1 বসন্ত রায়ের হত্যার আদেশ ও প্রতাপাদিত্যের যুক্তি

মন্ত্রী কহিলেন “মহারাজ, কাজটা কি ভাল হইবে?”

প্রতাপাদিত্য জিজ্ঞাসা করিলেন “কোন্ কাজটা?”

মন্ত্রী কহিলেন “কাল যাহা আদেশ করিয়াছিলেন।”

প্রতাপাদিত্য বিরক্ত হইয়া কহিলেন “কাল কি আদেশ করিয়াছিলাম?”

মন্ত্রী কহিলেন “আপনার পিতৃব্য সম্বন্ধে।”

প্রতাপাদিত্য। আরো বিরক্ত হইয়া কহিলেন “আমার পিতৃব্য সম্বন্ধে কি?”

মন্ত্রী কহিলেন “মহারাজ আদেশ করিয়াছিলেন, যখন বসন্তরায় যশোহরে আসিবার পথে সিমুলতলীর চটিতে আশ্রয় লইবেন তখন—”

প্রতাপাদিত্য ভ্রূকুঞ্চিত করিয়া কহিলেন “তখন কি? কথাটা শেষ করিয়াই ফেল!”

মন্ত্রী—“তখন দুই জন পাঠান গিয়া—”

প্রতাপ—“হঁ।”

মন্ত্রী—“তাঁহাকে নিহত করিবে।”

প্রতাপাদিত্য রুষ্ট হইয়া কহিলেন “মন্ত্রী, হঠাৎ তুমি শিশু হইয়াছ না কি? একটা কথা শুনিতে দশটা প্রশ্ন করিতে হয় কেন? কথাটা মুখে আনিতে বুঝি সঙ্কোচ হইতেছে! এখন বোধ করি, তোমার রাজকার্য্যে মনোযোগ দিবার বয়স গিয়াছে, এখন পরকাল চিন্তার সময় আসিয়াছে। এতদিন অবসর প্রার্থনা কর নাই কেন?”

মন্ত্রী—“মহারাজ আমার ভাবটা ভাল বুঝিতে পারেন নাই।”

প্রতাপ—“বিলক্ষণ বুঝিতে পারিয়াছি। কিন্তু একটা কথা তোমাকে জিজ্ঞাসা করি, আমি যে কাজটা করিতে পারি, তুমি তাহা মুখে আনিতেও পার না? তোমার বিবেচনা করা উচিত ছিল, আমি যখন এ কাজটা করিতে যাইতেছি, তখন অবশ্য তাহার গুরুতর কারণ আছে; আমি অবশ্য ধর্ম্ম অধর্ম্ম সমস্তই ভাবিয়াছিলাম।”

মন্ত্রী—“আজ্ঞা মহারাজ, আমি—”

প্রতাপ—“চুপ কর, আমার সমস্ত কথাটা শোন আগে। আমি যখন এ কাজটা—আমি যখন নিজের পিতৃব্যকে খুন করিতে উদ্যত হইয়াছি, তখন অবশ্য তোমার চেয়ে ঢের বেশি ভাবিয়াছি। এ কাজে অধর্ম্ম নাই। আমার ব্রত এই—এই যে ম্লেচ্ছেরা আমাদের দেশে আসিয়া অনাচার আরম্ভ করিয়াছে, যাহাদের অত্যাচারে আমাদের দেশ হইতে সনাতন আর্য্য ধর্ম্ম লোপ পাইবার উপক্রম হইয়াছে, ক্ষত্রিয়েরা মোগলকে কন্যা দিতেছে, হিন্দুরা আচারভ্রষ্ট হইতেছে, এই ম্লেচ্ছদের আমি দূর করিয়া দিব, আমাদের আর্য্য-ধর্ম্মকে রাহুর গ্রাস হইতে মুক্ত করিব। এই ব্রত সাধন করিতে অনেক বলের আবশ্যক। আমি চাই, সমস্ত বঙ্গদেশের রাজারা আমার অধীনে এক হয়। যাহারা যবনের মিত্র, তাহাদের বিনাশ না করিলে ইহা সিদ্ধ হইবে না। পিতৃব্য বসন্তরায় আমার পূজ্যপাদ, কিন্তু যথার্থ কথা বলিতে পাপ নাই, তিনি আমাদের বংশের কলঙ্ক। তিনি আপনাকে ম্লেচ্ছের দাস বলিয়া স্বীকার করিয়াছেন, এমন লোকের সহিত প্রতাপাদিত্য রায়ের কোন সম্পর্ক নাই। ক্ষত হইলে নিজের বাহুকে কাটিয়া ফেলা যায়; আমার ইচ্ছা যায় বংশের ক্ষত, বঙ্গদেশের ক্ষত ঐ বসন্ত রায়কে কাটিয়া ফেলিয়া রায়বংশকে বাচাই, বঙ্গদেশকে বাঁচাই।”

মন্ত্রী কহিলেন “এ বিষয়ে মহারাজের সহিত আমার অন্য মত ছিল না।”

প্রতাপাদিত্য কহিলেন—“হাঁ ছিল। ঠিক কথা বল। এখনো আছে। দেখ মন্ত্রী, যতক্ষণ আমার মতের সহিত তোমার মত না মিলিবে, ততক্ষণ তাহা প্রকাশ করিও। সে সাহস যদি না থাকে তবে এ পদ তোমার নহে। সন্দেহ থাকে ত বলিও। আমাকে বুঝাইবার অবসর দিও। তুমি মনে করিতেছ নিজের পিতৃব্যকে হনন করা সকল সময়েই পাপ। ‘না’ বলিও না, ঠিক এই কথাই তোমার মনে জাগিতেছে। ইহার উত্তর আছে। পিতার অনুরোধে ভৃগু নিজের মাতাকে বধ করিয়াছিলেন, ধর্ম্মের অনুরোধে আমি আমার পিতৃব্যকে বধ করিতে পারি না?”

এ বিষয়ে — অর্থাৎ ধর্ম্ম অধর্ম্ম বিষয়ে যথার্থই মন্ত্রীর কোন মতামত ছিল না। মন্ত্রী যতদূর তলাইয়াছিলেন, রাজা ততদূর তলাইতে পারেন নাই। মন্ত্রী বিলক্ষণ জানিতেন যে, উপস্থিত বিষয়ে তিনি যদি সঙ্কোচ দেখান, তাহা হইলে রাজা আপাতত কিছু রুষ্ট হইবেন বটে, কিন্তু পরিণামে তাহার জন্য মনে মনে সন্তুষ্ট হইবেন। এইরূপ না করিলে মন্ত্রীর বিরুদ্ধে এককালে-না-এককালে রাজার সন্দেহ ও আশঙ্কা জন্মিতে পারে।

2 মন্ত্রীর উপদেশে প্রতাপাদিত্যের ক্রোধ

মন্ত্রী কহিলেন “আমি বলিতেছিলাম কি, দিল্লীশ্বর এ সংবাদ শুনিয়া নিশ্চয়ই রুষ্ট হইবেন।”

প্রতাপাদিত্য জ্বলিয়া উঠিলেন “হঁ হাঁ রুষ্ট হইবেন! রুষ্ট হইবার অধিকার ত সকলেরই আছে। দিল্লীশ্বর ত আমার ঈশ্বর নহেন। তিনি রুষ্ট হইলে থরথর করিয়া কাঁপিতে থাকিবে এমন জীব যথেষ্ট আছে, মানসিংহ আছে, বীরবল আছে, আমাদের বসন্ত রায় আছেন, আর সম্প্রতি দেখিতেছি তুমিও আছ; কিন্তু আত্মবৎ সকলকে মনে করিও না।”

মন্ত্রী হাসিয়া কহিলেন “আজ্ঞা, মহারাজ ফাঁকা রোষকে আমিও বড় একটা ডরাই না, কিন্তু তাহার সঙ্গে সঙ্গে ঢাল তলোয়ার যদি থাকে তাহা হইলে ভাবিতে হয় বৈ কি! দিল্লীশ্বরের রোষের অর্থ পঞ্চাশ সহস্র সৈন্য।”

প্রতাপাদিত্য ইহার একটা সদুত্তর না দিতে পারিয়া কহিলেন “দেখ মন্ত্রী, দিল্লীশ্বরের ভয় দেখাইয়া আমাকে কোন কাজ হইতে নিরস্ত করিতে চেষ্টা করিও না, তাহাতে আমার নিতান্ত অপমান বোধ হয়।”

মন্ত্রী কহিলেন “প্রজারা জানিতে পারিলে কি বলিবে?”

