1
সুরমা ও বিভার বিষণ্ণ কথোপকথন
বিভার ম্লানমুখ দেখিয়া সুরমা আর থাকিতে পারিল না; তাহার গলা ধরিয়া কহিল, “বিভা তুই চুপ করিয়া থাকিস্ কেন? তোর মনে যখন যাহা হয়, বলিস্ না কেন?”
বিভা ধীরে ধীরে কহিল, “আমার আর কি বলিবার আছে?”
সুরমা কহিল, “অনেক দিন তাঁহাকে দেখিস্ নাই, তোর মন কেমন করিবেই ত! তুই তাঁহাকে আসিবার জন্য একখানা চিঠি লেখ্ না। আমি তোর দাদাকে দিয়া পাঠাইবার সুবিধা করিয়া দিব।”
বিভার স্বামী চন্দ্রদ্বীপপতি রামচন্দ্র রায়ের সম্বন্ধে কথা হইতেছে।
বিভা ঘাড় হেঁট করিয়া কহিতে লাগিল,—“এখানে কেহ যদি তাঁহাকে গ্রাহ্য না করে, কেহ যদি তাঁহাকে ডাকিবার আবশ্যক বিবেচনা না করে, তবে এখানে তিনি না আসিলেই ভাল। তিনি যদি আপনি আসেন তবে আমি বারণ করিব। তিনি রাজা, যেখানে তাঁহার আদর নাই, সেখানে তিনি কেন আসিবেন? আমাদের চেয়ে তিনি কিসে ছোট যে, পিতা তাঁহাকে অপমান করিবেন?” বলিতে বলিতে বিভা আর সামলাইতে পারিল না, তাহার মুখখানি লাল হইয়া উঠিল ও সে কাঁদিয়া ফেলিল।
সুরমা বিভার মুখ বুকে রাখিয়া তাহার চোখের জল মুছাইয়া কহিল, “আচ্ছা, বিভা, তুই যদি পুরুষ হইতিস্ ত কি করিতিস্? নিমন্ত্রণ পত্র পাস্ নাই বলিয়া কি শ্বশুর বাড়ি যাইতিস্ না?”
বিভা বলিয়া উঠিল, “না, তাহা পারিতাম না। আমি যদি পুরুষ হইতাম ত এখনি চলিয়া যাইতাম; মান অপমান কিছুই ভাবিতাম না। কিন্তু তাহা বলিয়া তাঁহাকে আদর করিয়া না ডাকিয়া আনিলে তিনি কেন আসিবেন?”
বিভা এত কথা কখন কহে নাই। আজ আবেগের মাথায় অনেক কথা বলিয়াছে। এতক্ষণে একটু লজ্জা করিতে লাগিল। মনে হইল, বড় অধিক কথা বলিয়া ফেলিয়াছি। আবার, যে রকম করিয়া বলিয়াছি, বড় লজ্জা করিতেছে? ক্রমে তাহার মনের উত্তেজনা হ্রাস হইয়া আসিল ও মনের মধ্যে একটা গুরুভার অবসাদ আস্তে আস্তে চাপিয়া পড়িতে লাগিল। বিভা বাহুতে মুখ ঢাকিয়া সুরমার কোলে মাথা দিয়া শুইয়া পড়িল; সুরমা মাথা নত করিয়া কোমল হস্তে তাহার ঘন কেশভার পৃথক্ করিয়া দিতে লাগিল! এমন কতক্ষণ গেল। উভয়ের মুখে একটি কথা নাই। বিভার চোখ দিয়া এক এক বিন্দু করিয়া জল পড়িতেছে ও সুরমা আস্তে আস্তে মুছাইয়া দিতেছে।
2
বিভা ও বসন্ত রায়ের রসিকতা
অনেকক্ষণ বাদে যখন সন্ধ্যা হইয়া আসিল তখন বিভা ধীরে ধীরে উঠিয়া বসিল ও চোখের জল মুছিয়া ঈষৎ হাসিল! সে হাসির অর্থ— “আজ কি ছেলেমানুষিই করিয়াছি!” ক্রমে মুখ ফিরাইয়া সরিয়া গিয়া পালাইয়া যাইবার উদ্যোগ করিতে লাগিল। সুরমা কিছু না বলিয়া তাহার হাত ধরিয়া রহিল। পূর্ব্বকার কথা আর কিছু উত্থাপন না করিয়া কহিল, “বিভা শুনিয়াছিস্, দাদামহাশয় আসিয়াছেন?”
বিভা। “দাদামহাশয় আসিয়াছেন?”
সুরমা। “হাঁ।”
বিভা আগ্রহের সহিত জিজ্ঞাসা করিল “কখন্ আসিয়াছেন?”
সুরমা। “প্রায় চার প্রহর বেলার সময়।”
বিভা। “এখনো যে আমাদের দেখিতে আসিলেন না।”
বিভার মনে ঈষৎ অভিমানের উদয় হইল। দাদা মহাশয়ের দখল লইয়া বিভা অতিশয় সতর্ক। এমন কি, এক দিন বসন্তরায় উদয়াদিত্যের সহিত অনেকক্ষণ কথোপকথন করিয়া বিভাকে অন্তঃপুরে তিন দণ্ড অপেক্ষা করাইয়াছিলেন, একবারেই তাহার সহিত দেখা করিতে যান নাই, এই জন্য বিভার এমন কষ্ট হইয়াছিল যে, যদিও সে বিষয়ে সে কিছু বলে নাই বটে তবু প্রসন্ন মুখে দাদামহাশয়ের সঙ্গে কথা কহিতে পারে নাই।
বসন্তরায় ঘরে প্রবেশ করিয়াই হাসিতে হাসিতে গান ধরিলেন;—
“আজ তোমারে দেখ্তে এলেম অনেক দিনের পরে!
ভয় নাইক, সুখে থাক,
অধিক ক্ষণ থাক্ব নাক’
আসিয়াছি দুদণ্ডেরি তরে!
দেখ্ব শুধু মুখ খানি
শুন্ব দুটি মধুর বাণী
আড়াল থেকে হাসি দেখে চলে যাব দেশান্তরে!”
গান শুনিয়া বিভা মুখ নত করিয়া হাসিল। তাহার বড় আহ্লাদ হইয়াছে। অতটা আহ্লাদ পাছে ধরা পড়ে বলিয়া বিব্রত হইয়া পড়িয়াছে।
সুরমা বিভার মুখ তুলিয়া ধরিয়া কহিল, “দাদা মহাশয়, বিভার হাসি দেখিবার জন্য ত আড়ালে যাইতে হইল না?”
বসন্তরায়। “না। বিভা মনে করিল, নিতান্তই না হাসিলে যদি বুড়া বিদায় না হয়, তবে না হয় একটু হাসি। ও ডাকিনীর মৎলব আমি বেশ বুঝি, আমাকে তাড়াইবার ফন্দি! কিন্তু শীঘ্র তাহা হইতেছে না। আসিলাম যদি ত ভাল করিয়া জ্বালাইয়া যাইব, আবার যত দিন না দেখা হয় মনে থাকিবে!”
