1
হত্যার সংবাদ ও প্রতাপাদিত্যের শঙ্কা
প্রতাপাদিত্য কহিলেন “দেখ দেখি মন্ত্রী, সে পাঠান দুটা এখনও আসিল না!”
মন্ত্রী ধীরে ধীরে কহিলেন, “সেটা ত আর আমার দোষ নয় মহারাজ!”
প্রতাপাদিত্য বিরক্ত হইয়া কহিলেন, “দোষের কথা হইতেছে না। দেরী যে হইতেছে তাহার ত একটা কারণ আছে? তুমি কি অনুমান কর, তাহাই জিজ্ঞাসা করিতেছি।”
মন্ত্রী। “শিমুলতলী এখান হইতে বিস্তর দূর। যাইতে, কাজ সমাধা করিতে ও ফিরিয়া আসিতে বিলম্ব হইবার কথা।”
প্রতাপাদিত্য মন্ত্রীর কথায় অসন্তুষ্ট হইলেন। তিনি চান, তিনিও যাহা অনুমান করিতেছেন, মন্ত্রীও তাহাই অনুমান করেন। কিন্তু মন্ত্রী সে দিক্ দিয়া গেলেন না। প্রতাপাদিত্য কহিলেন, “উদয়াদিত্য কাল রাত্রে বাহির হইয়া গেছে?”
মন্ত্রী। “আজ্ঞা হাঁ, সে ত পূর্ব্বেই জানাইয়াছি।”
প্রতাপাদিত্য। “পূর্ব্বেই জানাইয়াছি! কি উপযুক্ত সময়েই জানাইয়াছ। যে সময়ে হউক্ জানাইলেই বুঝি তোমার কাজ শেষ হইল? উদয়াদিত্য ত পূর্ব্বে এমনতর ছিল না। শ্রীপুরের জমিদারের মেয়ে বোধ করি তাহাকে কুপরামর্শ দিয়া থাকিবে। কি বোধ হয়?”
মন্ত্রী। “কেমন করিয়া বলিব মহারাজ?”
প্রতাপাদিত্য বলিয়া উঠিলেন “তোমার কাছে কি আমি বেদবাক্য শুনিতে চাহিতেছি? তুমি কি আন্দাজ কর, তাই বল না!”
মন্ত্রী। “আপনি মহিষীর কাছে বধূমাতাঠাকুরাণীর কথা সমস্তই শুনিতে পান, এ বিষয়ে আপনিই অনুমান করিতে পারেন, আমি কেমন করিয়া অনুমান করিব?”
একজন পাঠান গৃহে প্রবেশ করিল।
প্রতাপাদিত্য বলিয়া উঠিলেন—“কি হইল? কাজ নিকাশ করিয়াছ?”
পাঠান। “হাঁ মহারাজ, এতক্ষণে নিকাশ হইয়া গেছে।”
প্রতাপাদিত্য। “সে কি রকম কথা। তবে তুমি জান না?”
পাঠান। “আজ্ঞা হাঁ, জানি। কাজ নিকাশ হইয়াছে, তাহাতে আর ভুল নাই, তবে আমি সে সময়ে উপস্থিত ছিলাম না।”
প্রতাপাদিত্য। “তবে কি করিয়া কাজ নিকাশ হইল?”
পাঠান। “আপনার পরামর্শ মতে আমি তাঁহার লোকজনদের তফাৎ করিয়াই চলিয়া আসিতেছি, হোসেন খাঁ কাজ শেষ করিয়াছে।”
প্রতাপাদিত্য! “ঘদি না করিয়া থাকে?”
পাঠান। “মহারাজ, আমার শির জামিন রাখিলাম।”
প্রতাপাদিত্য। “আচ্ছা ঐখানে হাজির থাক। তোমার ভাই ফিরিয়া আসিলে পুরস্কার মিলিবে।”
পাঠান দূরে দ্বারের নিকট প্রহরীদের জিম্মায় দাঁড়াইয়া রহিল।
প্রতাপাদিত্য অনেকক্ষণ চুপ করিয়া থাকিয়া মন্ত্রীকে ধীরে ধীরে কহিলেন,—“এটা যাহাতে প্রজারা কোন মতে না জানিতে পায় তাহার চেষ্টা করিতে হইবে।”
মন্ত্রী কহিলেন—“মহারাজ, অসন্তুষ্ট না হন যদি ত বলি ইহা প্রকাশ হইবেই।”
প্রতপাদিত্য। “কিসে তুমি জানিতে পারিলে?”
মন্ত্রী। ইতিপূর্ব্বে আপনি প্রকাশ্য ভাবে আপনার পিতৃব্যের প্রতি দ্বেষ প্রকাশ করিয়াছেন। আপনার কন্যার বিবাহের সময় আপনি বসন্তরায়কে নিমন্ত্রণ করেন নাই, তিনি স্বয়ং অনিমন্ত্রিত আসিয়া উপস্থিত হইয়াছিলেন। আজ আপনি সহসা বিনা কারণে তাঁহাকে নিমন্ত্রণ করিলেন ও পথের মধ্যে কে তাঁহাকে হত্যা করিল। এমন অবস্থায় প্রজারা আপনাকেই এই ঘটনাটির মূল বলিয়া জানিবে।”
প্রতাপাদিত্য রুষ্ট হইয়া কহিলেন—“তোমার ভাব আমি কিছুই বুঝিতে পারি না মন্ত্রী! এই কথাটা প্রকাশ হইলেই তুমি যেন খুসী হও, আমার নিন্দা রটিলেই তোমার যেন মনস্কামনা পূর্ণ হয়। নহিলে দিন রাত্রি তুমি কেন বলিতেছ যে, কথাটা প্রকাশ হইবেই। প্রকাশ হইবার আমি ত কোন কারণ দেখিতেছি না। বোধ করি, আর কিছুতেই সংবাদটা রাষ্ট্র না হইলে তুমি নিজে গিয়া দ্বারে দ্বারে প্রকাশ করিয়া বেড়াইবে!”
মন্ত্রী কহিলেন—“মহারাজ, মার্জ্জনা করিবেন। আপনি আমার অপেক্ষা সকল বিষয়েই অনেক ভাল বুঝেন। আপনাকে মন্ত্রণা দেওয়া আমাদের মত ক্ষুদ্র-বুদ্ধি লোকের পক্ষে অত্যন্ত স্পর্ধার বিষয়। তবে, আপনিই না কি আমাকে বাছিয়া মন্ত্রী রাখিয়াছেন, এই সাহসেই ক্ষুদ্রবুদ্ধিতে যাহা মনে হয়, আপনাকে মাঝে মাঝে বলিয়া থাকি। মন্ত্রণায় রুষ্ট হন যদি তবে এ দাসকে এ কার্য্যভার হইতে অব্যাহতি দিন।”
প্রতাপাদিত্য সিধা হইলেন। মাঝে মাঝে মন্ত্রী যখন তাঁহাকে দুই একটা শক্ত কথা শুনাইয়া দেন, তখন প্রতাপাদিত্য মনে মনে সন্তুষ্ট হন।”
প্রতাপাদিত্য কহিলেন, “আমি বিবেচনা করিতেছি, ঐ পাঠান দুটাকে মারিয়া ফেলিলে এ বিষয়ে আর কোন ভয়ের কারণ থাকিবে না।”
মন্ত্রী কহিলেন “একটা খুন চাপিয়া রাখাই দায়, তিনটা খুন সামলান অসম্ভব। প্রজারা জানিতেই পারিবে।” মন্ত্রী বরাবর নিজের কথা বজায় রাখিলেন।
প্রতাপাদিত্য বলিয়া উঠিলেন, “তবে ত আমি ভয়ে সারা হইলাম! প্রজারা জানিতে পারিবে! যশোহর রায়গড় নহে; এখানে প্রজাদের রাজত্ব নাই। এখানে রাজা ছাড়া আর বাকী সকলেই রাজা নহে। অতএব আমাকে তুমি প্রজার ভয় দেখাইও না। যদি কোন প্রজা এ বিষয়ে আমার বিরুদ্ধে কোন কথা কহে, তবে তাহার জিহ্বা তপ্ত লৌহ দিয়া পুড়াইব।”
মন্ত্রী মনে মনে হাসিলেন। মনে মনে কহিলেন, “প্রজার জিহ্বাকে এত ভয়। তথাপি মনকে প্রবোধ দিয়া থাকেন যে, কোন প্রজাকে ডরাই না!”
