1 সুরমার বিরুদ্ধে মঙ্গলা ও মাতঙ্গিনীর ষড়যন্ত্র

মঙ্গলার কুটীর যশোহরের এক প্রান্তে ছিল। সেইখানে বসিয়া সে মালা জপ করিতেছিল। এমন সময়ে শাকসব্‌জির চুব্‌ড়ি হাতে করিয়া রাজবাটীর দাসী মাতঙ্গিনী আসিয়া উপস্থিত হইল।

মাতঙ্গ কহিল, “আজ হাটে আসিয়াছিলাম, অমনি ভাবিলাম, অনেক দিন মঙ্গলাদিদিকে দেখি নাই, তা একবার দেখিয়া আসিগে। আজ ভাই অনেক কাজ আছে, অধিকক্ষণ থাকিতে পারিব না।” বলিয়া চুবড়ি রাখিয়া নিশ্চিন্ত ভাবে সেই খানে বসিল। “তা, দিদি তুমি ত সব জানই, সেই মিন্সে আমাকে বড় ভালবাসিত, ভাল এখনো বাসে, তবে আর একজন কা’র পরে তার মন গিয়াছে আমি টের পাইয়াছি—তা’ সেই মাগীটার ত্রিরাত্রির মধ্যে মরণ হয় এমন করিতে পার না?”

মঙ্গলার নিকট গরু হারানো হইতে স্বামী হারানো পর্য্যন্ত সকল-প্রকার দুর্ঘটনারই ঔষধ আছে, তা’ ছাড়া সে বশীকরণের এমন উপায় জানে যে, রাজবাটীর বড় বড় ভৃত্য মঙ্গলার কুটীরে কত গণ্ডা গণ্ডা গড়াগড়ি যায়! যে মাগীটার ত্রিরাত্রির মধ্যে মরণ হইলে মাতঙ্গিনী বাঁচে সে আর কেহ নহে স্বয়ং মঙ্গলা!

মঙ্গলা মনে মনে হাসিয়া কহিল, “সে মাগীর মরিবার জন্য বড় তাড়াতাড়ি পড়ে নাই, যমের কাজ বাড়াইয়া তবে সে মরিবে।” মঙ্গলা হাসিয়া প্রকাশ্যে কহিল, “তোমার মতন রূপসীকে ফেলিয়া আর কোথাও মন যায় এমন অরসিক আছে নাকি? তা’ নাতনী, তোদর ভাবনা নাই। তাহার মন তুমি ফিরিয়া পাইবে। তোমার চোখের মধ্যেই ঔষধ আছে, একটু বেশি করিয়া প্রয়োগ করিয়া দেখিও তাহাতেও যদি না হয়, তবে এই শিকড়টি তাহাকে পানের সঙ্গে খাওয়াইও।” বলিয়া এক শুক্‌ন শিকড় আনিয়া দিল।

মঙ্গলা মাতঙ্গিনীকে জিজ্ঞাসা করিল, “বলি রাজবাটীর খবর কি?”

মাতঙ্গিনী হাত উল্টাইয়া কহিল, “সে সব কথায় আমাদের কাজ কি ভাই?”

মঙ্গলা কহিল, “ঠিক কথা। ঠিক কথা।”

মঙ্গলার যে এ বিষয়ে সহসা মতের এতটা ঐক্য হইয়া যাইবে, তাহা মাতঙ্গিনী আশা করে নাই। সে কিঞ্চিৎ ফাঁফরে পড়িয়া কহিল, “তা’ তোমাকে বলিতে দোষ নাই; তবে আজ আমার বড় সময় নাই; আর একদিন সমস্ত বলিব।” বলিয়া বসিয়া রহিল।

মঙ্গলা কহিল—“তা বেশ, আর একদিন শুনা যাইবে।”

মাতঙ্গিনী অধীর হইয়া পড়িল, কহিল, “তবে আমি যাই ভাই। দেরি করিলাম বলিয়া আবার কত বকনি খাইতে হইবে। দেখ ভাই, সে দিন আমাদের ওখানে, রাজার জামাই আসিয়াছিলেন, তা’ তিনি যে দিন আসিয়াছিলেন সেই রাত্রেই কাহাকে না বলিয়া চলিয়া গিয়াছেন।”

