি লিখেছেন। বিভার মনে আর আনন্দ ধরে না। রামমোহনকে বিদায় করার পর থেকে বিভার মনে এক মুহূর্তের জন্যও শান্তি ছিল না। যখনই সে অবসর পেত, তখনই ভাবত "তিনি কী মনে করছেন? তিনি কি আমার অবস্থা ঠিক বুঝতে পেরেছেন? হয়তো তিনি রাগ করেছেন! তাঁকে বুঝিয়ে বললে তিনি কি আমাকে ক্ষমা করবেন না? হে জগদীশ্বর, বুঝিয়ে বলব কবে? কবে আবার দেখা হবে?" উল্টেপাল্টে বিভা ক্রমাগত এই কথাই ভাবত। দিনরাত তার মনের মধ্যে একটা আশঙ্কা চেপে ছিল। মহিষীর কথা শুনে বিভার কী অপরিসীম আনন্দ হলো, তার মন থেকে কী ভয়ানক একটা গুরুভার তৎক্ষণাৎ দূর হয়ে গেল। লজ্জাশরম দূর করে হেসে-কেঁদে সে তার মায়ের বুকে মুখ লুকিয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তার মা কাঁদতে লাগলেন। বিভা যখন মনে করল তার স্বামী তাকে ভুল বোঝেননি, তার মনের কথা ঠিক বুঝেছেন—তখন তার চোখে সমস্ত জগৎ নন্দনকানন হয়ে উঠল। তার স্বামীর হৃদয়কে কী বিশাল বলেই না মনে হলো। তার স্বামীর ভালোবাসার উপর কতখানি বিশ্বাস, কতখানি আস্থা জন্মালো! সে মনে করল, তার স্বামীর ভালোবাসা এ জগতে তার অটল আশ্রয়। সে যে এক বলিষ্ঠ মহাপুরুষের বিশাল কাঁধে তার নিজের কোমল লতার মতো বাহু জড়িয়ে নির্ভয়ে অসীম বিশ্বাসে নির্ভর করে আছে, সেই নির্ভর থেকে কিছুতেই সে বিচ্ছিন্ন হবে না। বিভা প্রফুল্ল হয়ে উঠল। তার প্রাণ মেঘমুক্ত শরতের আকাশের মতো প্রসারিত ও নির্মল হয়ে গেল। সে এখন তার ভাই সমরাদিত্যের সঙ্গে ছেলেমানুষের মতো কত কী খেলা করে। ছোটো আদরের মেয়ের মতো তার মায়ের কাছে কত কী আবদার করে, তার মায়ের গৃহকাজে সাহায্য করে। আগে যে তার একটি বাক্যহীন, নিস্তব্ধ, বিষণ্ণ ছায়ার মতো ভাব ছিল, তা কেটে গেছে—এখন তার প্রফুল্ল হৃদয়খানি পরিষ্কার ভোরের মতো তার সর্বাঙ্গে ফুটে উঠেছে। আগের মতো সেই সংকোচ, সেই লজ্জা, সেই বিষাদ, সেই অভিমান, সেই নীরব ভাব আর নেই। সে এখন আনন্দভরে বিশ্বস্তভাবে মায়ের সঙ্গে এত কথা বলে যা আগে হলে বলতে লজ্জা করত, ইচ্ছাই হতো না। মেয়ের এই আনন্দ দেখে মায়ের অসীম স্নেহ উথলে উঠল। মনের ভেতরে ভেতরে একটা ভাবনা জাগছে বটে—কিন্তু বিভার কাছে আভাসেও সে ভাবনা কখনও প্রকাশ করেননি। মা হয়ে আবার কোন প্রাণে বিভার সেই নির্মল-শান্ত হাসিটুকু একতিল মলিন করবেন! এই জন্য মেয়েটি প্রতিদিন চোখের সামনে হেসে-খেলে বেড়ায়, মা হাস্যমুখে অতৃপ্ত চোখে তাই দেখেন।