প্রতাপ—“জানিতে পারিলে ত?”

মন্ত্রী—এ কাজ অধিক দিন ছাপা রহিবে না।”

“এ সংবাদ রাষ্ট্র হইলে সমস্ত বঙ্গদেশ আপনার বিরোধী হইবে। যে উদ্দেশ্যে এই কাজ করিতে চান, তাহা সমূলে বিনাশ পাইবে। আপনাকে জাতিচ্যুত করিবে ও বিবিধ নিগ্রহ সহিতে হইবে।”

প্রতাপ—“দেখ, মন্ত্রী, আবার তোমাকে বলিতেছি, আমি যাহা করি, তাহা বিশেষ ভাবিয়া করি। অতএব আমি কাজে প্রবৃত্ত হইলে মিছামিছি কতকগুলা ভয় দেখাইয়া আমাকে নিরস্ত করিতে চেষ্টা করিও না। আমি শিশু নহি। প্রতিপদে আমাকে বাধা দিবার জন্য, তোমাকে আমার নিজের শৃঙ্খলস্বরূপে রাখি নাই।”

মন্ত্রী চুপ করিয়া গেলেন। তাঁহার প্রতি রাজার দুইটি আদেশ ছিল। এক, যতক্ষণ মতের অমিল হইবে ততক্ষণ প্রকাশ করিবে, দ্বিতীয়তঃ বিরুদ্ধ মত প্রকাশ করিয়া রাজাকে কোন কাজ হইতে নিরস্ত করিবার চেষ্টা করিবে না। মন্ত্রী আজ পর্য্যন্ত এই দুই আদেশের ভালরূপ সামঞ্জস্য করিতে পারেন নাই।

মন্ত্রী কিয়ৎক্ষণ পরে আবার কহিলেন “মহারাজ, দিল্লীশ্বর”—! প্রতাপ আদিত্য জ্বলিয়া উঠিয়া কহিলেন,—“আবার দিল্লীশ্বর? মন্ত্রী, দিনের মধ্যে তুমি যতবার দিল্লীশ্বরের নাম কর ততবার যদি জগদীশ্বরের নাম করিতে তাহা হইলে পরকালের কাজ গুছাইতে পারিতে। যতক্ষণে না আমার এই কাজটা শেষ হইবে, ততক্ষণ দিল্লীশ্বরের নাম মুখে আনিও না। যখন আজ বিকালে এই কাজ সমাধার সংবাদ পাইব, তখন আসিয়া আমার কানের কাছে তুমি মনের সাধ মিটাইয়া দিল্লীশ্বরের নাম জপিও! ততক্ষণ একটু আত্মসংযম করিয়া থাক!”

3 যুবরাজের প্রস্থান ও প্রতাপাদিত্যের ক্রোধ

মন্ত্রী আবার চুপ করিয়া গেলেন। দিল্লীশ্বরের কথা বন্ধ করিয়া কহিলেন—“মহারাজ, যুবরাজ উদয়াদিত্য—”

রাজা কহিলেন—“দিল্লীশ্বর গেল, প্রজারা গেল; এখন অবশেষে সেই স্ত্রৈণ বালকটার কথা বলিয়া ভয় দেখাইবে না কি?”

মন্ত্রী কহিলেন “মহারাজ, আপনি অত্যন্ত ভুল বুঝিতেছেন। আপনার কাজে বাধা দিবার অভিপ্রায় আমার মূলেই নাই।”

প্রতাপাদিত্য ঠাণ্ডা হইয়া কহিলেন “তবে কি বলিতেছিলে বল!”

মন্ত্রী বলিলেন “কাল রাত্রে যুবরাজ সহসা অশ্বারোহণ করিয়া একাকী চলিয়া গিয়াছেন, এখনো ফিরিয়া আসেন নাই।”

প্রতাপাদিত্য বিরক্ত হইয়া কহিলেন, “কোন দিকে গেছেন?”

মন্ত্রী কহিলেন “পূর্ব্বাভিমুখে।”

প্রতাপাদিত্য দাঁতে দাঁত লাগাইয়া কহিলেন “কখন গিয়াছিল?”

মন্ত্রী—“কাল প্রায় অর্দ্ধরাত্রের সময়।”

প্রতাপাদিত্য কহিলেন “শ্রীপুরের জমীদারের মেয়ে কি এখানেই আছে?”

মন্ত্রী—“আজ্ঞা হাঁ!”

প্রতাপাদিত্য—“সে তাহার পিত্রালয়ে থাকিলেই ত ভাল হয়।”

মন্ত্রী কোন উত্তর দিলেন না।

প্রতাপাদিত্য কহিলেন “উদয়াদিত্য কোন কালেই রাজার মত ছিল না। ছেলেবেলা হইতে প্রজাদের সঙ্গেই তাহার মেশামেশি। আমার সন্তান যে এমন হইবে তাহা কে জানিত? সিংহ-শাবককে কি, কিকরিয়া সিংহ হইতে হয়, তাহা শিখাইতে হয়? তবে কিনা, নরাণাং মাতুলক্রমঃ। বোধ করি সে তাহার মাতামহদের স্বভাব পাইয়াছে। তাহার উপরে আবার সম্প্রতি শ্রীপুরের ঘরে বিবাহ দিয়াছি; সেই অবধি বালকটা একেবারে অধঃপাতে গিয়াছে। ঈশ্বর করুন, আমার কনিষ্ঠ পুত্রটি যেন উপযুক্ত হয়, আমি যাহা আরম্ভ করিয়াছি তাহা শেষ যদি না করিতে পারি তাহা হইলে মরিবার সময়ে ভাবনা না থাকিয়া যায় যেন! সে কি তবে এখনও ফিরিয়া আসে নাই?”

মন্ত্রী—“না মহারাজ!”

ভূমিতে পদাঘাত করিয়া প্রতাপাদিত্য কহিলেন একজন প্রহরী তাহার সঙ্গে কেন যায় নাই?”

মন্ত্রী—“একজন যাইতে প্রস্তুত হইয়াছিল, কিন্তু তিনি বারণ করিয়াছিলেন।”

প্রতাপ—“অদৃশ্যভাবে, দূরে দূরে থাকিয়া কেন যায় নাই?”

মন্ত্রী—“তাহারা কোন প্রকার অন্যায় সন্দেহ করে নাই।”

প্রতাপ—“সন্দেহ করে নাই। মন্ত্রী, তুমি কি আমাকে বুঝাইতে চাও, তাহারা বড় ভাল কাজ করিয়াছিল? মন্ত্রী, তুমি আমাকে অনর্থক যাহা-তাহা একটা বুঝাইতে চেষ্টা পাইও না। প্রহরীরা কর্ত্তব্য কাজে বিশেষ অবহেলা করিয়াছে। সে সময়ে দ্বারে কাহারা ছিল ডাকিয়া পাঠাও। এই ঘটনাটির জন্য যদি আমার কোন একটা ইচ্ছা বিফল হয়, তবে আমি সর্ব্বনাশ করিব। মন্ত্রী, তোমারও তাহা হইলে ভয়ের সম্ভাবনা আছে। আমার কাছে তুমি প্রমাণ করিতে আসিয়াছ, এ কাজের জন্য কেহই দায়ী নহে! তবে এ দায় তোমার!”

প্রতাপাদিত্য প্রহরীদিগকে ডাকাইয়া পাঠাইলেন। কিয়ৎক্ষণ গম্ভীরভাবে থাকিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন “হাঁ। দিল্লীশ্বরের কথা কি বলিতেছিলে?”

মন্ত্রী—“শুনিলাম আপনার নামে দিল্লীশ্বরের নিকট অভিযোগ, করিয়াছে।”

প্রতাপ—“কে? তোমাদের যুবরাজ উদয়াদিত্য না কি?”