2
প্রতাপাদিত্যের সম্মুখে বসন্ত রায়ের আবির্ভাব
প্রতাপাদিত্য। “শ্রাদ্ধ শান্তি শেষ করিয়া লোক জন লইয়া একবার রায়গড়ে যাইতে হইবে। আমি ছাড়া সেখানকার সিংহাসনের উত্তরাধিকারী আর ত কাহাকেও দেখিতেছি না।”
বৃদ্ধ বসন্তরায় ধীরে ধীরে গৃহমধ্যে প্রবেশ করিলেন—প্রতাপাদিত্য চমকিয়া পিছু হটিয়া গেলেন। সহসা তাঁহার মনে হইল, বুঝি উপদেবতা। অবাক্ হইয়া একটি কথাও বলিতে পারিলেন না। বসন্তরায় নিকটে গিয়া তাঁহার গায়ে হাত বুলাইয়া মৃদুস্বরে কহিলেন—“আমাকে কিসের ভয় প্রতাপ? আমি তোমার পিতৃব্য। তাহাতেও যদি বিশ্বাস না হয়, আমি বৃদ্ধ, তোমার অনিষ্ট করিতে পারি এমন শক্তি আমার নাই।”
প্রতাপাদিত্যের চৈতন্য হইয়াছে, কিন্তু কথা বানাইয়া বলিতে তিনি নিতান্ত অপটু। নিরুত্তর হইয়া অবাক হইয়া দাঁড়াইয়া রহিলেন। পিতৃব্যকে প্রণাম করা পর্য্যন্ত হইল না।
বসন্তরায় আবার ধীরে ধীরে কহিলেন—“প্রতাপ, একটা যাহা হয়, কথা কও। যদি দৈবাৎ এমন একটা কাজ করিয়া থাক, যাহাতে আমাকে দেখিয়া তোমার লজ্জা ও সঙ্কোচ উপস্থিত হয়, তবে তাহার জন্য ভাবিও না। আমি কোন কথা উত্থাপন করিব না। এস বৎস; দুই জনে একবার কোলাকুলি করি। আজ অনেক দিনের পর দেখা হইয়াছে; আর ত অধিক দিন দেখা হইবে না।”
এতক্ষণের পর প্রতাপাদিত্য প্রণাম করিলেন ও উঠিয়া পিতৃব্যের সহিত কোলাকুলি করিলেন। ইতিমধ্যে মন্ত্রী আস্তে আস্তে গৃহ হইতে বাহির হইয়া গেছেন। বসন্তরায় ঈষৎ কোমল হাস্য হাসিয়া প্রতাপাদিত্যের গায়ে হাত দিয়া কহিলেন, “বসন্তরায় অনেক দিন বাঁচিয়া আছে— না প্রতাপ? সময় হইয়া আসিয়াছে, এখনো যে কেন ডাক পড়িল না বিধাতা জানেন। কিন্তু আর অধিক বিলম্ব নাই।”
বসন্তরায় কিয়ৎক্ষণ চুপ করিয়া রহিলেন, প্রতাপাদিত্য কোন উত্তর করিলেন না। বসন্তরায় আবার কহিলেন, “তবে স্পষ্ট করিয়া সমস্ত বলি। তুমি যে আমাকে ছুরি তুলিয়াছ, তাহাতে আমাকে ছুরির অপেক্ষা অধিক বাজিয়াছে। (বলিতে বলিতে তাহার চক্ষে জল আসিল) কিন্তু আমি কিছুমাত্র রাগ করি নাই। আমি কেবল তোমাকে দুটি কথা বলিব। আমাকে বধ করিও না প্রতাপ! তাহাতে তোমার ইহকাল পরকালের ভাল হইবে না। এত দিন পর্য্যন্ত যদি আমার মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করিয়া থাকিতে পারিলে, তবে আর দুটা দিন পারিবে না? এই টুকুর জন্য পাপের ভাগী হইবে?”
বসন্তরায় দেখিলেন, প্রতাপাদিত্য কোন উত্তর দিলেন না; দোষ অস্বীকার করিলেন না, বা অনুতাপের কথা কহিলেন না; তৎক্ষণাৎ তিনি অন্য কথা পাড়িলেন, কহিলেন,—“প্রতাপ, একবার রায়গড়ে চল। অনেক দিন সেখানে যাও নাই। অনেক পরিবর্ত্তন দেখিবে। সৈন্যেরা এখন তলোয়ার ছাড়িয়া লাঙল ধরিয়াছে; যেখানে সৈন্যদের বাসস্থান ছিল সেখানে অতিথিশালা—”
এমন সময়ে প্রতাপাদিত্য দূর হইতে দেখিলেন পাঠানটা পালাইবার উদ্যোগ করিতেছে। আর থাকিতে পারিলেন না। মনের মধ্যে যে নিরুদ্ধ রোষ ফুটিতেছিল, তাহা অগ্নি-উৎসের ন্যায় উচ্ছ্বসিত হইয়া উঠিল। বজ্রস্বরে বলিয়া উঠিলেন—“খবরদার উহাকে ছাড়িস্ না। পাক্ড়া করিয়া রাখ্।” বলিয়া ঘর হইতে দ্রুতপদে বাহির হইয়া গেলেন।
3
উদয়াদিত্যের সামনে সুরমার অপমান
রাজা মন্ত্রীকে ডাকাইয়া কহিলেন,—“রাজকার্য্যে তোমার অত্যন্ত অমনোযোগ লক্ষিত হইতেছে।”
মন্ত্রী আস্তে আস্তে কহিলেন,—“মহারাজ, এ বিষয়ে আমার কোন দোষ নাই।”
প্রতাপাদিত্য তারস্বরে বলিয়া উঠিলেন “আমি কি কোন বিষয়ের উল্লেখ করিতেছি! আমি বলিতেছি, রাজকার্য্যে তোমার অত্যন্ত অমনোযোগ লক্ষিত হইতেছে। সে দিন তোমার কাছে এক চিঠি রাখিতে দিলাম, তুমি হারাইয়া ফেলিলে!”
দেড় মাস পূর্ব্বে এইরূপ একটা ঘটিয়াছিল বটে, কিন্তু তখন মহারাজ মন্ত্রীকে একটি কথাও বলেন নাই।
“আর একদিন উমেশ রায়ের নিকট তোমাকে যাইতে আদেশ করিলাম, তুমি লোক পাঠাইয়া কাজ সারিলে! চুপ কর! দোষ কাটাইবার জন্য মিছামিছি চেষ্টা করিও না! যাহা হউক, তোমাকে জানাইয়া রাখিলাম, রাজকার্য্যে তুমি কিছুমাত্র মনোযোগ দিতেছ না।”
রাজা প্রহরীদের ডাকাইলেন। পূর্ব্বে রাত্রের প্রহরীদের বেতন কাটিয়াছিলেন, এখন তাহাদের প্রতি কারাবাসের আদেশ হইল।
অন্তঃপুরে গিয়া মহিষীকে ডাকাইয়া কহিলেন,—“মহিষি! রাজপরিবারের মধ্যে অত্যন্ত বিশৃঙ্খলা দেখিতেছি! উদয়াদিত্য পূর্ব্বে ত এমনতর ছিল না। এখন সে যখন তখন বাহির হইয়া যায়। প্রজাদের কাজে যোগ দেয়। আমার বিরুদ্ধাচরণ করে। এ সকলের অর্থ কি?”
মহিষী ভীত হইয়া কহিলেন, “মহারাজ, তাহার কোন দোষ নাই! এ সমস্ত অনর্থের মূল ঐ বড় বৌ! বাছা আমার ত আগে এমন ছিল না। যে দিন হইতে শ্রীপুরের ঘরে তাহার বিয়ে হইল, সে দিনই হইতে উদয় কেমন যে হইল কিছু বুঝিতে পারিতেছি না।”
মহারাজ সুরমাকে শাসনে রাখিতে আদেশ করিয়া বাহিরে গেলেন। মহিষী উদয়াদিত্যকে ডাকাইয়া পাঠাইলেন। উদয়াদিত্য আসিলে তাঁহার মুখের দিকে চাহিয়া কহিলেন, “আহা, বাছা আমার রোগা, কালো হইয়া গিয়াছে! বিয়ের আগে বাছার রং কেমন ছিল! যেন তপ্ত-সোনার মত! তোর এমন দশা কে করিল? বাবা, বড় বৌ তোকে যা বলে তা’ শুনিস্ না। তার কথা শুনিয়াই তোর এমন দশা হইয়াছে।” সুরমা ঘোমটা দিয়া চুপ করিয়া এক পাশে দাঁড়াইয়াছিল। মহিষী বলিতে লাগিলেন “ওর ছোট বংশে জন্ম, ও কি তোর যোগ্য? ও কি তোক পরামর্শ দিতে জানে? আমি যথার্থ কথা বলিতেছি ও কখন তোকে ভাল পরামর্শ দেয় না তোর মন্দ হইলেই ও যেন বাঁচে! এমন রাক্ষসীর সঙ্গেও মহারাজ তোর বিবাহ দিয়াছিলেন!” মহিষী অশ্রুবর্ষণ করিতে আরম্ভ করিলেন।
উদয়াদিত্যের প্রশান্ত ললাটে ঘর্মবিন্দু দেখা দিল। তাঁহার মনের অধীরতা পাছে প্রকাশ হইয়া পড়ে, এই নিমিত্ত তাঁহার আয়তনেত্র অন্য দিকে ফিরাইলেন।
একজন পুরানো, বৃদ্ধ দাসী বসিয়াছিল, সে হাত নাড়িয়া বলিয়া উঠিল, —“শ্রীপুরের মেয়েরা যাদু জানে। নিশ্চয় বাছাকে ওষুধ করিয়াছে।” এই বলিয়া, উঠিয়া উদয়াদিত্যের কাছে গিয়া বলিল, “বাবা, ও তোমাকে ওষুধ করিয়াছে। ঐ যে মেয়েটি দেখিতেছ, উনি বড় সামান্য মেয়ে নন! শ্রীপুরের ঘরের মেয়ে। ওরা ডাইনি! আহা বাছার শরীরে আর কিছু রাখিল না?” এই বলিয়া সে সুরমার দিকে তীরের মত এক কটাক্ষ বর্ষণ করিল ও আঁচল দিয়া দুই হস্তে দুই শুষ্ক চক্ষু রগ্ড়াইয়া লাল করিয়া তুলিল। তাহা দেখিয়া আবার মহিষীর দুঃখ একেবারে উথলিয়া উঠিল। অন্তঃপুরে বৃদ্ধাদের মধ্যে ক্রন্দনের সংক্রামক ব্যাপ্ত হইয়া পড়িল। কাঁদিবার অভিপ্রায়ে সকলে রাণীর ঘরে আসিয়া সমবেত হইল। উদয়াদিত্য করুণনেত্রে একবার সুরমার মুখের দিকে চাহিলেন। ঘোমটার মধ্য হইতে সুরমা তাহা দেখিতে পাইল, ও চোখ মুছিয়া একটি কথা না কহিয়া ধীরে ধীরে ঘরে চলিয়া গেল।
সন্ধ্যাবেলা মহিষী প্রতাপাদিত্যকে কহিলেন, আজ উদয়কে সমস্ত বুঝাইয়া বলিলাম। বাছা আমার তেমন নহে। বুঝাইয়া বলিলে বুঝে। আজ তাহার চোখ ফুটিয়াছে।
1
হত্যার সংবাদ ও প্রতাপাদিত্যের শঙ্কা
প্রতাপাদিত্য বললেন, “দেখো তো মন্ত্রী, ওই পাঠান দুটো এখনও এল না!”
