1
বসন্ত রায়ের শোকসংগীত
বসন্তরায় তাহার পর দিনই যশোহরে যাত্রা করিলেন, কাহারো নিষেধ মানিলেন না। যশোহরে পৌঁছিয়াই একেবারে রাজবাটির অন্তঃপুরে গেলেন। বিভা সহসা তাহার দাদা মহাশয়কে দেখিয়া যেন কি হইয়া গেল। কিছুক্ষণ, কি যে করিবে কিছু যেন ভাবিয়া পাইল না। কেবল, চোখে বিস্ময়, অধরে আনন্দ, মুখে কথা নাই, শরীর নিস্পন্দ—খানিকটা দাঁড়াইয়া রহিল—তাহার পর তাঁহার পায়ের কাছে পড়িয়া প্রণাম করিল, পায়ের ধূলা মাথায় লইল। বিভা উঠিয়া দাঁড়াইলে পর বসন্তরায় একবার নিতান্ত একাগ্র দৃষ্টে বিভার মুখের দিকে চাহিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “বিভা?” আর কিছু বলিলেন না, কেবল জিজ্ঞাসা করিলেন, “বিভা?” যেন তাঁহার মনে একটি অতিক্ষীণ আশা জাগিয়াছিল যে, সীতারাম যাহা বলিয়াছিল, তাহা সত্য না হইতেও পারে। সমস্তটা স্পষ্ট জিজ্ঞাসা করিতে ভয় হইতেছে পাছে বিভা তাহার উত্তর দিয়া ফেলে! তাঁহার ইচ্ছা নয় যে বিভা তৎক্ষণাৎ তাঁহার এ প্রশ্নের উত্তর দেয়। তাই তিনি অতি ভয়ে ভয়ে বিভার মুখখানিকে জিজ্ঞাসা করিলেন—“বিভা?” তাই তিনি অতি একাগ্র দৃষ্টে তাহার মুখের দিকে একবার চাহিলেন। বিভা বুঝিল এবং বিভা উত্তর দিতেও পারিল না। তাহার প্রথম আনন্দ-উচ্ছ্বাস ফুরাইয়া গেছে। আগে যখন দাদা মহাশয় আসিতেন, সেই সব দিন তাহার মনে পড়িয়াছে! সে এক কি উৎসবের দিনই গিয়াছে! তিনি আসিলে কি একটা আনন্দই পড়িত! হাসিয়া তামাসা করিত, বিভা হাসিত কিন্তু তামাসা করিতে পারিত না, দাদা প্রশান্ত আনন্দ মূর্ত্তিতে দাদা মহাশয়ের গান শুনিতেন; আজ দাদা মহাশয় আসিলেন, কিন্তু আর কেহ তাঁহার কাছে আসিল না, কেবল এই আঁধার সংসারে একলা বিভা— সুখের সংসারের একমাত্র ভগ্নাবশেষের মত এক্লা—দাদা মহাশয়ের কাছে দাঁড়াইয়া আছে। দাদা মহাশয় আসিলে যে ঘরে আনন্দ-ধ্বনি উঠিত—সেই সুরমার ঘর আজ এমন কেন; সে আজ স্তব্ধ, অন্ধকার, শূন্যময়— দাদা মহাশয়কে দেখিলেই সে ঘরটা যেন এখনি কাঁদিয়া উঠিবে! বসন্তরায় একবার কি যেন কিসের আশ্বাসে সেই ঘরের সম্মুখে গিয়া দাঁড়াইলেন— দরজার কাছে দাঁড়াইয়া ঘরের মধ্যে মাথা লইয়া একবার চারিদিক দেখিলেন, তৎক্ষণাৎ মুখ ফিরাইয়া বুকফাটা কণ্ঠে জিজ্ঞাসা করিলেন— “দিদি, ঘরে কি কেহই নাই?”
বিভা কাঁদিয়া উঠিয়া কহিল, “না দাদা মহাশয়, কেহই না।”
স্তব্ধ ঘরটা যেন হা-হা করিয়া বলিয়া উঠিল—“আগে যাহারা ছিল তাহারা কেহই নাই!”,
বসন্তরায় অনেকক্ষণ পর্য্যন্ত চুপ করিয়া দাঁড়াইয়া রহিলেন, অবশেষে বিভার হাত ধরিয়া আস্তে আস্তে গাহিয়া উঠিলেন—
“আমি শুধু রৈনু বাকি!”
2
প্রতাপাদিত্যের কাছে বসন্ত রায়ের আবেদন
বসন্তরায় প্রতাপাদিত্যের কাছে গিয়া নিতান্ত মিনতি করিয়া কহিলেন —“বাবা প্রতাপ, উদয়কে আর কেন কষ্ট দাও—সে তোমাদের কি করিয়াছে? তাহাকে যদি তোমরা ভাল না বাস’ পদে পদেই যদি সে তোমাদের কাছে অপরাধ করে—তবে তাহাকে এই বুড়ার কাছে দাও না। আমি তাহাকে লইয়া যাই—আমি তাহাকে রাখিয়া দিই—তাহাকে আর তোমাদের দেখিতে হইবে না—সে আমার কাছে থাকিবে!”
প্রতাপাদিত্য অনেক ক্ষণ পর্য্যন্ত ধৈর্য্য ধরিয়া চুপ করিয়া বসন্তরায়ের কথা শুনিলেন, অবশেষে বলিলেন—“খুড়া মহাশয়, আমি যাহা করিয়াছি তাহা অনেক বিবেচনা করিয়াই করিয়াছি—এবিষয়ে আপনি অবশ্যই আমার অপেক্ষা অনেক অল্প জানেন—অথচ আপনি পরামর্শ দিতে আসিয়াছেন, আপনার এ সকল কথা আমি গ্রাহ্য করিতে পারি না।”
তখন বসন্তরায় উঠিয়া প্রতাপাদিত্যের কাছে আসিয়া প্রতাপাদিত্যের হাত ধরিয়া কহিলেন—“বাবা প্রতাপ, মনে কি নাই! তোকে যে আমি ছেলেবেলায় কোলে পিঠে করিয়া মানুষ করিলাম, সে কি আর মনে পড়ে না? স্বর্গীয় দাদা যে দিন তোকে আমার হাতে সমর্পণ করিয়া গিয়াছেন, সে দিন হইতে আমি কি এক মুহূর্ত্তের জন্য তোকে কষ্ট দিয়াছি? অসহায় অবস্থায় যখন তুই আমার হাতে ছিলি, এক দিনও কি তুই আপনাকে পিতৃহীন বলিয়া মনে করিতে পারিয়াছিলি? প্রতাপ, বল্ দেখি, আমি তোর কি অপরাধ করিয়াছিলাম যাহাতে আমার এই বৃদ্ধ বয়সে তুই আমাকে এত কষ্ট দিতে পারিলি? এমন কথা আমি বলি না যে, তোকে পালন করিয়াছিলাম বলিয়া তুই আমার কাছে ঋণী—তোদের মানুষ করিয়া আমিই আমার দাদার স্নেহ-ঋণ শোধ করিতে চেষ্টা করিয়াছিলাম। অতএব প্রতাপ, আমি প্রাপ্য বলিয়া তোর কাছে কিছুই চাহি না, কখনো চাহিও নাই, আমি কেবল তোর কাছে ভিক্ষা চাহিতেছি—তাও দিবি না?”