মন্ত্রী—“আজ্ঞা, মহারাজ, এমন কথা বলিবেন না। কে করিয়াছে। সন্ধান পাই নাই।”

প্রতাপ—“যেই করুক, তাহার জন্য অধিক ভাবিও না, আমিই দিল্লীশ্বরের বিচারকর্ত্তা, আমিই তাহার দণ্ডের উদ্যোগ করিতেছি। সে পাঠানেরা এখনও ফিরিল না? উদয়াদিত্য এখনো আসিল না? শীঘ্র প্রহরীকে ডাক।”

1 বসন্ত রায়ের হত্যার আদেশ ও প্রতাপাদিত্যের যুক্তি

মন্ত্রী বললেন, “মহারাজ, কাজটা কি ভালো হবে?”

প্রতাপাদিত্য জিজ্ঞেস করলেন, “কোন কাজটা?”

মন্ত্রী বললেন, “কাল যা আদেশ করেছিলেন।”

প্রতাপাদিত্য বিরক্ত হয়ে বললেন, “কাল কী আদেশ করেছিলাম?”

মন্ত্রী বললেন, “আপনার কাকা সম্বন্ধে।”

প্রতাপাদিত্য আরও বিরক্ত হয়ে বললেন, “আমার কাকা সম্বন্ধে কী?”

মন্ত্রী বললেন, “মহারাজ আদেশ করেছিলেন, যখন বসন্তরায় যশোরে আসার পথে সিমুলতলীর চটিতে আশ্রয় নেবেন তখন—”

প্রতাপাদিত্য ভুরু কুঁচকে বললেন, “তখন কী? কথাটা শেষ করেই ফেলো!”

মন্ত্রী—“তখন দুজন পাঠান গিয়ে—”

প্রতাপ—“হ্যাঁ।”

মন্ত্রী—“তাঁকে হত্যা করবে।”

প্রতাপাদিত্য রেগে গিয়ে বললেন, “মন্ত্রী, হঠাৎ তুমি শিশু হয়ে গেলে নাকি? একটা কথা শুনতে দশটা প্রশ্ন করতে হয় কেন? কথাটা মুখে আনতে বোধহয় সংকোচ হচ্ছে! আমার এখন মনে হচ্ছে, তোমার রাজকাজে মন দেওয়ার বয়স চলে গেছে, এখন পরকাল চিন্তার সময় এসেছে। এতদিন অবসর চাওনি কেন?”

মন্ত্রী—“মহারাজ আমার মনোভাবটা ঠিক বুঝতে পারেননি।”

প্রতাপ—“খুব ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছি। কিন্তু একটা কথা তোমাকে জিজ্ঞেস করি, আমি যে কাজটা করতে পারি, তুমি সেটা মুখে আনতেও পারো না? তোমার বিবেচনা করা উচিত ছিল, আমি যখন এই কাজটা করতে যাচ্ছি, তখন নিশ্চয়ই তার গুরুতর কারণ আছে; আমি অবশ্যই ধর্ম-অধর্ম সবই ভেবেছি।”

মন্ত্রী—“আজ্ঞে মহারাজ, আমি—”

প্রতাপ—“চুপ করো, আমার পুরো কথাটা আগে শোনো। আমি যখন এই কাজটা—আমি যখন নিজের কাকাকেই খুন করতে উদ্যত হয়েছি, তখন অবশ্যই তোমার চেয়ে অনেক বেশি ভেবেছি। এই কাজে কোনো অধর্ম নেই। আমার ব্রত হলো—এই যে ম্লেচ্ছরা আমাদের দেশে এসে অনাচার শুরু করেছে, যাদের অত্যাচারে আমাদের দেশ থেকে সনাতন আর্যধর্ম লোপ পাওয়ার উপক্রম হয়েছে, ক্ষত্রিয়রা মোগলদের কন্যা দিচ্ছে, হিন্দুরা আচারভ্রষ্ট হচ্ছে, এই ম্লেচ্ছদের আমি দূর করে দেব, আমাদের আর্যধর্মকে রাহুর গ্রাস থেকে মুক্ত করব। এই ব্রত পালন করতে অনেক শক্তির প্রয়োজন। আমি চাই, সমস্ত বঙ্গদেশের রাজারা আমার অধীনে একজোট হোক। যারা যবনের মিত্র, তাদের বিনাশ না করলে এটা সফল হবে না। কাকা বসন্তরায় আমার পূজনীয়, কিন্তু সত্যি কথা বলতে পাপ নেই, তিনি আমাদের বংশের কলঙ্ক। তিনি নিজেকে ম্লেচ্ছদের দাস বলে স্বীকার করেছেন, এমন লোকের সঙ্গে প্রতাপাদিত্য রায়ের কোনো সম্পর্ক নেই। ক্ষত হলে নিজের বাহু কেটে ফেলা যায়; আমার ইচ্ছে করে বংশের ক্ষত, বঙ্গদেশের ক্ষত ওই বসন্ত রায়কে কেটে ফেলে রায়বংশকে বাঁচাই, বঙ্গদেশকে বাঁচাই।”

মন্ত্রী বললেন, “এ বিষয়ে মহারাজের সঙ্গে আমার কোনো ভিন্নমত ছিল না।”

প্রতাপাদিত্য বললেন, “হ্যাঁ ছিল। ঠিক কথা বলো। এখনও আছে। দেখো মন্ত্রী, যতক্ষণ আমার মতের সঙ্গে তোমার মত না মিলবে, ততক্ষণ তা প্রকাশ কোরো। সেই সাহস যদি না থাকে তবে এই পদ তোমার নয়। সন্দেহ থাকলে বলো। আমাকে বোঝানোর সুযোগ দিও। তুমি মনে করছ নিজের কাকাকে হত্যা করা সব সময়ই পাপ। ‘না’ বলো না, ঠিক এই কথাই তোমার মনে জাগছে। এর উত্তর আছে। পিতার অনুরোধে ভৃগু নিজের মাকে বধ করেছিলেন, ধর্মের অনুরোধে আমি আমার কাকাকে বধ করতে পারি না?”

এ বিষয়ে—অর্থাৎ ধর্ম-অধর্ম বিষয়ে সত্যিই মন্ত্রীর কোনো মতামত ছিল না। মন্ত্রী যতটা গভীরে ভেবেছিলেন, রাজা ততটা গভীরে ভাবতে পারেননি। মন্ত্রী খুব ভালোভাবেই জানতেন যে, এই ব্যাপারে তিনি যদি সংকোচ দেখান, তাহলে রাজা আপাতত কিছুটা রেগে যাবেন ঠিকই, কিন্তু পরিণামে এর জন্য মনে মনে খুশিই হবেন। এমনটা না করলে, কোনো-না-কোনো সময় রাজার মনে মন্ত্রীর বিরুদ্ধে সন্দেহ ও আশঙ্কা জন্মাতে পারত।

2 মন্ত্রীর উপদেশে প্রতাপাদিত্যের ক্রোধ

মন্ত্রী বললেন, “আমি বলছিলাম কী, দিল্লীশ্বর এই খবর শুনে নিশ্চয়ই রুষ্ট হবেন।”

প্রতাপাদিত্য জ্বলে উঠলেন, “হ্যাঁ, রুষ্ট হবেন! রুষ্ট হওয়ার অধিকার তো সকলেরই আছে। দিল্লীশ্বর তো আমার ঈশ্বর নন। তিনি রুষ্ট হলে থরথর করে কাঁপবে, এমন প্রাণী অনেক আছে—মানসিংহ আছে, বীরবল আছে, আমাদের বসন্ত রায় আছেন, আর এখন দেখছি তুমিও আছ; কিন্তু নিজের মতো করে সবাইকে ভেবো না।”

মন্ত্রী হেসে বললেন, “আজ্ঞে মহারাজ, ফাঁকা রাগকে আমিও তেমন একটা ভয় পাই না, কিন্তু তার সঙ্গে যদি ঢাল-তলোয়ার থাকে, তাহলে তো ভাবতেই হয়! দিল্লীশ্বরের রাগের অর্থ হল পঞ্চাশ হাজার সৈন্য।”

প্রতাপাদিত্য এর কোনো সঠিক উত্তর দিতে না পেরে বললেন, “দেখো মন্ত্রী, দিল্লীশ্বরের ভয় দেখিয়ে আমাকে কোনো কাজ থেকে বিরত করার চেষ্টা কোরো না, তাতে আমার নিজেকে অত্যন্ত অপমানিত মনে হয়।”

মন্ত্রী বললেন, “প্রজারা জানতে পারলে কী বলবে?”