মহিষীর মনের ভেতর যেহেতু একটা ভয়, একটা সন্দেহ বর্তমান ছিল, তারই জন্য আজ-কাল করে এ পর্যন্ত বিভাকে আর প্রাণ ধরে শ্বশুরবাড়িতে পাঠাতে পারছেন না। দুই-এক সপ্তাহ চলে গেল, উদয়াদিত্যের বিষয়ে সকলেই একপ্রকার নিশ্চিন্ত হয়েছেন। কেবল, বিভার সম্বন্ধে যে কী করবেন, মহিষী এখনও তার একটা স্থির সিদ্ধান্তে আসতে পারছেন না। এমন আরও কিছু দিন গেল। যত দেরি হচ্ছে—ততই বিভার অধীরতা বাড়ছে। বিভা মনে করছে—যত দেরি হচ্ছে, ততই সে যেন তার স্বামীর কাছে অপরাধী হচ্ছে। তিনি যখন ডেকে পাঠিয়েছেন—তখন আর কিসের জন্য দেরি করা! একবার তিনি ক্ষমা করেছেন, আবার—। কয়েক দিন বিভা আর কিছু বলল না—অবশেষে একদিন আর থাকতে পারল না; মায়ের কাছে গিয়ে মায়ের গলা ধরে, মায়ের মুখের দিকে চেয়ে বিভা বলল, "মা।" ওই কথাতেই তার মা সব বুঝতে পারলেন, বিভাকে বুকে টেনে নিয়ে বললেন, "কী বাছা!" বিভা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে অবশেষে বলল, "মা, তুই আমাকে কবে পাঠাবি মা!" বলতে বলতে বিভার মুখ-কান লাল হয়ে উঠল। মা সামান্য হেসে জিজ্ঞাসা করলেন—"কোথায় পাঠাব বিভু!" বিভা মিনতির সুরে বলল—"বলো না মা।" মহিষী বললেন, "আর কিছু দিন সবুর কর বাছা। শীঘ্রই পাঠাব।" বলতে বলতে তাঁর চোখে জল এল।

1 महिषी का झूठ और विभा का आनंद

प्रतापादित्य से पहले ही महिषी और विभा को उदयादित्य के भाग जाने की खबर मिल गई थी। दोनों ही डर से अभिभूत होकर सोच रही थीं कि महाराज को जब पता चलेगा, तो न जाने वे क्या करेंगे। प्रतिदिन जैसे-जैसे महाराज को एक-एक करके खबर मिल रही थी, आशंका से दोनों की जान उतनी ही व्याकुल होती जा रही थी। इस तरह एक सप्ताह बीत गया, अंत में महाराज को विश्वसनीय और सच्ची खबर मिली। लेकिन उन्होंने कुछ नहीं किया। उन्होंने क्रोध का जरा भी आभास नहीं दिया। महिषी और अधिक संदेह में न रह सकीं और एक बार प्रतापादित्य के पास गईं। लेकिन बहुत देर तक उन्हें उदयादित्य के बारे में कोई बात पूछने का साहस नहीं हुआ। महाराज ने भी उस विषय में कोई बात नहीं छेड़ी। अंत में, जब रहा न गया तो महिषी बोल उठीं, “महाराज, मेरी एक भिक्षा रखिए, इस बार उदय को क्षमा कर दीजिए! अगर बच्चे को और कष्ट दिया तो मैं विष खाकर मर जाऊँगी!”

प्रतापादित्य ने थोड़ी नाराज़गी से कहा, “तुम तो पहले से ही रोने बैठ गईं! मैंने तो कुछ किया ही नहीं है!”