বসন্তরায়ের চোখে জল পড়িতে লাগিল, প্রতাপাদিত্য পাষাণ মূর্ত্তির ন্যায় বসিয়া রহিলেন।
বসন্তরায় আবার কহিলেন—“তবে আমার কথা শুনিবি না,—আমার ভিক্ষা রাখিবি না—? কথার উত্তর দিবিনে প্রতাপ?”—দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলিয়া কহিলেন, “ভাল—আমার আর একটি ক্ষুদ্র প্রার্থনা আছে, একবার আমি উদয়কে দেখিতে চাই—আমাকে তাহার সেই কারাগৃহে প্রবেশ করিতে কেহ যেন নিষেধ না করে—এই অনুমতি দাও!”
প্রতাপাদিত্য তাহাও দিলেন না। তাঁহার বিরুদ্ধে উদয়াদিত্যের প্রতি এতখানি স্নেহ প্রকাশ করাতে প্রতাপাদিত্য মনে মনে অত্যন্ত বিরক্ত হইয়া উঠিয়াছিলেন। তাঁহার যতই মনে হয় লোকে তাঁহাকেই অপরাধী করিয়া তুলিতেছে, ততই তিনি আরো বাঁকিয়া দাঁড়ান।
3
বসন্ত রায়ের বিষাদ ও বিভার সান্ত্বনা
বসন্তরায় নিতান্ত ম্লান মুখে অন্তঃপুরে ফিরিয়া গেলেন—তাঁহার মুখ দেখিয়া বিভার অত্যন্ত কষ্ট হইল। বিভা দাদা মহাশয়ের হাত ধরিয়া কহিল—“দাদা মহাশয় আমার ঘরে এস।” বসন্তরায় নীরবে বিভার সঙ্গে সঙ্গে বিভার ঘরে প্রবেশ করিলেন। তিনি ঘরে বসিলে পর বিভা তাহার কোমল অঙ্গুলি দিয়া তাঁহার পাকা চুলগুলি নাড়িয়া দিয়া কহিল—“দাদা মহাশয়, এস, তোমার পাকাচুল তুলিয়া দিই।” বসন্তরায় কহিলেন, “দিদি, সে পাকাচুল কি আর আছে? যখন বয়স হয় নাই তখন সে সব ছিল, তখন তোদের পাকাচুল তুলিতে বলিতাম—আজ আমি বুড়া হইয়া গিয়াছি—আজ আর আমার পাকাচুল নাই।”
বসন্তরায় দেখিলেন বিভার মুখখানি মলিন হইয়া আসিল, তাহার চোখ ছল্ছল্ করিয়া আসিল। অমনি তাড়াতাড়ি কহিলেন—“আয় বিভা, আয়। গোটাকতক চুল তুলিয়া দে। তোদের পাকাচুল সবরাহ করিয়া উঠিতে আর ত আমি পারি না ভাই। বয়স হইতে চলিল, ক্রমেই মাথায় টাক পড়িতে চলিল—এখন আর একটা মাথার অনুসন্ধান কর—আমি জবাব দিলাম।” বলিয়া বসন্তরায় হাসিতে লাগিলেন।
একজন দাসী আসিয়া বসন্তরায়কে কহিল—“রাণী মা আপনাকে একবার প্রণাম করিতে চান।”
বসন্তরায় মহিষীর ঘরে গেলেন, বিভা কারাগারে গেল।
4
রামচন্দ্র রায়ের পত্র এবং বসন্ত রায়ের উপায়
মহিষী বসন্তরায়কে প্রণাম করিলেন। বসন্তরায় আশীর্ব্বাদ করিলেন —“মা, আয়ুষ্মতী হও।”
মহিষী কহিলেন, “কাকা মশায় ও আশীর্ব্বাদ আর করিবেন না। এখন আমার মরণ হইলেই আমি বাঁচি।”
বসন্তরায় ব্যস্ত হইয়া কহিলেন, “রাম, রাম! ও কথা মুখে আনিতে নাই।”
মহিষী কহিলেন, “আর কি বলিব কাকা মহাশয়, আমার ঘরকন্নায় যেন শনির দৃষ্টি পড়িয়াছে।”
বসন্তরায় অধিকতর ব্যস্ত হইয়া পড়িলেন।
মহিষী কহিলেন, “বিভার মুখখানি দেখিয়া আমার মুখে আর অন্ন জল রুচে না। তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলে সে কিছু বলে না, কেবল দিনে দিনে তাহার শরীর ক্ষয় হইয়া যাইতেছে। তাহাকে লইয়া যে আমি কি করিব কিছু ভাবিয়া পাই না!”
বসন্তরায় অত্যন্ত ব্যাকুল হইয়া পড়িলেন। “এই দেখুন কাকা মহাশয়, এক সর্ব্বনেশে চিঠি আসিয়াছে।” বলিয়া এক চিঠি বসন্তরায়ের হতে দিলেন।
বসন্তরায় সে চিঠি পড়িতে না পড়িতে মহিষী কাঁদিয়া বলিতে লাগিলেন—“আমার কিসের সুখ আছে? উদয়—বাছা আমার কিছু জানে না তাহাকে ত মহারাজ—সে যেন রাজার মতই হয় নাই, কিন্তু তাহাকে ত আমি গর্ভে ধারণ করিয়াছিলাম, সে ত আমার আপনার সন্তান বটে। জানি না, বাছা সেখানে কি করিয়া থাকে, একবার আমাকে দেখিতেও দেয় না!” মহিষী আজ কাল যে যে কথাই পাড়েন, উদয়াদিত্যের কথা তাহার মধ্যে একস্থলে আসিয়া পড়ে। ঐ কষ্টটাই তাঁহার প্রাণের মধ্যে যেন দিনরাত জাগিয়া আছে।
চিঠি পড়িয়া বসন্তরায় একেবারে অবাক্ হইয়া গেলেন—চুপ করিয়া বসিয়া মাথায় হাত বুলাইতে লাগিলেন। কিয়ৎক্ষণ পরে বসন্তরায় মহিষীকে জিজ্ঞাসা করিলেন, “চিঠি ত কাহাকেও দেখাও নি মা?”
মহিষী কহিলেন, “মহারাজ এ চিঠির কথা শুনিলে কি আর রক্ষা রাখিবেন, বিভাও কি তাহা হইলে আর বাঁচিবে!”
বসন্তরায় কহিলেন, “ভাল করিয়াছ। এ চিঠি আর কাহাকেও দেখাইও না বউ মা। তুমি বিভাকে শীঘ্র তাহার শ্বশুর বাড়ি পাঠাইয়া দাও। মান অপমানের কথা ভাবিও না!”
মহিষী কহিলেন—“আমিও তাহাই মনে করিয়াছি। মান লইয়া আমার কাজ নাই, আমার বিভা সুখী হইলেই হইল। কেবল ভয় হয় পাছে বিভাকে তাহারা অযত্ন করে।”
বসন্তরায় কহিলেন,—“বিভাকে অযত্ন করিবে! বিভা কি অযত্নের ধন! বিভা যেখানে যাইবে সেই খানেই আদর পাইবে। অমন লক্ষ্মী অমন সোনার প্রতিমা আর কোথায় আছে! রামচন্দ্র কেবল তোমাদের উপর রাগ করিয়াই এই চিঠি লিখিয়াছে, আবার পাঠাইয়া দিলেই তাহার রাগ পড়িয়া যাইবে!” বসন্তরায় তাঁহার সরল হৃদয়ে সরল বুদ্ধিতে এই বুঝিলেন। মহিষীও তাহাই বুঝিলেন!