প্রতাপ— “জানতে পারলে তো?”

মন্ত্রী— “এই কাজ বেশিদিন চাপা থাকবে না।”

“এই খবর জানাজানি হলে সারা বঙ্গদেশ আপনার বিরোধী হবে। যে উদ্দেশ্যে এই কাজ করতে চাইছেন, তা গোড়া থেকেই নষ্ট হয়ে যাবে। আপনাকে জাতিচ্যুত করা হবে এবং নানা রকম নির্যাতন সহ্য করতে হবে।”

প্রতাপ— “দেখো মন্ত্রী, তোমাকে আবার বলছি, আমি যা করি, তা খুব ভেবেচিন্তেই করি। তাই আমি কোনো কাজে লেগে গেলে, অযথা কতগুলো ভয় দেখিয়ে আমাকে থামানোর চেষ্টা কোরো না। আমি শিশু নই। পদে পদে আমাকে বাধা দেওয়ার জন্য, তোমাকে আমার নিজের শেকল হিসেবে রাখিনি।”

মন্ত্রী চুপ করে গেলেন। তাঁর প্রতি রাজার দুটি আদেশ ছিল। এক, যতক্ষণ মতের অমিল থাকবে, ততক্ষণ তা প্রকাশ করতে হবে, দ্বিতীয়ত, বিরুদ্ধ মত প্রকাশ করে রাজাকে কোনো কাজ থেকে বিরত করার চেষ্টা করা যাবে না। মন্ত্রী আজ পর্যন্ত এই দুই আদেশের ঠিকমতো সামঞ্জস্য করতে পারেননি।

কিছুক্ষণ পর মন্ত্রী আবার বললেন, “মহারাজ, দিল্লীশ্বর—!” প্রতাপাদিত্য জ্বলে উঠে বললেন,—“আবার দিল্লীশ্বর? মন্ত্রী, দিনের মধ্যে তুমি যতবার দিল্লীশ্বরের নাম করো, ততবার যদি জগদীশ্বরের নাম করতে, তাহলে পরকালের কাজ গুছিয়ে নিতে পারতে। যতক্ষণ না আমার এই কাজটা শেষ হচ্ছে, ততক্ষণ দিল্লীশ্বরের নাম মুখে আনবে না। আজ বিকেলে যখন এই কাজ শেষ হওয়ার খবর পাব, তখন আমার কানের কাছে এসে মনের সাধ মিটিয়ে দিল্লীশ্বরের নাম জপ কোরো! ততক্ষণ একটু আত্মসংযম করে থাকো!”

3 যুবরাজের প্রস্থান ও প্রতাপাদিত্যের ক্রোধ

মন্ত্রী আবার চুপ করে গেলেন। দিল্লীশ্বরের কথা বন্ধ করে বললেন—“মহারাজ, যুবরাজ উদয়াদিত্য—”

রাজা বললেন—“দিল্লীশ্বর গেল, প্রজারা গেল; এখন শেষে সেই স্ত্রৈণ ছেলেটার কথা বলে ভয় দেখাবে নাকি?”

মন্ত্রী বললেন, “মহারাজ, আপনি অত্যন্ত ভুল বুঝছেন। আপনার কাজে বাধা দেওয়ার ইচ্ছে আমার একদমই নেই।”

প্রতাপাদিত্য শান্ত হয়ে বললেন, “তাহলে কী বলছিলে বলো!”

মন্ত্রী বললেন, “কাল রাতে যুবরাজ হঠাৎ ঘোড়ায় চড়ে একাই চলে গেছেন, এখনও ফিরে আসেননি।”

প্রতাপাদিত্য বিরক্ত হয়ে বললেন, “কোন দিকে গেছেন?”

মন্ত্রী বললেন, “পূর্ব দিকে।”

প্রতাপাদিত্য দাঁতে দাঁত চেপে বললেন, “কখন গিয়েছিল?”

মন্ত্রী—“কাল প্রায় মাঝরাতে।”

প্রতাপাদিত্য বললেন, “শ্রীপুরের জমিদারের মেয়ে কি এখানেই আছে?”

মন্ত্রী—“আজ্ঞে হ্যাঁ!”

প্রতাপাদিত্য—“সে তার বাপের বাড়িতে থাকলেই তো ভালো হয়।”

মন্ত্রী কোনো উত্তর দিলেন না।

প্রতাপাদিত্য বললেন, “উদয়াদিত্য কোনো কালেই রাজার মতো ছিল না। ছেলেবেলা থেকে প্রজাদের সঙ্গেই তার মেলামেশা। আমার সন্তান যে এমন হবে তা কে জানত? সিংহশাবককে কি শিখিয়ে দিতে হয় কীভাবে সিংহ হতে হবে? তবে কিনা, নরাণাং মাতুলক্রমঃ। বোধহয় সে তার মামার বাড়ির স্বভাব পেয়েছে। তার উপর আবার সম্প্রতি শ্রীপুরের ঘরে বিয়ে দিয়েছি; সেই থেকে ছেলেটা একেবারে অধঃপাতে গেছে। ঈশ্বর করুন, আমার ছোট ছেলেটি যেন উপযুক্ত হয়, আমি যা শুরু করেছি তা শেষ যদি না করতে পারি তাহলে মরার সময় যেন কোনো চিন্তা না থাকে! সে কি তবে এখনও ফিরে আসেনি?”

মন্ত্রী—“না মহারাজ!”

মাটিতে পদাঘাত করে প্রতাপাদিত্য বললেন, “একজন প্রহরী তার সঙ্গে কেন যায়নি?”

মন্ত্রী—“একজন যেতে প্রস্তুত হয়েছিল, কিন্তু তিনি বারণ করেছিলেন।”

প্রতাপ—“গোপনে, দূরে দূরে থেকে কেন যায়নি?”

মন্ত্রী—“তারা কোনো রকম অন্যায় সন্দেহ করেনি।”

প্রতাপ—“সন্দেহ করেনি! মন্ত্রী, তুমি কি আমাকে বোঝাতে চাও, তারা খুব ভালো কাজ করেছিল? মন্ত্রী, তুমি আমাকে অকারণে যা-তা একটা বোঝাতে চেষ্টা কোরো না। প্রহরীরা কর্তব্যে বিশেষ অবহেলা করেছে। সেই সময়ে দরজায় কারা ছিল ডেকে পাঠাও। এই ঘটনার জন্য যদি আমার কোনো একটা ইচ্ছা ব্যর্থ হয়, তবে আমি সর্বনাশ করব। মন্ত্রী, তোমারও তাহলে ভয়ের কারণ আছে। আমার কাছে তুমি প্রমাণ করতে এসেছ, এই কাজের জন্য কেউই দায়ী নয়! তবে এই দায় তোমার!”

প্রতাপাদিত্য প্রহরীদের ডেকে পাঠালেন। কিছুক্ষণ গম্ভীরভাবে থেকে জিজ্ঞাসা করলেন, “হ্যাঁ। দিল্লীশ্বরের কথা কী বলছিলে?”

মন্ত্রী—“শুনলাম আপনার নামে দিল্লীশ্বরের কাছে অভিযোগ করেছে।”

প্রতাপ—“কে? তোমাদের যুবরাজ উদয়াদিত্য নাকি?”

মন্ত্রী—“আজ্ঞে, মহারাজ, এমন কথা বলবেন না। কে করেছে, খোঁজ পাইনি।”

প্রতাপ—“যেই করুক, তার জন্য বেশি ভেবো না, আমিই দিল্লীশ্বরের বিচারক, আমিই তার দণ্ডের ব্যবস্থা করছি। সেই পাঠানেরা এখনও ফিরল না? উদয়াদিত্য এখনও এল না? তাড়াতাড়ি প্রহরীকে ডাকো।”

1 बसंत राय की हत्या का आदेश और प्रतापादित्य का तर्क

मंत्री ने कहा, “महाराज, क्या यह कार्य उचित होगा?”