মঙ্গলা কহিল, “সত্য নাকি? বটে; কেন বল দেখি; তাই বলি মাতঙ্গ না হইলে আমাকে ভিতরকার খবর কেহ দিতে পারে না।”

মাতঙ্গ প্রফুল্ল হইয়া কহিল, “আসল কথা কি জান? আমাদের যে বৌঠাকরুণটি আছেন, তিনি দুটি চক্ষে কাহারো ভাল দেখিতে পারেন না। তিনি কি মন্তর জানেন, স্বোয়ামীকে একেবারে ভেড়ার মতন করিয়া রাখিয়াছেন, তিনি—না ভাই; কাজ নাই, কে কোথা দিয়া শুনিবে আর বলিবে মাতঙ্গ রাজবাড়ির কথা বাহিরে বলিয়া বেড়ায়।”

মঙ্গলা আর কৌতূহল সামলাইতে পারিল না; যদিও সে জানিত, আর খানিকক্ষণ চুপ করিয়া থাকিলে মাতঙ্গ আপনি সমস্ত বলিবে, তবু তাহার বিলম্ব সহিল না, কহিল, “এখানে কোন লোক নাই নাতনী। আর আপনা-আপনির মধ্যে কথা, ইহাতে আর দোষ কি? তা’ তোমাদের বৌঠাকরুণ কি করিলেন?”

“তিনি আমাদের দিদিঠাকরুণের নামে জামাইয়ের কাছে কি সব লাগাইয়াছিলেন, তাই জামাই রাতারাতিই দিদিঠাকরুণকে ফেলিয়া চলিয়া গেছেন। দিদিঠাকরুণ ত কাঁদিয়া কাটিয়া অনাত্ত করিতেছেন। মহারাজা খাপা হইয়া উঠিয়াছেন, তিনি বৌঠাকরুণকে শ্রীপুরে বাপের বাড়ি পাঠাইতে চান। ঐ দেখ ভাই, তোমার সকল কথাতেই হাসি! ইহাতে হাসিবার কি পাইলে? তোমার যে আর হাসি ধরে না।”

রামচন্দ্র রায়ের পলায়ন বার্ত্তার যথার্থ কারণ, রাজবাটির প্রত্যেক দাস দাসী সঠিক অবগত ছিল, কিন্তু কাহারো সহিত কাহারো কথার ঐক্য ছিল না।

মঙ্গলা কহিল, “তোমাদের মাঠাকরুণকে বলিও যে, বৌঠাকরুণকে শীঘ্র বাপের বাড়ি পাঠাইয়া কাজ নাই। মঙ্গলা এমন ওষুধ দিতে পারে যাহাতে যুবরাজের মন তাঁহার উপর হইতে একেবারে চলিয়া যায়।” বলিয়া সে খল্ খল্ করিয়া হাসিতে লাগিল। মাতঙ্গ কহিল, “তা বেশ কথা!”

মঙ্গলা জিজ্ঞাসা করিল, “তোমাদের বৌঠাকরুণকে কি যুবরাজ বড় ভালবাসেন?”

“সে কথায় কাজ কি! এক দণ্ড না দেখিলে থাকিতে পারেন না! যুবরাজকে “তু” বলিয়া ডাকিলেই আসেন।”

“আচ্ছা, আমি ওষুধ দিব। দিনের বেলাও কি যুবরাজ তাহার কাছেই থাকেন?”

“হাঁ।”

মঙ্গলা কহিল “ওমা কি হইবে! তা’, সে যুবরাজকে কি বলে, কি করে, দেখিয়াছিস?”

“না ভাই, তাহা দেখি নাই।”

“আমাকে একবার রাজবাটীতে লইয়া যাইতে পারিস্, আমি তাহা হইলে একবার দেখিয়া আসি!”

মাতঙ্গ কহিল “কেন ভাই, তোমার এত মাথাব্যথা কেন?”

মঙ্গলা কহিল, “বলি তা’ নয়। একবার দেখিলেই বুঝিতে পারিব, কি মন্ত্রে সে বশ করিয়াছে, আমার মন্ত্র খাটিবে কি না!”