कहीं प्रतापादित्य फिर अचानक बिगड़ न जाएँ, इस डर से महिषी ने वह बात दोबारा उठाने का साहस नहीं किया। डरे हुए मन से वह धीरे-धीरे चली आईं। एक दिन, दो दिन, तीन दिन बीत गए, महाराज के हाव-भाव में कोई बदलाव नहीं दिखा। यह देखकर महिषी और विभा आश्वस्त हो गईं! उन्होंने सोचा कि उदयादित्य के दूसरी जगह चले जाने से महाराज मन ही मन शायद खुश हुए हैं।

अब कुछ दिनों के लिए महिषी एक तरह से निश्चिंत हो सकीं।

इससे पहले ही महिषी ने विभा से कह दिया था और घर में यह बात फैला दी थी कि रामचंद्र राय ने विभा को ससुराल भेजने का अनुरोध करते हुए एक पत्र लिखा है। विभा की खुशी का ठिकाना न रहा। राममोहन को विदा करने के बाद से विभा के मन में एक पल के लिए भी शांति नहीं थी। जब भी उसे फुर्सत मिलती, वह सोचती, “वह क्या सोच रहे होंगे? क्या वह मेरी स्थिति ठीक से समझ पाए हैं? शायद वह नाराज़ हो गए हैं! उन्हें समझाने पर क्या वह मुझे माफ नहीं करेंगे? हे जगदीश्वर, कब समझाकर कहूँगी? फिर कब मुलाकात होगी?” उलट-पलट कर विभा लगातार यही बात सोचती रहती थी। दिन-रात उसके मन पर एक आशंका छाई हुई थी। महिषी की बात सुनकर विभा को कितनी असीम खुशी हुई, उसके मन से कितना भयानक बोझ तुरंत उतर गया। शर्म-लिहाज भूलकर, हँसते-रोते हुए वह अपनी माँ की छाती में मुँह छिपाकर कुछ देर तक चुप रही। उसकी माँ रोने लगीं। जब विभा ने सोचा कि उसके पति ने उसे गलत नहीं समझा है, उसके मन की बात ठीक समझ ली है—तब उसकी आँखों में सारा संसार नंदन कानन बन गया। उसे अपने पति का हृदय कितना विशाल लगा। अपने पति के प्यार पर उसे कितना विश्वास, कितनी आस्था हो गई! उसने सोचा, इस दुनिया में उसके पति का प्यार ही उसका अटूट आश्रय है। वह एक बलशाली महापुरुष के विशाल कंधे पर अपनी छोटी, सुकुमार लता जैसी बाँहें लपेटकर, निडर होकर असीम विश्वास के साथ निर्भर है, और उस सहारे से वह कभी अलग नहीं होगी। विभा खिल उठी। उसका मन बादलों से रहित शरद ऋतु के आकाश की तरह विशाल और निर्मल हो गया। अब वह अपने भाई समरादित्य के साथ बच्चों की तरह न जाने कितने खेल खेलती है। एक छोटी प्यारी बच्ची की तरह अपनी माँ से न जाने कितनी ज़िद करती है, अपनी माँ के घरेलू कामों में मदद करती है। पहले जो उसका एक चुप, शांत, उदास परछाई जैसा भाव था, वह दूर हो गया है—अब उसका खिला हुआ हृदय एक खिले हुए प्रभात की तरह उसके पूरे शरीर में विकसित हो उठा है। पहले जैसी वह झिझक, वह शर्म, वह उदासी, वह अभिमान, वह खामोशी अब नहीं रही। वह अब आनंद से भरकर विश्वास के साथ माँ से इतनी बातें करती है कि पहले कहने में शर्म आती, इच्छा ही नहीं होती थी। बेटी की यह खुशी देखकर माँ का असीम स्नेह उमड़ पड़ा। मन ही मन एक चिंता जाग रही थी—लेकिन विभा के सामने उन्होंने इशारे में भी उस चिंता को कभी जाहिर नहीं किया। माँ होकर, वह भला किस दिल से विभा की उस निर्मल, शांत मुस्कान को ज़रा भी मैला होने देंगी! इसीलिए लड़की हर दिन आँखों के सामने हँसती-खेलती रहती है, और माँ मुस्कुराते हुए अतृप्त नयनों से उसे देखती रहती हैं।