সুরমা হাসিয়া কহিল, “দেখ দাদা মহাশয়, বিভা আমার কানে কানে বলিল যে মনে রাখানই যদি অভিপ্রায় হয়, তবে যা’ জ্বালাইয়াছ তাহাই যথেষ্ট হইয়াছে, আর নূতন করিয়া জ্বালাইতে হইবে না।”
কথাটা শুনিয়া বসন্তরায়ের বড়ই আমোদ বোধ হইল। তিনি হাসিতে লাগিলেন।
বিভা অপ্রতিভ হইয়া বলিয়া উঠিল, “না, আমি কখনো ও কথা বলি নাই। আমি কোন কথাই কই নাই।”
সুরমা কহিল, “দাদা মহাশয়, তোমার মনস্কামনা ত পূর্ণ হইল! তুমি হাসি দেখিতে চাহিলে তাহা দেখিলে, কথা শুনিতে চাহিয়াছিলে তাহাও শুনাইলাম, তবে এখন দেশান্তরে যাও।”
বসন্তরায়। “না ভাই, তাহা পারিলাম না! আমি গোটা-পোনেরো গান ও এক মাথা পাকা চুল আনিয়াছি, সে গুলি সমস্ত নিকাশ না করিয়া যাইতে পারিতেছি না!”
বিভা আর থাকিতে পারিল না, হাসিয়া উঠিল, কহিল,—“তোমার আধ মাথা বই চুল নাই যে দাদামহাশয়!”
দাদামহাশয়ের অভিসন্ধি সিদ্ধ হইল। অনেক দিনের পর প্রথম আলাপে বিভার মুখ খুলিতে কিছু আয়োজনের আবশ্যক করে, কিন্তু দাদা মহাশয়ের কাছে বিভার মুখ একবার খুলিলে তাহা বন্ধ করিতে আবার ততোধিক আয়োজনের আবশ্যক হয়। কিন্তু দাদা মহাশয় ব্যতীত আর কাহারো কাছে কোন অবস্থাতেই বিভার মুখ খুলে না।
বসন্তরায় টাকে হাত বুলাইতে বুলাইতে বলিলেন, “সে এক দিন গিয়াছেরে ভাই! যে দিন বসন্তরায়ের মাথায় এক মাথা চুল ছিল, সে দিন কি আর এত রাস্তা হাঁটিয়া তোমাদের খোষামোদ করিতে আসিতাম? একগাছি চুল পাকিলে তোমাদের মত পাঁচটা রূপসী চুল তুলিবার জন্য উমেদার হইত ও মনের আগ্রহে দশটা কাঁচা চুল তুলিয়া ফেলিত!”
বিভা গম্ভীর স্বরে জিজ্ঞাসা করিল, “আচ্ছা দাদামহাশয়, তোমার যখন একমাথা চুল ছিল, তখন কি তোমাকে এখনকার চেয়ে ভাল দেখিতে ছিল?”
মনে মনে বিভার সে বিষয়ে বিষম সন্দেহ ছিল। দাদা মহাশয়ের টাক্টি, তাঁহার গুম্ফসম্পর্কশূন্য অধরের প্রশস্ত হাসিটি, তাঁহার পাকা আম্রের ন্যায় ভাবটি, সে মনে মনে পরিবর্ত্তন করিতে চেষ্টা করিল, কোন মতেই ভাল ঠেকিল না। সে দেখিল, সে টাক্টি না দিলে তাহার দাদামহাশয়কে কিছুতে মানায় না। আর গোঁফ জুড়িয়া দিলে দাদা মহাশয়ের মুখখানি একেবারে খারাপ দেখিতে হইয়া যায়। এত খারাপ হইয়া যায় যে, সে তাহা কল্পনা করিলে হাসি রাখিতে পারে না। দাদামহাশয়ের অবার গোঁফ! দাদা মহাশয়ের আবার টাক্ নাই!
বসন্তরায় কহিলেন, “সে বিষয়ে অনেক মতভেদ আছে। আমার নাতনীরা আমার টাক্ দেখিয়া মোহিত হয়, তাহারা আমার চুল দেখে নাই। আমার দিদিমারা অপার চুল দেখিয়া মোহিত হইতেন, তাঁহারা আমার টাক্ দেখেন নাই। যাহারা উভয়ই দেখিয়াছে, তাহারা এখনো একটা মত স্থির করিতে পারে নাই।”
বিভা কহিল, “কিন্তু তা বলিয়া দাদা মহাশয় যতটা টাক্ পড়িয়াছে তাহার অধিক পড়িলে আর ভাল দেখাইবে না!”
3
বিভার দুঃখের কারণ
সুরমা কহিল, “দাদামহাশয় টাকের আলোচনা পরে হইবে। এখন বিভার একটা যাহা হয় উপায় করিয়া দাও!”
বিভা তাড়াতাড়ি বসন্তরায়ের কাছে গিয়া বলিয়া উঠিল, “দাদামহাশয় —আমি তোমার পাকাচুল তুলিয়া দিই।”
সুরমা। “আমি বলি কি”—
বিভা। “শোননা দাদামহাশয়, তোমার—”
সুরমা। “বিভা চুপ কর্। আমি বলি কি, তুমি গিয়ে একবার—”
বিভা। “দাদামহাশয়, তোমার মাথায় পাকাচুল ছাড়া যে আর কিছুই নেই, তুলে দিলে সমস্ত মাথায় টাক্ পড়্বে!”
বসন্তরায়। “আমাকে যদি কথা শুনতে না দিস্ দিদি, আমাকে যদি বিরক্ত করিস্ তবে আমি রাগ হিন্দোল আলাপ করিব।”
বলিয়া তাঁহার ক্ষুদ্রায়তন সেতারটির কান মোচ্ড়াইতে আরম্ভ করিলেন। হিন্দোল রাগের উপর বিভার বিশেষ বিদ্বেষ ছিল।
বিভা বলিল, “কি সর্ব্বনাশ। তবে আমি পালাই বলিয়া ঘর হইতে বাহির হইয়া গেল।”
তখন সুরমা গম্ভীর হইয়া কহিল, “বিভা নীরব হইয়া দিনরাত্রি যে কষ্ট প্রাণের মধ্যে বহন করে তাহা জানিতে পারিলে বোধ করি মহারাজারও মনে দয়া হয়!”
“কেন! কেন! তাহার কি হয়েছে!” বলিয়া নিতান্ত আগ্রহের সহিত বসন্তরায় সুরমার কাছে গিয়া বসিলেন।
সুরমা কহিল, “বৎসরের মধ্যে একটি দিন ঠাকুরজামাইকে নিমন্ত্রণ করিয়া পাঠাইতেও কাহারো মনে পড়ে না?”
বসন্তরায় চিন্তা করিয়া কহিবেন, “ঠিক্ কথাই ত!”
সুরমা কহিল, “স্বামীর প্রতি এ অনাদর কয়জন মেয়ে সহিতে পারে বল ত? বিভা ভাল মানুষ, তাই কাহাকেও কিছু বলে না, আপনার মনে লুকাইয়া কাঁদে।”
বসন্তরায় ব্যাকুল হইয়া বলিয়া উঠিলেন “আপনার মনে লুকাইয়া কাঁদে?”
সুরমা। “আজ বিকালে আমার কাছে কত কাঁদিতে ছিল।”
বসন্তরায়। “বিভা আজ বিকালে কাঁদিতেছিল?”
সুরমা। “হাঁ!”
বসন্তরায়। “আহা, তাহাকে একবার ডাকিয়া আন, আমি দেখি!”
4
বিভার জন্য বসন্ত রায়ের উদ্যোগ
সুরমা বিভাকে ধরিয়া আনিল। বসন্তরায় তাহার চিবুক ধরিয়া কহিলেন, “তুই কাঁদিস কেন দিদি? যখন তোর যা’ কষ্ট হয় তোর দাদা মহাশয়কে বলিস্ না কেন? তা হ’লে আমি আমার যথাসাধ্য করি? আমি এখনই যাই, প্রতাপকে বলিয়া আসি গে!”