বসন্তরায় কহিলেন “বাড়িতে রাষ্ট্র করিয়া দাও যে বিভাকে চন্দ্রদ্বীপে পাঠাইতে অনুরোধ করিয়া রামচন্দ্র এক চিঠি লিখিয়াছে। তাহা হইলে বিভা নিশ্চয়ই সেখানে যাইতে আর অমত করিবে না।”
1
বসন্ত রায়ের শোকসংগীত
বসন্ত রায় তার পরের দিনই যশোরের জন্য যাত্রা করলেন, কারও নিষেধ মানলেন না। যশোরে পৌঁছেই তিনি সোজা রাজবাড়ির অন্দরমহলে গেলেন। বিভা হঠাৎ করে তার দাদামশাইকে দেখে কেমন যেন হয়ে গেল। কিছুক্ষণ সে কী করবে, তা যেন ভেবে পেল না। চোখে বিস্ময়, ঠোঁটে আনন্দ, কিন্তু মুখে কথা নেই, শরীর নিস্পন্দ—কিছুক্ষণ সে দাঁড়িয়ে রইল—তারপর সে তাঁর পায়ের কাছে পড়ে প্রণাম করল, পায়ের ধুলো মাথায় নিল। বিভা উঠে দাঁড়ানোর পর বসন্ত রায় অত্যন্ত একাগ্র দৃষ্টিতে বিভার মুখের দিকে চেয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, “বিভা?” আর কিছু বললেন না, শুধু জিজ্ঞাসা করলেন, “বিভা?” যেন তাঁর মনে একটা অতি ক্ষীণ আশা জেগেছিল যে, সীতারাম যা বলেছিল, তা হয়তো সত্যি নয়। সবটা স্পষ্ট করে জিজ্ঞাসা করতে ভয় পাচ্ছেন, পাছে বিভা তার উত্তর দিয়ে ফেলে! তিনি চাইছিলেন না যে বিভা তৎক্ষণাৎ তাঁর এই প্রশ্নের উত্তর দিক। তাই তিনি খুব ভয়ে ভয়ে বিভার মুখের দিকে চেয়েই যেন জিজ্ঞাসা করলেন— “বিভা?” তাই তিনি অত্যন্ত একাগ্র দৃষ্টিতে তার মুখের দিকে একবার চাইলেন। বিভা বুঝতে পারল, কিন্তু উত্তর দিতে পারল না। তার প্রথম আনন্দের উচ্ছ্বাস মিলিয়ে গেছে। আগে যখন দাদামশাই আসতেন, সেইসব দিনের কথা তার মনে পড়ে গেল! কী এক উৎসবের দিনই না ছিল সেগুলো! তিনি এলে কী আনন্দই না হতো! তিনি এসে হাসি-ঠাট্টা করতেন, বিভা হাসত কিন্তু ঠাট্টা করতে পারত না, আর দাদা (উদয়াদিত্য) শান্ত, আনন্দময় মুখে দাদামশাইয়ের গান শুনতেন; আজ দাদামশাই এলেন, কিন্তু আর কেউ তাঁর কাছে এল না, শুধু এই অন্ধকার সংসারে একা বিভা—সুখের সংসারের একমাত্র ভগ্নাবশেষের মতো একা—দাদামশাইয়ের কাছে দাঁড়িয়ে আছে। দাদামশাই এলে যে ঘরে আনন্দের সুর উঠত—সুরমার সেই ঘরটা আজ এমন কেন? ঘরটা আজ স্তব্ধ, অন্ধকার, শূন্য—দাদামশাইকে দেখলেই যেন এখনই কেঁদে উঠবে! বসন্ত রায় কীসের এক আশায় যেন একবার সেই ঘরের সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন—দরজার কাছে দাঁড়িয়ে ঘরের ভেতরে উঁকি দিয়ে চারদিক দেখলেন, আর সঙ্গে সঙ্গে মুখ ফিরিয়ে বুকফাটা গলায় জিজ্ঞাসা করলেন— “দিদি, ঘরে কি কেউ নেই?”
বিভা কেঁদে উঠে বলল, “না দাদামশাই, কেউ না।”
স্তব্ধ ঘরটা যেন হাহাকার করে বলে উঠল— “আগে যারা ছিল, তারা কেউ নেই!”
বসন্ত রায় অনেকক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলেন, অবশেষে বিভার হাত ধরে আস্তে আস্তে গেয়ে উঠলেন—
“আমি শুধু রইলাম বাকি!”
2
প্রতাপাদিত্যের কাছে বসন্ত রায়ের আবেদন
বসন্ত রায় প্রতাপাদিত্যের কাছে গিয়ে অত্যন্ত অনুনয় করে বললেন —“বাবা প্রতাপ, উদয়কে আর কেন কষ্ট দিচ্ছিস—সে তোমাদের কী করেছে? তাকে যদি তোমরা ভালো না বাসো, পদে পদেই যদি সে তোমাদের কাছে অপরাধ করে—তবে তাকে এই বুড়োর কাছে দিয়ে দাও না। আমি তাকে নিয়ে যাই—আমি তাকে রাখব—তাকে আর তোমাদের দেখতে হবে না—সে আমার কাছে থাকবে!”
প্রতাপাদিত্য অনেকক্ষণ ধরে ধৈর্য ধরে চুপ করে বসন্ত রায়ের কথা শুনলেন, অবশেষে বললেন—“খুড়োমশাই, আমি যা করেছি তা অনেক ভেবেচিন্তেই করেছি। এই বিষয়ে আপনি অবশ্যই আমার চেয়ে অনেক কম জানেন—অথচ আপনি পরামর্শ দিতে এসেছেন। আপনার এই সব কথা আমি গ্রাহ্য করতে পারি না।”
তখন বসন্ত রায় উঠে প্রতাপাদিত্যের কাছে এসে তাঁর হাত ধরে বললেন—“বাবা প্রতাপ, মনে নেই? তোকে যে আমি ছোটবেলায় কোলে-পিঠে করে মানুষ করলাম, সেটা কি আর মনে পড়ে না? স্বর্গীয় দাদা যেদিন তোকে আমার হাতে সঁপে দিয়ে গিয়েছিলেন, সেদিন থেকে আমি কি এক মুহূর্তের জন্য তোকে কষ্ট দিয়েছি? অসহায় অবস্থায় যখন তুই আমার হাতে ছিলি, একদিনও কি তুই নিজেকে পিতৃহীন বলে মনে করতে পেরেছিলি? প্রতাপ, বল দেখি, আমি তোর কী অপরাধ করেছিলাম যার জন্য আমার এই বৃদ্ধ বয়সে তুই আমাকে এত কষ্ট দিতে পারছিস? আমি এমন কথা বলছি না যে, তোকে পালন করেছিলাম বলে তুই আমার কাছে ঋণী—তোদের মানুষ করে আমি আমার দাদার স্নেহের ঋণ শোধ করার চেষ্টা করেছিলাম। অতএব প্রতাপ, আমি প্রাপ্য বলে তোর কাছে কিছুই চাই না, কখনও চাইওনি। আমি কেবল তোর কাছে ভিক্ষে চাইছি—তাও দিবি না?”
বসন্ত রায়ের চোখ দিয়ে জল পড়তে লাগল, প্রতাপাদিত্য পাথরের মূর্তির মতো বসে রইলেন।
বসন্ত রায় আবার বললেন—“তবে আমার কথা শুনবি না—আমার ভিক্ষা রাখবি না? কথার উত্তর দিবি না প্রতাপ?”—দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, “বেশ—আমার আর একটি ছোট্ট প্রার্থনা আছে। একবার আমি উদয়কে দেখতে চাই—আমাকে যেন তার সেই কারাগারে ঢুকতে কেউ নিষেধ না করে—এই অনুমতিটুকু দাও!”