মন্ত্রী ধীরে ধীরে বললেন, “সেটা তো আর আমার দোষ নয় মহারাজ!”
প্রতাপাদিত্য বিরক্ত হয়ে বললেন, “দোষের কথা হচ্ছে না। যে দেরি হচ্ছে তার তো একটা কারণ আছে? তুমি কী অনুমান করছ, সেটাই জিজ্ঞেস করছি।”
মন্ত্রী: “শিমুলতলী এখান থেকে অনেক দূর। যেতে, কাজ শেষ করতে ও ফিরে আসতে দেরি হওয়াই স্বাভাবিক।”
প্রতাপাদিত্য মন্ত্রীর কথায় অসন্তুষ্ট হলেন। তিনি চান, তিনিও যা অনুমান করছেন, মন্ত্রীও যেন তাই করেন। কিন্তু মন্ত্রী সেই প্রসঙ্গ তুললেন না। প্রতাপাদিত্য বললেন, “উদয়াদিত্যের কাল রাতে বেরিয়ে যাওয়ার খবরটা?”
মন্ত্রী: “আজ্ঞে হ্যাঁ, সে তো আগেই জানিয়েছি।”
প্রতাপাদিত্য: “আগেই জানিয়েছ! কী উপযুক্ত সময়েই না জানিয়েছ! যে কোনো সময়ে জানালেই বুঝি তোমার কাজ শেষ হল? উদয় তো আগে এমন ছিল না। শ্রীপুরের জমিদারের মেয়েই বোধহয় ওকে কুপরামর্শ দিয়েছে। কী মনে হয়?”
মন্ত্রী: “কীভাবে বলব মহারাজ?”
প্রতাপাদিত্য বলে উঠলেন, “তোমার কাছে কি আমি বেদবাক্য শুনতে চাইছি? তুমি কী আন্দাজ করছ, সেটাই বলো না!”
মন্ত্রী: “আপনি মহিষীর কাছে বউমা ঠাকুরাণীর কথা সবই শুনতে পান, এ বিষয়ে আপনিই অনুমান করতে পারেন, আমি কীভাবে অনুমান করব?”
একজন পাঠান ঘরে প্রবেশ করল।
প্রতাপাদিত্য বলে উঠলেন—“কী হল? কাজ শেষ করেছিস?”
পাঠান: “হ্যাঁ মহারাজ, এতক্ষণে শেষ হয়ে গেছে।”
প্রতাপাদিত্য: “এ আবার কেমন কথা। তাহলে তুই জানিস না?”
পাঠান: “আজ্ঞে হ্যাঁ, জানি। কাজ শেষ হয়েছে, তাতে আর ভুল নেই, তবে আমি সেই সময়ে উপস্থিত ছিলাম না।”
প্রতাপাদিত্য: “তাহলে কীভাবে কাজ শেষ হল?”
পাঠান: “আপনার পরামর্শ অনুযায়ী আমি তাঁর লোকজনকে আলাদা করে দিয়েই চলে আসছি, হোসেন খাঁ কাজ শেষ করেছে।”
প্রতাপাদিত্য: “যদি না করে থাকে?”
পাঠান: “মহারাজ, আমার মাথা জামিন রাখলাম।”
প্রতাপাদিত্য: “আচ্ছা, ওখানেই থাকো। তোমার ভাই ফিরে এলে পুরস্কার পাবে।”
পাঠান দূরে দরজার কাছে প্রহরীদের দায়িত্বে দাঁড়িয়ে রইল।
প্রতাপাদিত্য অনেকক্ষণ চুপ করে থেকে মন্ত্রীকে ধীরে ধীরে বললেন,—“এটা প্রজারা যাতে কোনোভাবেই জানতে না পারে, তার চেষ্টা করতে হবে।”
মন্ত্রী বললেন—“মহারাজ, যদি অসন্তুষ্ট না হন, তাহলে বলি, এই খবর প্রকাশ হবেই।”
প্রতাপাদিত্য: “কীভাবে তুমি জানতে পারলে?”
মন্ত্রী: “এর আগে আপনি প্রকাশ্যেই আপনার কাকার প্রতি বিদ্বেষ দেখিয়েছেন। আপনার মেয়ের বিয়ের সময় আপনি বসন্ত রায়কে নিমন্ত্রণ করেননি, তিনি নিজে নিমন্ত্রণ ছাড়াই এসে উপস্থিত হয়েছিলেন। আজ আপনি হঠাৎ বিনা কারণে তাঁকে নিমন্ত্রণ করলেন আর পথের মধ্যে কে তাঁকে হত্যা করল। এমন অবস্থায় প্রজারা আপনাকেই এই ঘটনার মূল কারণ বলে জানবে।”
প্রতাপাদিত্য রুষ্ট হয়ে বললেন—“তোমার মতলব আমি কিছুই বুঝতে পারি না মন্ত্রী! এই কথাটা প্রকাশ পেলেই তুমি যেন খুশি হও, আমার নিন্দা রটলেই তোমার যেন মনস্কামনা পূর্ণ হয়। নাহলে দিনরাত তুমি কেন বলছ যে, কথাটা প্রকাশ হবেই। প্রকাশ হওয়ার আমি তো কোনো কারণ দেখছি না। মনে হচ্ছে, আর কিছুতে খবরটা রটনা না হলে তুমি নিজে গিয়ে ঘরে ঘরে প্রকাশ করে বেড়াবে!”
মন্ত্রী বললেন—“মহারাজ, মার্জনা করবেন। আপনি আমার চেয়ে সব বিষয়েই অনেক ভালো বোঝেন। আপনাকে পরামর্শ দেওয়া আমার মতো কম বুদ্ধির লোকের পক্ষে অত্যন্ত স্পর্ধার বিষয়। তবে, আপনিই তো আমাকে বেছে মন্ত্রী রেখেছেন, এই সাহসেই আমার ক্ষুদ্র বুদ্ধিতে যা মনে হয়, আপনাকে মাঝে মাঝে বলে থাকি। পরামর্শে যদি রুষ্ট হন, তবে এই দাসকে এই কাজের ভার থেকে অব্যাহতি দিন।”
প্রতাপাদিত্য শান্ত হলেন। মাঝে মাঝে মন্ত্রী যখন তাঁকে দু-একটা কড়া কথা শুনিয়ে দেন, তখন প্রতাপাদিত্য মনে মনে খুশিই হন।
প্রতাপাদিত্য বললেন, “আমি ভাবছি, ওই পাঠান দুটোকে মেরে ফেললে এ বিষয়ে আর কোনো ভয়ের কারণ থাকবে না।”
মন্ত্রী বললেন, “একটা খুন চেপে রাখাই মুশকিল, তিনটে খুন সামলানো অসম্ভব। প্রজারা জানতে পারবেই।” মন্ত্রী নিজের কথায় অটল রইলেন।
প্রতাপাদিত্য বলে উঠলেন, “তবে তো আমি ভয়েই গেলাম! প্রজারা জানতে পারবে! যশোর রায়গড় নয়; এখানে প্রজাদের রাজত্ব নেই। এখানে রাজা ছাড়া আর কেউই রাজা নয়। অতএব, আমাকে তুমি প্রজার ভয় দেখিও না। যদি কোনো প্রজা এ বিষয়ে আমার বিরুদ্ধে কোনো কথা বলে, তবে তার জিভ গরম লোহা দিয়ে পুড়িয়ে দেব।”
মন্ত্রী মনে মনে হাসলেন। মনে মনে বললেন, “প্রজার জিভকে এত ভয়! অথচ মনকে বোঝান যে, কোনো প্রজাকে ভয় করি না!”