বিভা বলিয়া উঠিল, “দাদামহাশয়, তোমার দুটি পায়ে পড়ি আমার বিষয়ে বাবাকে কিছু বলিও না। দাদামহাশয়, তোমার পায়ে পড়ি যাইও না!”
রলিতে বলিতে বসন্তরায় বাহির হইয়া গেলেন; প্রতাপাদিত্যকে গিয়া বলিলেন, “তোমার জামাতাকে অনেক দিন নিমন্ত্রণ কর নাই ইহাতে তাহার প্রতি নিতান্ত অবহেলা প্রকাশ করা হইতেছে। যশোহর-পতির জামাতাকে যতখানি সমাদর করা উচিত, ততখানি সমাদর যদি তাহাকে না করা হয়, তবে তাহাতে তোমারই অপমান। তাহাতে গৌরবের কথা কিছুই নাই।”
প্রতাপাদিত্য পিতৃব্যের কথায় কিছু মাত্র দ্বিরুক্তি করিলেন না। লোকসহ নিমন্ত্রণ-পত্র চন্দ্রদ্বীপে পাঠাইবার হুকুম হইল।
অন্তঃপুরে বিভা ও সুরমার কাছে আসিয়া বসন্তরায়ের সেতার বাজাইবার ধুম পড়িয়া গেল।
“মলিন মুখে ফুটুক হাসি জুড়াক্ দু নয়ন!”
বিভা লজ্জিত হইয়া কহিল, “দাদামহাশয়, বাবার কাছে আমার কথা সমস্ত বলিয়াছ?” বসন্তরায় গান গাহিতে লাগিলেন,
“মলিন মুখে ফুটুক্ হাসি, জুড়াক দু নয়ন।
মলিন বসন ছাড় সখি, পর আভরণ।”
বিভা সেতারের তারে হাত দিয়া সেতার বন্ধ করিয়া আবার কহিল, “বাবার কাছে আমার কথা বলিয়াছ?”
এমন সময়ে উদয়াদিত্যের কনিষ্ঠ অষ্টমবর্ষীয় সমরাদিত্য ঘরের মধ্যে উঁকি মারিয়া বলিয়া উঠিল, “অ্যাঁ, দিদি! দাদামহাশয়ের সহিত গল্প করিতেছ! আমি মাকে বলিয়া দিয়া আসিতেছি।”
“এস, এস, ভাই এস!” বলিয়া বসন্তরায় তাহাকে পাক্ড়া করিলেন।
রাজ-পরিবারের বিশ্বাস এই যে, বসন্তরায় ও সুরমায় মিলিয়া উদয়াদিত্যের সর্ব্বনাশ করিয়াছে। এই নিমিত্ত বসন্তরায় আসিলে সামাল্ সামাল্ পড়িয়া যায়। সমরাদিত্য বসন্তরায়ের হাত ছাড়াইবার জন্য, টানা-হেঁচ্ড়া আরম্ভ করিল। বসন্তরায় তাহাকে সেতার দিয়া, তাহাকে কাঁধে চড়াইয়া, তাহাকে চস্মা পড়াইয়া, দুই দণ্ডের মধ্যে এমনি বশ করিয়া লইলেন যে, সে সমস্ত দিন দাদা মহাশয়ের পশ্চাৎ পশ্চাৎ ফিরিতে লাগিল ও অনবরত সেতার বাজাইয়া তাঁহার সেতারের পাঁচটা তার ছিড়িয়া দিল ও মেজরাপ কাড়িয়া লইয়া আর দিল না!
1
সুরমা ও বিভার বিষণ্ণ কথোপকথন
বিভার ম্লান মুখ দেখে সুরমা আর থাকতে পারল না; তার গলা জড়িয়ে ধরে বলল, “বিভা, তুই চুপ করে থাকিস কেন? তোর মনে যখন যা হয়, বলিস না কেন?”
বিভা ধীরে ধীরে বলল, “আমার আর কী বলার আছে?”
সুরমা বলল, “অনেকদিন তাঁকে দেখিসনি, তোর তো মন খারাপ করবেই! তুই তাঁকে আসার জন্য একটা চিঠি লেখ্ না। আমি তোর দাদাকে দিয়ে পাঠানোর ব্যবস্থা করে দেব।”
বিভার স্বামী, চন্দ্রদ্বীপের রাজা রামচন্দ্র রায়ের সম্বন্ধে কথা হচ্ছে।
বিভা মাথা নিচু করে বলতে লাগল, “এখানে যদি কেউ তাঁকে গুরুত্ব না দেয়, কেউ যদি তাঁকে ডাকার প্রয়োজন মনে না করে, তবে এখানে তাঁর না আসাই ভালো। তিনি যদি নিজে থেকে আসেন, তবে আমি বারণ করব। তিনি রাজা, যেখানে তাঁর সম্মান নেই, সেখানে তিনি কেন আসবেন? আমাদের চেয়ে তিনি কিসে ছোট যে, বাবা তাঁকে অপমান করবেন?” বলতে বলতে বিভা আর নিজেকে সামলাতে পারল না, তার মুখ লাল হয়ে উঠল এবং সে কেঁদে ফেলল।
সুরমা বিভার মুখ বুকে চেপে ধরে তার চোখের জল মুছিয়ে দিয়ে বলল, “আচ্ছা বিভা, তুই যদি পুরুষ হতিস, তাহলে কী করতিস? নিমন্ত্রণপত্র পাসনি বলে কি শ্বশুরবাড়ি যেতিস না?”
বিভা বলে উঠল, “না, তা পারতাম না। আমি যদি পুরুষ হতাম, তাহলে এখনই চলে যেতাম; মান-অপমান কিছুই ভাবতাম না। কিন্তু তাই বলে, তাঁকে আদর করে না ডাকলে তিনি কেন আসবেন?”
বিভা এত কথা আগে কখনও বলেনি। আজ আবেগের বশে অনেক কথা বলে ফেলেছে। এবার তার একটু লজ্জা করতে লাগল। মনে হলো, খুব বেশি কথা বলে ফেলেছি। আবার, যেভাবে বলেছি, তাতেও খুব লজ্জা করছে। ধীরে ধীরে তার মনের উত্তেজনা কমে এল এবং মনের মধ্যে একটা গভীর বিষণ্ণতা আস্তে আস্তে চেপে বসতে লাগল। বিভা হাতে মুখ ঢেকে সুরমার কোলে মাথা রেখে শুয়ে পড়ল; সুরমা মাথা নিচু করে নরম হাতে তার ঘন চুল সরিয়ে দিতে লাগল। এভাবে কিছুক্ষণ কেটে গেল। দুজনের মুখেই কোনো কথা নেই। বিভার চোখ দিয়ে ফোঁটা ফোঁটা জল পড়ছে আর সুরমা আস্তে আস্তে তা মুছিয়ে দিচ্ছে।
2
বিভা ও বসন্ত রায়ের রসিকতা
অনেকক্ষণ বাদে যখন সন্ধ্যা হয়ে এল, তখন বিভা ধীরে ধীরে উঠে বসল এবং চোখের জল মুছে হালকা হাসল। সেই হাসির অর্থ— “আজ কী ছেলেমানুষিই না করেছি!” এরপর সে মুখ ঘুরিয়ে সরে গিয়ে পালিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নিতে লাগল। সুরমা কিছু না বলে তার হাত ধরে রইল। আগের কথার আর কোনও উল্লেখ না করে বলল, “বিভা, শুনেছিস দাদামশাই এসেছেন?”
বিভা বলল, “দাদামশাই এসেছেন?”
সুরমা: “হ্যাঁ।”
বিভা আগ্রহের সাথে জিজ্ঞেস করল, “কখন এসেছেন?”
