1
ভাইয়ের পাশে বিভা
বিভার প্রাণের মধ্যে আঁধার করিয়া আসিয়াছে। ভবিষ্যতে কি যেন একটা মর্ম্মভেদী দুঃখ, একটা মরুময়ী নিরাশা, জীবনের সমস্ত সুখের জলাঞ্জলি, তাহার জন্য অপেক্ষা করিয়া আছে, প্রতি মুহূর্ত্তে তাহার কাছে কাছে সরিয়া আসিতেছে। সেই যে জীবনশূন্যকারী চরাচরগ্রাসী শুষ্ক সীমাহীন ভবিষ্যৎ অদৃষ্টের আশঙ্কা, তাহারি একটা ছায়া আসিয়া যেন বিভার প্রাণের মধ্যে পড়িয়াছে। বিভার মনের ভিতরে কেমন করিতেছে! বিভা বিছানায় একেলা পড়িয়া আছে। এ সময়ে বিভার কাছে কেহ নাই। বিভা নিশ্বাস ফেলিয়া বিভা কাঁদিয়া বিভা আকুল হইয়া কহিল, “আমাকে কি তবে পরিত্যাগ করিলে? আমি তোমার কি অপরাধ করিয়াছি?” কাঁদিয়া কাঁদিয়া কহিতে লাগিল, “আমি কি অপরাধ করিয়াছি?” দুটি হাতে মুখ ঢাকিয়া বালিশ বুকে লইয়া কাঁদিয়া কাঁদিয়া বার বার করিয়া কহিল “আমি কি করিয়াছি?” “একখানি পত্র না, একটি লোকও আসিল না, কাহারো মুখে সংবাদ শুনিতে পাই না। আমি কি করিব? বুক ফাটিয়া ছট্ ফট্ করিয়া সমস্ত দিন ঘরে ঘরে ঘুরিয়া বেড়াইতেছি, কেহ তোমার সংবাদ বলে না, কাহারো মুখে তোমার নাম শুনিতে পাই না! মা গো মা দিন কি করিয়া কাটিবে!” এমন কত দিন গেল। এমন কত মধ্যাহ্নে কত অপরাহ্ণে কত রাত্রে সঙ্গীহীন বিভা রাজবাড়ির শূন্য ঘরে ঘরে একখানি শীর্ণ ছায়ার মত ঘুরিয়া বেড়ায়!
এমন সময় একদিন প্রাতঃকালে রামমোহন আসিয়া “মা গো জয় হোক্” বলিয়া প্রণাম করিল, বিভা এমনি চমকিয়া উঠিল, যেন তাহার মাথায় একটা সুখের বজ্র ভাঙিয়া পড়িল। তাহার চোখ দিয়া জল বাহির হইল। সে সচকিত হইয়া কহিল, “মোহন, তুই এলি!”
“হাঁ মা, দেখিলাম, মা আমাদের ভুলিয়া গেছেন, তাঁহাকে একবার স্মরণ করাইয়া আসি!”
বিভা কত কি জিজ্ঞাসা করিবে মনে করিল কিন্তু লজ্জায় পারিল না—বলে বলে করিয়া হইয়া উঠিল না—অথচ শুনিবার জন্য প্রাণটা ব্যাকুল হইয়া রহিল।
রামমোহন বিভার মুখের দিকে চাহিয়া কহিল, “কেন মা, তোমার মুখখানি অমন মলিন কেন? তোমার চোখে কালি পড়িয়াছে। মুখে হাসি নাই। চুল রুক্ষ। এস মা, আমাদের ঘরে এস। এখানে বুঝি তোমাকে যত্ন করিবার কেহ নাই!”
বিভা ম্লান হাসি হাসিল; কিছু কহিল না! হাসিতে হাসিতে হাসি আর রহিলনা। দুই চক্ষু দিয়া জল পড়িতে লাগিল—শীর্ণ বিবর্ণ দুটি কপোল প্লাবিত করিয়া জল পড়িতে লাগিল, অশ্রু আর থামে না! বহু। দিন অনাদরের পর একটু আদর পাইলে যে অভিমান উথলিয়া উঠে, বিভা সেই অতি কোমল, মৃদু, অনন্ত প্রীতিপূর্ণ অভিমানে কাঁদিয়া ফেলিল। মনে মনে কহিল, “এত দিন পরে কি আমাকে মনে পড়িল?”
রামমোহন অর থাকিতে পারিল না, তাহার চোখে জল আসিল, কহিল—“একি অলক্ষণ! মা-লক্ষ্মী তুমি হাসি মুখে আমাদের ঘরে এস। আজ শুভ দিনে চোখের জল মোছ!”
মহিষীর মনে মনে ভয় ছিল, পাছে জামাই তাঁর মেয়েকে গ্রহণ না করে। রামমোহন বিভাকে লইতে আসিয়াছে শুনিয়া তাঁহার অত্যন্ত আনন্দ হইল। তিনি রামমোহনকে ডাকাইয়া জামাই-বাড়ির কুশল জিজ্ঞাসা করিলেন, বিশেষ যত্নে রামমোহনকে আহার করাইলেন, রামমোহনের গল্প শুনিলেন, আনন্দে দিন কাটিল! কাল যাত্রার দিন ভাল; কাল প্রভাতেই বিভাকে পাঠাইবেন স্থির হইল। প্রতাপাদিত্য এ বিষয়ে আর কিছু আপত্তি করিলেন না।
যাত্রার যখন সমস্তই স্থির হইয়া গেছে, তখন বিভা একবার উদয়াদিত্যের কাছে গেল! উদয়াদিত্য একাকী বসিয়া কি একটা ভাবিতেছিলেন।
বিভাকে দেখিয়া সহসা ঈষৎ চমকিত হইয়া কহিলেন, “বিভা, তবে তুই চলিলি? তা’ ভালই হইল! তুই সুখে থাকিতে পারিবি। আশীর্ব্বাদ করি—লক্ষ্মীস্বরূপা হইয়া স্বামীর ঘর উজ্জ্বল করিয়া থাক্!”
বিভা উদয়াদিত্যের পায়ের কাছে পড়িয়া কাঁদিতে লাগিল। উদয়াদিত্যের চোখ দিয়া জল পড়িতে লাগিল;—বিভার মাথায় হাত দিয়া তিনি কহিলেন,—“কেন কাঁদিতেছিস? এখানে তোর কি সুখ ছিল বিভা; চারিদিকে কেবল দুঃখ, কষ্ট, শোক। এ কারাগার হইতে পালাইলি—তুই বাঁচিলি!”