মাতঙ্গ কহিল, “তা’ বেশ, আজ তবে আসি!” বলিয়া চুবড়ি লইয়া চলিয়া গেল।

মাতঙ্গ চলিয়া গেলে মঙ্গলা যেন ফুলিতে লাগিল, দাঁতে দাঁত লাগাইয়া চক্ষু-তারকা প্রসারিত করিয়া বিড়্ বিড়্ করিয়া বকিতে লাগিল।

1 সুরমার বিরুদ্ধে মঙ্গলা ও মাতঙ্গিনীর ষড়যন্ত্র

যশোরের এক প্রান্তে মঙ্গলার কুঁড়েঘর ছিল। সেখানে বসে সে জপ করছিল। এমন সময় শাকসবজির ঝুড়ি হাতে রাজবাড়ির দাসী মাতঙ্গিনী এসে হাজির হল।

মাতঙ্গিনী বলল, “আজ হাটে এসেছিলাম, তাই ভাবলাম, অনেকদিন মঙ্গলাদিদিকে দেখিনি, একবার দেখা করে যাই। আজ ভাই অনেক কাজ আছে, বেশিক্ষণ থাকতে পারব না।” বলে ঝুড়িটা রেখে নিশ্চিন্ত মনে সেখানেই বসে পড়ল। “তা দিদি, তুমি তো সবই জানো, ওই লোকটা আমাকে খুব ভালোবাসত, এখনও বাসে, কিন্তু অন্য কারও ওপর ওর মন গেছে, আমি টের পেয়েছি। তা, ওই মাগীটার তিন রাতের মধ্যে মরণ হয় এমন কিছু করতে পারো না?”

গরু হারানো থেকে স্বামী হারানো পর্যন্ত সব ধরনের দুর্ঘটনার প্রতিকার মঙ্গলার কাছে আছে। তাছাড়া, সে বশীকরণের এমন উপায় জানে যে, রাজবাড়ির বড় বড় চাকরেরা পর্যন্ত মঙ্গলার কুঁড়েঘরে এসে গড়াগড়ি দেয়! যে মাগীটার তিন রাতের মধ্যে মরণ হলে মাতঙ্গিনী বাঁচে, সে আর কেউ নয়, স্বয়ং মঙ্গলা!

মঙ্গলা মনে মনে হেসে ভাবল, “সেই মাগীর মরার কোনো তাড়া নেই, সে যমের কাজ বাড়িয়ে তবেই মরবে।” মঙ্গলা হেসে প্রকাশ্যে বলল, “তোমার মতো সুন্দরীকে ফেলে অন্য কোথাও মন যায়, এমন অরসিক আছে নাকি? ও নাতনি, তোর কোনো চিন্তা নেই। ওর মন তুমি ফিরে পাবে। তোমার চোখের মধ্যেই ওষুধ আছে, একটু বেশি করে প্রয়োগ করে দেখো। তাতেও যদি কাজ না হয়, তবে এই শিকড়টা তাকে পানের সঙ্গে খাইয়ে দিও।” বলে একটা শুকনো শিকড় এনে দিল।

মঙ্গলা মাতঙ্গিনীকে জিজ্ঞাসা করল, “তা, রাজবাড়ির খবর কী?”

মাতঙ্গিনী হাত উল্টে বলল, “ওসব কথায় আমাদের কাজ কী ভাই?”

মঙ্গলা বলল, “ঠিক কথা। ঠিক কথা।”

মঙ্গলা যে এই ব্যাপারে হঠাৎ এতটা একমত হয়ে যাবে, তা মাতঙ্গিনী আশা করেনি। সে কিছুটা বিপাকে পড়ে বলল, “তবে তোমাকে বলতে দোষ নেই; কিন্তু আজ আমার একদম সময় নেই; অন্য একদিন সব বলব।” বলে বসেই রইল।

মঙ্গলা বলল— “বেশ তো, অন্য একদিন শোনা যাবে।”

মাতঙ্গিনী অধৈর্য হয়ে পড়ল, বলল, “তবে আমি যাই ভাই। দেরি করার জন্য আবার কত বকুনি খেতে হবে। শোনো ভাই, সেদিন আমাদের ওখানে রাজার জামাই এসেছিলেন, কিন্তু যেদিন এসেছিলেন, সেই রাতেই কাউকে না বলে চলে গেছেন।”

মঙ্গলা বলল, “তাই নাকি? সত্যি! কেন বলো তো? আমি তো বলি, মাতঙ্গিনী না হলে আমাকে ভেতরের খবর আর কেউ দিতে পারে না।”