প্রতাপাদিত্য সেটাও দিলেন না। উদয়াদিত্যের প্রতি এতখানি স্নেহ প্রকাশ করায় প্রতাপাদিত্য মনে মনে অত্যন্ত বিরক্ত হয়ে উঠেছিলেন। তাঁর যতই মনে হতে লাগল যে লোকে তাঁকেই অপরাধী বানাচ্ছে, ততই তিনি আরও বেঁকে দাঁড়াতে লাগলেন।
3
বসন্ত রায়ের বিষাদ ও বিভার সান্ত্বনা
বসন্ত রায় অত্যন্ত ম্লান মুখে অন্দরমহলে ফিরে গেলেন—তাঁর মুখ দেখে বিভার খুব কষ্ট হলো। বিভা দাদামশাইয়ের হাত ধরে বলল, “দাদামশাই, আমার ঘরে এসো।” বসন্ত রায় চুপচাপ বিভার সঙ্গে তার ঘরে ঢুকলেন। তিনি ঘরে বসার পর বিভা তার নরম আঙুল দিয়ে ওঁর পাকা চুলগুলিতে আলতো করে হাত বুলিয়ে বলল, “দাদামশাই, এসো, তোমার পাকা চুল তুলে দিই।” বসন্ত রায় বললেন, “দিদি, সেই পাকা চুল কি আর আছে? যখন বয়স হয়নি, তখন ওগুলো ছিল, তখন তোদের পাকা চুল তুলতে বলতাম—আজ আমি বুড়ো হয়ে গেছি—আজ আর আমার পাকা চুল নেই।”
বসন্ত রায় দেখলেন বিভার মুখ ম্লান হয়ে গেল, তার চোখ ছলছল করে উঠল। সঙ্গে সঙ্গে তাড়াতাড়ি বলে উঠলেন, “আয় বিভা, আয়। গোটা কতক চুল তুলে দে। তোদের জন্য পাকা চুলের জোগান দিতে তো আমি আর পেরে উঠছি না ভাই। বয়স হয়ে যাচ্ছে, মাথায় ক্রমশ টাক পড়ে যাচ্ছে—এখন অন্য কোনো মাথা খোঁজো—আমি জবাব দিলাম।” এই বলে বসন্ত রায় হাসতে লাগলেন।
একজন দাসী এসে বসন্ত রায়কে বলল, “রানীমা আপনার সঙ্গে একবার দেখা করতে চান।”
বসন্ত রায় মহিষীর ঘরে গেলেন, আর বিভা গেল কারাগারে।
4
রামচন্দ্র রায়ের পত্র এবং বসন্ত রায়ের উপায়
মহিষী বসন্ত রায়কে প্রণাম করলেন। বসন্ত রায় আশীর্বাদ করে বললেন, “মা, আয়ুষ্মতী হও।”
মহিষী বললেন, “কাকা মশাই, ও আশীর্বাদ আর করবেন না। এখন আমার মরণ হলেই আমি বাঁচি।”
বসন্ত রায় ব্যস্ত হয়ে বললেন, “রাম, রাম! ও কথা মুখে আনতে নেই।”
মহিষী বললেন, “আর কী বলব কাকা মশাই, আমার ঘরে-সংসারে যেন শনির দৃষ্টি পড়েছে।”
বসন্ত রায় আরও বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়লেন।
মহিষী বললেন, “বিভার মুখ দেখে আমার মুখে আর অন্নজল রোচে না। ওকে কিছু জিজ্ঞাসা করলে ও কিছু বলে না, শুধু দিন দিন ওর শরীর ভেঙে পড়ছে। ওকে নিয়ে যে আমি কী করব, কিছুই ভেবে পাই না!”
বসন্ত রায় অত্যন্ত ব্যাকুল হয়ে পড়লেন। “এই দেখুন কাকা মশাই, একটা সর্বনেশে চিঠি এসেছে,” বলে তিনি বসন্ত রায়ের হাতে একটা চিঠি দিলেন।
বসন্ত রায় সেই চিঠি পড়তে না পড়তেই মহিষী কেঁদে বলতে লাগলেন, “আমার আর কিসের সুখ? উদয়—আমার বাছা তো কিছুই জানে না, তাকে মহারাজ... সে হয়তো রাজার মতো হয়নি, কিন্তু তাকে তো আমিই গর্ভে ধরেছি, সে তো আমার নিজেরই সন্তান। জানি না, বাছা সেখানে কী করে আছে, একবার আমাকে দেখতেও দেয় না!” মহিষী আজকাল যে কথাই তোলেন না কেন, তার মধ্যে উদয়াদিত্যের কথা একবার এসেই পড়ে। এই কষ্টটাই যেন তাঁর বুকের মধ্যে দিনরাত জেগে আছে।
চিঠিটা পড়ে বসন্ত রায় একেবারে অবাক হয়ে গেলেন—চুপ করে বসে মাথায় হাত বোলাতে লাগলেন। কিছুক্ষণ পর বসন্ত রায় মহিষীকে জিজ্ঞাসা করলেন, “চিঠিটা তো কাউকে দেখাওনি মা?”
মহিষী বললেন, “মহারাজ এই চিঠির কথা শুনলে কি আর রক্ষে রাখবেন? বিভাও কি তাহলে আর বাঁচবে!”
বসন্ত রায় বললেন, “ভালো করেছ। এ চিঠি আর কাউকে দেখিও না বউমা। তুমি বিভাকে শিগগিরই ওর শ্বশুরবাড়ি পাঠিয়ে দাও। মান-অপমানের কথা ভেবো না!”
মহিষী বললেন, “আমিও তাই ভেবেছি। মান-সম্মান নিয়ে আমার কী হবে, আমার বিভা সুখী হলেই হলো। শুধু ভয় হয়, পাছে ওরা বিভার অযত্ন করে।”
বসন্ত রায় বললেন, “বিভার অযত্ন করবে! বিভা কি অযত্নের জিনিস! বিভা যেখানে যাবে, সেখানেই আদর পাবে। অমন লক্ষ্মী, অমন সোনার প্রতিমা আর কোথায় আছে! রামচন্দ্র শুধু তোমাদের উপর রাগ করেই এই চিঠি লিখেছে, আবার পাঠিয়ে দিলেই ওর রাগ কমে যাবে!” বসন্ত রায় তাঁর সরল মনে, সরল বুদ্ধিতে এটাই বুঝলেন। মহিষীও তাই বুঝলেন!