সুরমা: “দুপুর গড়িয়ে বিকেলের দিকে।”
বিভা: “এখনও যে আমাদের দেখতে এলেন না!”
বিভার মনে হালকা অভিমান জন্মাল। দাদামশাইয়ের দখল নিয়ে বিভা অত্যন্ত সতর্ক। এমনকি, একদিন বসন্ত রায় উদয়াদিত্যের সঙ্গে অনেকক্ষণ কথা বলে বিভাকে অন্তঃপুরে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করিয়েছিলেন, একবারও তার সঙ্গে দেখা করতে যাননি। এই জন্য বিভার এত কষ্ট হয়েছিল যে, যদিও সে বিষয়ে কিছু বলেনি, তবুও প্রসন্ন মুখে দাদামশাইয়ের সঙ্গে কথা বলতে পারেনি।
বসন্ত রায় ঘরে প্রবেশ করেই হাসতে হাসতে গান ধরলেন:—
“আজ তোমারে দেখতে এলাম অনেক দিনের পরে!
ভয় পেয়ো না, সুখে থাকো,
অধিক ক্ষণ থাকব নাকো,
এসেছি দু'দণ্ডেরই তরে!
দেখব শুধু মুখখানি,
শুনব দুটি মধুর বাণী,
আড়াল থেকে হাসি দেখে চলে যাব অন্য দেশে!”
গান শুনে বিভা মুখ নিচু করে হাসল। তার খুব আনন্দ হয়েছে। কিন্তু এতটা আনন্দ পাছে ধরা পড়ে যায়, তাই সে বিব্রত হয়ে পড়ল।
সুরমা বিভার মুখ তুলে ধরে বলল, “দাদামশাই, বিভার হাসি দেখার জন্য তো আড়ালে যেতে হল না?”
বসন্ত রায়: “না। বিভা মনে করল, নিতান্তই না হাসলে যদি বুড়ো বিদায় না হয়, তবে না হয় একটু হাসি। এই ডাকিনীর মতলব আমি বেশ বুঝি, আমাকে তাড়ানোর ফন্দি! কিন্তু অত সহজে তা হচ্ছে না। যখন এসেই পড়েছি, তখন ভালো করে জ্বালিয়ে যাব, যাতে আবার যতদিন না দেখা হয় মনে থাকে!”
সুরমা হেসে বলল, “দেখুন দাদামশাই, বিভা আমার কানে কানে বলল যে মনে রাখানোটাই যদি আপনার উদ্দেশ্য হয়, তবে যা জ্বালিয়েছেন তা-ই যথেষ্ট হয়েছে, আর নতুন করে জ্বালাতে হবে না।”
কথাটা শুনে বসন্ত রায়ের খুব মজা লাগল। তিনি হাসতে লাগলেন।
বিভা অপ্রস্তুত হয়ে বলে উঠল, “না, আমি কখনও ও কথা বলিনি। আমি কোনও কথাই বলিনি।”
সুরমা বলল, “দাদামশাই, তোমার মনের ইচ্ছা তো পূর্ণ হল! তুমি হাসি দেখতে চেয়েছিলে, তা দেখলে, কথা শুনতে চেয়েছিলে, তাও শোনালাম। তবে এখন অন্য দেশে যাও।”
বসন্ত রায়: “না ভাই, তা পারলাম না! আমি গোটা পনেরো গান আর এক মাথা পাকা চুল এনেছি, সেগুলোর সবটা না চুকিয়ে যেতে পারছি না!”
বিভা আর থাকতে পারল না, হেসে উঠল। বলল, “তোমার তো আধ মাথাও চুল নেই দাদামশাই!”
দাদামশাইয়ের উদ্দেশ্য সফল হল। অনেকদিন পর প্রথম আলাপে বিভার মুখ খোলানোর জন্য কিছু আয়োজনের প্রয়োজন হয়, কিন্তু দাদামশাইয়ের কাছে বিভার মুখ একবার খুললে তা বন্ধ করতে আবার তার চেয়েও বেশি আয়োজন লাগে। তবে দাদামশাই ছাড়া আর কারও কাছে কোনও অবস্থাতেই বিভার মুখ খোলে না।
বসন্ত রায় টাকে হাত বোলাতে বোলাতে বললেন, “সে দিন চলে গেছে রে ভাই! যেদিন বসন্ত রায়ের মাথায় এক মাথা চুল ছিল, সেদিন কি আর এত রাস্তা হেঁটে তোমাদের খোশামোদ করতে আসতাম? একটা চুল পাকলে তোমাদের মতো পাঁচজন সুন্দরী সেই চুল তুলে দেওয়ার জন্য প্রার্থী হত আর মনের আগ্রহে দশটা কাঁচা চুলও তুলে ফেলত!”
বিভা গম্ভীর স্বরে জিজ্ঞেস করল, “আচ্ছা দাদামশাই, তোমার যখন একমাথা চুল ছিল, তখন কি তোমাকে এখনকার চেয়ে ভালো দেখতে ছিল?”
মনে মনে বিভার সে বিষয়ে গভীর সন্দেহ ছিল। দাদামশাইয়ের টাকটা, তাঁর গোঁফহীন ঠোঁটের চওড়া হাসিটা, তাঁর পাকা আমের মতো ভাবটা—সে মনে মনে পরিবর্তন করার চেষ্টা করল, কিন্তু কোনও মতেই ভালো লাগল না। সে দেখল, ওই টাকটা না থাকলে তার দাদামশাইকে কিছুতেই মানায় না। আর গোঁফ জুড়ে দিলে দাদামশাইয়ের মুখটা একেবারে খারাপ দেখতে হয়ে যায়। এত খারাপ হয়ে যায় যে, সে তা কল্পনা করলেই হাসি ধরে রাখতে পারে না। দাদামশাইয়ের আবার গোঁফ! দাদামশাইয়ের আবার টাক নেই!
বসন্ত রায় বললেন, “সে বিষয়ে অনেক মতভেদ আছে। আমার নাতনিরা আমার টাক দেখে মোহিত হয়, তারা আমার চুল দেখেনি। আমার সময়ের দিদিমারা আমার ঘন চুল দেখে মোহিত হতেন, তাঁরা আমার টাক দেখেননি। আর যাঁরা দুটোই দেখেছেন, তাঁরা এখনও একটা সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি।”
বিভা বলল, “কিন্তু তাই বলে দাদামশাই, যতটা টাক পড়েছে তার চেয়ে বেশি পড়লে আর ভালো দেখাবে না!”
3
বিভার দুঃখের কারণ
সুরমা বলল, “দাদামশাই, টাকের আলোচনা পরে হবে। এখন বিভার একটা উপায় করে দাও!”
বিভা তাড়াতাড়ি বসন্ত রায়ের কাছে গিয়ে বলে উঠল, “দাদামশাই, আমি তোমার পাকা চুল তুলে দিই।”
সুরমা: “আমি বলি কী...”
বিভা: “শোনো না দাদামশাই, তোমার...”
সুরমা: “বিভা চুপ কর। আমি বলছি কী, আপনি গিয়ে একবার...”
বিভা: “দাদামশাই, তোমার মাথায় তো পাকা চুল ছাড়া আর কিছুই নেই, তুলে দিলে তো পুরো মাথায় টাক পড়ে যাবে!”