মাতঙ্গিনী উৎফুল্ল হয়ে বলল, “আসল কথাটা কী জানো? আমাদের যে বৌঠাকরুণটি (সুরমা) আছেন, তিনি দু'চোখে কারও ভালো দেখতে পারেন না। তিনি কী মন্ত্র জানেন কে জানে, স্বামীকে একেবারে ভেড়ার মতো করে রেখেছেন। তিনি— না ভাই; থাক, কে কোথা থেকে শুনবে আর বলবে, মাতঙ্গিনী রাজবাড়ির কথা বাইরে বলে বেড়ায়।”

মঙ্গলা আর কৌতূহল সামলাতে পারল না। যদিও সে জানত, আরও কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলে মাতঙ্গিনী নিজেই সব বলবে, তবুও তার দেরি সহ্য হল না। সে বলল, “এখানে কোনো লোক নেই নাতনি। আর নিজেদের মধ্যে কথা, এতে দোষের কী? তা, তোমাদের বৌঠাকরুণ কী করলেন?”

“তিনি আমাদের দিদিঠাকরুণ (বিভা)-এর নামে জামাইয়ের কাছে কী সব লাগিয়েছিলেন, তাই জামাই রাতারাতিই দিদিঠাকরুণকে ফেলে চলে গেছেন। দিদিঠাকরুণ তো কেঁদে কেটে অনর্থ করছেন। মহারাজ ক্ষেপে উঠেছেন, তিনি বৌঠাকরুণকে শ্রীপুরে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দিতে চান। ওই দেখো ভাই, তোমার সব কথাতেই হাসি! এতে হাসার কী পেলে? তোমার তো হাসি থামছেই না।”

রামচন্দ্র রায়ের পালানোর খবরের আসল কারণ রাজবাড়ির প্রত্যেক দাস-দাসী সঠিকভাবে জানত, কিন্তু কারও কথার সঙ্গে কারও কথার মিল ছিল না।

মঙ্গলা বলল, “তোমাদের মাঠাকরুণকে (মহিষীকে) বোলো যে, বৌঠাকরুণকে এত তাড়াতাড়ি বাপের বাড়ি পাঠিয়ে কাজ নেই। মঙ্গলা এমন ওষুধ দিতে পারে যাতে যুবরাজের মন তাঁর ওপর থেকে একেবারে উঠে যায়।” বলে সে খলখল করে হাসতে লাগল। মাতঙ্গিনী বলল, “সে তো বেশ কথা!”

মঙ্গলা জিজ্ঞাসা করল, “তোমাদের বৌঠাকরুণকে কি যুবরাজ খুব ভালোবাসেন?”

“সে আর বলতে! এক মুহূর্ত না দেখে থাকতে পারেন না! যুবরাজকে 'তুমি' বলে ডাকলেই চলে আসেন।”

“আচ্ছা, আমি ওষুধ দেব। দিনের বেলাতেও কি যুবরাজ তাঁর কাছেই থাকেন?”

“হ্যাঁ।”

মঙ্গলা বলল, “ওমা, কী হবে! তা, সে যুবরাজকে কী বলে, কী করে, দেখেছিস?”

“না ভাই, তা দেখিনি।”

“আমাকে একবার রাজবাড়িতে নিয়ে যেতে পারিস? আমি তাহলে একবার দেখে আসতাম!”

মাতঙ্গিনী বলল, “কেন ভাই, তোমার এত মাথাব্যথা কেন?”

মঙ্গলা বলল, “আরে তা নয়। একবার দেখলেই বুঝতে পারব, কী মন্ত্রে সে বশ করেছে, আর আমার মন্ত্র খাটবে কি না!”