বিভা যখন উঠিল, তখন উদয়াদিত্য কহিলেন, “যাইতেছিস্? তবে আয়। স্বামীগৃহে গিয়া আমাদের একেবারে যেন ভুলিয়া যাস্নে। এক এক বার মনে করিস্, মাঝে মাঝে যেন সংবাদ পাই।”
বিভা রামমোহনের কাছে গিয়া কহিল, “এখন আমি যাইতে পারিব না!”
রামমোহন বিস্মিত হইয়া কহিল, “সে কি কথা মা?”
বিভা কহিল, “না, আমি যাইতে পারিব না। দাদাকে আমি এখন একলা ফেলিয়া যাইতে পারিব না। আমা হইতেই তাঁহার এত কষ্ট এত দুঃখ, আর আমি আজ তাঁহাকে এখানে ফেলিয়া রাখিয়া সুখ ভোগ করিতে যাইব? যত দিন তাঁহার মনে তিলমাত্র কষ্ট থাকিবে, তত দিন আমিও তাঁহার সঙ্গে সঙ্গে থাকিব। এখানে আমার মত তাঁহাকে কে যত্ন করিবে?” বলিয়া বিভা কাঁদিয়া চলিয়া গেল।
2
জাল দরখাস্ত ও উদয়াদিত্যের কারাবাস
অন্তঃপুরে একটা গোলযোগ বাধিয়া উঠিল। মহিষী আসিয়া বিভাকে তিরস্কার করিতে লাগিলেন; তাহাকে অনেক ভয় দেখাইলেন, অনেক পরামর্শ দিলেন; বিভা কেবল কহিল—“না মা, আমি পারিব না!”
মহিষী রোষে বিরক্তিতে কাঁদিয়া কহিলেন, “এমন মেয়েও ত কোথাও দেখি নাই!” তিনি মহারাজের কাছে গিয়া সমস্ত কহিলেন। মহারাজ প্রশান্ত ভাবে কহিলেন, “তা, বেশ ত, বিভার যদি ইচ্ছা না হয় ত কেন যাইবে?”
মহিষী অবাক্ হইয়া, হাত উল্টাইয়া, হাল ছাড়িয়া দিয়া কহিলেন, —“তোমাদের যাহা ইচ্ছা তাহাই কর, আমি আর কোন কথায় থাকিব না।”
উদয়াদিত্য সমস্ত শুনিয়া বিস্মিত হইলেন। তিনি বিভাকে আসিয়া অনেক করিয়া বুঝাইলেন; বিভা চুপ করিয়া কাঁদিতে লাগিল, ভাল বুঝিল না!
হতাশ্বাস রামমোহন আসিয়া ম্লানমুখে কহিল, “মা, তবে চলিলাম। মহারাজকে গিয়া কি বলিব?”
বিভা কিছু বলিতে পারিল না, অনেক ক্ষণ নিরুত্তর হইয়া রহিল!
রামমোহন কহিল, “তবে বিদায় হই মা!” বলিয়া প্রণাম করিয়া উঠিয়া গেল। বিভা একেবারে আকুল হইয়া কাঁদিয়া উঠিল, কাতর স্বরে ডাকিল “মোহন!”
মোহন ফিরিয়া আসিয়া কহিল, “কি মা?”
বিভা কহিল, “মহারাজকে বলিও, আমাকে যেন মার্জ্জনা করেন। তিনি স্বয়ং ডাকিতেছেন, তবু আমি যাইতে পারিলাম না, সে কেবল নিতান্তই আমার দুরদৃষ্ট?”
রামমোহন শুষ্কভাবে কহিল, “যে আজ্ঞা!”
রামমোহন আবার প্রণাম করিয়া বিদায় হইয়া গেল। বিভা দেখিল, রামমোহান বিভার ভাব কিছুই বুঝিতে পারে নাই, তাহার ভারি গোলমাল ঠেকিয়াছে। একে ত বিভার প্রাণ যেখানে যাইতে চায়, বিভা সেখানে যাইতে পারিল না;—তাহার উপর রামমোহন, যাহাকে সে যথার্থ স্নেহ করে, সে আজ রাগ করিয়া চলিয়া গেল। বিভার প্রাণে যাহা হইল তাহা বিভাই জানে!
বিভা রহিল। চোখের জল মুছিয়া প্রাণের মধ্যে পাষাণ-ভার বহিয়া সে তাহার দাদার কাছে পড়িয়া রহিল। ম্লান, শীর্ণ একখানি ছায়ার মত সে নীরবে সমস্ত ঘরের কাজ করে। উদয়াদিত্য স্নেহ করিয়া, আদর করিয়া কোন কথা কহিলে চোখ নীচু করিয়া একটুখানি হাসে। সন্ধ্যাবেলায় উদয়াদিত্যের পায়ের কাছে বসিয়া একটু কথা কহিতে চেষ্টা করে। যখন মহিষী তিরস্কার করিয়া কিছু বলেন, চুপ করিয়া দাঁড়াইয়া শোনে, ও অবশেষে এক খণ্ড মলিন মেঘের মত ভাসিয়া চলিয়া যায়। যখন কেহ বিভার চিবুক ধরিয়া বলে, “বিভা তুই এত রোগা হতেছিস্ কেন?” বিভা কিছু বলে না, কেবল একটু হাসে।
এই সময়ে ভাগবত পূর্ব্বোক্ত জাল দরখাস্তটি লইয়া প্রতাপাদিত্যকে দেখায়, প্রতাপাদিত্য আগুন হইয়া উঠিলেন—পরে অনেক বিবেচনা করিয়া উদয়াদিত্যকে কারারুদ্ধ করিবার আদেশ দিলেন। মন্ত্রী কহিলেন, “মহারাজ, যুবরাজ যে একাজ করিয়াছেন, ইহা কোন মতেই বিশ্বাস হয় না। যে শোনে সেই জিভ কাটিয়া বলে, ওকথা কানে আনিতে নাই। যুবরাজ একাজ করিবেন ইহা বিশ্বাসযোগ্য নহে।” প্রতাপাদিত্য কহিলেন, “আমারো ত বড় একটা বিশ্বাস হয় না। কিন্তু তাই বলিয়া কারাগারে থাকিতে দোষ কি? সেখানে কোন প্রকার কষ্ট না দিলেই হইল। কেবল গোপনে কিছু না করিতে পারে তাহার জন্য পাহারা নিযুক্ত থাকিবে।”
1
ভাইয়ের পাশে বিভা