বসন্ত রায়: “দিদি, আমাকে যদি কথা শুনতে না দিস, আমাকে যদি বিরক্ত করিস, তাহলে কিন্তু আমি হিন্দোল রাগ আলাপ করব।”
এই বলে তিনি তাঁর ছোট সেতারটার কান মোচড়াতে শুরু করলেন। হিন্দোল রাগের ওপর বিভার বিশেষ বিরক্তি ছিল।
বিভা বলল, “কী সর্বনাশ! তাহলে আমি পালাই,” এই বলে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
তখন সুরমা গম্ভীর হয়ে বলল, “বিভা চুপচাপ থেকে দিনরাত যে কষ্ট মনের মধ্যে বয়ে বেড়ায়, তা জানতে পারলে হয়তো মহারাজেরও দয়া হতো!”
“কেন! কেন! ওর কী হয়েছে!” এই বলে খুব আগ্রহের সাথে বসন্ত রায় সুরমার কাছে গিয়ে বসলেন।
সুরমা বলল, “বছরের মধ্যে একটা দিনও ঠাকুরজামাইকে নেমন্তন্ন করে পাঠাতে কারও মনে পড়ে না?”
বসন্ত রায় চিন্তা করে বললেন, “ঠিক কথাই তো!”
সুরমা বলল, “স্বামীর প্রতি এই অনাদর কজন মেয়ে সহ্য করতে পারে বলুন তো? বিভা ভালো মানুষ, তাই কাউকে কিছু বলে না, নিজে নিজে লুকিয়ে কাঁদে।”
বসন্ত রায় ব্যাকুল হয়ে বলে উঠলেন, “নিজে নিজে লুকিয়ে কাঁদে?”
সুরমা: “আজ বিকেলে আমার কাছে কত কাঁদছিল।”
বসন্ত রায়: “বিভা আজ বিকেলে কাঁদছিল?”
সুরমা: “হ্যাঁ!”
বসন্ত রায়: “আহা, ওকে একবার ডেকে আনো তো, আমি দেখি!”
4
বিভার জন্য বসন্ত রায়ের উদ্যোগ
সুরমা বিভাকে ধরে আনলো। বসন্ত রায় তার চিবুক ধরে বললেন, “দিদি, তুই কাঁদছিস কেন? যখন তোর যা কষ্ট হয়, তোর দাদামশাইকে বলিস না কেন? তাহলে কি আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করি না? আমি এখনই যাচ্ছি, প্রতাপকে বলে আসছি!”
বিভা বলে উঠলো, “দাদামশাই, তোমার পায়ে পড়ি, আমার বিষয়ে বাবাকে কিছু বোলো না। দাদামশাই, তোমার পায়ে পড়ি, যেও না!”
বলতে বলতেই বসন্ত রায় বেরিয়ে গেলেন; প্রতাপাদিত্যকে গিয়ে বললেন, “তুমি তোমার জামাইকে অনেকদিন নিমন্ত্রণ করোনি, এতে তার প্রতি চূড়ান্ত অবহেলা প্রকাশ করা হচ্ছে। যশোরের রাজার জামাইকে যতটা সমাদর করা উচিত, তাকে ততটা না করা হলে তাতে তোমারই অপমান। এর মধ্যে গৌরবের কিছু নেই।”
প্রতাপাদিত্য কাকার কথায় কোনো আপত্তি করলেন না। লোক দিয়ে চন্দ্রদ্বীপে আমন্ত্রণপত্র পাঠানোর হুকুম দেওয়া হলো।
অন্দরমহলে বিভা ও সুরমার কাছে এসে বসন্ত রায়ের সেতার বাজানোর ধুম পড়ে গেল।
“মলিন মুখে ফুটুক হাসি, জুড়াক দু নয়ন!”
বিভা লজ্জিত হয়ে বললো, “দাদামশাই, বাবার কাছে আমার সব কথা বলেছো?” বসন্ত রায় গান গাইতে লাগলেন,
“মলিন মুখে ফুটুক হাসি, জুড়াক দু নয়ন।
মলিন বসন ছাড় সখি, পর আভরণ।”
বিভা সেতারের তারে হাত দিয়ে সেতার বন্ধ করে আবার জিজ্ঞেস করলো, “বাবার কাছে আমার কথা বলেছো?”
এমন সময় উদয়াদিত্যের আট বছর বয়সী ছোট ভাই সমরাদিত্য ঘরের মধ্যে উঁকি মেরে বলে উঠলো, “অ্যাঁ, দিদি! দাদামশাইয়ের সাথে গল্প করছিস! আমি মাকে বলে দিয়ে আসছি।”
“এসো, এসো, ভাই এসো!” বলে বসন্ত রায় তাকে ধরে ফেললেন।
রাজপরিবারের বিশ্বাস যে, বসন্ত রায় ও সুরমা মিলেই উদয়াদিত্যের সর্বনাশ করেছে। এই কারণে বসন্ত রায় এলে সবাই খুব সতর্ক হয়ে যায়। সমরাদিত্য বসন্ত রায়ের হাত ছাড়ানোর জন্য টানা-হেঁচড়া শুরু করলো। বসন্ত রায় তাকে সেতার দিয়ে, কাঁধে চড়িয়ে, চশমা পরিয়ে, কিছুক্ষণের মধ্যেই এমন বশ করে নিলেন যে, সে সারাদিন দাদামশাইয়ের পিছনে পিছনে ঘুরতে লাগলো এবং একটানা সেতার বাজিয়ে তাঁর সেতারের পাঁচটা তার ছিঁড়ে দিল ও মেজরাপ কেড়ে নিয়ে আর ফেরত দিল না।
1
सुरमा और विभा की दुखद बातचीत
विभा का उदास चेहरा देखकर सुरमा से और रहा न गया; उसे गले से लगाकर उसने कहा, “विभा, तुम चुप क्यों रहती हो? तुम्हारे मन में जो भी आता है, कहती क्यों नहीं?”
विभा ने धीरे से कहा, “मेरे पास कहने को और क्या है?”
सुरमा ने कहा, “बहुत दिनों से उन्हें देखा नहीं है, तुम्हारा मन तो उदास होगा ही! तुम उन्हें आने के लिए एक पत्र क्यों नहीं लिखती? मैं तुम्हारे भैया से कहकर उसे भिजवाने का प्रबंध कर दूँगी।”
यह बात विभा के पति, चंद्रद्वीप के राजा रामचंद्र राय के बारे में हो रही थी।
विभा ने सिर झुकाकर कहना शुरू किया,—“यहाँ अगर कोई उनकी परवाह नहीं करता, कोई उन्हें बुलाना ज़रूरी नहीं समझता, तो उनका यहाँ न आना ही अच्छा है। अगर वह खुद आएँगे तो मैं मना करूँगी। वह राजा हैं, जहाँ उनका आदर नहीं है, वहाँ वह क्यों आएँगे? वह हमसे किस बात में छोटे हैं कि पिताजी उनका अपमान करेंगे?” कहते-कहते विभा खुद को संभाल न सकी, उसका चेहरा लाल हो गया और वह रो पड़ी।
सुरमा ने विभा का चेहरा अपनी छाती से लगाकर उसके आँसू पोंछते हुए कहा, “अच्छा, विभा, अगर तुम पुरुष होतीं तो क्या करतीं? क्या निमंत्रण पत्र नहीं मिला, इस कारण से ससुराल नहीं जातीं?”
विभा बोल उठी, “नहीं, वैसा तो मैं नहीं कर पाती। अगर मैं पुरुष होती तो अभी चली जाती; मान-अपमान की कुछ परवाह न करती। लेकिन, उन्हें आदर से बुलाए बिना वे क्यों आएँगे?”