মাতঙ্গিনী বলল, “বেশ, তাহলে আজ আসি!” বলে ঝুড়ি নিয়ে চলে গেল।

মাতঙ্গিনী চলে যেতেই মঙ্গলা যেন রাগে ফুলতে লাগল, দাঁতে দাঁত চেপে, চোখ বড় বড় করে বিড়বিড় করে বকতে লাগল।

1 सुरमा के विरुद्ध मंगला और मातंगिनी का षड़यन्त्र

मंगला की कुटिया यशोर के एक छोर पर थी। वहाँ बैठकर वह माला जप रही थी। तभी साग-सब्ज़ी की टोकरी हाथ में लिए राजमहल की दासी मातंगिनी आ पहुँची।

मातंगिनी ने कहा, “आज हाट आई थी, तो सोचा, बहुत दिन से मंगला दीदी को नहीं देखा, तो एक बार जाकर देख आती हूँ। आज बहन बहुत काम है, ज़्यादा देर नहीं रह पाऊँगी।” कहकर टोकरी रखकर वह निश्चिंत होकर वहीं बैठ गई। “तो दीदी, तुम तो सब जानती ही हो, वो आदमी मुझसे बहुत प्यार करता था, खैर, अब भी करता है, पर मुझे पता चल गया है कि उसका मन किसी और पर आ गया है—तो क्या तुम ऐसा कुछ नहीं कर सकती कि वो औरत तीन रात के अंदर मर जाए?”

मंगला के पास गाय खोने से लेकर पति खोने तक, हर तरह की दुर्घटना की दवा थी, इसके अलावा, वह वशीकरण के ऐसे उपाय जानती थी कि राजमहल के बड़े-बड़े सेवक मंगला की कुटिया में न जाने कितने ही लोट-पोट होते थे! जिस औरत के तीन रात के अंदर मर जाने से मातंगिनी की जान बचती, वह और कोई नहीं, स्वयं मंगला थी!

मंगला मन ही मन हँसकर बोली, “उस औरत को मरने की कोई जल्दी नहीं पड़ी है, वह तो यम का काम बढ़ाकर ही मरेगी।” मंगला ने हँसकर ज़ाहिर तौर पर कहा, “तुम जैसी रूपसी को छोड़कर कहीं और मन लगाए, ऐसा कोई अरसिक है क्या? खैर, पोती, तुम चिंता मत करो। तुम उसका मन वापस पा लोगी। तुम्हारी आँखों में ही दवा है, ज़रा ज़्यादा करके इस्तेमाल करके देखना, अगर उससे भी काम न बने, तो यह जड़ उसे पान के साथ खिला देना।” कहकर वह एक सूखी जड़ ले आई।

मंगला ने मातंगिनी से पूछा, “सुनो, राजमहल की क्या खबर है?”

मातंगिनी ने हाथ पलटकर कहा, “उन सब बातों से हमें क्या काम, बहन?”

मंगला ने कहा, “ठीक कहा। ठीक कहा।”

मंगला इस विषय पर अचानक इतनी सहमत हो जाएगी, इसकी मातंगिनी ने उम्मीद नहीं की थी। वह थोड़ी दुविधा में पड़कर बोली, “खैर, तुम्हें बताने में कोई हर्ज नहीं; पर आज मेरे पास ज़्यादा समय नहीं है; किसी और दिन सब बताऊँगी।” कहकर वह बैठी रही।

मंगला ने कहा—“तो ठीक है, किसी और दिन सुन लेंगे।”

मातंगिनी अधीर हो गई, बोली, “तो मैं चलती हूँ बहन। देर करने पर न जाने कितनी डाँट खानी पड़ेगी। देखो बहन, उस दिन हमारे यहाँ, राजा के दामाद आए थे, तो जिस दिन वे आए थे उसी रात किसी को बिना बताए चले गए।”

मंगला ने कहा, “सच में? अच्छा; बताओ तो क्यों; मैं तभी तो कहती हूँ कि मातंगिनी के बिना मुझे अंदर की खबर कोई नहीं दे सकता।”

मातंगिनी प्रसन्न होकर बोली, “असली बात जानती हो? हमारी जो बौठाकुरानी हैं, वह किसी का भला नहीं देख सकतीं। वह न जाने कौन सा मंत्र जानती हैं, अपने स्वामी को बिल्कुल भेड़ बना रखा है, वह—नहीं बहन; रहने दो, कौन कहाँ से सुन लेगा और कहेगा कि मातंगिनी राजमहल की बातें बाहर बताती फिरती है।”

मंगला और उत्सुकता नहीं रोक सकी; हालाँकि वह जानती थी कि थोड़ी देर और चुप रहने पर मातंगिनी खुद ही सब कुछ बता देगी, फिर भी उससे देर सही नहीं गई, बोली, “यहाँ कोई नहीं है पोती। और यह तो अपने लोगों के बीच की बात है, इसमें हर्ज ही क्या है? तो, तुम्हारी बौठाकुरानी ने क्या किया?”