2
প্রতাপাদিত্যের সম্মুখে বসন্ত রায়ের আবির্ভাব
প্রতাপাদিত্য। “শ্রাদ্ধশান্তি শেষ করে লোকজন নিয়ে একবার রায়গড়ে যেতে হবে। আমি ছাড়া সেখানকার সিংহাসনের উত্তরাধিকারী আর তো কাউকেই দেখছি না।”
বৃদ্ধ বসন্ত রায় ধীরে ধীরে ঘরের মধ্যে প্রবেশ করলেন—প্রতাপাদিত্য চমকে পিছিয়ে গেলেন। সহসা তাঁর মনে হলো, এ যেন কোনো উপদেবতা। অবাক হয়ে একটি কথাও বলতে পারলেন না। বসন্ত রায় তাঁর কাছে গিয়ে গায়ে হাত বুলিয়ে মৃদুস্বরে বললেন—“প্রতাপ, আমাকে কিসের ভয়? আমি তোমার কাকা। তাতেও যদি বিশ্বাস না হয়, আমি বৃদ্ধ, তোমার ক্ষতি করতে পারি এমন শক্তি আমার নেই।”
প্রতাপাদিত্যের জ্ঞান ফিরল, কিন্তু তিনি গুছিয়ে কথা বলতে একেবারেই অপটু। উত্তর না দিয়ে অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন। কাকাকে প্রণাম পর্যন্ত করা হলো না।
বসন্ত রায় আবার ধীরে ধীরে বললেন—“প্রতাপ, কিছু একটা বলো। যদি দৈবাৎ এমন কোনো কাজ করে থাকো, যার জন্য আমাকে দেখে তোমার লজ্জা ও সংকোচ হচ্ছে, তবে তার জন্য ভেবো না। আমি কোনো কথা তুলব না। এসো বৎস, আমরা দুজনে একবার কোলাকুলি করি। আজ অনেকদিন পর দেখা হলো; আর তো বেশিদিন দেখা হবে না।”
এতক্ষণ পর প্রতাপাদিত্য প্রণাম করলেন এবং উঠে কাকার সঙ্গে কোলাকুলি করলেন। ইতিমধ্যে মন্ত্রী আস্তে আস্তে ঘর থেকে বেরিয়ে গেছেন। বসন্ত রায় হালকা কোমল হাসি হেসে প্রতাপাদিত্যের গায়ে হাত দিয়ে বললেন, “বসন্ত রায় অনেকদিন বেঁচে আছে— তাই না প্রতাপ? সময় হয়ে এসেছে, এখনও যে কেন ডাক এল না, তা বিধাতাই জানেন। কিন্তু আর বেশি দেরি নেই।”
বসন্ত রায় কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন, প্রতাপাদিত্য কোনো উত্তর দিলেন না। বসন্ত রায় আবার বললেন, “তবে সবটা স্পষ্ট করেই বলি। তুমি যে আমার দিকে ছুরি তুলেছিলে, তা আমার বুকে ছুরির চেয়েও বেশি বিঁধেছে। (বলতে বলতে তাঁর চোখে জল এল) কিন্তু আমি একটুও রাগ করিনি। আমি কেবল তোমাকে দুটো কথা বলব। আমাকে বধ কোরো না প্রতাপ! তাতে তোমার ইহকালে-পরকালে ভালো হবে না। এতদিন পর্যন্ত যদি আমার মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করতে পেরেছ, তবে আর দুটো দিন পারবে না? এই সামান্য সময়ের জন্য পাপের ভাগী হবে?”
বসন্ত রায় দেখলেন, প্রতাপাদিত্য কোনো উত্তর দিলেন না; দোষ অস্বীকার করলেন না, বা অনুশোচনার কথাও বললেন না। তৎক্ষণাৎ তিনি অন্য প্রসঙ্গ তুলে বললেন,—“প্রতাপ, একবার রায়গড়ে চলো। অনেকদিন সেখানে যাও না। অনেক পরিবর্তন দেখবে। সৈন্যরা এখন তলোয়ার ছেড়ে লাঙল ধরেছে; যেখানে সৈন্যদের থাকার জায়গা ছিল, সেখানে এখন অতিথিশালা—”
এমন সময় প্রতাপাদিত্য দূর থেকে দেখলেন পাঠানটা পালানোর চেষ্টা করছে। তিনি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলেন না। মনের মধ্যে চেপে রাখা ক্রোধ আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়ল। বজ্রস্বরে বলে উঠলেন—“খবরদার, ওকে ছাড়বি না। ধরে রাখ।” বলে ঘর থেকে দ্রুত পায়ে বেরিয়ে গেলেন।
3
উদয়াদিত্যের সামনে সুরমার অপমান
রাজা মন্ত্রীকে ডেকে বললেন, “রাজকার্যে তোমার অত্যন্ত অমনোযোগ লক্ষিত হচ্ছে।”
মন্ত্রী আস্তে আস্তে বললেন, “মহারাজ, এ বিষয়ে আমার কোনো দোষ নেই।”
প্রতাপাদিত্য তারস্বরে বলে উঠলেন, “আমি কি কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের উল্লেখ করছি! আমি বলছি, রাজকার্যে তোমার অত্যন্ত অমনোযোগ দেখা যাচ্ছে। সেদিন তোমার কাছে একটা চিঠি রাখতে দিলাম, তুমি হারিয়ে ফেললে!”
দেড় মাস আগে এরকম একটা ঘটনা ঘটেছিল বটে, কিন্তু তখন মহারাজ মন্ত্রীকে একটি কথাও বলেননি।
“আর একদিন উমেশ রায়ের কাছে তোমাকে যেতে আদেশ করলাম, তুমি লোক পাঠিয়ে কাজ সারলে! চুপ করো! দোষ কাটানোর জন্য মিথ্যে চেষ্টা কোরো না! যাই হোক, তোমাকে জানিয়ে রাখলাম, রাজকার্যে তুমি বিন্দুমাত্র মনোযোগ দিচ্ছ না।”
রাজা প্রহরীদের ডাকালেন। আগের রাতের প্রহরীদের বেতন কেটেছিলেন, এখন তাদের কারাবাসের আদেশ হলো।
অন্দরমহলে গিয়ে মহিষীকে ডেকে বললেন, “মহিষী! রাজপরিবারের মধ্যে অত্যন্ত বিশৃঙ্খলা দেখছি! উদয়াদিত্য তো আগে এরকম ছিল না। এখন সে যখন-তখন বাইরে বেরিয়ে যায়। প্রজাদের কাজে যোগ দেয়। আমার বিরোধিতা করে। এই সবের অর্থ কী?”
মহিষী ভয় পেয়ে বললেন, “মহারাজ, তার কোনো দোষ নেই! এই সমস্ত অনর্থের মূল হলো ঐ বড় বউমা! আমার বাছা তো আগে এমন ছিল না। যেদিন থেকে শ্রীপুরের ঘরে তার বিয়ে হলো, সেদিন থেকেই উদয় যে কেমন হয়ে গেল, কিছুই বুঝতে পারছি না।”
মহারাজ সুরমাকে শাসনে রাখতে আদেশ করে বাইরে গেলেন। মহিষী উদয়াদিত্যকে ডেকে পাঠালেন। উদয়াদিত্য এলে তাঁর মুখের দিকে চেয়ে বললেন, “আহা, আমার বাছা রোগা, কালো হয়ে গেছে! বিয়ের আগে বাছার গায়ের রং কেমন ছিল! যেন তপ্ত সোনার মতো! তোর এমন দশা কে করল? বাবা, বড় বউ তোকে যা বলে তা শুনবি না। তার কথা শুনেই তোর এই দশা হয়েছে।” সুরমা ঘোমটা দিয়ে চুপ করে এক পাশে দাঁড়িয়েছিল। মহিষী বলতে লাগলেন, “ওর ছোট বংশে জন্ম, ও কি তোর যোগ্য? ও কি তোকে পরামর্শ দিতে জানে? আমি সত্যি কথা বলছি, ও কখনো তোকে ভালো পরামর্শ দেয় না। তোর মন্দ হলেই ও যেন বাঁচে! এমন এক রাক্ষসীর সঙ্গেও মহারাজ তোর বিয়ে দিয়েছিলেন!” মহিষী কাঁদতে শুরু করলেন।
উদয়াদিত্যের শান্ত কপালে ঘামের বিন্দু দেখা দিল। তাঁর মনের অস্থিরতা পাছে প্রকাশ হয়ে পড়ে, এইজন্য তিনি তাঁর বড় বড় চোখ দুটি অন্যদিকে ফেরালেন।
একজন পুরোনো, বৃদ্ধা দাসী বসেছিল, সে হাত নেড়ে বলে উঠল, “শ্রীপুরের মেয়েরা জাদু জানে। নিশ্চয়ই বাছাকে বশ করার ওষুধ করেছে।” এই বলে, উঠে উদয়াদিত্যের কাছে গিয়ে বলল, “বাবা, ও তোমাকে ওষুধ করেছে। ওই যে মেয়েটিকে দেখছো, উনি মোটেই সাধারণ মেয়ে নন! শ্রীপুরের ঘরের মেয়ে। ওরা ডাইনি! আহা, বাছার শরীরে আর কিছুই রাখল না?” এই বলে সে সুরমার দিকে তিরের মতো একটা কটাক্ষ ছুঁড়ে দিল এবং আঁচল দিয়ে নিজের দুই শুকনো চোখ রগড়ে লাল করে তুলল। তা দেখে মহিষীর দুঃখ আবার একেবারে উথলে উঠল। অন্দরমহলে বৃদ্ধাদের মধ্যে কান্নার সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ল। কাঁদার উদ্দেশ্যেই সবাই রানির ঘরে এসে জড়ো হলো। উদয়াদিত্য করুণ চোখে একবার সুরমার মুখের দিকে তাকালেন। ঘোমটার মধ্যে থেকে সুরমা তা দেখতে পেল, এবং চোখ মুছে একটি কথাও না বলে ধীরে ধীরে নিজের ঘরে চলে গেল।
সন্ধ্যেবেলা মহিষী প্রতাপাদিত্যকে বললেন, “আজ উদয়কে সব বুঝিয়ে বলেছি। আমার বাছা তেমন নয়। বুঝিয়ে বললে বোঝে। আজ তার চোখ খুলেছে।”
1
हत्या का समाचार और प्रतापादित्य की आशंका
प्रतापादित्य ने कहा, “देखो तो मंत्री, वे दोनों पठान अभी तक नहीं आए!”