বিভার মন অন্ধকারে ছেয়ে গেছে। তার মনে হচ্ছিল, ভবিষ্যতে যেন এক মর্মভেদী দুঃখ, এক মরুর মতো নিরাশা, জীবনের সমস্ত সুখের বিসর্জন তার জন্য অপেক্ষা করছে এবং প্রতি মুহূর্তে তার দিকে এগিয়ে আসছে। সেই জীবনশূন্যকারী, জগৎগ্রাসী, শুষ্ক ও সীমাহীন ভবিষ্যতের আশঙ্কার ছায়া যেন বিভার মনের উপর পড়েছে। বিভার মনের ভেতরটা কেমন যেন করছিল! সে বিছানায় একা পড়ে ছিল। এই সময়ে তার কাছে কেউ ছিল না। বিভা দীর্ঘশ্বাস ফেলে, কেঁদে, আকুল হয়ে বলল, “তুমি কি তবে আমাকে ত্যাগ করলে? আমি তোমার কী অপরাধ করেছি?” সে কেঁদে কেঁদে বলতে লাগল, “আমি কী অপরাধ করেছি?” দুহাতে মুখ ঢেকে, বালিশ বুকে নিয়ে সে কেঁদে কেঁদে বারবার বলতে লাগল, “আমি কী করেছি?” “একখানা চিঠিও এল না, একজন লোকও এল না, কারও মুখে কোনো খবর শুনি না। আমি কী করব? বুক ফেটে যাওয়ার মতো যন্ত্রণায় ছটফট করে সারাদিন ধরে ঘরের মধ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছি, কেউ তোমার খবর দেয় না, কারও মুখে তোমার নাম পর্যন্ত শুনি না! মা গো মা, দিন কী করে কাটবে!” এমন কত দিন কেটে গেল। এমন কত দুপুর, কত বিকেল, কত রাতে সঙ্গীহীন বিভা রাজবাড়ির শূন্য ঘরগুলোতে এক শীর্ণ ছায়ার মতো ঘুরে বেড়াত।
এমন সময় একদিন সকালে রামমোহন এসে “মা গো, জয় হোক” বলে প্রণাম করল। বিভা এমনভাবে চমকে উঠল, যেন তার মাথায় সুখের বজ্রপাত হল। তার চোখ দিয়ে জল বেরিয়ে এল। সে সচকিত হয়ে বলল, “মোহন, তুই এসেছিস!”
“হ্যাঁ মা, দেখলাম, আমাদের মা আমাদের ভুলে গেছেন, তাই তাঁকে একবার মনে করিয়ে দিতে এলাম!”
বিভা মনে মনে ভাবল কত কী জিজ্ঞাসা করবে, কিন্তু লজ্জায় পারল না—বলতে গিয়েও বলা হয়ে উঠল না—অথচ শোনার জন্য তার মন ব্যাকুল হয়ে রইল।
রামমোহন বিভার মুখের দিকে তাকিয়ে বলল, “কেন মা, তোমার মুখখানি অমন মলিন কেন? তোমার চোখে কালি পড়েছে। মুখে হাসি নেই। চুল রুক্ষ। এসো মা, আমাদের ঘরে এসো। এখানে মনে হয় তোমার যত্ন করার কেউ নেই!”
বিভা ম্লান হাসি হাসল; কিছু বলল না। হাসতে হাসতে তার হাসি আর রইল না। দুই চোখ দিয়ে জল পড়তে লাগল—শীর্ণ, বিবর্ণ দুই গাল ভিজিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল, অশ্রু আর থামে না! বহু দিন অবহেলার পর একটু স্নেহ পেলে যে অভিমান উথলে ওঠে, বিভা সেই অতি কোমল, মৃদু, অনন্ত স্নেহপূর্ণ অভিমানে কেঁদে ফেলল। মনে মনে বলল, “এত দিন পরে কি আমাকে মনে পড়ল?”
রামমোহন আর থাকতে পারল না, তার চোখেও জল এসে গেল। সে বলল, “এ কী অশুভ লক্ষণ! মা-লক্ষ্মী তুমি, হাসি মুখে আমাদের ঘরে এসো। আজকের এই শুভ দিনে চোখের জল মোছো!”
মহিষীর মনে মনে ভয় ছিল, পাছে জামাই তাঁর মেয়েকে গ্রহণ না করে। রামমোহন বিভাকে নিতে এসেছে শুনে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হলেন। তিনি রামমোহনকে ডেকে পাঠিয়ে জামাইবাড়ির খোঁজখবর নিলেন, বিশেষ যত্নে রামমোহনকে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করলেন, রামমোহনের গল্প শুনলেন, আনন্দে দিনটা কেটে গেল! কাল যাত্রার জন্য ভালো দিন; কাল সকালেই বিভাকে পাঠাবেন বলে স্থির হলো। প্রতাপাদিত্য এই বিষয়ে আর কোনো আপত্তি করলেন না।
যখন যাত্রার সব আয়োজন স্থির হয়ে গেছে, তখন বিভা একবার উদয়াদিত্যের কাছে গেল। উদয়াদিত্য একা বসে কিছু একটা ভাবছিলেন।
বিভাকে দেখে তিনি হঠাৎ সামান্য চমকে উঠে বললেন, “বিভা, তবে তুই যাচ্ছিস? তা ভালোই হলো! তুই সুখে থাকতে পারবি। আশীর্বাদ করি—লক্ষ্মীর মতো হয়ে স্বামীর ঘর আলো করে থাকিস!”
বিভা উদয়াদিত্যের পায়ের কাছে পড়ে কাঁদতে লাগল। উদয়াদিত্যের চোখ দিয়েও জল পড়তে লাগল। বিভার মাথায় হাত রেখে তিনি বললেন, “কেন কাঁদছিস? এখানে তোর কী সুখ ছিল বিভা; চারদিকে কেবল দুঃখ, কষ্ট, শোক। এই কারাগার থেকে পালালি—তুই বাঁচলি!”
বিভা যখন উঠে দাঁড়াল, তখন উদয়াদিত্য বললেন, “যাচ্ছিস? তবে আয়। শ্বশুরবাড়ি গিয়ে আমাদের একেবারে ভুলে যাস না যেন। মাঝে মাঝে মনে করিস, আর খবর পাঠাস।”
বিভা রামমোহনের কাছে গিয়ে বলল, “আমি এখন যেতে পারব না!”