বসন্ত রায় বললেন, “বাড়িতে রটিয়ে দাও যে, বিভাকে চন্দ্রদ্বীপে নিয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করে রামচন্দ্র চিঠি পাঠিয়েছে। তাহলে বিভা নিশ্চয়ই সেখানে যেতে আর অমত করবে না।”
1
बसंत राय का शोक-गीत
बसंत राय अगले दिन ही यशोर के लिए चल पड़े, उन्होंने किसी का भी निषेध नहीं माना। यशोर पहुँचते ही वह सीधे राजभवन के अंतःपुर में गए। विभा अचानक अपने दादा महाशय को देखकर जैसे सुध-बुध खो बैठी। कुछ क्षणों तक, वह जैसे सोच ही नहीं पाई कि क्या करे। केवल आँखों में आश्चर्य, होठों पर आनंद, मुँह में कोई बात नहीं, शरीर निःस्पंद—कुछ देर तक खड़ी रही—उसके बाद उनके चरणों में गिरकर प्रणाम किया, और पैरों की धूल माथे से लगाई। विभा के उठकर खड़े होने के बाद बसंत राय ने एक बार अत्यंत एकाग्र दृष्टि से विभा के मुख की ओर देखकर पूछा, “विभा?” और कुछ नहीं कहा, केवल पूछा, “विभा?” मानो उनके मन में एक बहुत क्षीण आशा जागी हो कि सीताराम ने जो कहा था, वह शायद सच न हो। पूरी बात स्पष्ट रूप से पूछने में डर लग रहा था कि कहीं विभा उत्तर न दे दे! उनकी इच्छा नहीं थी कि विभा तुरंत उनके इस प्रश्न का उत्तर दे। इसलिए उन्होंने बड़े डरते-डरते विभा के चेहरे से पूछा—“विभा?” इसलिए उन्होंने अत्यंत एकाग्र दृष्टि से एक बार उसके मुख की ओर देखा। विभा समझ गई और वह भी उत्तर नहीं दे सकी। उसका पहला आनंदोच्छ्वास समाप्त हो गया था। पहले जब दादा महाशय आते थे, वे सब दिन उसे याद आ गए! वे भी क्या उत्सव के दिन थे! उनके आने पर कैसा आनंद छा जाता था! वह हँसकर मज़ाक करते, विभा हँसती थी लेकिन मज़ाक कर नहीं पाती थी, दादा (उदयादित्य) प्रशांत आनंद मूर्ति बनकर दादा महाशय के गीत सुनते थे; आज दादा महाशय आए, लेकिन और कोई उनके पास नहीं आया, केवल इस अंधकारमय संसार में अकेली विभा—सुखी संसार के एकमात्र भग्नावशेष की तरह अकेली—दादा महाशय के पास खड़ी है। दादा महाशय के आने पर जिस कमरे से आनंद-ध्वनि उठती थी—सुरमा का वह कमरा आज ऐसा क्यों है; वह आज स्तब्ध, अंधकारपूर्ण, शून्यमय है— दादा महाशय को देखते ही वह कमरा मानो अभी रो पड़ेगा! बसंत राय एक बार न जाने किस आशा में उस कमरे के सामने जाकर खड़े हो गए— दरवाजे के पास खड़े होकर, कमरे के अंदर सिर डालकर एक बार चारों ओर देखा, तत्काल मुँह फेरकर दिल को चीर देने वाले कंठ से पूछा— “दीदी, क्या कमरे में कोई नहीं है?”
विभा रोते हुए बोली, “नहीं दादा महाशय, कोई नहीं।”
वह स्तब्ध कमरा मानो हा-हाकार करके कह उठा—“जो पहले यहाँ थे, उनमें से कोई नहीं है!”
बसंत राय बहुत देर तक चुपचाप खड़े रहे, अंत में विभा का हाथ पकड़कर धीरे-धीरे गाने लगे—
“मैं ही बस बाकी रह गया!”
2
प्रतापादित्य से बसंत राय की विनती
बसंत राय ने प्रतापादित्य के पास जाकर अत्यंत विनती करते हुए कहा—"बेटा प्रताप, उदय को और क्यों कष्ट दे रहे हो—उसने तुम्हारा क्या बिगाड़ा है? अगर तुम लोग उसे प्यार नहीं करते, अगर वह तुम्हारी नज़र में हर कदम पर अपराधी है—तो उसे इस बूढ़े को क्यों नहीं दे देते। मैं उसे ले जाता हूँ—मैं उसे अपने पास रख लूँगा—उसे तुम लोगों को फिर देखना नहीं पड़ेगा—वह मेरे पास रहेगा!”
प्रतापादित्य ने बहुत देर तक धैर्य रखकर चुपचाप बसंत राय की बातें सुनीं, अंत में बोले—"चाचा महाशय, मैंने जो कुछ किया है, बहुत सोच-विचार कर किया है—इस विषय में आप निश्चित रूप से मुझसे बहुत कम जानते हैं—फिर भी आप सलाह देने आए हैं, मैं आपकी इन बातों को मान नहीं सकता।"
तब बसंत राय उठकर प्रतापादित्य के पास आए और उनका हाथ पकड़कर कहने लगे—"बेटा प्रताप, क्या तुम्हें याद नहीं! मैंने तुम्हें बचपन में गोद में खिलाकर पाला-पोसा, क्या वह तुम्हें याद नहीं? स्वर्गीय दादा ने जिस दिन तुम्हें मेरे हाथों में सौंपा था, उस दिन से क्या मैंने एक पल के लिए भी तुम्हें कोई कष्ट दिया है? जब तुम असहाय अवस्था में मेरे पास थे, क्या एक दिन भी तुम्हें यह महसूस हुआ कि तुम पितृहीन हो? प्रताप, बताओ तो, मैंने तुम्हारा ऐसा क्या अपराध किया था कि तुम इस बुढ़ापे में मुझे इतना कष्ट दे पा रहे हो? मैं यह नहीं कहता कि मैंने तुम्हारा पालन-पोषण किया इसलिए तुम मेरे ऋणी हो—तुम लोगों को पाल-पोसकर तो मैं अपने दादा के स्नेह-ऋण को चुकाने की कोशिश कर रहा था। इसलिए प्रताप, मैं अपना प्राप्य समझकर तुमसे कुछ नहीं माँग रहा, न कभी माँगा है, मैं तो तुमसे केवल भिक्षा माँग रहा हूँ—क्या वह भी नहीं दोगे?"
बसंत राय की आँखों से आँसू बहने लगे, प्रतापादित्य पत्थर की मूर्ति की तरह बैठे रहे।
बसंत राय ने फिर कहा—"तो तुम मेरी बात नहीं सुनोगे,—मेरी भिक्षा नहीं रखोगे—? जवाब नहीं दोगे प्रताप?"—एक लंबी साँस लेकर उन्होंने कहा, "अच्छा—मेरी एक और छोटी सी प्रार्थना है, मैं एक बार उदय को देखना चाहता हूँ—मुझे उसके उस कारागृह में प्रवेश करने से कोई न रोके—बस यह अनुमति दे दो!"