विभा ने इतनी बातें कभी नहीं कही थीं। आज आवेश में आकर उसने बहुत कुछ कह दिया था। अब उसे थोड़ी शर्म आने लगी। उसे लगा, 'मैंने बहुत ज़्यादा बोल दिया है।' और, 'जिस तरह से कहा है, उससे बहुत शर्म आ रही है।' धीरे-धीरे उसके मन का आवेश शांत होने लगा और उसके मन पर एक भारी उदासी धीरे-धीरे छाने लगी। विभा अपनी बाँहों से मुँह ढककर सुरमा की गोद में सिर रखकर लेट गई; सुरमा ने सिर झुकाकर कोमल हाथों से उसके घने बालों को सहलाना शुरू कर दिया। इस तरह कुछ समय बीत गया। दोनों के मुँह से एक भी शब्द नहीं निकला। विभा की आँखों से एक-एक बूँद आँसू गिर रहे थे और सुरमा धीरे-धीरे उन्हें पोंछ रही थी।
2
विभा और बसंत राय का हंसी-मज़ाक
बहुत देर बाद जब शाम हो आई तो विभा धीरे-धीरे उठ बैठी और आँखों के आँसू पोंछकर थोड़ा मुस्कुराई। उस हँसी का अर्थ था— "आज मैंने भी क्या बचपना किया है!" फिर मुँह फेरकर वहाँ से खिसक जाने की तैयारी करने लगी। सुरमा ने कुछ न कहकर उसका हाथ पकड़े रखा। पिछली बात को फिर से न उठाते हुए कहा, "विभा, सुना है, दादा महाशय आए हैं?"
विभा। "दादा महाशय आए हैं?"
सुरमा। "हाँ।"
विभा ने उत्सुकता से पूछा, "कब आए हैं?"
सुरमा। "लगभग चौथे पहर में।"
विभा। "अभी तक हमसे मिलने नहीं आए।"
विभा के मन में हल्का सा अभिमान जाग उठा। दादा महाशय पर अपने अधिकार को लेकर विभा बहुत सतर्क रहती थी। यहाँ तक कि एक दिन बसंत राय, उदयादित्य के साथ बहुत देर तक बातें करते रहे और विभा को अंतःपुर में तीन घड़ी तक प्रतीक्षा करवाई, और उससे मिलने बिलकुल नहीं गए। इस कारण विभा को इतना दुख हुआ था कि हालाँकि उसने इस बारे में कुछ कहा नहीं, फिर भी वह दादा महाशय से प्रसन्न मुख से बात नहीं कर पाई थी।
बसंत राय ने कमरे में प्रवेश करते ही हँसते-हँसते गाना शुरू कर दिया;—
"आज तुम्हें देखने आया हूँ बहुत दिनों के बाद!
डरो मत, सुखी रहो,
ज़्यादा देर नहीं रुकूँगा,
आया हूँ बस दो घड़ी के लिए!
बस तुम्हारा चेहरा देखूँगा,
तुम्हारी दो मीठी बातें सुनूँगा,
और आड़ से तुम्हारी हँसी देख, चला जाऊँगा दूसरे देश!"
गाना सुनकर विभा ने सिर झुकाकर हँस दिया। उसे बहुत खुशी हुई थी। इतनी ज़्यादा खुशी कहीं ज़ाहिर न हो जाए, यह सोचकर वह असहज हो रही थी।
सुरमा ने विभा का चेहरा ऊपर उठाकर कहा, "दादा महाशय, विभा की हँसी देखने के लिए तो आपको आड़ में नहीं जाना पड़ा?"
बसंत राय। "नहीं। विभा ने सोचा कि अगर थोड़ा हँसे बिना यह बूढ़ा यहाँ से टलेगा नहीं, तो चलो थोड़ा हँस ही दिया जाए। इस डायन की मंशा मैं खूब समझता हूँ, मुझे भगाने की तरकीब है! लेकिन इतनी जल्दी ऐसा नहीं हो रहा। जब आया हूँ तो अच्छी तरह सताकर जाऊँगा, ताकि जब तक दोबारा मुलाकात न हो, याद रहे!"
सुरमा ने हँसकर कहा, "देखिए दादा महाशय, विभा ने मेरे कान में कहा कि अगर याद दिलाना ही आपका इरादा है, तो जितना सताया है, वही काफी है, अब और नया सताने की ज़रूरत नहीं है।"
यह बात सुनकर बसंत राय को बड़ा आनंद आया। वह हँसने लगे।
विभा झेंपकर बोल उठी, "नहीं, मैंने कभी यह बात नहीं कही। मैंने तो कुछ कहा ही नहीं।"
सुरमा ने कहा, "दादा महाशय, आपकी मनोकामना तो पूरी हो गई! आप हँसी देखना चाहते थे, वह देख ली, बातें सुनना चाहते थे, वह भी सुनवा दीं, तो अब दूसरे देश जाइए।"
बसंत राय। "नहीं भाई, यह तो नहीं कर सका! मैं कोई पंद्रह गाने और एक सिर पके बाल लाया हूँ, उन सब का हिसाब-किताब किए बिना नहीं जा सकता!"
विभा अब और नहीं रह सकी, हँस पड़ी और बोली, "दादा महाशय, आपके सिर पर तो आधे ही बाल बचे हैं!"
दादा महाशय का इरादा सफल हुआ। बहुत दिनों के बाद पहली मुलाकात में विभा का मुँह खुलवाने के लिए कुछ प्रयास की आवश्यकता होती है, लेकिन दादा महाशय के सामने एक बार विभा का मुँह खुल जाए तो उसे बंद करवाने के लिए उससे भी ज़्यादा प्रयास की ज़रूरत पड़ती है। लेकिन दादा महाशय के अलावा और किसी के भी सामने किसी भी हालत में विभा का मुँह नहीं खुलता।
बसंत राय अपनी टकल पर हाथ फेरते-फेरते बोले, "अरे भाई, वह भी एक ज़माना था! जिस दिन बसंत राय के सिर पर घने बाल थे, उस दिन क्या मैं इतना पैदल चलकर तुम्हारी खुशामद करने आता? एक बाल भी पकता तो तुम जैसी पाँच सुंदरियाँ उसे उखाड़ने के लिए उम्मीदवार बन जातीं और उत्साह में दस काले बाल भी उखाड़ फेंकतीं!"
विभा ने गंभीर स्वर में पूछा, "अच्छा दादा महाशय, जब आपके सिर पर घने बाल थे, तब क्या आप अभी से ज़्यादा अच्छे दिखते थे?"
मन ही मन विभा को इस बारे में गहरा संदेह था। दादा महाशय की वह टकल, उनके बिना मूँछों वाले होंठों पर फैली चौड़ी मुस्कान, उनका पके आम जैसा भाव—उसने मन ही मन इन्हें बदलने की कोशिश की, पर किसी भी तरह से उसे अच्छा नहीं लगा। उसने देखा कि उस टकल के बिना उसके दादा महाशय किसी भी तरह जँचते नहीं। और अगर मूँछें जोड़ दी जाएँ, तो दादा महाशय का चेहरा बिलकुल खराब दिखने लगेगा। इतना खराब कि वह कल्पना करके ही अपनी हँसी नहीं रोक पाती थी। भला दादा महाशय के भी मूँछें! और दादा महाशय के सिर पर टकल नहीं!
बसंत राय ने कहा, "इस विषय में बहुत मतभेद है। मेरी नातिनें मेरी टकल देखकर मोहित होती हैं, उन्होंने मेरे बाल नहीं देखे। मेरी नानियाँ-दादियाँ मेरे घने बाल देखकर मोहित होती थीं, उन्होंने मेरी टकल नहीं देखी। और जिन्होंने दोनों देखे हैं, वे अभी तक कोई एक राय नहीं बना पाए हैं।"
विभा ने कहा, "लेकिन फिर भी दादा महाशय, जितनी टकल हो गई है, उससे ज़्यादा हुई तो और अच्छी नहीं लगेगी!"