प्रतापादित्य ने पूछा, “कौन सा कार्य?”

मंत्री ने कहा, “जो कल आपने आदेश दिया था।”

प्रतापादित्य ने বিরক্ত होकर कहा, “कल मैंने क्या आदेश दिया था?”

मंत्री ने कहा, “आपके चाचा के संबंध में।”

प्रतापादित्य। और भी বিরক্ত होकर बोले, “मेरे चाचा के संबंध में क्या?”

मंत्री ने कहा, “महाराज ने आदेश दिया था कि जब बसंत राय यशोर आते समय सिमुलतली की सराय में आश्रय लेंगे, तब—”

प्रतापादित्य ने भौंहें सिकोड़कर कहा, “तब क्या? बात पूरी करो!”

मंत्री—“तब दो पठान जाकर—”

प्रताप—“हाँ।”

मंत्री—“उनकी हत्या कर देंगे।”

प्रतापादित्य ने क्रुद्ध होकर कहा, “मंत्री, तुम अचानक बच्चे बन गए हो क्या? एक बात सुनने के लिए दस प्रश्न क्यों करने पड़ते हैं? लगता है, बात मुँह पर लाने में संकोच हो रहा है! अब लगता है, राजकार्य में ध्यान देने की तुम्हारी उम्र चली गई है, अब परलोक की चिंता करने का समय आ गया है। इतने दिनों तक अवकाश क्यों नहीं माँगा?”

मंत्री—“महाराज, आप मेरी भावना को ठीक से समझ नहीं पाए हैं।”

प्रताप—“मैं अच्छी तरह समझ गया हूँ। लेकिन मैं तुमसे एक बात पूछता हूँ, जो काम मैं कर सकता हूँ, उसे तुम मुँह पर भी नहीं ला सकते? तुम्हें यह सोचना चाहिए था कि जब मैं यह काम करने जा रहा हूँ, तो अवश्य ही इसका कोई गंभीर कारण है; मैंने निश्चित रूप से धर्म-अधर्म सब कुछ सोच लिया था।”

मंत्री—“आज्ञा महाराज, मैं—”

प्रताप—“चुप रहो, पहले मेरी पूरी बात सुनो। जब मैं यह काम—जब मैं अपने चाचा की हत्या करने पर उतारू हुआ हूँ, तब निश्चित रूप से मैंने तुमसे कहीं ज़्यादा सोचा है। इस काम में कोई अधर्म नहीं है। मेरा व्रत यह है—कि ये जो म्लेच्छ हमारे देश में आकर अनाचार कर रहे हैं, जिनके अत्याचार से हमारे देश से सनातन आर्य धर्म लुप्त होने के कगार पर है, क्षत्रिय मुग़लों को कन्याएँ दे रहे हैं, हिंदू आचारभ्रष्ट हो रहे हैं, इन म्लेच्छों को मैं दूर कर दूँगा, हमारे आर्य-धर्म को राहु के ग्रास से मुक्त करूँगा। इस व्रत को साधने के लिए बहुत बल की आवश्यकता है। मैं चाहता हूँ कि बंगाल के सभी राजा मेरे अधीन एक हो जाएँ। जो यवनों के मित्र हैं, उनका विनाश किए बिना यह सिद्ध नहीं होगा। चाचा बसंत राय मेरे लिए पूज्य हैं, लेकिन सच कहने में कोई पाप नहीं, वह हमारे वंश का कलंक हैं। उन्होंने स्वयं को म्लेच्छ का दास स्वीकार किया है, ऐसे व्यक्ति से प्रतापादित्य राय का कोई संबंध नहीं है। घाव होने पर अपनी भुजा को भी काटा जा सकता है; मेरी इच्छा है कि वंश के घाव, बंगाल के घाव, उस बसंत राय को काटकर मैं रायवंश को बचाऊँ, बंगाल को बचाऊँ।”

मंत्री ने कहा, “इस विषय में महाराज से मेरा कोई मतभेद नहीं था।”

प्रतापादित्य ने कहा—“हाँ, था। सच कहो। अभी भी है। देखो मंत्री, जब तक मेरे मत से तुम्हारा मत न मिले, तब तक उसे प्रकट करो। यदि वह साहस नहीं है, तो यह पद तुम्हारा नहीं है। यदि संदेह हो तो कहो। मुझे समझाने का अवसर दो। तुम सोच रहे हो कि अपने चाचा की हत्या करना हर समय पाप है। ‘नहीं’ मत कहना, तुम्हारे मन में ठीक यही बात उठ रही है। इसका उत्तर है। पिता के अनुरोध पर भृगु ने अपनी माता का वध किया था, क्या मैं धर्म के अनुरोध पर अपने चाचा का वध नहीं कर सकता?”

इस विषय में — यानी धर्म-अधर्म के विषय में — मंत्री का वास्तव में कोई मत नहीं था। मंत्री जितनी गहराई तक सोच रहे थे, राजा उतनी गहराई तक नहीं सोच पाए थे। मंत्री भली-भाँति जानते थे कि यदि इस विषय में वे संकोच दिखाएंगे, तो राजा फिलहाल कुछ नाराज़ तो होंगे, लेकिन अंत में इसके लिए मन-ही-मन संतुष्ट होंगे। ऐसा न करने पर मंत्री के विरुद्ध कभी-न-कभी राजा के मन में संदेह और आशंका उत्पन्न हो सकती है।

2 मंत्री की सलाह पर प्रतापादित्य का क्रोध

मंत्री ने कहा, “मैं कह रहा था कि, दिल्लीश्वर यह समाचार सुनकर निश्चय ही रुष्ट होंगे।”

प्रतापादित्य भड़क उठे, “हाँ हाँ, रुष्ट होंगे! रुष्ट होने का अधिकार तो सभी को है। दिल्लीश्वर मेरे ईश्वर तो नहीं हैं। उनके रुष्ट होने पर थर-थर काँपने वाले बहुत जीव हैं, मानसिंह हैं, बीरबल हैं, हमारे बसंत राय हैं, और हाल ही में देख रहा हूँ कि तुम भी हो; लेकिन सबको अपने जैसा मत समझो।”

मंत्री ने मुस्कुराकर कहा, “आज्ञा महाराज, कोरे क्रोध से मैं भी कोई ज़्यादा नहीं डरता, लेकिन उसके साथ अगर ढाल-तलवार भी हो तो सोचना तो पड़ता ही है! दिल्लीश्वर के रोष का अर्थ है पचास हज़ार सैनिक।”

प्रतापादित्य इसका कोई सटीक उत्तर न दे पाने पर बोले, “देखो मंत्री, दिल्लीश्वर का भय दिखाकर मुझे किसी कार्य से रोकने का प्रयास मत करो, मैं इसे अपना घोर अपमान समझता हूँ।”

मंत्री ने कहा, “प्रजा को पता चलने पर वे क्या कहेंगे?”

प्रताप—“पता चलने पर ही न?”