রামমোহন অবাক হয়ে বলল, “সে কী কথা মা?”
বিভা বলল, “না, আমি যেতে পারব না। দাদাকে আমি এখন একা ফেলে যেতে পারব না। আমার জন্যই তো ওঁর এত কষ্ট, এত দুঃখ, আর আমি আজ ওঁকে এখানে ফেলে রেখে সুখভোগ করতে যাব? যতদিন ওঁর মনে বিন্দুমাত্র কষ্ট থাকবে, ততদিন আমিও ওঁর সঙ্গে সঙ্গে থাকব। এখানে আমার মতো করে ওঁকে কে যত্ন করবে?” এই বলে বিভা কাঁদতে কাঁদতে চলে গেল।
2
জাল দরখাস্ত ও উদয়াদিত্যের কারাবাস
অন্তঃপুরে একটা গোলযোগ বেধে গেল। মহিষী এসে বিভাকে তিরস্কার করতে লাগলেন; তাঁকে অনেক ভয় দেখালেন, অনেক পরামর্শ দিলেন; বিভা কেবল বলল—'না মা, আমি পারব না!'।
মহিষী রাগে ও বিরক্তিতে কেঁদে বললেন, 'এমন মেয়েও তো কোথাও দেখিনি!' তিনি মহারাজের কাছে গিয়ে সবটা জানালেন। মহারাজ শান্তভাবে বললেন, 'তা, বেশ তো, বিভার যদি ইচ্ছে না হয় তাহলে কেন যাবে?'।
মহিষী অবাক হয়ে, হতাশায় হাল ছেড়ে দিয়ে বললেন, 'তোমাদের যা ইচ্ছে তাই করো, আমি আর কোনো কথায় থাকব না।'।
উদয়াদিত্য সব শুনে অবাক হলেন। তিনি বিভার কাছে এসে অনেক করে বোঝালেন; বিভা চুপ করে কাঁদতে লাগল, কিছুতেই বুঝল না!।
হতাশ রামমোহন এসে বিষণ্ণ মুখে বলল, 'মা, তবে চললাম। মহারাজকে গিয়ে কী বলব?'।
বিভা কিছু বলতে পারল না, অনেকক্ষণ নিরুত্তর হয়ে রইল!।
রামমোহন বলল, 'তবে বিদায় নিই মা!' বলে প্রণাম করে উঠে গেল। বিভা একেবারে আকুল হয়ে কেঁদে উঠল, কাতর স্বরে ডাকল, 'মোহন!'।
মোহন ফিরে এসে বলল, 'কী মা?'।
বিভা বলল, 'মহারাজকে বোলো, আমাকে যেন ক্ষমা করেন। তিনি নিজে ডাকছেন, তবুও আমি যেতে পারলাম না, এ কেবলই আমার দুর্ভাগ্য!'।
রামমোহন শুকনোভাবে বলল, 'যে আজ্ঞা!'।
রামমোহন আবার প্রণাম করে বিদায় নিয়ে চলে গেল। বিভা দেখল, রামমোহন তার মনোভাব কিছুই বুঝতে পারেনি, তার কাছে ব্যাপারটা খুবই গোলমেলে মনে হয়েছে। একদিকে বিভার মন যেখানে যেতে চায়, সে সেখানে যেতে পারল না; তার উপর রামমোহন, যাকে সে সত্যিই স্নেহ করে, সে আজ রাগ করে চলে গেল। বিভার মনে যে কী হচ্ছিল, তা বিভাই জানে!।
বিভা রয়ে গেল। চোখের জল মুছে, বুকের উপর পাথরচাপা ভার নিয়ে সে তার দাদার কাছেই পড়ে রইল। একটি ম্লান, শীর্ণ ছায়ার মতো সে নীরবে ঘরের সব কাজ করে। উদয়াদিত্য স্নেহ করে, আদর করে কোনো কথা বললে সে চোখ নামিয়ে একটু হাসে। সন্ধ্যাবেলায় উদয়াদিত্যের পায়ের কাছে বসে একটু কথা বলার চেষ্টা করে। যখন মহিষী তিরস্কার করে কিছু বলেন, চুপ করে দাঁড়িয়ে শোনে, এবং শেষে এক টুকরো ম্লান মেঘের মতো ভেসে চলে যায়। যখন কেউ বিভার চিবুক ধরে বলে, 'বিভা, তুই এত রোগা হয়ে যাচ্ছিস কেন?' বিভা কিছু বলে না, কেবল একটু হাসে।
এই সময়ে ভাগবত আগে উল্লেখ করা সেই জাল আবেদনপত্রটি নিয়ে প্রতাপাদিত্যকে দেখায়। প্রতাপাদিত্য রাগে জ্বলে উঠলেন—পরে অনেক ভেবেচিন্তে উদয়াদিত্যকে কারারুদ্ধ করার আদেশ দিলেন। মন্ত্রী বললেন, 'মহারাজ, যুবরাজ যে এই কাজ করেছেন, এটা কোনোভাবেই বিশ্বাসযোগ্য নয়। যে শোনে, সেই জিভ কেটে বলে, ওকথা কানেও তোলা যায় না। যুবরাজ এই কাজ করবেন, এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়।' প্রতাপাদিত্য বললেন, 'আমারও যে খুব একটা বিশ্বাস হচ্ছে, তা নয়। কিন্তু তাই বলে কারাগারে থাকতে দোষ কী? সেখানে কোনো রকম কষ্ট না দিলেই হলো। কেবল গোপনে যাতে কিছু করতে না পারে, তার জন্য পাহারা নিযুক্ত থাকবে।'
1
भाई के साथ विभा
विभा के मन में अँधेरा छा गया था। भविष्य में जैसे कोई मर्मभेदी दुःख, कोई मरूभूमि जैसी निराशा, जीवन के सारे सुखों की तिलांजलि, उसकी प्रतीक्षा कर रही हो, और हर पल उसके करीब आती जा रही हो। उस जीवन को शून्य कर देने वाली, चराचर को निगल जाने वाली, शुष्क, अंतहीन भविष्य की आशंका की एक छाया आकर जैसे विभा के मन पर पड़ गई थी। विभा का मन बेचैन हो रहा था! विभा बिस्तर पर अकेली पड़ी थी। इस समय विभा के पास कोई नहीं था। विभा ने आह भरकर, रोते हुए, व्याकुल होकर कहा, "क्या आपने मुझे त्याग दिया? मैंने आपका क्या अपराध किया है?" वह रो-रोकर कहने लगी, "मैंने क्या अपराध किया है?" दोनों हाथों से मुँह ढँककर, तकिये को सीने से लगाकर, रो-रोकर बार-बार कहने लगी, "मैंने क्या किया है?" "न कोई पत्र आया, न कोई आदमी। किसी के मुँह से कोई खबर नहीं सुनती। मैं क्या करूँ? मेरा दिल फटा जा रहा है, मैं छटपटाते हुए दिन भर कमरे-कमरे में घूमती रहती हूँ, कोई तुम्हारी खबर नहीं देता, किसी के मुँह से तुम्हारा नाम तक नहीं सुनती! हे माँ, यह दिन कैसे कटेगा!" ऐसे कितने ही दिन बीत गए। ऐसी कितनी ही दोपहर, कितनी ही शामें, कितनी ही रातें, संगी-साथी के बिना, विभा राजमहल के सूने कमरों में एक दुबली-पतली परछाई की तरह घूमती रहती!