“उन्होंने हमारी दीदीठाकुरानी के बारे में दामाद के कान भरे थे, इसीलिए दामाद रातों-रात दीदीठाकुरानी को छोड़कर चले गए हैं। दीदीठाकुरानी तो रो-पीटकर बुरा हाल किए हुए हैं। महाराजा गुस्से से पागल हो गए हैं, वह बौठाकुरानी को श्रीपुर उनके मायके भेजना चाहते हैं। अरे देखो बहन, तुम्हें तो हर बात पर हँसी आती है! इसमें हँसने की क्या बात मिली? तुम्हारी तो हँसी ही नहीं रुक रही।”

रामचंद्र राय के भागने की खबर का असली कारण राजमहल के हर दास-दासी को ठीक-ठीक पता था, लेकिन किसी की बात किसी से मेल नहीं खाती थी।

मंगला ने कहा, “अपनी माठाकुरानी से कहना कि बौठाकुरानी को जल्दी मायके भेजने से कोई फायदा नहीं। मंगला ऐसी दवा दे सकती है जिससे युवराज का मन उन पर से पूरी तरह हट जाए।” कहकर वह खिलखिलाकर हँसने लगी। मातंगिनी ने कहा, “यह तो बहुत अच्छी बात है!”

मंगला ने पूछा, “तुम्हारी बौठाकुरानी को क्या युवराज बहुत प्यार करते हैं?”

“क्या कहना! एक पल भी देखे बिना नहीं रह सकते! युवराज को 'तू' कहकर बुलाती हैं तो दौड़े चले आते हैं।”

“अच्छा, मैं दवा दूँगी। क्या दिन में भी युवराज उन्हीं के पास रहते हैं?”

“हाँ।”

मंगला ने कहा, “हे माँ, क्या होगा! तो, वह युवराज से क्या कहती है, क्या करती है, कुछ देखा है?”

“नहीं बहन, वह तो नहीं देखा।”

“मुझे एक बार राजमहल ले चल सकती है, मैं एक बार जाकर देख आती!”

मातंगिनी ने कहा, “क्यों बहन, तुम्हें इतनी क्या चिंता है?”

मंगला ने कहा, “अरे वो बात नहीं। एक बार देख लूँगी तो समझ जाऊँगी कि उसने किस मंत्र से वश में किया है, और मेरा मंत्र काम करेगा भी या नहीं!”

मातंगिनी ने कहा, “तो ठीक है, आज चलती हूँ!” कहकर टोकरी लेकर चली गई।

मातंगिनी के चले जाने पर मंगला जैसे फूलने लगी, दाँत पर दाँत भींचकर, आँखों की पुतलियाँ फैलाकर वह बड़बड़ाने लगी।

1 Mangala and Matangini's Conspiracy Against Surma

Mangala's cottage was on the outskirts of Jessore. She was sitting there, counting her prayer beads. Just then, a palace maidservant named Matangini arrived, carrying a basket of vegetables.

Matangini said, “I came to the market today and thought, I haven't seen sister Mangala in a long time, so I'll drop by for a visit. I have a lot of work today, sister, so I can't stay long.” With that, she set down her basket and settled in comfortably. “Well, sister, you know everything. That man of mine used to love me very much—and still does—but I've found out his heart has gone after someone else. Can't you do something so that hag dies within three nights?”

Mangala had a remedy for every kind of misfortune, from a lost cow to a lost husband. Besides that, she knew such methods of enchantment that high-ranking palace servants came groveling to her cottage by the score. The hag whose death within three nights would be Matangini's salvation was none other than Mangala herself!

Mangala laughed to herself and thought, “That hag is in no hurry to die; she will only die after increasing the work of Yama.” Laughing, she said aloud, “Is there any man so tasteless as to forsake a beauty like you for someone else? Don't you worry, my dear. You will win his heart back. The remedy is in your own eyes—try applying it a little more liberally. And if that doesn't work, then feed him this root with his paan.” Saying so, she brought out a dried root.

Mangala asked Matangini, “So, what's the news from the palace?”

Matangini waved her hand dismissively and said, “What business do we have with all that, sister?”