मंत्री—“यह बात अधिक दिनों तक छिपी नहीं रहेगी।”

“यह समाचार फैलने पर सारा बंगाल आपका विरोधी हो जाएगा। जिस उद्देश्य से आप यह कार्य करना चाहते हैं, वह जड़ से नष्ट हो जाएगा। लोग आपको जाति से बहिष्कृत कर देंगे और आपको नाना प्रकार के कष्ट सहने पड़ेंगे।”

प्रताप—“देखो मंत्री, मैं तुमसे फिर कहता हूँ, मैं जो भी करता हूँ, बहुत सोच-समझकर करता हूँ। इसलिए, जब मैं किसी काम में लग जाऊँ, तो व्यर्थ के डर दिखाकर मुझे रोकने का प्रयास मत करो। मैं कोई बच्चा नहीं हूँ। हर कदम पर मुझे रोकने के लिए मैंने तुम्हें अपनी ज़ंजीर बनाकर नहीं रखा है।”

मंत्री चुप हो गए। उन्हें राजा के दो आदेश थे। एक, जब तक मतभेद हो, उसे व्यक्त करना है, और दूसरा, विरोधी मत व्यक्त करके राजा को किसी कार्य से रोकने का प्रयास नहीं करना है। मंत्री आज तक इन दो आदेशों के बीच ठीक से सामंजस्य नहीं बिठा पाए थे।

मंत्री ने कुछ क्षण बाद फिर कहा, “महाराज, दिल्लीश्वर—!” प्रतापादित्य भड़ककर बोले,—“फिर दिल्लीश्वर? मंत्री, दिन में तुम जितनी बार दिल्लीश्वर का नाम लेते हो, उतनी बार यदि जगदीश्वर का नाम लेते तो अपना परलोक सुधार लेते। जब तक मेरा यह काम समाप्त नहीं हो जाता, तब तक दिल्लीश्वर का नाम मुँह पर मत लाना। आज दोपहर बाद जब इस कार्य के सम्पन्न होने का समाचार पाऊँगा, तब आकर मेरे कानों के पास जी भरकर दिल्लीश्वर का नाम जपना! तब तक थोड़ा आत्मसंयम रखो!”

3 युवराज का प्रस्थान और प्रतापादित्य का क्रोध

मंत्री फिर चुप हो गए। दिल्लीश्वर की बात बंद करके उन्होंने कहा— “महाराज, युवराज उदयादित्य—”

राजा ने कहा— “दिल्लीश्वर गए, प्रजा गई; अब आखिर में उस स्त्रैण बालक की बात कहकर डराओगे क्या?”

मंत्री ने कहा, “महाराज, आप बहुत गलत समझ रहे हैं। आपके काम में बाधा डालने का मेरा कोई इरादा नहीं है।”

प्रतापादित्य शांत होकर बोले, “तो फिर क्या कह रहे थे, कहो!”

मंत्री बोले, “कल रात युवराज अचानक घोड़े पर सवार होकर अकेले चले गए हैं, अभी तक लौटे नहीं हैं।”

प्रतापादित्य ने चिढ़कर कहा, “किस दिशा में गए हैं?”

मंत्री ने कहा, “पूर्व की ओर।”

प्रतापादित्य ने दाँत पीसकर कहा, “कब गया था?”

मंत्री—“कल लगभग आधी रात के समय।”

प्रतापादित्य ने कहा, “श्रीपुर के ज़मींदार की बेटी क्या यहीं है?”

मंत्री—“जी हाँ!”

प्रतापादित्य—“उसका अपने मायके में रहना ही बेहतर होता।”

मंत्री ने कोई उत्तर नहीं दिया।

प्रतापादित्य ने कहा, “उदयादित्य कभी भी राजा जैसा नहीं था। बचपन से ही उसका मेल-जोल प्रजा के साथ ही रहा है। मेरी संतान ऐसी होगी, यह कौन जानता था? क्या सिंह-शावक को सिखाना पड़ता है कि सिंह कैसे बना जाता है? पर कहते हैं न, नराणां मातुलक्रमः। लगता है उसे अपने नाना के कुल का स्वभाव मिला है। उसके ऊपर से मैंने हाल ही में श्रीपुर के घर में उसका विवाह कर दिया; तब से वह लड़का बिल्कुल ही अधोगति को प्राप्त हो गया है। ईश्वर करें, मेरा छोटा पुत्र योग्य निकले, ताकि मैंने जो आरंभ किया है, उसे यदि मैं पूरा न कर सकूँ तो मरते समय कोई चिंता न रह जाए! तो क्या वह अभी तक लौटा नहीं है?”

मंत्री—“नहीं महाराज!”

भूमि पर पैर पटककर प्रतापादित्य ने कहा, “एक भी पहरेदार उसके साथ क्यों नहीं गया?”

मंत्री—“एक जाने को तैयार हुआ था, पर उन्होंने मना कर दिया।”

प्रताप—“अदृश्य रूप से, दूर-दूर रहते हुए क्यों नहीं गया?”

मंत्री—“उन्हें किसी प्रकार के अनिष्ट का संदेह नहीं हुआ।”

प्रताप—“संदेह नहीं हुआ! मंत्री, क्या तुम मुझे यह समझाना चाहते हो कि उन्होंने बहुत अच्छा काम किया? मंत्री, तुम मुझे व्यर्थ में कुछ-का-कुछ समझाने की कोशिश मत करो। पहरेदारों ने अपने कर्तव्य में घोर लापरवाही की है। उस समय द्वार पर कौन थे, उन्हें बुलवा भेजो। इस घटना के कारण यदि मेरी कोई इच्छा विफल हुई, तो मैं सर्वनाश कर दूँगा। मंत्री, तब तुम्हारे लिए भी भय का कारण है। तुम मेरे पास यह साबित करने आए हो कि इस काम के लिए कोई भी ज़िम्मेदार नहीं है! तो फिर यह ज़िम्मेदारी तुम्हारी है!”

प्रतापादित्य ने पहरेदारों को बुलवा भेजा। कुछ क्षण गंभीर रहकर पूछा, “हाँ। दिल्लीश्वर के बारे में क्या कह रहे थे?”

मंत्री—“सुना है, किसी ने दिल्लीश्वर के पास आपके नाम की शिकायत की है।”

प्रताप—“कौन? तुम्हारे युवराज उदयादित्य ने क्या?”

मंत्री—“आज्ञा, महाराज, ऐसी बात न कहें। किसने की है, इसका पता नहीं चला है।”

प्रताप—“जिसने भी की हो, उसकी अधिक चिंता मत करो, मैं ही दिल्लीश्वर का न्यायकर्ता हूँ, मैं ही उसके दंड का प्रबंध कर रहा हूँ। वे पठान अभी तक नहीं लौटे? उदयादित्य अभी तक नहीं आया? शीघ्र पहरेदारों को बुलाओ।”

1 The Order to Kill Basanta Ray and Pratapaditya's Justification

The minister said, “Maharaj, will this be a good course of action?”

Pratapaditya asked, “Which action?”

The minister said, “The one you ordered yesterday.”

Pratapaditya, annoyed, said, “What did I order yesterday?”

The minister said, “Regarding your paternal uncle.”

Pratapaditya, even more annoyed, said, “What about my paternal uncle?”

The minister said, “Maharaj had ordered that when Basanta Ray takes shelter at the inn in Simultali on his way to Jessore, then—”

Pratapaditya, frowning, said, “Then what? Just finish the sentence!”

The minister—“Then two Pathan men will go and—”

Pratap—“Yes.”

The minister—“And kill him.”

Pratapaditya said angrily, “Minister, have you suddenly become a child? Why must I ask ten questions to hear one thing? Are you hesitant to even speak the words! I suppose your age for attending to state affairs has passed; the time has now come to think of the afterlife. Why have you not requested leave before this?”

The minister—“Maharaj has not quite understood my sentiment.”

Pratap—“I have understood it perfectly. But let me ask you one thing: a deed that I can do, you cannot even bring yourself to speak of? You should have considered that when I am about to do such a thing, there must be a grave reason for it; I must have considered all aspects of dharma and adharma.”

The minister—“Maharaj, I—”

Pratap—“Be quiet, listen to all I have to say first. When I am doing this—when I am preparing to kill my own paternal uncle, I have of course thought about it far more than you have. There is no adharma in this act. This is my vow—that these Mlechchhas who have come to our country and begun their misdeeds, by whose oppression the eternal Arya Dharma is on the verge of being erased from our land, Kshatriyas are giving their daughters to the Mughal, Hindus are deviating from their customs—I will drive these Mlechchhas out, I will free our Arya Dharma from the grasp of Rahu. To fulfill this vow, much strength is needed. I want all the kings of Bengal to be united under me. This will not be accomplished without destroying those who are friends of the Yavana. My paternal uncle Basanta Ray is venerable, but there is no sin in speaking the truth—he is a stain on our lineage. He has acknowledged himself as a slave to the Mlechchha; Pratapaditya Ray has no relation to such a man. If a wound develops, one can cut off one's own arm. It is my wish to cut off that wound of our lineage, that wound of Bengal, that Basanta Ray, and save the Ray Bamsa, save Bengal.”