मंत्री ने धीरे से कहा, “महाराज, यह तो मेरी गलती नहीं है!”
प्रतापादित्य ने বিরক্ত होकर कहा, “गलती की बात नहीं हो रही है। जो देर हो रही है, उसका कोई कारण तो होगा? तुम क्या अनुमान लगाते हो, यही पूछ रहा हूँ।”
मंत्री: “शिमुलतली यहाँ से बहुत दूर है। जाने, काम पूरा करने और लौटकर आने में देर तो होनी ही थी।”
प्रतापादित्य मंत्री की बात से असंतुष्ट हुए। वह चाहते थे कि जो अनुमान वह लगा रहे हैं, मंत्री भी वही अनुमान लगाएँ। लेकिन मंत्री उस ओर नहीं गए। प्रतापादित्य ने कहा, “उदयादित्य कल रात बाहर चला गया है?”
मंत्री: “आज्ञा हाँ, यह तो पहले ही बता चुका हूँ।”
प्रतापादित्य: “पहले ही बता चुका हूँ! क्या सही समय पर बताया है। किसी भी समय बता देने से क्या तुम्हारा काम खत्म हो जाता है? उदयादित्य तो पहले ऐसा नहीं था। लगता है श्रीपुर के ज़मींदार की बेटी ने उसे कोई कुमंत्रणा दी होगी। क्या लगता है?”
मंत्री: “यह मैं कैसे कह सकता हूँ, महाराज?”
प्रतापादित्य बोल उठे, “क्या मैं तुमसे कोई वेदवाक्य सुनना चाहता हूँ? तुम क्या अंदाज़ा लगाते हो, वही बताओ न!”
मंत्री: “आप महारानी से बहू रानी के बारे में सब कुछ सुनते ही हैं, इस विषय में आप ही अनुमान लगा सकते हैं, मैं कैसे अनुमान लगाऊँ?”
एक पठान ने कमरे में प्रवेश किया।
प्रतापादित्य बोल उठे, “क्या हुआ? काम निपटा दिया?”
पठान: “हाँ महाराज, अब तक निपट गया होगा।”
प्रतापादित्य: “यह कैसी बात हुई। तो तुम नहीं जानते?”
पठान: “आज्ञा हाँ, जानता हूँ। काम निपट गया है, इसमें कोई संदेह नहीं, पर मैं उस समय वहाँ उपस्थित नहीं था।”
प्रतापादित्य: “तो फिर काम कैसे निपटा?”
पठान: “आपकी सलाह के अनुसार मैं उनके लोगों को दूर हटाकर चला आ रहा था, हुसैन ख़ान ने काम खत्म कर दिया।”
प्रतापादित्य: “अगर नहीं किया हो तो?”
पठान: “महाराज, मैं अपनी गर्दन ज़मानत पर रखता हूँ।”
प्रतापादित्य: “ठीक है, वहीं हाज़िर रहो। तुम्हारे भाई के लौटने पर पुरस्कार मिलेगा।”
पठान दूर द्वार के पास पहरियों की निगरानी में खड़ा हो गया।
प्रतापादित्य बहुत देर तक चुप रहकर मंत्री से धीरे-धीरे बोले, “यह बात प्रजा को किसी भी तरह पता न चले, इसकी कोशिश करनी होगी।”
मंत्री ने कहा, “महाराज, यदि आप असंतुष्ट न हों तो कहूँ कि यह बात तो उजागर होगी ही।”
प्रतापादित्य: “यह तुम्हें कैसे पता चला?”
मंत्री: “इससे पहले आप सार्वजनिक रूप से अपने चाचा के प्रति द्वेष प्रकट कर चुके हैं। अपनी कन्या के विवाह के समय आपने बसंत राय को निमंत्रण नहीं दिया था, वह स्वयं बिना बुलाए आ पहुँचे थे। आज आपने अचानक बिना किसी कारण के उन्हें निमंत्रित किया और रास्ते में किसी ने उनकी हत्या कर दी। ऐसी स्थिति में प्रजा आपको ही इस घटना का सूत्रधार समझेगी।”
प्रतापादित्य ने रुष्ट होकर कहा, “मंत्री, मैं तुम्हारी भावना बिलकुल नहीं समझ पा रहा हूँ! जैसे यह बात उजागर होने से तुम खुश हो जाओगे, मेरी निंदा फैलने से जैसे तुम्हारी मनोकामना पूरी हो जाएगी। वरना तुम दिन-रात क्यों कह रहे हो कि यह बात उजागर होगी ही। मुझे तो उजागर होने का कोई कारण नहीं दिख रहा। शायद, और किसी तरह से यह खबर न फैले तो तुम खुद घर-घर जाकर यह बात फैला आओगे!”
मंत्री ने कहा, “महाराज, क्षमा करेंगे। आप मुझसे सभी विषयों में बहुत बेहतर समझते हैं। आपको मंत्रणा देना हम जैसे छोटी बुद्धि वाले व्यक्ति के लिए अत्यंत धृष्टता का विषय है। पर, चूँकि आपने ही मुझे चुनकर मंत्री रखा है, इसी साहस से मेरी छोटी बुद्धि में जो आता है, आपको कभी-कभी कह देता हूँ। यदि आप मेरी मंत्रणा से रुष्ट होते हैं तो इस दास को इस कार्यभार से मुक्त कर दें।”
प्रतापादित्य संयत हो गए। कभी-कभी जब मंत्री उन्हें दो-एक कड़ी बातें सुना देते थे, तब प्रतापादित्य मन-ही-मन संतुष्ट होते थे।”
प्रतापादित्य ने कहा, “मैं विचार कर रहा हूँ कि उन दोनों पठानों को मार डालने से इस विषय में और कोई भय का कारण नहीं रहेगा।”
मंत्री ने कहा, “एक खून छिपाना ही मुश्किल है, तीन खून संभालना असंभव है। प्रजा जान ही जाएगी।” मंत्री अपनी बात पर अड़े रहे।
प्रतापादित्य बोल उठे, “तब तो मैं डर से मर ही गया! प्रजा जान जाएगी! यशोर रायगढ़ नहीं है; यहाँ प्रजा का राज नहीं है। यहाँ राजा के अलावा बाकी सब राजा नहीं हैं। इसलिए मुझे प्रजा का भय मत दिखाओ। यदि किसी प्रजा ने इस विषय में मेरे विरुद्ध कोई बात कही, तो मैं उसकी जीभ गर्म लोहे से जलवा दूँगा।”
मंत्री मन-ही-मन हँसे। मन-ही-मन कहा, “प्रजा की जीभ से इतना डर! फिर भी मन को दिलासा देते हैं कि किसी प्रजा से नहीं डरते!”
2
प्रतापादित्य के सम्मुख बसंत राय का আবির্ভাব
प्रतापादित्य: “श्राद्ध-शांति समाप्त करके लोगों को लेकर एक बार रायगढ़ जाना होगा। मेरे अलावा वहाँ के सिंहासन का उत्तराधिकारी और कोई तो दिखाई नहीं दे रहा।”
वृद्ध बसंत राय धीरे-धीरे घर में घुसे—प्रतापादित्य चौंककर पीछे हट गए। अचानक उन्हें लगा, मानो कोई उपदेवता हो। हैरान होकर वह एक भी शब्द नहीं कह सके। बसंत राय ने पास जाकर उनके शरीर पर हाथ फेरते हुए धीमी आवाज़ में कहा—“मुझसे कैसा डर, प्रताप? मैं तुम्हारा चाचा हूँ। फिर भी यदि विश्वास न हो, तो मैं बूढ़ा हूँ, तुम्हारा अनिष्ट कर सकूँ, ऐसी शक्ति मुझमें नहीं है।”
प्रतापादित्य को होश तो आया, लेकिन वह बातें बनाने में बिल्कुल अकुशल थे। निरुत्तर होकर हैरान खड़े रहे। चाचा को प्रणाम तक नहीं कर पाए।
बसंत राय ने फिर धीरे से कहा—“प्रताप, कुछ तो कहो। यदि दैवयोग से तुमने कोई ऐसा काम कर दिया है, जिससे मुझे देखकर तुम्हें लज्जा और संकोच हो रहा है, तो उसके लिए चिंता मत करो। मैं कोई बात नहीं उठाऊँगा। आओ वत्स; हम दोनों एक बार गले मिल लें। आज बहुत दिनों बाद भेंट हुई है; अब तो और अधिक दिन भेंट नहीं होगी।”
इतनी देर बाद प्रतापादित्य ने प्रणाम किया और उठकर चाचा के साथ गले मिले। इस बीच मंत्री धीरे-धीरे कमरे से बाहर निकल गए। बसंत राय ने हल्की कोमल मुस्कान के साथ प्रतापादित्य के शरीर पर हाथ रखकर कहा, “बसंत राय बहुत दिन जी लिया है—क्यों प्रताप? समय आ गया है, अभी तक विधाता का बुलावा क्यों नहीं आया, वही जानें। लेकिन अब और देर नहीं है।”
बसंत राय कुछ देर चुप रहे, प्रतापादित्य ने कोई उत्तर नहीं दिया। बसंत राय ने फिर कहा, “तो फिर सब कुछ साफ़-साफ़ कहता हूँ। तुमने जो मुझ पर छुरी उठाई, वह मुझे छुरी से भी ज़्यादा चुभी है। (कहते-कहते उनकी आँखों में आँसू आ गए) लेकिन मुझे ज़रा भी गुस्सा नहीं है। मैं तुमसे केवल दो बातें कहूँगा। मेरा वध मत करो प्रताप! इससे तुम्हारा लोक-परलोक नहीं सुधरेगा। इतने दिनों तक यदि तुम मेरी मृत्यु की प्रतीक्षा कर सके, तो क्या दो दिन और नहीं कर सकते? इतनी सी बात के लिए पाप के भागी बनोगे?”