Mangala said, “True. True.”

Matangini hadn't expected Mangala to agree with her so suddenly and so completely. She was a bit flustered and said, “Well, there's no harm in telling you; but I really don't have much time today. I'll tell you everything another day.” And she remained seated.

Mangala said, “Very well, I'll hear it another day.”

Matangini grew impatient. “Well then, I must be going, sister. I'll get an earful for being late. Look, sister, the other day the King's son-in-law came to our palace, and the very night he arrived, he left without telling anyone.”

Mangala said, “Is that so? Really? But why? This is why I say no one can give me the inside news except for Matangini.”

Beaming, Matangini said, “Do you know the real reason? That Bou-thakurani of ours can't stand to see anyone happy. She knows some spell—she has her husband tamed like a sheep. She... no, sister, never mind. Someone might overhear and say that Matangini goes around spreading palace gossip.”

Mangala couldn't contain her curiosity any longer. Although she knew that if she stayed quiet for a little while longer, Matangini would tell her everything on her own, she couldn't bear the delay. She said, “There's no one here, my dear. And what's the harm in talking among ourselves? So, what did your Bou-thakurani do?”

“She told the son-in-law all sorts of things against our Didithakurani, and that's why he abandoned her and left in the middle of the night. Didithakurani is crying her eyes out and making a terrible scene. The Maharaja is furious; he wants to send Bou-thakurani back to her father's house in Shripur. Look at you, sister, you laugh at everything! What's so funny about this? You can't even contain your laughter.”

Every single maidservant in the palace was correctly informed of the true reason for Ramchandra Ray's flight, but no two accounts were in agreement.

Mangala said, “Tell your Ma-thakurani there's no need to send Bou-thakurani to her father's house so soon. Mangala can provide a medicine that will make the Yubaraj's heart turn away from her completely.” And she let out a cackling laugh. Matangini said, “That sounds good!”

Mangala asked, “Does the Yubaraj love your Bou-thakurani very much?”

“What a question! He can't bear to be away from her for a moment! She has him so tamed, he comes running at her slightest call.”

“Alright, I'll give you the medicine. Does the Yubaraj stay with her during the day as well?”

“Yes.”

Mangala said, “Oh my, what will become of this! So, have you seen what she says to the Yubaraj, what she does?”

“No, sister, I haven't seen that.”

“Can you take me into the palace sometime? I could see for myself then!”

Matangini said, “Why, sister? Why are you so concerned?”

Mangala said, “That's not it. If I see them just once, I'll understand what spell she has used to enchant him, and whether my spell will work!”

Matangini said, “Alright then, I'll be off for today!” And taking her basket, she left.

After Matangini left, Mangala seemed to swell up. Gritting her teeth, her eyes wide, she began to mutter furiously to herself.

1 スルマに対するマンガラとマータンギニーの陰謀

マンガラの庵はジョソールの一方の端にあった。そこで彼女は数珠を繰りながら祈りを唱えていた。その時、野菜の籠を手に、王宮の侍女マータンギニーがやって来た。

マータンギニーは言った。「今日は市場に来たんだけど、そういえばマンガラ姉さんにしばらく会ってないなと思って、ちょっと顔を見に来たのよ。でも今日は仕事が多くて、長くはいられないわ。」そう言うと籠を置き、腰を落ち着けた。「ねえ、姉さん、あなたは万事お見通しでしょう。あのろくでなし、私のことをすごく好きだったのよ、今も好きだけど、でもね、他の誰かさんに心を移したって、私には分かるの。その女が三日三晩のうちに死ぬようにしてくれない?」

マンガラの所には、牛を失くしたことから夫を失くすことまで、あらゆる災難の薬があった。その上、彼女は人を意のままに操る術を知っていたので、王宮の身分の高い召使いたちでさえ、マンガラの庵に幾人もがひれ伏しに来るのだった!マータンギニーが三日三晩のうちに死んでくれれば助かると言っているその女とは、他の誰でもない、マンガラ自身であった!