The minister said, “On this matter, I did not have a different opinion from Maharaj.”

Pratapaditya said—“Yes, you did. Speak the truth. You still do. Look, Minister, as long as your opinion does not align with mine, you must express it. If you do not have that courage, then this post is not for you. If you have doubts, speak them. Give me the opportunity to explain. You are thinking that to kill one's own paternal uncle is always a sin. Don't say 'no', that is precisely the thought that is rising in your mind. There is an answer to this. At his father's request, Bhrigu killed his own mother. For the sake of dharma, can I not kill my paternal uncle?”

On this matter—that is, on the matter of dharma and adharma—the minister truly had no opinion. The minister had plumbed depths the king had not. The minister knew very well that if he showed hesitation in the present matter, the king would be somewhat angered for the moment, but in the end, he would be inwardly pleased by it. Without acting this way, at some point or another, the king's suspicion and fear might have been aroused against the minister.

2 Pratapaditya's Anger at His Minister's Counsel

The minister said, “I was saying that the Emperor of Delhi will surely be displeased upon hearing this news.”

Pratapaditya flared up, “Yes, yes, he will be displeased! Everyone has the right to be displeased. The Emperor of Delhi is not my God. There are plenty of creatures who will tremble and shake if he gets angry—there's Mansingh, there's Birbal, there's our Basanta Ray, and recently I see you are one too; but do not think everyone is like yourself.”

The minister said with a smile, “Indeed, Maharaj, I am not much afraid of empty anger either, but if it comes with shields and swords, then one must certainly think twice! The Emperor of Delhi's anger means fifty thousand soldiers.”

Unable to give a proper reply to this, Pratapaditya said, “Look, minister, do not try to dissuade me from any task by showing me the fear of the Emperor of Delhi. I find it deeply insulting.”

The minister said, “What will the subjects say if they find out?”

Pratap—“If they find out, that is.”

Minister—“This deed will not remain hidden for long.”

“When this news spreads, all of Bengal will oppose you. The very purpose for which you want to do this deed will be destroyed at its root. They will excommunicate you, and you will have to endure various afflictions.”

Pratap—“Look, minister, I am telling you again, whatever I do, I do after much consideration. Therefore, once I have begun a task, do not try to dissuade me by showing me a bunch of empty fears. I am not a child. I have not kept you as my personal chain to obstruct me at every step.”

The minister fell silent. The king had two orders for him. One, he was to express his disagreement as long as it existed; two, he was not to try to dissuade the king from any action by expressing his opposing view. To this day, the minister had not been able to properly reconcile these two orders.

After a short while, the minister spoke again, “Maharaj, the Emperor of Delhi—!” Pratapaditya flared up and said, “The Emperor of Delhi again? Minister, if you took the name of Jagadishwar as many times a day as you take the name of the Emperor of Delhi, you could have sorted out your afterlife. Until this task of mine is finished, do not bring the name of the Emperor of Delhi to your lips. When I receive the news of this task's completion this afternoon, then you may come and chant the Emperor's name in my ear to your heart's content! Until then, practice a little self-restraint!”

3 The Prince's Departure and Pratapaditya's Rage

The minister fell silent again. Changing the subject from the Emperor of Delhi, he said, “Maharaj, Prince Udayaditya—”

The king said, “First the Emperor of Delhi, then the subjects; now will you finally try to frighten me by mentioning that effeminate boy?”

The minister said, “Maharaj, you are gravely mistaken. I have no intention whatsoever of obstructing your work.”

Pratapaditya, calming down, said, “Then tell me what you were about to say!”

The minister said, “Last night, the Prince suddenly mounted his horse and left alone. He has not yet returned.”

Pratapaditya asked irritably, “Which way did he go?”

The minister replied, “Eastward.”

Pratapaditya, grinding his teeth, said, “When did he leave?”

The minister: “Last night, around midnight.”

Pratapaditya said, “Is the daughter of the zamindar of Shripur still here?”

The minister: “Yes, Maharaj!”

Pratapaditya: “It would be better if she stayed at her father’s house.”

The minister gave no reply.

Pratapaditya said, “Udayaditya was never king-like. Who knew that my own son would turn out like this? Does a lion cub have to be taught how to become a lion? But then, ‘narāṇāṃ mātulakramaḥ’—men take after their maternal uncles. I suppose he has inherited the nature of his mother's family. On top of that, I recently married him into the house of Shripur; ever since then, the boy has gone completely to ruin. May God grant that my younger son proves worthy, so that if I cannot finish what I have started, I will not be left with worries at the time of my death! So, has he still not returned?”

The minister: “No, Maharaj!”

Stamping his foot on the ground, Pratapaditya said, “Why did a guard not go with him?”

The minister: “One was prepared to go, but he forbade it.”

Pratapaditya: “Why didn't one follow him unseen, from a distance?”

The minister: “They did not suspect any wrongdoing.”

Pratapaditya: “Did not suspect! Minister, are you trying to convince me that they did a fine job? Minister, do not try to make me understand some pointless justification. The guards have been grossly negligent in their duty. Summon whoever was at the gate at that time. If any one of my wishes is thwarted because of this incident, I will bring utter ruin. Minister, then you too will have cause to be afraid. You have come to prove to me that no one is responsible for this! In that case, the responsibility is yours!”

Pratapaditya sent for the guards. After a moment of grim silence, he asked, “Yes. What were you saying about the Emperor of Delhi?”

The minister: “I have heard that a complaint has been lodged against you with the Emperor of Delhi.”

Pratapaditya: “Who? Your Prince Udayaditya, is it?”

The minister: “Maharaj, please do not say such things. I have not discovered who did it.”

Pratapaditya: “Whoever it may be, do not worry much about it. I am the judge of the Emperor of Delhi; I myself am arranging his punishment. Have those Pathans not returned yet? Has Udayaditya still not come? Summon the guards quickly.”

1 バサンタ・ライの暗殺命令とプラタパディティヤの正当化

大臣は言った。「マハラジャ、そのおこないは、よろしいことでしょうか?」

プラタパディティヤは尋ねた。「どのおこないのことだ?」

大臣は言った。「昨日お命じになられた件でございます。」

プラタパディティヤは苛立ちて言った。「昨日、私が何を命じたというのだ?」

大臣は言った。「叔父上様の件でございます。」

プラタパディティヤは、さらに苛立ちをあらわにして言った。「私の叔父がどうしたというのだ?」

大臣は言った。「マハラジャは、バサンタ・ライ様がジョソールへお越しになる道中、シムルタリの宿に立ち寄られた際に、と――お命じになりました。」

プラタパディティヤは眉をひそめて言った。「その際に何だ?最後まで申せ!」

大臣「――その時、二人のパターン人が赴き――」

プラタープ「うむ。」

大臣「――あの方を殺害せよ、と。」

プラタパディティヤは憤慨して言った。「大臣、急に子供にでもなったのか?一つのことを聞くのになぜ十も問い返さねばならんのだ?口に出すのをためらっていると見えるな!もはや、そなたが王事に心を砕く齢は過ぎ、来世を思う時が来たのであろう。なぜこれまで暇を乞わなかったのだ?」

大臣「マハラジャ、私の意図をよくご理解いただけておりませぬ。」

プラタープ「いや、よく分かっておる。だが一つ問うが、私が実行できることを、そなたは口にすることすらできぬのか?私がこの挙に出るからには、無論、重大な理由があるのだと、そなたは考えるべきであった。私は無論、法と不法、そのすべてを考え抜いたのだ。」