प्रतापादित्य ने वह भी नहीं दी। उनके विरुद्ध उदयादित्य के प्रति इतना स्नेह प्रदर्शन करने से प्रतापादित्य मन-ही-मन अत्यंत বিরক্ত हो उठे थे। उन्हें जितना ही लगता कि लोग उन्हें ही अपराधी बना रहे हैं, उतने ही वे और अड़ियल हो जाते थे।
3
बसंत राय का विषाद और विभा की सांत्वना
बसंत राय अत्यंत म्लान मुख से अंतःपुर लौट आए—उनका चेहरा देखकर विभा को बहुत कष्ट हुआ। विभा ने दादा महाशय का हाथ पकड़कर कहा—"दादा महाशय, मेरे कमरे में चलिए।" बसंत राय चुपचाप विभा के साथ-साथ उसके कमरे में गए। उनके बैठने के बाद, विभा ने अपनी कोमल उँगलियों से उनके सफ़ेद बालों को सहलाते हुए कहा—"दादा महाशय, आइए, मैं आपके सफ़ेद बाल निकाल दूँ।" बसंत राय ने कहा, "दीदी, वे सफ़ेद बाल अब कहाँ रहे? जब मैं बूढ़ा नहीं हुआ था, तब वे थे, तब तुम लोगों से सफ़ेद बाल निकालने को कहता था—आज मैं बूढ़ा हो गया हूँ—आज मेरे सफ़ेद बाल ही नहीं रहे।"
बसंत राय ने देखा कि विभा का चेहरा मुरझा गया और उसकी आँखें भर आईं। उन्होंने तुरंत कहा—"आओ विभा, आओ। कुछ बाल निकाल दो। मैं तुम लोगों के लिए अब और सफ़ेद बालों की आपूर्ति नहीं कर सकता, भाई। उम्र बढ़ती जा रही है, धीरे-धीरे सिर पर टाँक पड़ने लगी है—अब कोई और सिर खोज लो—मैंने तो जवाब दे दिया।" यह कहकर बसंत राय हँसने लगे।
एक दासी ने आकर बसंत राय से कहा—"रानी माँ आपको एक बार प्रणाम करना चाहती हैं।"
बसंत राय महिषी के कमरे में गए, विभा कारागार में गई।
4
रामचंद्र राय का पत्र और बसंत राय का उपाय
महिषी ने बसंत राय को प्रणाम किया। बसंत राय ने आशीर्वाद दिया—"माँ, आयुष्मती हो।"
महिषी ने कहा, "काका महाशय, अब यह आशीर्वाद मत दीजिए। अब तो मेरा मरण हो जाए, तभी मैं बचूँगी।"
बसंत राय ने व्यग्र होकर कहा, "राम, राम! ऐसी बात मुँह पर नहीं लाते।"
महिषी ने कहा, "और क्या कहूँ काका महाशय, मेरी घर-गृहस्थी पर जैसे शनि की दृष्टि पड़ गई है।"
बसंत राय और भी व्यग्र हो गए।
महिषी ने कहा, "विभा का मुँह देखकर मेरे मुँह में अन्न-जल नहीं जाता। उससे पूछने पर वह कुछ नहीं कहती, बस दिन-प्रतिदिन उसका शरीर क्षीण होता जा रहा है। उसे लेकर मैं क्या करूँ, कुछ सोच नहीं पाती!"
बसंत राय अत्यंत व्याकुल हो गए। "यह देखिए काका महाशय, एक सर्वनाशी पत्र आया है।" कहकर उन्होंने एक पत्र बसंत राय के हाथ में दे दिया।
बसंत राय के पत्र पढ़ते-पढ़ते ही महिषी रोते हुए कहने लगीं—"मेरा सुख है ही क्या? उदय—मेरा बच्चा कुछ नहीं जानता, उसे तो महाराज ने... वह भले ही राजा जैसा न हुआ हो, पर उसे तो मैंने गर्भ में धारण किया था, वह तो मेरा अपना ही संतान है। न जाने, मेरा बच्चा वहाँ कैसे रहता है, एक बार मुझे देखने भी नहीं देते!" महिषी आजकल जो भी बात छेड़ती हैं, उसमें कहीं-न-कहीं उदयादित्य की बात आ ही जाती है। यही कष्ट उनके प्राणों में दिन-रात जागता रहता है।
पत्र पढ़कर बसंत राय एकदम हैरान रह गए—चुपचाप बैठकर अपने सिर पर हाथ फेरने लगे। कुछ देर बाद बसंत राय ने महिषी से पूछा, "यह पत्र किसी को दिखाया तो नहीं है न, माँ?"
महिषी ने कहा, "महाराज इस पत्र के बारे में सुनेंगे तो क्या किसी को छोड़ेंगे, और क्या तब विभा भी बच पाएगी!"
बसंत राय ने कहा, "अच्छा किया। यह पत्र और किसी को मत दिखाना, बहू माँ। तुम विभा को जल्दी से उसके ससुराल भेज दो। मान-अपमान की बात मत सोचो!"
महिषी ने कहा—"मैंने भी यही सोचा है। मुझे मान से कोई काम नहीं, मेरी विभा सुखी रहे, बस। केवल यह डर लगता है कि कहीं वे लोग विभा की उपेक्षा न करें।"
बसंत राय ने कहा,—"विभा की उपेक्षा करेंगे! विभा क्या उपेक्षा करने लायक है! विभा जहाँ भी जाएगी, वहीं प्यार पाएगी। ऐसी लक्ष्मी, ऐसी सोने की प्रतिमा और कहाँ है! रामचंद्र ने तो बस तुम लोगों पर गुस्सा होकर यह पत्र लिखा है, उसे वापस भेज देने से ही उसका गुस्सा शांत हो जाएगा!" बसंत राय ने अपने सरल हृदय से, अपनी सरल बुद्धि से यही समझा। महिषी ने भी यही समझा!
बसंत राय ने कहा, "घर में यह बात फैला दो कि रामचंद्र ने विभा को चंद्रद्वीप भेजने का अनुरोध करते हुए एक पत्र लिखा है। तब विभा वहाँ जाने से निश्चय ही मना नहीं करेगी।"
1
Basanta Ray's Song of Sorrow
The very next day, Basanta Ray set off for Jessore, listening to no one's objections. Upon reaching Jessore, he went straight to the inner quarters of the royal palace. Vibha, upon suddenly seeing her grand-uncle, was completely overwhelmed. For a moment, she seemed unable to think of what to do. There was only wonder in her eyes, joy on her lips, no words from her mouth, her body motionless—she stood like that for a while—then she fell at his feet to offer her respects, taking the dust from his feet to her head. After Vibha stood up, Basanta Ray looked at her face with an intensely focused gaze and asked, 'Vibha?' He said nothing more, only asked, 'Vibha?' It was as if a very faint hope had sprung up in his mind that what Sitaram had told him might not be true. He was afraid to ask the whole thing clearly, lest Vibha give him the answer! It was not his wish that Vibha answer his question immediately. That is why, with great trepidation, he questioned her very face—'Vibha?' That is why he looked at her face with such an intense gaze. Vibha understood, and she too could not answer. Her initial surge of joy had faded. She remembered all those days when her grand-uncle used to visit! What festive days those had been! What joy would erupt when he arrived! He would laugh and joke; Vibha would laugh but couldn't joke back; her brother, a picture of serene joy, would listen to their grand-uncle’s songs. Today, her grand-uncle had come, but no one else came near him, only Vibha, alone in this dark household—alone, like the sole broken remnant of a happy family—stood before her grand-uncle. The room from which sounds of joy would arise whenever her grand-uncle came—Surma's room—why was it like this today; today it was silent, dark, utterly empty. It was as if the room itself would burst into tears at the sight of her grand-uncle! Basanta Ray, with some sort of faint hope, went and stood before that room. Standing near the door, he put his head inside and looked all around, then instantly turned his face away and asked in a heart-rending voice, 'Didi, is there no one in the room?'
Vibha burst into tears and said, 'No, grand-uncle, no one at all.'
The silent room seemed to cry out with a desolate wail—'Those who were here before are here no more!'
Basanta Ray stood silently for a long time. Finally, taking Vibha's hand, he slowly began to sing—
'I alone am left behind!'
2
Basanta Ray's Appeal to Pratapaditya
Basanta Ray went to Pratapaditya and pleaded earnestly, saying, “Baba Pratap, why do you torment Uday any longer—what has he done to you? If you do not love him, if he offends you at every turn—then why not give him to this old man? I will take him away—I will keep him—you will not have to see him anymore—he will stay with me!”