बसंत राय ने देखा कि प्रतापादित्य ने कोई उत्तर नहीं दिया; न तो दोष अस्वीकार किया, न ही पश्चाताप की कोई बात कही; उन्होंने तुरंत बात बदल दी, कहा,—“प्रताप, एक बार रायगढ़ चलो। बहुत दिन से वहाँ नहीं गए हो। बहुत परिवर्तन देखोगे। सैनिकों ने अब तलवार छोड़कर हल पकड़ लिया है; जहाँ सैनिकों का निवास था, वहाँ अब अतिथि शाला है—”
उसी समय प्रतापादित्य ने दूर से देखा कि पठान भागने की तैयारी कर रहा है। वह और सहन नहीं कर सके। मन में जो दबा हुआ क्रोध खौल रहा था, वह ज्वालामुखी की तरह फूट पड़ा। उन्होंने वज्र स्वर में कहा— “ख़बरदार! उसे छोड़ना मत। पकड़कर रखो।” कहकर वह तेज़ी से कमरे से बाहर निकल गए।
3
उदयादित्य के सामने सुरमा का अपमान
राजा ने मंत्री को बुलाकर कहा,—“राजकार्यों में तुम्हारी अत्यधिक लापरवाही दिखाई दे रही है।”
मंत्री ने धीरे से कहा,—“महाराज, इस विषय में मेरा कोई दोष नहीं है।”
प्रतापादित्य ने ऊँचे स्वर में कहा, “मैं किसी विशेष विषय का उल्लेख कर रहा हूँ क्या! मैं कह रहा हूँ, राजकार्यों में तुम्हारी अत्यधिक लापरवाही दिखाई दे रही है। उस दिन मैंने तुम्हें एक पत्र रखने को दिया था, तुमने उसे खो दिया!”
डेढ़ महीने पहले ऐसी एक घटना घटी तो थी, लेकिन तब महाराज ने मंत्री से एक शब्द भी नहीं कहा था।
“और एक दिन मैंने तुम्हें उमेश राय के पास जाने का आदेश दिया, तुमने आदमी भेजकर काम निपटा लिया! चुप रहो! दोष से बचने के लिए व्यर्थ प्रयास मत करो! जो भी हो, मैंने तुम्हें बता दिया है कि तुम राजकार्यों में बिल्कुल भी ध्यान नहीं दे रहे हो।”
राजा ने पहरेदारों को बुलाया। पिछली रात के पहरेदारों का वेतन काटा था, अब उन्हें कारावास का आदेश हुआ।
अंतःपुर में जाकर महिषी को बुलाकर कहा,—“महिषी! राजपरिवार में अत्यधिक अव्यवस्था देख रहा हूँ! उदयादित्य पहले तो ऐसा नहीं था। अब वह जब-तब बाहर चला जाता है। प्रजा के कार्यों में भाग लेता है। मेरा विरोध करता है। इन सबका क्या अर्थ है?”
महिषी ने भयभीत होकर कहा, “महाराज, उसका कोई दोष नहीं है! इस सारे अनर्थ की जड़ वह बड़ी बहू है! मेरा बच्चा तो पहले ऐसा नहीं था। जिस दिन से श्रीपुर के घराने में उसका विवाह हुआ, उसी दिन से उदय न जाने कैसा हो गया है, कुछ समझ में नहीं आता।”
महाराज ने सुरमा को नियंत्रण में रखने का आदेश देकर बाहर चले गए। महिषी ने उदयादित्य को बुलवा भेजा। उदयादित्य के आने पर उनके मुख की ओर देखकर कहा, “हाय, मेरा बच्चा दुबला, काला हो गया है! विवाह से पहले बच्चे का रंग कैसा था! जैसे तपा हुआ सोना हो! तेरी ऐसी दशा किसने की? बेटा, बड़ी बहू तुझे जो कहती है वह मत सुना कर। उसकी बात सुनकर ही तेरी ऐसी दशा हुई है।” सुरमा घूँघट काढ़े चुपचाप एक ओर खड़ी थी। महिषी कहती रहीं, “उसका जन्म छोटे कुल में हुआ है, क्या वह तेरे योग्य है? क्या वह तुझे सलाह देना जानती है? मैं सच कह रही हूँ, वह तुझे कभी अच्छी सलाह नहीं देती। तेरा अहित होने से ही उसे चैन मिलता है! ऐसी राक्षसी के साथ भी महाराज ने तेरा विवाह कर दिया था!” महिषी ने आँसू बहाना शुरू कर दिया।
उदयादित्य के शांत ललाट पर पसीने की बूँदें दिखाई दीं। कहीं उनके मन की अधीरता प्रकट न हो जाए, इस कारण उन्होंने अपने विशाल नेत्र दूसरी ओर फेर लिए।
एक पुरानी, वृद्ध दासी बैठी थी, वह हाथ हिलाकर बोल उठी,—“श्रीपुर की लड़कियाँ जादू जानती हैं। निश्चय ही बच्चे को कोई औषधि कर दी है।” यह कहकर, उठकर उदयादित्य के पास जाकर बोली, “बेटा, उसने तुम्हें औषधि कर दी है। यह जो लड़की देख रहे हो, यह कोई साधारण लड़की नहीं है! श्रीपुर के घराने की लड़की है। वे डायन हैं! हाय, बच्चे के शरीर में कुछ बाकी नहीं छोड़ा?” यह कहकर उसने सुरमा की ओर तीर की तरह एक कटु दृष्टि डाली और आँचल से अपनी दोनों सूखी आँखों को रगड़कर लाल कर लिया। उसे देखकर महिषी का दुःख फिर से एकदम उमड़ पड़ा। अंतःपुर में वृद्धाओं के बीच रुदन का संक्रमण फैल गया। रोने के इरादे से सभी रानी के कमरे में आकर एकत्रित हो गईं। उदयादित्य ने करुण नेत्रों से एक बार सुरमा के मुख की ओर देखा। घूँघट के भीतर से सुरमा ने वह देख लिया, और आँखें पोंछकर एक शब्द भी कहे बिना धीरे-धीरे कमरे में चली गई।
संध्या के समय महिषी ने प्रतापादित्य से कहा, “आज उदय को सब कुछ समझाकर कहा। मेरा बच्चा वैसा नहीं है। समझाने से समझ जाता है। आज उसकी आँखें खुल गई हैं।”
1
News of the Murder and Pratapaditya's Apprehension
Pratapaditya said, “Look here, Minister, those two Pathans have not yet arrived!”
The minister said slowly, “That is not my fault, Maharaj!”
Pratapaditya said irritably, “This is not about fault. There must be a reason for the delay, mustn't there? I am asking what you surmise.”
Minister: “Simultali is a great distance from here. It is expected there would be a delay in going, completing the task, and returning.”
Pratapaditya was displeased with the minister’s words. He wanted the minister to surmise the same thing he was surmising. But the minister did not go in that direction. Pratapaditya said, “Did Udayaditya go out last night?”
Minister: “Yes, Maharaj, I have already informed you of that.”
Pratapaditya: “‘I have already informed you’! And what a timely moment you chose to inform me. Do you think your job is finished as long as you inform me at some point? Udayaditya was not like this before. The daughter of the Shripur landlord must have given him ill counsel. What do you think?”
Minister: “How can I say, Maharaj?”
Pratapaditya exclaimed, “Am I asking you for absolute truth? Just tell me what you guess!”
Minister: “You hear everything about the young mistress from the Mahishi. You are in the best position to guess in this matter, how could I possibly guess?”
A Pathan entered the room.
Pratapaditya cried out, “What happened? Is the job settled?”
Pathan: “Yes, Maharaj, it is settled by now.”
Pratapaditya: “What kind of answer is that? So you don’t know for sure?”
Pathan: “Yes, Maharaj, I do know. The job is settled, there is no doubt about it, but I was not present at the time.”
Pratapaditya: “Then how was the job settled?”
Pathan: “As per your advice, I was leading his men away when I left. Hosen Khan has finished the job.”
Pratapaditya: “And what if he has not?”
Pathan: “Maharaj, I stake my head on it.”
Pratapaditya: “Very well, wait right there. You will receive your reward when your brother returns.”
The Pathan stood at a distance near the door, in the custody of the guards.
After remaining silent for a long time, Pratapaditya said slowly to the minister, “We must try to ensure that the subjects do not find out about this in any way.”
The minister said, “Maharaj, if you will not be displeased, I must say that this will certainly be revealed.”
Pratapaditya: “How do you know that?”
Minister: “Previously, you have openly expressed animosity towards your paternal uncle. You did not invite Basanta Ray to your daughter’s wedding; he came on his own, uninvited. Today, you suddenly invited him for no reason, and someone killed him on the road. Under these circumstances, the subjects will know you to be the root of this incident.”
Pratapaditya said angrily, “I cannot understand your attitude at all, Minister! It is as if you would be happy if this news got out, as if your heart’s desire would be fulfilled if my name were slandered. Otherwise, why do you keep saying day and night that the matter will surely be revealed? I see no reason for it to be revealed. I suppose if the news doesn't spread by any other means, you yourself will go door to door and announce it!”