महिषी के मन में शायद एक डर, एक संदेह था, इसी वजह से आज-कल करते हुए वह अब तक हिम्मत करके विभा को ससुराल नहीं भेज पा रही थीं। एक-दो सप्ताह बीत गए, उदयादित्य के मामले में सभी एक तरह से निश्चिंत हो गए थे। बस, विभा के बारे में क्या करना है, महिषी अब भी इसका कोई फैसला नहीं कर पा रही थीं। ऐसे ही कुछ और दिन बीत गए। जितनी देर हो रही थी, उतनी ही विभा की अधीरता बढ़ रही थी। विभा सोच रही थी—जितनी देर हो रही है, वह उतनी ही अपने पति के सामने अपराधी बनती जा रही है। जब उन्होंने बुलवा भेजा है—तो फिर किस बात की देरी! एक बार उन्होंने माफ कर दिया है, दोबारा—। कुछ दिन तक विभा ने कुछ नहीं कहा—अंत में एक दिन वह और नहीं रह सकी; माँ के पास जाकर, उनका गला पकड़कर, उनके चेहरे की ओर देखकर विभा ने कहा, “माँ।” इसी एक शब्द से उसकी माँ सब कुछ समझ गईं, उन्होंने विभा को सीने से लगाकर कहा, “क्या हुआ बेटी!” विभा कुछ देर चुप रहकर अंत में बोली, “माँ, तू मुझे कब भेजेगी माँ!” कहते-कहते विभा का मुँह-कान लाल हो गया। माँ ने हल्का सा मुस्कुरा कर पूछा—“कहाँ भेजूँ विभु!” विभा ने विनती भरे स्वर में कहा—“बताओ न माँ।” महिषी ने कहा, “और कुछ दिन सब्र कर बेटी। जल्दी ही भेजूँगी।” कहते-कहते उनकी आँखों में आँसू आ गए।

1 The Queen's Lie and Vibha's Joy

Before Pratapaditya, the Mahishi and Vibha had learned the news of Udayaditya's escape. Both were overwhelmed with fear, wondering what the Maharaj might do when he found out. Each day, as the Maharaj received one piece of news after another, their hearts grew more agitated with apprehension. A week passed like this, and finally, the Maharaj received credible, true news. But he did nothing. He showed not even a hint of anger. Unable to remain in suspense any longer, the Mahishi went to Pratapaditya. But for a long time, she did not dare to ask any questions about Udayaditya. The Maharaj also did not raise the subject. Finally, unable to bear it, the Mahishi cried out, “Maharaj, grant me one request, forgive Udayaditya this time! If you cause my child any more suffering, I will take poison and die!”

Pratapaditya said with slight annoyance, “Why have you started crying already? I haven't done anything!”

Lest Pratapaditya should suddenly become obstinate again, the Mahishi did not dare to raise the matter a second time. With a frightened heart, she slowly walked away. One day, two days, three days passed, and no change in the Maharaj's disposition was observed. Seeing this, the Mahishi and Vibha were reassured. They thought that perhaps the Maharaj was secretly pleased that Udayaditya had gone elsewhere.

For a few days now, the Mahishi was able to be somewhat at ease.

Before this, the Mahishi had told Vibha and announced throughout the household that Ramchandra Ray had written a letter requesting that Vibha be sent to her in-laws' house. Vibha's heart could no longer contain its joy. Ever since she had sent Rammohan away, Vibha had not had a moment's peace of mind. Whenever she had a free moment, she would think, “What must he be thinking? Has he understood my situation correctly? Perhaps he is angry! If I explained it to him, would he not forgive me? Oh Jagadishwar, when will I get to explain? When will we meet again?” Vibha would constantly turn these thoughts over and over in her mind. A constant apprehension had weighed upon her heart day and night. Hearing her mother's words, what immense joy Vibha felt, what a terrible, heavy burden was instantly lifted from her mind. Casting aside all shyness and shame, laughing and crying, she hid her face in her mother's breast and remained silent for a long time. Her mother began to cry. When Vibha thought that her husband had not misunderstood her, that he had understood what was in her heart—in her eyes, the whole world became Nandan Kanan. How magnanimous her husband's heart seemed to her! How much faith, how much trust was born in her for her husband's love! She felt that her husband's love was her unshakeable refuge in this world. She felt that she was like a small, delicate creeper, wrapping her arms around the broad shoulders of a strong, great man, relying on him fearlessly with infinite faith, and that she would never be separated from that support. Vibha became cheerful. Her spirit became as expansive and clear as an autumn sky free of clouds. Now she plays all sorts of childish games with her brother Samaraditya. Like a small, affectionate girl, she makes all sorts of requests to her mother and helps with the housework. Her previous disposition, like a wordless, silent, melancholy shadow, had vanished—now her cheerful heart blossomed throughout her being like the bright morning. That old reserve, that shyness, that sadness, that pride, that silent manner was no more. She now spoke so many things to her mother with joy and trust that she would have been too shy to say before, and wouldn't even have wished to. Seeing her daughter's joy, the mother's boundless affection welled up. A worry was indeed stirring deep within her mind—but she never revealed even a hint of that worry to Vibha. As a mother, how could she bear to dim even a speck of Vibha's pure, serene smile! For this reason, as the girl laughed and played before her eyes each day, the mother watched with a smiling face and insatiable eyes.