Pratapaditya listened to Basanta Ray’s words patiently for a long time. Finally, he said, “Uncle, what I have done, I have done after much consideration. On this matter, you certainly know far less than I. And yet you have come to offer advice. I cannot heed any of your words.”
Then Basanta Ray stood up, went to Pratapaditya, and took his hand, saying, “Baba Pratap, don’t you remember? That I raised you in my arms as a child, do you not recall that? From the day my late elder brother entrusted you to my hands, have I ever caused you a moment's pain? When you were helpless in my care, did you ever, for even a day, feel that you were fatherless? Pratap, tell me, what crime did I commit against you that you can cause me such pain in my old age? I am not saying that you are indebted to me because I raised you—by raising you children, I was only trying to repay the debt of love I owed my brother. Therefore, Pratap, I ask for nothing from you as my due, nor have I ever. I am only begging for alms from you—will you not grant even that?”
Tears began to fall from Basanta Ray’s eyes. Pratapaditya remained seated, like a stone statue.
Basanta Ray spoke again, “So you will not listen to my words—you will not grant my plea—? Won't you answer me, Pratap?”—With a deep sigh, he said, “Very well—I have one more small request. I wish to see Uday just once—let no one forbid me from entering his prison cell—give me this permission!”
Pratapaditya did not grant that either. He had become extremely annoyed in his mind that Basanta Ray would show so much affection for Udayaditya, in defiance of him. The more he felt that people were making him out to be the villain, the more obstinate he became.
3
Basanta Ray's Sorrow and Vibha's Consolation
Basanta Ray returned to the inner quarters, his face so dejected that it pained Vibha deeply to see him. Vibha took her grand-uncle’s hand and said, “Grand-uncle, come to my room.” Basanta Ray silently followed Vibha into her room. After he sat down, Vibha touched his grey hairs with her delicate fingers and said, “Grand-uncle, come, let me pluck your grey hairs.” Basanta Ray replied, “My dear, are there any grey hairs left to pluck? When I wasn’t old, I had them, and I would ask you all to pull them out. Today I have become an old man—I have no grey hairs anymore.”
Basanta Ray saw Vibha’s face fall and her eyes well up with tears. He quickly changed his tune. “Come, Vibha, come! Pluck a few hairs. I can’t keep up with supplying you all with grey hairs anymore, my dear. I’m getting on in years and gradually going bald—now you must look for another head. I have resigned!” Saying this, Basanta Ray began to laugh.
A maidservant came and said to Basanta Ray, “Rani Ma wishes to pay her respects to you.”
Basanta Ray went to the Mahishi’s room; Vibha went to the prison.
4
Ramchandra Ray's Letter and Basanta Ray's Plan
The Mahishi bowed to Basanta Ray. Basanta Ray blessed her, “Ma, may you live a long life.”
The Mahishi said, “Uncle, please do not give me that blessing anymore. Now, death would be a relief for me.”
Basanta Ray said anxiously, “Ram, Ram! You must not utter such words.”
The Mahishi said, “What else can I say, Uncle? It is as if the gaze of Shani has fallen upon my household.”
Basanta Ray grew even more anxious.
The Mahishi said, “Seeing Vibha’s face, I have lost my appetite for food and water. If I ask her, she says nothing, yet day by day her body is wasting away. I cannot think what to do with her!”
Basanta Ray became extremely distressed. “Look here, Uncle, a disastrous letter has arrived.” Saying this, she placed a letter in Basanta Ray's hands.
Before Basanta Ray could finish reading the letter, the Mahishi began to weep, saying, “What happiness do I have left? Uday—my poor child knows nothing, and the Maharaj has—it's as if he wasn't born to be a king, but I carried him in my womb, he is my own child after all. I do not know how my child is faring in there; they will not even let me see him once!” Nowadays, whatever topic the Mahishi brought up, the subject of Udayaditya would eventually find its place. That particular sorrow was awake in her soul day and night.
After reading the letter, Basanta Ray was utterly stunned. He sat in silence, rubbing his head. After a moment, Basanta Ray asked the Mahishi, “You have not shown this letter to anyone, have you, Ma?”
The Mahishi replied, “If the Maharaj heard of this letter, would he spare anyone? And would Vibha survive it?”
Basanta Ray said, “You have done well. Do not show this letter to anyone else, Bou Ma. You must send Vibha to her father-in-law’s house at once. Do not think about honor or dishonor!”