The minister said, “Maharaj, pardon me. You understand all matters much better than I do. For a person of humble intellect like me to offer you counsel is an act of great audacity. However, since you yourself have chosen and kept me as your minister, it is with this courage that I occasionally tell you what comes to my humble mind. If you are angered by my counsel, then please relieve this servant of his duties.”
Pratapaditya straightened up. Occasionally, when the minister told him a few hard truths, Pratapaditya was inwardly pleased.”
Pratapaditya said, “I am considering that if I have those two Pathans killed, there will be no further cause for fear in this matter.”
The minister said, “Covering up one murder is a burden enough; managing three murders is impossible. The subjects will surely find out.” The minister stood by his own words.
Pratapaditya exclaimed, “Then I am overcome with fear! The subjects will find out! Jessore is not Raigarh; the subjects do not rule here. Here, besides the king, everyone else is not the king. Therefore, do not try to scare me with the subjects. If any subject utters a word against me in this matter, I will burn his tongue with a hot iron.”
The minister smiled to himself. He thought to himself, “So much fear of the subjects' tongues. And yet he consoles his mind that he fears no subject!”
2
Basanta Ray's Appearance Before Pratapaditya
Pratapaditya. “After the funeral rites are over, I must go to Raigarh with my men. I see no other heir to the throne there but myself.”
The elderly Basanta Ray slowly entered the room. Pratapaditya, startled, staggered back. Suddenly, he thought it must be an apparition. Stunned, he could not utter a single word. Basanta Ray went near him, placed a hand on his arm, and said in a soft voice, “What is there to fear in me, Pratap? I am your paternal uncle. If even that does not reassure you, I am an old man; I have no power to harm you.”
Pratapaditya had come to his senses, but he was utterly inept at fabricating a story. He remained silent, standing there in astonishment. He did not even manage to bow to his uncle in respect.
Basanta Ray spoke again, slowly, “Pratap, say something, anything. If by chance you have done something that makes you feel shame and hesitation at seeing me, then do not worry about it. I will not bring up the matter. Come, my child; let us embrace. We are seeing each other after a long time, and we will not see each other for much longer.”
After all this time, Pratapaditya finally bowed and, rising, embraced his uncle. In the meantime, the minister had quietly slipped out of the room. With a faint, gentle smile, Basanta Ray placed a hand on Pratapaditya’s arm and said, “Basanta Ray has lived a long time, has he not, Pratap? My time has come. Vidhat alone knows why the call hasn't come yet. But there is not much delay left.”
Basanta Ray remained silent for a moment; Pratapaditya gave no reply. Basanta Ray spoke again, “Then let me say everything clearly. That you raised a knife to me has wounded me more than the knife itself.” (As he spoke, tears welled up in his eyes.) “But I am not angry in the least. I will only say two things to you. Do not kill me, Pratap! It will bring you no good in this life or the next. If you could wait for my death all this time, can you not wait just a couple more days? Will you become a sinner for this little thing?”
Basanta Ray saw that Pratapaditya gave no answer; he neither denied the charge nor expressed any remorse. He immediately changed the subject, saying, “Pratap, come to Raigarh for a visit. You have not been there for a long time. You will see many changes. The soldiers have now traded their swords for ploughs; where the soldiers' barracks were, there is now a guesthouse for travelers—”
Just then, Pratapaditya saw from a distance that the Pathan was preparing to flee. He could restrain himself no longer. The suppressed rage seething within him erupted like a volcano. He roared in a voice like thunder, “Don't you dare let him go! Seize and hold him!” Saying this, he strode swiftly out of the room.
3
The Humiliation of Surma Before Udayaditya
The King summoned the minister and said, “I have noticed your extreme inattention to royal duties.”
The minister said softly, “Maharaj, I am not at fault in this matter.”
Pratapaditya thundered, “Am I referring to any specific matter! I am saying, I have noticed your extreme inattention to royal duties. The other day, I gave you a letter to keep, and you lost it!”
Indeed, such an incident had occurred a month and a half ago, but at the time, the Maharaj had not said a single word to the minister.
“And another day I ordered you to go to Umesh Ray, but you sent a man and finished the work! Be quiet! Do not make useless attempts to excuse your fault! In any case, I am informing you that you are paying no attention whatsoever to royal duties.”
The King summoned the guards. He had docked the pay of the previous night's guards; now he sentenced them to imprisonment.
Going to the inner quarters, he summoned the Mahishi and said, “Mahishi! I see extreme disorder within the royal family! Udayaditya was never like this before. Now he goes out whenever he pleases. He involves himself in the affairs of the subjects. He acts against my wishes. What is the meaning of all this?”
The Mahishi said fearfully, “Maharaj, he is not to blame! The root of all this trouble is that elder daughter-in-law! My child was not like this before. From the day he was married into the house of Shripur, Uday has become so different, I can’t understand it at all.”
The Maharaj ordered Surma to be kept under control and went outside. The Mahishi sent for Udayaditya. When Udayaditya arrived, she looked at his face and said, “Alas, my child has become thin and pale! What a complexion my boy had before his marriage! Like molten gold! Who brought you to this state? My son, do not listen to what that elder daughter-in-law tells you. It is from listening to her words that you have come to this state.” Surma stood silently to one side, her face veiled. The Mahishi continued, “She is of lowly birth, is she worthy of you? Does she know how to advise you? I am speaking the truth, she never gives you good advice—it is as if she thrives on your misfortune! To think the Maharaj had you married to such a demoness!” The Mahishi began to shed tears.