Because there was a fear, a doubt present in the Mahishi's mind, she kept putting it off, so far unable to bring herself to send Vibha to her in-laws' house. Two weeks passed, and everyone had become somewhat reassured about Udayaditya's situation. Only, the Mahishi still could not decide what to do about Vibha. A few more days passed like this. The longer the delay, the more Vibha's impatience grew. Vibha thought that the more she delayed, the more she was becoming an offender in her husband's eyes. When he has sent for me, what is the reason for this delay! He forgave me once, but again—. For a few days, Vibha said nothing more. Finally, one day, she could bear it no longer; she went to her mother, put her arms around her neck, looked into her face, and said, “Ma.” With that one word, her mother understood everything. Pulling Vibha to her chest, she said, “What is it, my child?” Vibha remained silent for a moment and finally said, “Ma, when will you send me, Ma!” As she spoke, her face and ears turned red. The mother, smiling slightly, asked, “Where shall I send you, Vibhu!” Vibha said in a pleading tone, “Please tell me, Ma.” The Mahishi said, “Wait a little longer, my child. I will send you soon.” As she spoke, tears came to her eyes.

1 王妃の嘘とビバの喜び

プラタパディティヤ王よりも先に、王妃とビバはウダヤディティヤの逃亡の知らせを耳にしていた。二人は恐怖に打ちのめされ、マハラジャがこのことを知ったとき、いったい何をなさるだろうかと案じていた。マハラジャが日に日に一つずつ知らせを受け取るたびに、二人の心は不安でますます掻き乱された。そうして一週間が過ぎ、ついにマハラジャは信頼できる確かな情報を得た。しかし、彼は何もしなかった。怒りの気配さえ見せなかった。王妃はもはや疑念に耐えきれず、一度プラタパディティヤのもとへ赴いた。しかし、長い間、ウダヤディティヤについて何かを尋ねる勇気が出なかった。マハラジャもまた、その件については何も口にしなかった。ついに耐えきれなくなった王妃は口を開いた。「マハラジャ、一つ私のお願いをお聞き入れください。今度こそウダヤをお許しください!あの子をこれ以上苦しめるなら、私は毒を飲んで死にます!」

プラタパディティヤは少々不機嫌そうに言った。「始まる前から泣き出すとはな!私はまだ何もしておらんぞ!」

プラタパディティヤがまた急にへそを曲げることを恐れ、王妃はその話を二度と持ち出す勇気がなかった。恐れる心で、静かにその場を立ち去った。一日、二日、三日と過ぎても、マハラジャに何の変化も見られなかった。それを見て、王妃とビバは安堵した。ウダヤディティヤが別の場所へ行ったことで、マハラジャは内心喜んでいるのかもしれない、と二人は思った。