The Mahishi said, “I have been thinking the same. I have no use for honor; my only wish is for Vibha to be happy. I only fear that they might neglect her.”
Basanta Ray said, “Neglect Vibha! Is Vibha a treasure to be neglected? Wherever Vibha goes, she will be cherished. Where else is there such a Lakshmi, such a golden idol! Ramchandra wrote this letter only out of anger at you all. As soon as you send her back, his anger will subside!” This is what Basanta Ray understood with his simple heart and simple mind. The Mahishi understood it the same way!
Basanta Ray said, “Announce in the household that Ramchandra has written a letter requesting that Vibha be sent to Chandradwip. Then Vibha will surely not object to going.”
1
バサンタ・ライの悲しみの歌
その翌日、バサンタ・ライは誰の制止も聞かず、ジョソールへと旅立った。ジョソールに着くと、彼はまっすぐ王宮の奥御殿へと向かった。ビバは、不意に大おじ様の姿を見て、どうしてよいかわからなくなった。しばらくの間、目には驚き、唇には喜びを浮かべ、言葉もなく、体は動かずに、ただ立ち尽くしていた。それから彼の足元にひれ伏して礼をし、その足の土を頭につけた。ビバが立ち上がると、バサンタ・ライはひたすら真剣な眼差しで彼女の顔を見つめ、尋ねた。「ビバ?」それ以上何も言わず、ただ「ビバ?」とだけ問うた。まるで、シタラムが言ったことは真実ではないかもしれないという、ごくかすかな希望が心に芽生えたかのようだった。すべてをはっきりと尋ねるのが怖い。ビバがその問いに答えてしまうのではないかと!彼としては、ビバにすぐさまこの問いに答えてほしくないのだ。だからこそ、彼は恐る恐るビバの顔に問いかけたのだ――「ビバ?」と。だからこそ、彼はひたすら真剣な眼差しで一度、彼女の顔を見つめたのだった。ビバは察したが、答えることもできなかった。最初の喜びの昂りは消え失せていた。以前、大おじ様が訪れていた頃の日々が、彼女の脳裏に蘇っていたのだ!あれはなんと晴れやかな日々だったことか!彼が来ると、どれほどの喜びが満ち溢れたことか!兄上は穏やかな喜びに満ちた面持ちで大おじ様の歌に耳を傾けていたものだ。今日、大おじ様は来た。しかし、他に誰も彼のそばへは来なかった。ただこの暗い世界に、ビバが独り――幸せだった一家の唯一の残骸のように独り――大おじ様の前に立っているだけだった。大おじ様が来ると歓声が上がったあの部屋――スルマの部屋は、今日なぜこうなのだろう。今日は静まり返り、暗く、空虚だ。大おじ様を見れば、あの部屋は今にも泣き出しそうだった!バサンタ・ライは、何かにすがるような思いでその部屋の前まで行くと、戸口に立ち、部屋の中に顔を差し入れて一度あたりを見回した。そしてすぐさま顔を背けると、胸が張り裂けるような声で尋ねた。「ディディ、部屋には誰もいないのか?」
ビバは泣きながら答えた。「はい、大おじ様、誰もおりません。」
静まり返った部屋が、まるで高笑いするかのように叫んだかのようだった。「以前ここにいた者たちは、誰ももういない!」
バサンタ・ライは長い間黙って立ち尽くしていたが、やがてビバの手を取り、静かに歌い始めた。
「私独りが、ただ残された!」
2
プラタパディティヤへのバサンタ・ライの懇願
バサンタ・ライはプラタパディティヤのもとへ行き、心から頼み込んだ。「なあ、プラタープよ、なぜこれ以上ウダイを苦しめるのだ。あの子がお前たちに何をしたというのだ? もしお前たちがあの子を愛さず、ことあるごとに罪人扱いするのなら、この老いぼれに預けてはくれまいか。わしが連れて行く。わしが面倒を見る。そうすれば、もうお前たちの目に触れることもない。わしのそばに置くのだ!」
プラタパディティヤは長いこと辛抱強く、黙ってバサンタ・ライの言葉を聞いていたが、やがて口を開いた。「叔父上、私が行ったことには深い考えがあってのことです。この件に関して、あなたは間違いなく私よりご存じないことが多い。それなのに忠告をしに来られるとは、あなたのお言葉は聞き入れるわけにはまいりません。」
するとバサンタ・ライは立ち上がり、プラタパディティヤに歩み寄ってその手を取り、言った。「なあ、プラタープよ、覚えていないのか! お前を幼い頃、抱き上げ背負って育てたではないか、もう忘れてしまったのか? 亡き兄上がお前をわしの手に託されたあの日から、わしがお前を須臾の間でも苦しめたことがあったか? お前が寄る辺なくわしの腕の中にいた時、一日たりとも、父無し子だと感じさせたことがあったか? プラタープ、言ってみろ、わしがお前にどんな罪を犯したというのだ。この老いぼれになって、お前はこれほどわしを苦しめることができるのか? お前を育てたからといって、お前に恩があるなどとは言わぬ。お前たちを一人前にすることで、わしは兄上への恩を返そうと努めてきたのだ。だからプラタープ、わしは当然の権利としてお前に何かを求めているのではない、これまでも求めたことはない。わしはただお前に物乞いをしているのだ。それすらも聞き入れてはくれぬのか?」
バサンタ・ライの目から涙がこぼれ落ちたが、プラタパディティヤは石像のように座ったままでいた。
バサンタ・ライは再び言った。「では、わしの言うことは聞かぬのか。わしの願いは聞き入れぬのか? 返事をせぬか、プラタープ?」——深いため息をついて、彼は言った。「よかろう。もう一つ、ささやかな願いがある。一度、ウダイに会いたい。あの子のいる牢へ入るのを、誰も止めぬようにしてくれ。その許しを与えてくれ!」
プラタパディティヤはそれすらも許さなかった。自分に逆らうかのようにウダヤディティヤにこれほどの愛情を示すことに、プラタパディティヤは内心ひどく苛立っていた。人々が自分ばかりを罪人に仕立て上げていると思えば思うほど、彼はますます頑なになるのだった。
3
バサンタ・ライの悲しみとビバの慰め
バサンタ・ライはすっかり意気消沈した顔で奥御殿に戻ってきた。その顔を見て、ビバはひどく心を痛めた。ビバは大おじ様の手を取って言った。「大おじ様、わたしの部屋へいらして」バサンタ・ライは黙ってビバについて、彼女の部屋に入った。彼が部屋に腰を下ろすと、ビバは彼の白髪にそっと指を触れながら言った。「大おじ様、さあ、あなたの白髪を抜いて差し上げますわ」バサンタ・ライは言った。「お嬢さん、そんな白髪がまだ残っておるかのう? 年を取っていなかった頃は、いくらかはあったものだ。その頃はお前たちに白髪を抜いてくれと頼んだものだが、今ではすっかり年寄りになってしもうた。もう抜くべき白髪などないのじゃよ」
バサンタ・ライは、ビバの顔が曇り、目に涙が浮かぶのを見た。彼は慌てて言った。「さあ、ビバ、おいで。何本か抜いておくれ。お前たちに白髪を供給し続けるのも、もう骨が折れるでのう、なあ。年を取るにつれて、だんだん頭もはげてきた。もう別の頭を探すがいい。わしはもうお役御免じゃ」そう言ってバサンタ・ライは笑い始めた。
一人の侍女がやって来て、バサンタ・ライに言った。「王妃様が一度ご挨拶をしたいと申しております」
バサンタ・ライは王妃の部屋へ行き、ビバは牢へ向かった。
4
ラーマチャンドラ・ライの手紙とバサンタ・ライの計略
王妃はバサンタ・ライに礼をした。バサンタ・ライは祝福した。「おお、長生きなされよ」
王妃は言った。「大おじ様、そのお祝いの言葉はもうおっしゃらないでくださいまし。今の私には、死こそが救いなのでございます」
バサンタ・ライは慌てて言った。「ラーマ、ラーマ!そのようなことを口にするものではない」
王妃は言った。「これ以上何と申し上げればよいでしょう、大おじ様。私の家にはまるでシャニの魔の目が向けられたかのようです」
バサンタ・ライはますます狼狽した。
王妃は言った。「ビバの顔を見ておりますと、食べ物も喉を通りません。あの子をどうすればよいのか、何も考えつかないのです!」
バサンタ・ライはひどく動揺した。「大おじ様、これをご覧ください。破滅的な手紙が届いたのです」と言って、一通の手紙をバサンタ・ライの手に渡した。
バサンタ・ライがその手紙を読み終わらないうちに、王妃は泣きながら語り始めた。「私に何の幸せがありましょう? ウダイは…あの子は何も知らないというのに、マハラジャは…あの子は王にふさわしくはなかったやもしれませんが、私が腹を痛めて産んだ、私の実の子でございます。あの子がそこでどうしているのか、一度も会わせてさえくだらないのです!」この頃の王妃は、どんな話を切り出しても、どこかでウダヤディティヤの話に行き着くのだった。その苦しみだけが、昼も夜も彼女の心の中で目覚めているかのようであった。
手紙を読み終えたバサンタ・ライは完全に呆然とし、黙って座り込み、頭に手を当てた。しばらくして、バサンタ・ライは王妃に尋ねた。「この手紙は、誰にも見せてはおらぬだろうな?」
王妃は言った。「マハラジャがこの手紙のことをお聞きになったら、ただでは済まないでしょう。そうなっては、ビバも生きてはいられますまい!」
バサンタ・ライは言った。「よくやった。この手紙はもう誰にも見せてはならぬ。ビバをすぐに夫の実家へお送りなさい。名誉がどうとか、不名誉がどうとか考えている場合ではない!」
王妃は言った。「私もそう考えておりました。名誉など私にはどうでもよいのです、ビバが幸せになってくれさえすれば。ただ、あちらでビバがないがしろにされないかと、それだけが心配で」
バサンタ・ライは言った。「ビバをないがしろにするだと! ビバがないがしろにされるような娘か! 彼女が行くところ、どこでも大切にされるに決まっている。あのようなラクシュミー女神のような、あのような黄金の像のような娘が他にどこにおる! ラーマチャンドラはそなたたちに腹を立ててこの手紙を書いただけのこと。また送り返しさえすれば、彼の怒りも収まるだろう!」バサンタ・ライは、その純真な心と素朴な考えで、そう理解した。そして王妃も、同じように理解したのだった!
バサンタ・ライは言った。「屋敷の者には、ラーマチャンドラがビバをチャンドラドウィープへ送ってほしいと手紙を寄越した、と噂を流しなさい。そうすれば、ビバもきっとそこへ行くのを嫌がるまい」