ऐसे ही एक दिन सुबह-सुबह राममोहन ने आकर "माँ, आपकी जय हो" कहकर प्रणाम किया। विभा ऐसे चौंक उठी, मानो उसके सिर पर सुख का वज्रपात हुआ हो। उसकी आँखों से आँसू निकल पड़े। उसने चौंककर कहा, "मोहन, तू आ गया!"
"हाँ माँ, मैंने देखा कि माँ हमें भूल गई हैं, तो उन्हें एक बार याद दिलाने आ गया!"
विभा ने सोचा कि वह कितनी ही बातें पूछेगी, लेकिन शर्म के मारे पूछ न सकी—कहते-कहते भी कह न पाई—फिर भी सुनने के लिए उसका मन व्याकुल रहा।
राममोहन ने विभा के चेहरे की ओर देखकर कहा, "क्यों माँ, तुम्हारा चेहरा इतना मलिन क्यों है? तुम्हारी आँखों के नीचे स्याही पड़ गई है। चेहरे पर हँसी नहीं है। बाल रूखे हैं। आओ माँ, हमारे घर चलो। लगता है यहाँ तुम्हारी देखभाल करने वाला कोई नहीं है!"
विभा ने फीकी हँसी हँसी; कुछ कहा नहीं! हँसते-हँसते हँसी रह न सकी। दोनों आँखों से आँसू बहने लगे—दुबले-पतले, पीले पड़ चुके गालों को भिगोते हुए आँसू बहने लगे, और आँसू थमने का नाम ही नहीं ले रहे थे! बहुत दिनों के अनादर के बाद थोड़ा-सा दुलार पाने पर जो अभिमान उमड़ पड़ता है, विभा उसी अत्यंत कोमल, मृदु और अनंत प्रेम से भरे अभिमान में रो पड़ी। मन ही मन उसने कहा, "इतने दिनों बाद क्या मेरी याद आई?"
राममोहन और बर्दाश्त न कर सका, उसकी आँखों में आँसू आ गए। उसने कहा—"यह क्या अपशकुन है! माँ-लक्ष्मी, तुम हँसते हुए हमारे घर चलो। आज के शुभ दिन में अपने आँसू पोंछ लो!"
महिषी के मन में डर था कि कहीं दामाद उनकी बेटी को स्वीकार न करे। यह सुनकर कि राममोहन विभा को लेने आया है, उन्हें बहुत खुशी हुई। उन्होंने राममोहन को बुलवाकर दामाद के घर की कुशल-क्षेम पूछी, बड़े यत्न से राममोहन को भोजन कराया, राममोहन की बातें सुनीं, और आनंद में दिन कट गया! कल यात्रा के लिए दिन अच्छा था; तय हुआ कि कल सुबह ही विभा को भेज देंगी। प्रतापादित्य ने इस विषय में और कोई आपत्ति नहीं की।
जब यात्रा की सारी तैयारी हो गई, तब विभा एक बार उदयादित्य के पास गई! उदयादित्य अकेले बैठे कुछ सोच रहे थे।
विभा को देखकर वे सहसा थोड़ा चौंककर बोले, "विभा, तो तू जा रही है? यह तो अच्छा ही हुआ! तू सुख से रह सकेगी। आशीर्वाद देता हूँ—लक्ष्मी-स्वरूपा बनकर अपने पति का घर रोशन करना!"
विभा उदयादित्य के पैरों पर गिरकर रोने लगी। उदयादित्य की आँखों से भी आँसू बहने लगे;—विभा के सिर पर हाथ रखकर उन्होंने कहा,—"क्यों रो रही है? यहाँ तेरा क्या सुख था विभा; चारों ओर केवल दुःख, कष्ट और शोक है। इस कारागार से भाग निकली—तू बच गई!"
जब विभा उठी, तो उदयादित्य ने कहा, "जा रही है? तो जा। पति के घर जाकर हमें पूरी तरह भूल मत जाना। कभी-कभी याद करना, बीच-बीच में खबर मिलती रहे।"
विभा ने राममोहन के पास जाकर कहा, "मैं अभी नहीं जा सकती!"
राममोहन ने हैरान होकर कहा, "यह कैसी बात है माँ?"
विभा ने कहा, "नहीं, मैं नहीं जा सकती। मैं भैया को अभी अकेला छोड़कर नहीं जा सकती। मेरी वजह से ही उन्हें इतना कष्ट, इतना दुःख मिला है, और मैं आज उन्हें यहाँ छोड़कर सुख भोगने चली जाऊँ? जब तक उनके मन में जरा-सा भी कष्ट रहेगा, तब तक मैं भी उनके साथ रहूँगी। यहाँ मेरी तरह उनकी देखभाल कौन करेगा?" कहकर विभा रोती हुई चली गई।
2
जाली अर्जी और उदयादित्य का कारावास
अंतःपुर में एक हंगामा खड़ा हो गया। महिषी ने आकर विभा को डाँटना-फटकारना शुरू कर दिया; उन्होंने उसे बहुत डराया, बहुत सलाह दी; विभा ने बस इतना ही कहा— “नहीं माँ, मैं नहीं जा सकूँगी!”
महिषी ने क्रोध और झुंझलाहट में रोते हुए कहा, “ऐसी लड़की भी तो कहीं नहीं देखी!” उन्होंने महाराज के पास जाकर सब कुछ कह सुनाया। महाराज ने शांत भाव से कहा, “तो ठीक ही है, अगर विभा की इच्छा नहीं है तो क्यों जाएगी?”