マンガラは内心笑って言った。「あの女はそう急いで死ぬ気はないだろうよ。ヤマの仕事を増やしてから死ぬだろうね。」マンガラは声に出して笑いながら言った。「あんたみたいな美人を捨てて、他に心変わりするなんて、そんな無粋な男がいるもんかね?まあ、孫娘よ、心配いらないよ。彼の心は取り戻せるさ。薬はあんたの目の中にある。少し多めに使ってみな。それでもダメなら、この根っこをパーンに混ぜて食べさせな。」そう言って、乾いた根っこを一つ持ってきた。

マンガラはマータンギニーに尋ねた。「ところで、王宮の様子はどうだい?」

マータンギニーは手をひらひらさせながら言った。「そんな話、私たちには関係ないことよ。」

マンガラは言った。「その通り、その通り。」

マンガラがこの件でこれほどあっさり同意するとは、マータンギニーは予想していなかった。彼女は少々当惑して言った。「まあ、あなたに言う分には構わないけど。でも今日は時間がないの。また別の日に全部話すわ。」そう言って、彼女は座ったままでいた。

マンガラは言った。「いいだろう。またの日に聞かせてもらうよ。」

マータンギニーはしびれを切らして言った。「じゃあ、もう行くわ。遅れたらまたどれだけ叱られるか。ねえ、聞いて。この間、私たちの所に、王の婿君がいらっしゃったでしょう。その方、来たその日の晩に、誰にも言わずに帰ってしまわれたのよ。」

マンガラは言った。「本当かい?それはまた。どうしてかね?だから言うんだ、マータンギニーがいなけりゃ、誰も私に内々の話はしてくれないってね。」

マータンギニーは嬉しそうに言った。「本当のところはね、知ってる?うちの若奥様、あの方は、誰かが良い目を見るのが我慢ならないのよ。どんな呪文を知っているのか、旦那様をまるで羊みたいにしてしまって。あの方は――いえ、やめておくわ。誰がどこで聞いて、マータンギニーが王宮の話を外で言いふらしてるなんて言われるか分からないもの。」

マンガラはもう好奇心を抑えきれなかった。もうしばらく黙っていればマータンギニーが自ら全てを話すだろうとは分かっていたが、それでも待ちきれなかった。「ここには誰もいないよ、孫娘。それに内輪の話じゃないか、何の問題があるもんか。で、お宅の若奥様は何をしたんだい?」

「あの方が、私たちの姫様のことについて、婿君に何か告げ口をしたのよ。だから婿君は夜のうちに姫様を置いて帰ってしまったの。姫様は泣きわめいて大変なことになってるわ。マハラジャは激怒なさって、若奥様をシュリプルの実家に送り返そうとなさっているの。まあ、姉さんったら、何でもかんでも笑うんだから!これのどこが可笑しいの?笑いが止まらないじゃないの。」

ラーマチャンドラ・ライの逃亡の知らせの本当の理由は、王宮の侍女や召使いたちは皆それぞれが正確に知っていたが、誰一人として話が一致することはなかった。

マンガラは言った。「お宅の王妃様に伝えておくれ。若奥様をすぐに実家に送り返すことはないってね。マンガラは、王太子様の心が彼女から完全に離れてしまうような薬を渡せるって。」そう言って彼女はからからと笑った。マータンギニーは言った。「それはいい話ね!」

マンガラは尋ねた。「お宅の若奥様のこと、王太子様はとても愛しておられるのかい?」

「そんなこと!一瞬でも見ないと、いられないのよ!王太子様を『あなた』って呼ぶだけで、すぐにいらっしゃるわ。」

「分かった、薬をあげよう。昼間も王太子様はずっと彼女のそばにいるのかい?」

「ええ。」

マンガラは言った。「あらまあ、どうしましょう!それで、彼女は王太子様に何を言って、何をしているのか、見たかい?」

「いいえ、姉さん、それは見てないわ。」

「一度、私を王宮に連れて行ってはくれないかい。そうすれば、一度見に行けるんだが!」

マータンギニーは言った。「どうして、姉さん。そんなに気にかけるの?」

マンガラは言った。「いや、そうじゃないんだ。一度見れば分かるのさ、どんな呪文で籠絡したのか、私の呪文が効くかどうかね!」

マータンギニーは言った。「分かったわ。じゃあ今日はこれで!」そう言って、籠を持って去って行った。

マータンギニーが去ると、マンガラはまるで体が膨れ上がるかのようになり、歯を食いしばり、瞳孔を見開いて、ぶつぶつと何かを呟き始めた。