3
विभा के दुख का कारण
सुरमा ने कहा, “दादा महाशय, गंजेपन की चर्चा बाद में होगी। अभी विभा के लिए कोई उपाय कीजिए!”
विभा जल्दी से बसंत राय के पास जाकर बोल उठी, “दादा महाशय—मैं आपके पके बाल निकाल देती हूँ।”
सुरमा: “मैं यह कह रही थी कि—”
विभा: “सुनिए तो दादा महाशय, आपके—”
सुरमा: “विभा, चुप रहो। मैं कह रही थी कि तुम एक बार जाकर—”
विभा: “दादा महाशय, आपके सिर में पके बालों के सिवा और कुछ है ही नहीं, अगर निकाल दूँगी तो पूरा सिर गंजा हो जाएगा!”
बसंत राय: “दीदी, अगर तुम मुझे बात नहीं सुनने दोगी, अगर मुझे परेशान करोगी, तो मैं राग हिंडोल अलापने लगूँगा।”
यह कहकर उन्होंने अपने छोटे-से सितार के कान ऐंठने शुरू कर दिए। विभा को राग हिंडोल से खास चिढ़ थी।
विभा बोली, “क्या सर्वनाश! तो फिर मैं भागती हूँ,” यह कहकर वह कमरे से बाहर चली गई।
तब सुरमा गंभीर होकर बोलीं, “विभा चुपचाप दिन-रात जो कष्ट अपने मन में सहती है, अगर उसका पता चल जाए तो शायद महाराजा के मन में भी दया आ जाए!”
“क्यों! क्यों! उसे क्या हुआ है!” यह कहकर अत्यंत आग्रह के साथ बसंत राय, सुरमा के पास जाकर बैठ गए।
सुरमा ने कहा, “साल भर में एक दिन भी दामादजी को न्योता भेजकर बुलाने की याद किसी को नहीं आती?”
बसंत राय ने सोचकर कहा, “बात तो ठीक ही है!”
सुरमा ने कहा, “भला बताइए, पति का ऐसा अनादर कितनी लड़कियाँ सह सकती हैं? विभा भली है, इसलिए किसी से कुछ नहीं कहती, मन ही मन में छिपकर रोती है।”
बसंत राय व्याकुल होकर बोल उठे, “मन ही मन में छिपकर रोती है?”
सुरमा: “आज दोपहर को मेरे पास कितना रो रही थी।”
बसंत राय: “विभा आज दोपहर को रो रही थी?”
सुरमा: “हाँ!”
बसंत राय: “अरे, उसे एक बार बुलाकर लाओ, मैं देखूँ तो!”
4
विभा के लिए बसंत राय की पहल
सुरमा विभा को पकड़कर ले आई। बसंत राय ने उसकी ठुड्डी पकड़कर कहा, “तू रोती क्यों है दीदी? जब तुझे कोई कष्ट होता है तो अपने दादा महाशय से क्यों नहीं कहती? तब मैं अपनी पूरी कोशिश करता? मैं अभी जाता हूँ, प्रताप को कहकर आता हूँ!”
विभा बोल उठी, “दादा महाशय, मैं आपके दोनों पैरों पड़ती हूँ, मेरे बारे में पिताजी से कुछ मत कहिएगा। दादा महाशय, मैं आपके पैरों पड़ती हूँ, मत जाइए!”
यह कहते-कहते बसंत राय बाहर चले गए; उन्होंने प्रतापादित्य के पास जाकर कहा, “तुमने अपने दामाद को बहुत दिनों से निमंत्रित नहीं किया है, इससे उसके प्रति घोर उपेक्षा प्रकट हो रही है। यशोर के स्वामी के दामाद का जितना सम्मान होना चाहिए, यदि उतना सम्मान उसे नहीं किया जाता, तो इसमें तुम्हारा ही अपमान है। इसमें गौरव की कोई बात नहीं है।”
प्रतापादित्य ने अपने चाचा की बात पर तनिक भी आपत्ति नहीं की। लोगों के साथ निमंत्रण-पत्र चंद्रद्वीप भेजने का हुक्म हुआ।
अंतःपुर में विभा और सुरमा के पास आकर बसंत राय ने बड़े उत्साह से सितार बजाना शुरू कर दिया।
“उदास मुख पर खिले हँसी, और नयनों को मिले ठंडक!”
विभा ने लज्जित होकर कहा, “दादा महाशय, क्या आपने पिताजी से मेरी सारी बातें कह दीं?” बसंत राय गीत गाते रहे,
“उदास मुख पर खिले हँसी, और नयनों को मिले ठंडक।
मलिन वस्त्र त्याग दे सखी, पहन ले आभरण।”
विभा ने सितार के तारों पर हाथ रखकर उसे बंद कर दिया और फिर से पूछा, “क्या आपने पिताजी से मेरी बात कही?”
तभी उदयादित्य के आठ वर्षीय छोटे भाई समरादित्य ने कमरे में झाँककर कहा, “ऐं, दीदी! दादा महाशय के साथ गपशप कर रही हो! मैं माँ को बताकर आता हूँ।”
“आओ, आओ, भाई आओ!” कहकर बसंत राय ने उसे पकड़ लिया।
राज-परिवार का यह विश्वास है कि बसंत राय और सुरमा ने मिलकर उदयादित्य का सर्वनाश कर दिया है। इसी कारण बसंत राय के आने पर खलबली मच जाती है। समरादित्य बसंत राय का हाथ छुड़ाने के लिए खींचतान करने लगा। बसंत राय ने उसे सितार देकर, उसे कंधे पर चढ़ाकर, उसे अपना चश्मा पहनाकर, दो घड़ी में ही ऐसा वश में कर लिया कि वह सारे दिन दादा महाशय के पीछे-पीछे घूमता रहा और लगातार सितार बजाकर उनके सितार के पाँच तार तोड़ दिए और मिज़राब छीनकर फिर वापस नहीं दी!
1
A Sad Conversation Between Surma and Vibha
Seeing Vibha’s sullen face, Surma could remain silent no longer. Putting an arm around her neck, she said, “Vibha, why are you so quiet? Why don't you say what is on your mind?”
Vibha replied softly, “What more is there for me to say?”
Surma said, “You haven’t seen him in a long time; it’s only natural that you miss him! Why don’t you write him a letter asking him to come? I will arrange for your brother to send it.”
The conversation concerned Vibha’s husband, Ramchandra Ray, the ruler of Chandradwip.
Lowering her head, Vibha began to speak. “If no one here respects him, if no one deems it necessary to summon him, then it is better he does not come. If he were to come of his own accord, I would forbid it. He is a king; why should he come to a place where he is not honored? In what way is he inferior to us that Father should insult him?” As she spoke, Vibha could no longer control herself; her face flushed red, and she burst into tears.
Surma drew Vibha’s face to her breast and, wiping her tears, said, “Alright, Vibha, if you were a man, what would you do? Would you refuse to go to your father-in-law’s house just because you didn’t receive an invitation?”
Vibha cried out, “No, I couldn't do that. If I were a man, I would go at once; I wouldn't think of honor or insult. But that doesn’t mean he should come unless he is invited with affection and respect!”
Vibha had never spoken so much at once. Today, overcome with emotion, she had said a great deal. Now, she began to feel a little embarrassed. I've said too much, she thought. And the way I said it is so mortifying! Gradually, her emotional turmoil subsided, and a heavy gloom slowly settled upon her. Hiding her face in her arm, Vibha laid her head in Surma’s lap. Surma bent down and began to gently run her fingers through Vibha's thick hair. A long time passed like this. Neither of them spoke a word. Tears fell, one by one, from Vibha’s eyes, and Surma gently wiped them away.