महिषी आश्चर्यचकित होकर, हाथ झटककर, और हार मानकर बोलीं, —“तुम्हें जो इच्छा हो वही करो, मैं अब किसी बात में नहीं पड़ूँगी।”
उदयादित्य यह सब सुनकर चकित रह गए। उन्होंने आकर विभा को बहुत समझाया; विभा चुपचाप रोती रही, कुछ समझी नहीं!
हताश राममोहन ने आकर उदास मुख से कहा, “माँ, तो मैं चलता हूँ। महाराज से जाकर क्या कहूँगा?”
विभा कुछ कह न सकी, बहुत देर तक चुप रही!
राममोहन ने कहा, “तो विदा लेता हूँ माँ!” कहकर प्रणाम किया और उठकर चला गया। विभा एकदम व्याकुल होकर रो पड़ी, और कातर स्वर में पुकारा, “मोहन!”
मोहन लौटकर आया और पूछा, “क्या है माँ?”
विभा ने कहा, “महाराज से कहना, कि वे मुझे क्षमा कर दें। वे स्वयं बुला रहे हैं, फिर भी मैं नहीं जा सकी, यह केवल मेरा दुर्भाग्य ही है!”
राममोहन ने रूखेपन से कहा, “जो आज्ञा!”
राममोहन फिर प्रणाम करके विदा हो गया। विभा ने देखा कि राममोहन उसकी भावनाओं को बिलकुल नहीं समझ पाया, उसे सब कुछ बहुत गड़बड़ लग रहा था। एक तो विभा का मन जहाँ जाना चाहता था, वह वहाँ जा नहीं सकी;—ऊपर से राममोहन, जिसे वह सचमुच स्नेह करती है, आज नाराज़ होकर चला गया। विभा के दिल पर क्या बीती, यह विभा ही जानती है!
विभा रह गई। आँखों के आँसू पोंछकर, मन में पत्थर का बोझ लिए वह अपने भाई के पास पड़ी रही। एक उदास, दुबली-पतली छाया की तरह वह चुपचाप घर के सारे काम करती। उदयादित्य जब स्नेह और दुलार से कोई बात कहते तो वह आँखें झुकाकर थोड़ा-सा हँस देती। शाम को उदयादित्य के पैरों के पास बैठकर थोड़ी बात करने की कोशिश करती। जब महिषी डाँटकर कुछ कहतीं, तो चुपचाप खड़ी सुनती रहती, और अंत में एक उदास बादल के टुकड़े की तरह तैरकर चली जाती। जब कोई विभा की ठुड्डी पकड़कर कहता, “विभा, तू इतनी दुबली क्यों हो रही है?” तो विभा कुछ नहीं कहती, बस थोड़ा-सा हँस देती।
इसी समय भागवत ने उक्त जाली अर्ज़ी लाकर प्रतापादित्य को दिखाई, प्रतापादित्य आगबबूला हो उठे—फिर बहुत सोच-विचारकर उन्होंने उदयादित्य को कारागार में डालने का आदेश दिया। मंत्री ने कहा, “महाराज, युवराज ने यह काम किया है, इस पर किसी भी तरह से विश्वास नहीं होता। जो भी सुनता है, वही जीभ काटकर कहता है कि ऐसी बात कानों में भी नहीं डालनी चाहिए। युवराज यह काम करेंगे, यह विश्वसनीय नहीं है।” प्रतापादित्य ने कहा, “मुझे भी तो ज़्यादा विश्वास नहीं होता। लेकिन इसलिए कारागार में रहने में क्या हर्ज है? वहाँ किसी प्रकार का कष्ट न दिया जाए, बस इतना ही काफी है। केवल इसलिए पहरा नियुक्त रहेगा ताकि वह गुप्त रूप से कुछ न कर सके।”
1
Vibha by Her Brother's Side
A darkness had descended upon Vibha's soul. It was as if a heart-piercing sorrow, a desert-like despair, the renunciation of all life's happiness, was waiting for her in the future, drawing closer with every moment. A shadow of that dreaded fate—a dry, limitless future that consumes all life and existence—seemed to have fallen upon Vibha's heart. Vibha's mind was in turmoil. Vibha was lying alone on her bed. At this time, there was no one with her. With a sigh, Vibha wept, and in her anguish, she said, “Have you then abandoned me? What crime have I committed against you?” Crying, she kept asking, “What crime have I committed?” Covering her face with both hands, clutching a pillow to her chest, she wept and repeated over and over, “What have I done?” “Not a single letter, not a single person has come, I hear no news from anyone. What am I to do? My heart is breaking, I pace restlessly from room to room all day, no one tells me any news of you, I do not hear your name from anyone's lips! Oh, mother, how will the days pass!” Many days passed like this. On so many afternoons, so many evenings, so many nights, the companionless Vibha would wander through the empty rooms of the palace like a gaunt shadow.
Then one morning, Rammohan arrived and, bowing, said, “Victory to you, my lady!” Vibha was so startled, it was as if a joyous thunderbolt had struck her. Tears welled up in her eyes. She said in surprise, “Mohan, you've come!”
“Yes, mother. I saw that our mother has forgotten us, so I came to remind her!”
Vibha thought of many things she wanted to ask, but she could not out of shyness—she was on the verge of speaking, but the words would not come—yet her soul remained desperate to hear.
Rammohan looked at Vibha’s face and said, “Why, mother, why does your face look so sorrowful? You have dark circles under your eyes. There is no smile on your face. Your hair is unkempt. Come, mother, come to our home. It seems there is no one here to care for you!”
Vibha smiled a pale smile; she said nothing. As she smiled, the smile faded. Tears began to stream from her two eyes—they flowed down her gaunt, pale cheeks, and the tears would not stop! After many days of neglect, the slightest show of affection caused her wounded love to well up, and Vibha burst into tears, overcome by that tender, gentle, and deeply affectionate grievance. In her heart, she said, “After all this time, have you finally remembered me?”
Rammohan could not bear it any longer; tears came to his eyes as well. He said, “What an ill omen this is! Our Ma-Lakshmi, come to our home with a smile on your face. Wipe your tears on this auspicious day!”