これでしばらくの間、王妃はどうにか安心することができた。

これより先に、王妃はビバに、そして屋敷中に、「ビバを嫁ぎ先に送るよう要請する手紙がラーマチャンドラ・ライから届いた」と告げ、噂を広めていた。ビバは喜びで胸がいっぱいになった。ラムモハンを帰らせて以来、ビバの心には一瞬たりとも安らぎがなかった。暇さえあれば、「あの方はどう思っていらっしゃるだろう?私の状況を正しく理解してくださっただろうか?きっと怒っていらっしゃるに違いない!説明すれば、あの方は私を許してくださらないだろうか?ああ、ジャガディーシュワルよ、いつ説明できるの?いつまたお会いできるの?」と、ビバは絶えず同じことを繰り返し考えていた。昼も夜も、心には不安が重くのしかかっていた。王妃の言葉を聞いて、ビバはどれほど計り知れない喜びを感じたことか。彼女の心から、なんと恐ろしい重荷が即座に取り除かれたことか。恥じらいを捨て、笑いながら、泣きながら、彼女は母の胸に顔をうずめ、しばらくの間黙っていた。その母は涙を流していた。ビバは、夫が自分を誤解せず、自分の心の言葉を正しく理解してくれたのだと思った時、彼女の目には全世界がナンダン・カナンとなった。夫の心をなんと広いものかと感じたことか。夫の愛に対して、どれほどの信頼、どれほどの信用が生まれたことか!彼女は、この世で夫の愛こそが自分の揺るぎない拠り所だと思った。自分は、力強い偉大な男性の大きな肩に、か細くしなやかな蔓草のようにその腕を絡ませ、恐れることなく絶対的な信頼を寄せて寄りかかっている、その拠り所から決して引き離されることはないと。ビバは晴れやかな気持ちになった。彼女の心は、雲ひとつない秋の空のように、広々と澄み渡った。今では兄のサマラディティヤと子供のように様々な遊びをする。甘えん坊の小さな娘のように母に様々なおねだりをし、母の家事を手伝う。以前の、口数が少なく、物静かで、物憂げな影のような様子は消え去った。今や彼女の晴れやかな心は、輝かしい夜明けのようにその全身に花開いている。以前のような内気さ、恥じらい、悲しみ、意地、あの無口な様子はもうない。今では彼女は喜びに満ち、信頼しきって母とたくさん話をする。以前なら恥ずかしくて話せなかったし、話したいとも思わなかったようなことまで。娘のこの喜びを見て、母の無限の愛情が溢れ出た。心の中では確かに一つの不安が育っているのだが、ビバの前ではその不安の気配さえ見せたことはない。母親として、どうしてビバのその汚れなき穏やかな微笑みを少しでも曇らせることができようか!そのため、娘が毎日目の前で笑い、遊んでいるのを、母は微笑みを浮かべ、満たされることのない眼差しで見つめているのである。

王妃の心の中には、ある恐怖と疑いが存在していたため、今日か明日かと言いながら、これまでビバを嫁ぎ先に送り出すことがどうしてもできなかった。一、二週間が過ぎ、ウダヤディティヤの件については誰もがどうにか安心していた。ただ、ビバについてどうすべきか、王妃はまだ決心がつかずにいた。そうしてさらに数日が過ぎた。遅れれば遅れるほど、ビバの焦りは募っていく。ビバは、遅れれば遅れるほど、自分が夫に対して罪を犯しているように感じていた。あの方が呼びに来てくださったのに、なぜこれ以上遅らせる必要があるのか!一度は許してくださったが、またしても…。数日間、ビバは何も言わなかったが、ついに一日、もう我慢できなくなった。母のもとへ行き、母の首に抱きつき、母の顔を見つめてビバは言った。「母様」。その一言で母はすべてを察し、ビバを胸に引き寄せて言った。「どうしたの、私の可愛い子」。ビバはしばらく黙っていたが、やがて言った。「母様、いつ私を送ってくださるの、母様!」。そう言ううちに、ビバの顔と耳は真っ赤になった。母はかすかに微笑んで尋ねた。「どこへ送るのかしら、ビブ!」。ビバは懇願するような声で言った。「教えて、母様」。王妃は言った。「もうしばらく待っておくれ、私の可愛い子。すぐに送るから」。そう言ううちに、彼女の目には涙が浮かんだ。