大臣「は、マハラジャ、私は――」

プラタープ「黙れ、まずは私の話をすべて聞け。私がこの挙に――私が自らの叔父を殺めようとしているからには、当然そなたよりはるかに深く考えておる。この行いに不法はない。私の誓願はこうだ――この国に来て非道を行うムレッチャども、その圧政によって我らの国から古来のアーリヤの法が失われようとし、クシャトリヤはムガルに娘を差し出し、ヒンドゥーは古来の慣わしを破っている、このムレッチャどもを私は追い払い、我らのアーリヤの法をラーフの蝕みから解き放つのだ。この誓願を果たすには多くの力が必要だ。私はベンガル全土の王たちが私の下で一つになることを望む。ヤヴァナの友である者どもを滅ぼさねば、これは成就せぬ。叔父バサンタ・ライは私の敬うべき人だが、真実を語るに罪はない、あの方は我ら一族の汚点だ。あの方は自らをムレッチャの奴隷と認め、そのような者とプラタパディティヤ・ライとの間には何の関わりもない。傷あらば己が腕をも切り落とす。私の願いは、一族の傷、ベンガルの傷であるかのバサンタ・ライを切り捨て、ライ家を救い、ベンガルを救うことだ。」

大臣は言った。「この件に関し、マハラジャと私とで意見が異なったことはございません。」

プラタパディティヤは言った。「いや、あった。正直に申せ。今もあるだろう。聞け、大臣。私の意見とそなたの意見が一致せぬ限りは、それを表明せよ。その勇気がないのであれば、その地位はそなたのものではない。疑いがあるなら言え。私に説明する暇を与えよ。そなたは、自らの叔父を殺すことはいかなる時も罪だと考えている。『否』と申すな、まさしくその言葉がそなたの心に浮かんでいるはずだ。それには答えがある。父の求めに応じてブリグは自らの母を手にかけた。法の求めに応じて、私が叔父を手にかけられぬとでも言うのか?」

この件――すなわち法と不法ということに関して、実のところ大臣には何の意見もなかった。大臣が見抜いていた深さを、王は見抜くことができていなかった。大臣はよく知っていた。当面の問題で自分が躊躇を示せば、王は一時的に憤慨はするだろうが、後にはそのために心ひそかに満足するであろうことを。そうしなければ、いつか王が大臣に対して疑念と懸念を抱くやもしれないからである。

2 大臣の忠告に対するプラタパディティヤの怒り

大臣は言った。「私が申し上げておりましたのは、この知らせをお聞きになれば、デリー皇帝は必ずやお怒りになるだろう、ということです。」

プラタパディティヤは激昂した。「ほう、お怒りになるだと!怒る権利など誰にでもある。デリー皇帝は私の神ではない。彼がお怒りになればわなわなと震え上がるような輩はいくらでもいる。マーン・シングがおる、ビールバルがおる、我らがバサンタ・ライがおる、そして近頃ではお前もその一人と見える。だが、誰もがお前と同じだと思うな!」

大臣は笑って言った。「はっ、マハラジャ。口先だけの怒りならば私もさほど恐れはいたしません。しかし、それに盾と剣が伴うとなれば、考えねばなりますまい。デリー皇帝のご立腹は、五万の兵を意味するのですから。」

プラタパディティヤはこれにうまく答えられず、言った。「聞け、大臣。デリー皇帝への恐怖をちらつかせて私を止めようとするな。それは私にとってこの上ない侮辱だ。」

大臣は言った。「民が知れば、何と申しましょうか?」

プラタープ「知られれば、の話であろう?」

大臣「この企ては長くは隠し通せますまい。」

「この知らせが広まれば、ベンガル全土があなた様に敵対するでしょう。この企ての目的そのものが、根こそぎ破壊されてしまいます。あなた様はカーストを追放され、様々な迫害に耐えねばならなくなるでしょう。」

プラタープ「聞け、大臣。もう一度言う。私がすることは、熟慮の末のことだ。ゆえに、私がいざ事を起こそうとした時に、くだらぬ脅しで止めようとするな。私は子供ではないのだ。ことあるごとに私を妨げるために、お前を私自身の足枷として置いているわけではないのだぞ。」

大臣は黙り込んだ。彼には王から二つの命令が下されていた。一つ、意見が食い違う限りはそれを表明すること。二つ、反対意見を表明して王の行いを止めようとはしないこと。大臣は今日に至るまで、この二つの命令をうまく両立させることができずにいた。

しばらくして、大臣は再び口を開いた。「マハラジャ、デリー皇帝が――!」プラタパディティヤは激昂して言った。「またデリー皇帝か!大臣、お前が一日のうちにデリー皇帝の名を口にするのと同じだけジャガディーシュワルの名を唱えていたなら、来世の準備もできただろうに。我が企てが終わるまでは、デリー皇帝の名を口にするな。今日の午後、この企てが成ったとの知らせを受けた時、私の耳元に来て心ゆくまでデリー皇帝の名を唱えるがいい!それまでは、少し自制しておれ!」

3 王太子の出立とプラタパディティヤの激怒

大臣は再び黙り込んだ。そして、デリー皇帝の話を遮って言った。「マハラジャ、王太子ウダヤディティヤが…」

王は言った。「デリー皇帝がどうの、民がどうのと言い、今度はあの女々しい若造の話でわしを脅すつもりか?」

大臣は言った。「マハラジャ、それは大きな誤解でございます。あなた様のお仕事の邪魔をするつもりは毛頭ございません。」

プラタパディティヤは冷静になって言った。「では、何を言おうとしていたのだ。申してみよ!」

大臣は言った。「昨夜、王太子が突然馬に乗り、お一人で出かけられたまま、まだお戻りになっておりません。」

プラタパディティヤは苛立って言った。「どの方角へ行った?」

大臣は言った。「東の方角へ。」

プラタパディティヤは歯ぎしりして言った。「いつ行ったのだ?」

大臣「昨夜の、真夜中頃でございます。」

プラタパディティヤは言った。「シュリプルの地主の娘は、まだここにいるのか?」

大臣「は、左様でございます。」

プラタパディティヤ「あのような女は実家にでもいればよいものを。」

大臣は何も答えなかった。

プラタパディティヤは言った。「ウダヤディティヤには、もとより王の器などなかった。幼い頃から民草とばかり交わっておった。我が子がこのようになるとは、誰が想像したであろうか。獅子の子に、どうすれば獅子になれるかなどと教える必要があろうか。だがまあ、『人は母方の叔父に似るもの』と言う。奴は母方の祖父たちの気性を受け継いだのであろう。その上、近頃シュリプルの家の娘と結婚させてからというもの、あの若造はすっかり堕落してしまった。神よ、願わくは末の子が有能であってくれ。わしが始めたこの大業を終えることができなければ、死ぬに死にきれぬわ!それで、奴はまだ戻らんのか?」

大臣「はい、マハラジャ。」

プラタパディティヤは地面を踏みつけて言った。「なぜ衛兵が一人も付いて行かなかったのだ?」

大臣「一人がお供しようといたしましたが、王太子がお断りになりました。」

プラタープ「なぜ姿を隠し、距離を置いてでもついて行かなかったのだ?」

大臣「彼らは、いかなる不審な点も感じておりませんでした。」

プラタープ「疑わなかっただと!大臣、そなたは衛兵どもが良い仕事をしたとでもわしに言い聞かせたいのか?大臣、無駄な言い訳でわしを言いくるめようとするでない。衛兵どもは明らかに任務を怠ったのだ。その時、門にいた者どもを呼び出せ。この一件でわしの望みが一つでも潰えるようなことがあれば、破滅をもたらしてやる。大臣、その時はそなたも身の危険を覚悟せねばなるまいぞ。この件では誰にも責任がないとでも証明しに来たのか!ならば、この責任はそなたにある!」

プラタパディティヤは衛兵たちを呼びにやった。しばし厳しい面持ちでいたが、尋ねた。「うむ。デリー皇帝の話は何を言おうとしていたのだ?」

大臣「お聞きしたところによりますと、あなた様の名でデリー皇帝のもとに訴状が提出されたとのことです。」

プラタープ「誰がだ?そなたたちの王太子ウダヤディティヤか、何かか?」

大臣「マハラジャ、滅相もございません。誰がしたのかは、まだ突き止められておりません。」

プラタープ「誰が訴え出ようと、案ずることはない。わしがデリー皇帝の裁き手となり、わしが奴に罰を下すための準備をしているのだ。あのパターンどもはまだ戻らんのか?ウダヤディティヤはまだ帰ってこぬのか?早く衛兵を呼べ!」