The Mahishi had secretly feared that her son-in-law would not take her daughter back. When she heard that Rammohan had come to take Vibha, she was overjoyed. She summoned Rammohan and asked after the well-being of her son-in-law's household, fed him with special care, and listened to his stories. The day passed in happiness! The next day was auspicious for a journey; it was decided that Vibha would be sent off the very next morning. Pratapaditya raised no further objections in the matter.
When all was settled for the journey, Vibha went to see Udayaditya one last time. Udayaditya was sitting alone, lost in some thought.
Seeing Vibha, he was slightly startled and said, “Vibha, so you are leaving? That is for the best! You will be able to live happily. I bless you—may you be like Lakshmi and brighten your husband's home!”
Vibha fell at Udayaditya's feet and began to weep. Tears streamed from Udayaditya's eyes; placing a hand on Vibha's head, he said, “Why are you crying? What happiness did you have here, Vibha? There is only sorrow, hardship, and grief all around. You have escaped this prison—you are saved!”
When Vibha stood up, Udayaditya said, “You are going? Then come. When you go to your husband's house, don't forget us completely. Think of us from time to time, let us have news of you now and then.”
Vibha went to Rammohan and said, “I cannot go now!”
Rammohan asked in astonishment, “What are you saying, mother?”
Vibha said, “No, I cannot go. I cannot leave my brother all alone now. It is because of me that he has so much pain and sorrow, and now I am to leave him here to go and enjoy my own happiness? As long as there is even a speck of sorrow in his heart, I too will stay by his side. Who will care for him here as I do?” Saying this, Vibha wept and walked away.
2
The Forged Petition and Udayaditya's Imprisonment
A commotion broke out in the inner quarters. The Mahishi came and scolded Vibha; she frightened her with many threats and gave her much advice, but Vibha only said, “No, mother, I cannot!”
Crying with rage and irritation, the Mahishi said, “I have never seen such a girl anywhere!” She went to the Maharaj and told him everything. The Maharaj said with a tranquil air, “Well, that’s fine. If Vibha does not wish to, why should she go?”
The Mahishi, astonished, threw up her hands and gave up completely, saying, “Do whatever you all wish, I will have no more part in this matter.”
Udayaditya was surprised to hear all this. He came and tried at length to make Vibha understand; Vibha just cried silently, not understanding his reasoning!
The despairing Rammohan came and said with a gloomy face, “Well, Ma, I shall take my leave. What shall I tell the Maharaj when I go to him?”
Vibha could not say anything, remaining silent for a long time!
Rammohan said, “Then I bid you farewell, Ma!” He bowed and started to leave. Vibha broke down completely and cried out in anguish, calling in a pained voice, “Mohan!”
Mohan turned back and asked, “What is it, Ma?”
Vibha said, “Tell the Maharaj to please forgive me. He himself is calling for me, yet I could not go—it is only due to my terrible misfortune!”
Rammohan replied curtly, “As you command!”
Rammohan bowed again and departed. Vibha saw that Rammohan had not understood her feelings at all; it had all struck him as terribly confusing. For one thing, Vibha could not go where her heart longed to go; on top of that, Rammohan, for whom she held genuine affection, had left in anger today. Only Vibha knew what her heart went through!
Vibha stayed. Wiping her tears and carrying a weight of stone in her heart, she remained by her brother’s side. Like a pale, thin shadow, she silently did all the work of the household. When Udayaditya spoke to her with affection and endearment, she would lower her eyes and give a small smile. In the evening, she would sit at Udayaditya’s feet and try to speak a little. When the Mahishi scolded her, she stood and listened silently, eventually drifting away like a patch of gloomy cloud. When someone would hold her chin and ask, “Vibha, why are you getting so thin?” Vibha would say nothing, only smile a little.