Beads of sweat appeared on Udayaditya’s calm forehead. Lest the turmoil in his mind be revealed, he turned his large eyes away.
An old, elderly maidservant who was sitting there waved her hand and exclaimed, “The women of Shripur know magic. She has surely given our child a potion.” Saying this, she got up, went to Udayaditya, and said, “My son, she has bewitched you with a potion. That girl you see, she is no ordinary girl! A girl from the house of Shripur. They are witches! Alas, has she left anything of my child’s health?” With this, she shot a glance like an arrow towards Surma and, with her sari, rubbed both her dry eyes with both hands until they turned red. Seeing this, the Mahishi’s sorrow welled up all over again. A contagion of weeping spread among the old women of the inner quarters. With the intention of crying, they all gathered in the queen’s room. Udayaditya glanced once at Surma’s face with compassionate eyes. Through her veil, Surma saw it, and wiping her eyes, she left for her room slowly, without uttering a word.
In the evening, the Mahishi said to Pratapaditya, “Today I explained everything to Uday. My child is not like that. He understands when things are explained to him. Today, his eyes have been opened.”
1
殺害の知らせとプラタパディティヤの懸念
プラタパディティヤは言った。「おい大臣、見ろ、あのパターン人二人がまだ来ないではないか!」
大臣はゆっくりと答えた。「それはもはや私の過ちではございません、マハラジャ!」
プラタパディティヤは苛立って言った。「罪の話をしているのではない。遅れているのには何か理由があるはずだろう?お前がどう推測するか、それを尋ねているのだ。」
大臣。「シムルタリはここからかなり遠くにございます。行くこと、任務を遂行し、そして戻ってくるには、遅れも生じましょう。」
プラタパディティヤは大臣の言葉に不満だった。王は、自分が推測していることを、大臣にも同じように推測してほしかったのだ。しかし大臣はその方向には乗ってこなかった。プラタパディティヤは言った。「ウダヤディティヤは昨夜、出ていったのか?」
大臣。「はっ、それはすでにお知らせした通りでございます。」
プラタパディティヤ。「すでにお知らせしただと!なんとも都合のいい時に知らせてくれたものだ。知らせさえすれば、お前の仕事は終わりだとでも思っているのか?ウダヤディティヤは以前はあのような男ではなかった。シュリプルの地主の娘が、奴に悪知恵を授けたに違いない。どう思う?」
大臣。「何と申し上げればよいのか、マハラジャ?」
プラタパディティヤは声を荒げた。「お前から確実な答えを聞きたいとでも思っているのか?お前はどう推測するのか、それを言え!」
大臣。「マハラジャは王妃様から嫁御様のことについてはすべてお聞きになります。この件については、マハラジャご自身が推測できるはず。私にどうして推測できましょうか?」
一人のパターン人が部屋に入ってきた。
プラタパディティヤは叫んだ。「どうなった?始末はつけたのか?」
パターン人。「はい、マハラジャ。今頃にはもう始末はついておりましょう。」
プラタパディティヤ。「それはどういうことだ。では、お前は知らぬのか?」
パターン人。「はっ、存じております。始末はつきました。それに間違いはございません。ただ、私はその場にはおりませんでした。」
プラタパディティヤ。「では、どうやって始末をつけたのだ?」
パターン人。「あなたの策に従い、私はあの方の供の者たちを引き離してこちらへ向かいました。ホーセン・カーンが仕事をやり遂げました。」
プラタパディティヤ。「もし、やり遂げていなかったら?」
パターン人。「マハラジャ、私の首を賭けても。」
プラタパディティヤ。「よろしい、そこで待機していろ。お前の仲間が戻り次第、褒美を遣わす。」
パターン人は遠くの戸口の近くで、衛兵の見張りを受けながら立っていた。
プラタパディティヤはしばらく黙っていたが、やがて大臣にゆっくりと言った。「この件は、民に決して知られぬよう手を打たねばならぬ。」
大臣は言った。「マハラジャ、お気に障らなければ申し上げますが、これは必ずや露見いたします。」
プラタパディティヤ。「何によってそう分かったのだ?」
大臣。「以前より、あなたは公然と叔父上への敵意を示してこられました。ご令嬢の婚礼の際も、あなたはバサンタ・ライ様を招待なさらなかった。あの方は招待もなく自らいらっしゃいました。今日、あなたは突然、理由もなくあの方を招待し、そして道中、何者かがあの方を殺害した。このような状況では、民はあなたこそがこの事件の張本人であると知るでしょう。」
プラタパディティヤは怒って言った。「お前の考えは全く理解できんぞ、大臣!この話が露見すれば、まるでお前が喜ぶかのようだ。私の悪評が広まれば、まるでお前の念願が叶うかのようだ。さもなければ、昼も夜も、なぜお前は『必ず露見する』と言うのだ。私には露見する理由など何も見当たらん。思うに、他に手がなければ、お前自身が家々を回って触れ回るつもりだろう!」
大臣は言った。「マハラジャ、お許しください。あなたは私よりもあらゆる面ではるかによくお分かりでいらっしゃいます。あなた様に助言を差し上げるなど、私のような浅知恵の者にとっては、甚だしい僭越でございます。しかしながら、この私をお選びになり大臣に据えられたのはあなた様です。その勇気をもって、浅知恵に浮かんだことを、時折あなた様にお伝えしております。助言にお怒りになるのであれば、この僕(しもべ)をこの任から解いてくださいませ。」
プラタパディティヤは気を持ち直した。時折、大臣が彼に厳しい言葉を投げかけると、プラタパディティヤは内心で満足するのであった。
プラタパディティヤは言った。「考えているのだが、あのパターン人二人を殺してしまえば、この件について、もはや何の恐れもなくなるのではないか。」
大臣は言った。「一つの殺人を隠蔽するだけでも大変なこと、三つの殺人を収めるのは不可能です。民は必ずや知ることになりましょう。」大臣は一貫して自らの主張を曲げなかった。
プラタパディティヤは叫んだ。「ならば私は恐怖で震え上がるとでもいうのか!民が知るだと!ジョソールはライガルではない。ここでは民が統治しているのではない。ここでは王の他に、残りの者は皆、王ではないのだ。ゆえに、私を民で脅すでない。もしこの件について私に逆らう言葉を口にする民がいれば、その舌を熱した鉄で焼いてくれるわ。」
大臣は心の中で笑った。そして心の中で言った。「民の舌をかくも恐れていながら。それでもなお、どの民も恐れぬと自らに言い聞かせているのだ!」
2
プラタパディティヤの前のバサンタ・ライの出現
プラタパディティヤ「葬儀が終わったら、手勢を連れて一度ライガルへ行かねばなるまい。あそこの王位継承者は、わしの他に誰もおらぬようだからな。」
老いたバサンタ・ライがゆっくりと部屋に入ってきた。プラタパディティヤはぎょっとして後ずさった。とっさに、亡霊かと思った。驚きのあまり、一言も発することができなかった。バサンタ・ライは近くに寄り、彼の体に手を触れ、穏やかな声で言った。「プラタープよ、何を恐れることがある? わしはお前の叔父だ。それでも信じられぬなら、こう考えよ。わしは年寄りだ、お前を害する力などありはしない。」
プラタパディティヤは我に返ったが、言い訳をでっちあげるのはひどく苦手だった。返事もできず、呆然と立ち尽くすばかり。叔父にお辞儀(プラナーム)をすることさえできなかった。
バサンタ・ライは再びゆっくりと語りかけた。「プラタープ、何か言ってくれ。もし万が一、わしに会って恥じたりためらったりするようなことをしてしまったのなら、そのことは気にするな。わしは何も言わぬ。さあ、息子よ、二人で抱き合おうではないか。今日は久しぶりに会えたのだ。もう、そう長くは会えぬだろうからな。」
ようやくプラタパディティヤはお辞儀(プラナーム)をし、立ち上がって叔父と抱き合った。その間に、大臣はそっと部屋から出ていった。バサンタ・ライはかすかに穏やかな笑みを浮かべ、プラタパディティヤの体に手を置いて言った。「このバサンタ・ライは長く生きたものだ――そうだろう、プラタープ? 時は満ちた。なぜまだお呼びがかからぬのか、ビダータのみがご存じだ。だが、もうそう長くはあるまい。」
バサンタ・ライはしばらく黙っていたが、プラタパディティヤは何も答えなかった。バサンタ・ライは再び口を開いた。「では、はっきりとすべてを話そう。お前がわしに刃を向けたこと、それは刃物で刺されるよりもわしの心を傷つけた。(そう言う彼の目には涙が浮かんだ)だが、わしは少しも怒ってはいない。ただ二言だけお前に言いたい。わしを殺めてはならぬ、プラタープよ! それはお前の現世にとっても来世にとっても、良いことにはならぬ。これまでずっとわしの死を待つことができたのなら、あと二日くらい待てぬものか? このわずかな時間のために、罪を背負うというのか?」
バサンタ・ライは、プラタパディティヤが何も答えないのを見た。罪を否定もせず、悔恨の言葉も口にしない。彼はとっさに話題を変えて言った。「プラタープ、一度ライガルへ行こう。久しく行っておらぬだろう。多くの変化に気づくはずだ。兵士たちは今や剣を捨てて鋤を手に取った。兵舎のあった場所は、今では客をもてなす館になっておる――」
その時、プラタパディティヤは遠くにパターン人が逃げようとしているのを目にした。もはやじっとしてはいられなかった。心の中に抑えられていた怒りが、火山の噴火のようにほとばしり出た。雷のような声で叫んだ。「気をつけろ、そやつを逃がすな! 捕らえておけ!」そう言って、部屋から足早に出ていった。
3
ウダヤディティヤの前でのスルマの屈辱
王は大臣を呼びつけて言った。「政務において、そなたの甚だしい怠慢が見受けられる。」
大臣は静かに言った。「マハラジャ、この件に関し、私に落ち度はございません。」
プラタパディティヤは声を張り上げて言った。「私が何か特定の件を指しているとでも思うか!私が言っているのは、政務において、そなたの甚だしい怠慢が見受けられるということだ。先日、そなたに預けた手紙を、失くしてしまったではないか!」
実のところ、そのような出来事があったのは一ヶ月半も前のことで、その時マハラジャは大臣に一言も何も言わなかった。
「また別の日にはウメシュ・ライのもとへ行くよう命じたのに、そなたは人を遣わして済ませた!黙れ!言い訳をして罪を逃れようとするな!いずれにせよ、覚えておけ、そなたは政務に全く集中していないのだ。」
王は衛兵たちを呼んだ。昨夜の衛兵たちは以前に給金を減らされたが、今度は投獄の命令が下された。
奥御殿へ行くと王妃を呼びつけて言った。「王妃よ!王家の中に甚だしい乱れが見られる!ウダヤディティヤは以前はあのような者ではなかった。今では、彼はいつでも外へ出て行き、民の仕事に加わり、私に逆らう。これらは一体どういうことだ?」
王妃は恐れながら言った。「マハラジャ、あの子に罪はございません!この災いの根源はすべて、あの長男の嫁にあります!あの子は以前はあんな子ではありませんでした。シュリプルの家に嫁いでからというもの、ウダヤがどうしてしまったのか、私にはさっぱり分かりません。」
マハラジャはスルマを厳しく躾けるよう命じて、外へ出て行った。王妃はウダヤディティヤを呼びにやった。ウダヤディティヤが来ると、その顔を見て言った。「ああ、可哀想に、痩せて、顔色も悪くなって!結婚する前のあの子の顔色は、まるで溶かした黄金のようだったのに!誰がお前をこんな姿にしたのだ?ねえ、長男の嫁の言うことなど聞いてはなりません。あの子の言うことを聞くから、お前はこんな有様になったのだ。」スルマはベールを被り、黙って傍らに立っていた。王妃は続けた。「あの子は低い家柄の生まれ、お前に相応しいと思うか?あの子がお前に助言などできるものか?本当のことを言うが、あの子は決して良い助言などしない。お前の身に悪いことが起これば、まるで生き返ったようになるのだ!マハラジャも、よくもあのような羅刹女とそなたを結婚させたものだ!」王妃は涙を流し始めた。
ウダヤディティヤの穏やかな額に汗が滲んだ。心の苛立ちが表に出るのを恐れ、彼はその大きな目をそらした。
座っていた年老いた侍女が、手を振りながら叫んだ。「シュリプルの女たちは妖術を知っております。間違いなく若君様に薬を盛ったのです。」そう言うと立ち上がり、ウダヤディティヤのそばへ寄って言った。「若君様、あやつはあなた様に薬を盛りました。あちらにおられる娘さん、あの方は並の女ではございません!シュリプルの家の娘。あの者たちは魔女でございます!ああ、若君様のお体を、すっかり弱らせてしまって!」そう言うと、彼女はスルマに矢のような鋭い視線を浴びせ、サリーの端で乾いた両目をこすって赤くした。それを見て、王妃の悲しみは再び溢れ出た。奥御殿の老女たちの間に、泣き声が伝染病のように広まった。泣くことを目的に、皆が王妃の部屋に集まってきた。ウダヤディティヤは哀れみの目で一度スルマの顔を見た。ベールの中からスルマはそれに気づき、目を拭うと、一言も言わずに静かに部屋を出て行った。
夕方、王妃はプラタパディティヤに言った。「今日、ウダヤにすべてを言い聞かせました。あの子は悪い子ではありません。言い聞かせれば分かるのです。今日、あの子は目が覚めました。」