It was at this time that Bhagavat showed Pratapaditya the aforementioned forged petition. Pratapaditya flew into a rage—then, after much consideration, he gave the order to have Udayaditya imprisoned. The minister said, “Maharaj, it is impossible to believe that the Yubaraj has done such a thing. Everyone who hears it is shocked and says such a thing should not even be heard. It is not believable that the Yubaraj would do this.” Pratapaditya said, “I don’t particularly believe it either. But what is the harm in him staying in prison because of it? As long as he is not subjected to any hardship there. Guards will just be appointed to ensure he cannot do anything in secret.”
1
兄のそばに留まるビバ
ビバの心の中は闇に閉ざされていた。心を引き裂くような悲しみ、砂漠のような絶望、人生のすべての幸福を投げ打つことが、未来で彼女を待ち受けており、刻一刻と迫ってくるかのようだった。生命を空虚にし、万物を飲み込む、乾ききった果てしない未来という運命への恐れ、その影がビバの心に落ちているかのようだった。ビバの心は落ち着かなかった。ビバはベッドに一人で横たわっていた。この時、ビバのそばには誰もいなかった。ビバはため息をつき、泣き、取り乱して言った。「あなたは私をお見捨てになったのですか?私が一体どんな罪を犯したというのですか?」泣きじゃくりながら、彼女は言い続けた。「私がどんな罪を犯したというの?」両手で顔を覆い、枕を胸に抱きしめ、何度も何度も泣きながら繰り返した。「私が何をしたというの?」「手紙一通、使いの者一人来ない。誰の口からもあなたの知らせを聞くことができない。私はどうすればいいの?胸が張り裂けそうになりながら、一日中部屋から部屋へと歩き回っているのに、誰もあなたの知らせを教えてくれない、誰の口からもあなたのお名前を聞けない!ああ、どうやって日々を過ごせばいいというの!」そうして幾日も過ぎていった。幾度もの真昼、幾度もの午後、幾度もの夜、伴侶のいないビバは、王宮の空っぽの部屋から部屋へと、痩せ衰えた影のようにさまよい歩いた。
そんなある日の朝、ラムモハンがやって来て「奥方様、ごきげんよう」と言って礼をした。ビバは、まるで幸福の雷が頭上に落ちてきたかのように、ひどく驚いた。彼女の目から涙が溢れ出た。彼女ははっと息をのんで言った。「モーハン、あなたが来てくれたの!」
「はい、奥方様。奥方様が私たちのことをお忘れになったようでしたので、一度思い出させに参りました!」
ビバは聞きたいことが山ほどあったが、恥ずかしさのあまり聞くことができなかった。言いかけては、言葉にならなかった。それでも、聞きたくて心が逸っていた。
ラムモハンはビバの顔を見て言った。「どうしたのです、奥方様、そんなに悲しそうな顔をなさって。目の下には隈ができています。笑顔もなく、髪も乱れている。さあ、奥方様、私たちの家へ帰りましょう。ここでは、あなたの面倒を見てくれる方がいないのでしょう!」
ビバは力なく微笑んだが、何も言わなかった。微笑もうとしたが、その笑みはすぐに消えた。両目から涙が流れ出し、痩せて青ざめた両頬を伝って、涙は止まらなかった。長い間ないがしろにされた後で少しの優しさを受けると込み上げてくる、あの感傷に、ビバは襲われた。その、とても優しく、穏やかで、限りない愛情に満ちた感傷のあまり、彼女は泣き崩れた。心の中で彼女は思った。「こんなに時が経ってから、私のことを思い出してくれたの?」
ラムモハンはもう耐えられなくなり、目に涙を浮かべて言った。「これは不吉です!ラクシュミー女神様のようなあなたが、笑顔で私たちの家にお越しください。今日のような吉日に涙をお拭きなさい!」
王妃は、婿が娘を受け入れてくれないのではないかと、内心恐れていた。ラムモハンがビバを迎えに来たと聞いて、彼女は非常に喜んだ。彼女はラムモハンを呼び寄せ、婿の家の安否を尋ね、手厚く食事を振る舞い、ラムモハンの話に耳を傾け、喜びに満ちた一日を過ごした。明日は出発するのに吉日だった。明朝、ビバを送り出すことが決まった。プラタパディティヤは、この件についてこれ以上何も反対しなかった。
出発の準備がすべて整ったとき、ビバは一度ウダヤディティヤのもとへ行った。ウダヤディティヤは一人で座り、何か物思いに耽っていた。
ビバを見ると、彼はふと少し驚いて言った。「ビバ、お前は行くのだな。それでよかった!お前は幸せになれるだろう。お前がラクシュミー女神の化身となって、夫の家を輝かせるよう祈っている!」
ビバはウダヤディティヤの足元にひれ伏して泣き始めた。ウダヤディティヤの目からも涙がこぼれた。ビバの頭に手を置き、彼は言った。「なぜ泣くのだ?ここにお前にどんな幸せがあったというのだ、ビバ。周りは苦しみと悲しみばかりだ。この牢獄から逃げ出したのだ。お前は助かったのだ!」
ビバが立ち上がると、ウダヤディティヤは言った。「行くのか。夫の家に行っても、私たちのことをすっかり忘れてしまわないようにな。時々は思い出しておくれ。たまには便りが欲しい。」
ビバはラムモハンのところへ行き、言った。「今、私は行けません!」
ラムモハンは驚いて言った。「それはどういうことでございますか、奥方様?」
ビバは言った。「いいえ、行けません。兄様を今、一人残しては行けません。私のせいで兄様はこんなにも苦しみ、悲しんでいるのに、今日、その兄様をここに置き去りにして、私が幸せを享受しに行くなどということができましょうか。兄様の心に少しでも苦しみがある限り、私も兄様と共にいます。ここで、私のように兄様の面倒を見る人が他にいるでしょうか。」そう言うと、ビバは泣きながら去って行った。
2
偽の嘆願書とウダヤディティヤの投獄
奥御殿で騒ぎが持ち上がった。王妃はやって来てビバを叱りつけ、様々に脅したり、言い聞かせたりした。ビバはただ「いいえ、お母様、私にはできません!」と答えるばかりだった。
王妃は怒りと苛立ちで泣きながら言った。「こんな娘は見たことがありません!」彼女はマハラジャのもとへ行き、一部始終を話した。マハラジャは落ち着き払って言った。「ほう、結構なことだ。ビバが行きたくないのなら、なぜ行かねばならんのだ?」
王妃は呆れて、さじを投げるように言った。「あなた方のお好きなようになさいませ。私はもう何も申しません。」
ウダヤディティヤは全てを聞いて驚いた。彼はビバのもとへ来て、様々に言い聞かせたが、ビバは黙って泣くばかりで、聞き入れようとはしなかった。
失望したラムモハンがやって来て、沈んだ顔で言った。「奥方様、それでは失礼いたします。マハラジャには何と申し上げればよろしいでしょうか?」
ビバは何も言えず、長い間黙ったままだった。
ラムモハンは「それでは、お暇をいただきます、奥方様」と言うと、お辞儀をして立ち去った。ビバは堪えきれずに泣き崩れ、悲痛な声で叫んだ。「モーハン!」
モーハンが振り返って言った。「はい、奥方様、何でございましょう?」
ビバは言った。「マハラジャにお伝えください、どうか私をお許しくださいますようにと。王自らがお呼びくださっているのに、参上できなかったのは、ひとえに私の不運のせいでございます。」
ラムモハンは素っ気なく言った。「承知いたしました。」
ラムモハンは再びお辞儀をして去って行った。ビバには、ラムモハンが自分の気持ちを全く理解しておらず、ひどく困惑しているのが見て取れた。心が求める場所へ行けなかったばかりか、心から慕っているラムモハンまでもが、今日は怒って去ってしまったのだ。ビバの胸のうちの痛みは、ビバ自身にしか分からなかった。
ビバは残った。涙をぬぐい、心に石のような重荷を抱えながら、彼女は兄のそばに寄り添い続けた。青白く痩せた影のように、彼女は黙々と部屋の雑事をこなした。ウダヤディティヤが愛情を込めて優しく話しかけると、うつむいて少しだけ微笑んだ。夕方にはウダヤディティヤの足元に座り、少し話そうと努めた。王妃が何か叱りつけると、黙って立ったまま聞き、やがて憂鬱な一片の雲のようにふらりと去って行く。誰かがビバの顎に手をやり、「ビバ、どうしてお前はそんなに痩せてしまったのだ?」と尋ねても、ビバは何も言わず、ただ少し笑うだけだった。
この時、バーガヴァタが例の偽造された嘆願書を携えてプラタパディティヤに目通りした。プラタパディティヤは烈火のごとく怒ったが、熟考の末、ウダヤディティヤを投獄するよう命じた。大臣は言った。「マハラジャ、王太子がこのようなことをなさったとは、到底信じられません。聞く者みな舌を噛み、そのようなことは口にするのも憚られると申しております。王太子がこのようなことをなさるとは、信じがたいことでございます。」プラタパディティヤは言った。「わしも、さほど信じてはおらぬ。しかし、だからといって牢に入れておくことに何か差し支えがあるか?そこでいかなる苦痛も与えなければよいのだ。ただ、密かに何かをたくらむことのないよう、見張りを付けておくだけだ。」