2
Vibha and Basanta Ray's Playful Banter
After a long time, as evening fell, Vibha slowly sat up, wiped her tears, and smiled slightly. The meaning of that smile was— “What childishness I have displayed today!” Gradually, she turned her face away and began to make an attempt to slip away. Surma, without a word, held her hand. Without bringing up their earlier conversation, she said, “Vibha, have you heard? Grand-uncle has arrived.”
Vibha. “Grand-uncle has arrived?”
Surma. “Yes.”
Vibha asked with eagerness, “When did he arrive?”
Surma. “Around the fourth prahar of the day.”
Vibha. “But he still hasn't come to see us.”
A slight sense of hurt arose in Vibha’s heart. Vibha was extremely protective of her claim on her grand-uncle. In fact, one day Basanta Ray had spoken with Udayaditya for a long time and made Vibha wait in the inner quarters for three dandas without coming to see her at all; Vibha had been so distressed by this that, although she said nothing about it, she could not speak to her grand-uncle with a cheerful face.
Entering the room, Basanta Ray began to sing with a laugh;—
“Today I've come to see you after many long days!
Have no fear, be happy,
I won't stay for long,
I've come for just a short while!
I'll only see your face,
Hear a few sweet words,
And after seeing your smile from afar, I'll go off to another land!”
Hearing the song, Vibha lowered her face and smiled. She was very delighted. She felt flustered, lest her great delight be discovered.
Surma lifted Vibha's face and said, “Grand-uncle, you didn't have to go into hiding to see Vibha's smile, did you?”
Basanta Ray. “No. Vibha thought, ‘If the old man won't leave unless I smile, then I might as well smile a little.’ I understand this witch's intentions perfectly—it's a trick to get rid of me! But that's not happening so soon. If I've come, I'll torment you properly, so you'll remember me until we meet again!”
Surma laughed and said, “Look Grand-uncle, Vibha whispered in my ear that if your intention is to be remembered, then the torment you've already caused is quite enough; there's no need to start afresh.”
Hearing this, Basanta Ray was greatly amused. He began to laugh.
Embarrassed, Vibha exclaimed, “No, I never said that! I didn't say anything at all.”
Surma said, “Grand-uncle, your wish has been fulfilled! You wanted to see a smile, and you saw it. You wanted to hear her speak, and I made you hear it. So now, you can go off to another land.”
Basanta Ray. “No, my dear, I can't do that! I've brought about fifteen songs and a head full of grey hair, and I can't leave until I've presented them all!”
Vibha could no longer contain herself; she laughed out loud and said, “But you have barely half a head of hair, Grand-uncle!”
The grand-uncle's scheme was successful. It takes some effort to get Vibha to open up in conversation after a long time, but once she starts talking to her grand-uncle, it takes even more effort to make her stop. However, Vibha never opens up like this to anyone else, under any circumstances.
Stroking his bald head, Basanta Ray said, “Ah, those days are gone, my dear! When Basanta Ray had a full head of hair, do you think I would have walked all this way to flatter you? If a single hair turned grey, five beauties like you would have been candidates to pluck it, and in their eagerness, they would have plucked out ten black ones as well!”
Vibha asked in a serious tone, “Tell me, Grand-uncle, when you had a full head of hair, did you look better than you do now?”
In her mind, Vibha had grave doubts about this. She tried to mentally change her grand-uncle’s bald pate, his broad smile on lips untouched by a mustache, his mellow, ripe-mango-like demeanor, but it didn't seem right at all. She saw that her grand-uncle simply wouldn't look right without his bald head. And adding a mustache would make his face look absolutely awful. So awful, in fact, that she couldn't keep from smiling when she imagined it. Her grand-uncle with a mustache! Her grand-uncle without a bald head!
Basanta Ray said, “There are many differences of opinion on that matter. My granddaughters are captivated by my bald head; they have never seen my hair. My grandmothers were captivated by my abundant hair; they had never seen my bald head. Those who have seen both have not yet been able to make up their minds.”
Vibha said, “But still, Grand-uncle, if you were to become any balder than you already are, it wouldn't look good!”
3
The Reason for Vibha's Sorrow
Surma said, “Dada Mahashay, we can discuss your baldness later. For now, you must find a solution for Vibha!”
Vibha quickly went up to Basanta Ray and exclaimed, “Dada Mahashay—let me pluck your grey hairs.”
Surma: “What I was saying is—”
Vibha: “Listen, Dada Mahashay, your—”
Surma: “Vibha, be quiet. What I was saying is, if you would just go once—”
Vibha: “Dada Mahashay, there is nothing but grey hair on your head! If I pluck them, you will go completely bald!”
Basanta Ray: “If you won't let me listen, Didi, if you keep bothering me, then I shall begin to play Raag Hindol.”
Saying this, he began to twist the tuning pegs of his small sitar. Vibha had a particular dislike for Raag Hindol.
Vibha said, “What a disaster! In that case, I'm fleeing,” and went out of the room.
Then Surma, becoming serious, said, “If he knew the pain Vibha carries in her heart day and night in silence, I believe even the Maharaja's heart would feel pity!”
“Why! Why! What has happened to her!” saying this, Basanta Ray went and sat near Surma with great eagerness.
Surma said, “Does no one even remember to send an invitation to her husband for a single day in the year?”
Basanta Ray, after thinking, said, “That's true indeed!”
Surma said, “Tell me, how many women can bear such disrespect towards their husband? Vibha is a good soul, so she says nothing to anyone; she hides it in her heart and weeps.”
Basanta Ray, becoming distressed, exclaimed, “She hides it in her heart and weeps?”
Surma: “She was weeping so much with me this afternoon.”
Basanta Ray: “Vibha was weeping this afternoon?”
Surma: “Yes!”
Basanta Ray: “Alas, call her here at once, let me see her!”
4
Basanta Ray's Initiative on Vibha's Behalf
Surma brought Vibha to him. Basanta Ray took her by the chin and said, “Why are you crying, Didi? When you are in any trouble, why don’t you tell your Dada Mahashay? Then I could do what I can, couldn’t I? I’ll go right now and tell Pratap!”
Vibha cried out, “Dada Mahashay, I fall at your feet, please don’t say anything to Father about me. Dada Mahashay, I fall at your feet, don’t go!”
Saying this, Basanta Ray went out. He went to Pratapaditya and said, “You have not invited your son-in-law for a long time, which shows extreme neglect towards him. If the son-in-law of the Lord of Jessore is not shown as much respect as he deserves, then the dishonor is yours. There is no glory in it at all.”
Pratapaditya did not object in the slightest to his uncle’s words. The order was given to send an invitation letter with an entourage to Chandradwip.
Returning to Vibha and Surma in the women's quarters, a flurry of sitar playing began from Basanta Ray.
“Let a smile bloom on this sad face, and soothe these two eyes!”
Embarrassed, Vibha said, “Dada Mahashay, did you tell Father everything about me?” Basanta Ray continued to sing,
“Let a smile bloom on this sad face, and soothe these two eyes.
Shed your dreary clothes, my friend, and wear your jewels.”
Vibha placed a hand on the sitar's strings to silence it and asked again, “Did you tell Father about me?”
Just then, Udayaditya’s youngest brother, eight-year-old Samaraditya, peeked into the room and exclaimed, “Aha, Didi! Gossiping with Dada Mahashay! I’m going to tell Mother on you.”
“Come, come, brother, come!” said Basanta Ray, catching hold of him.
The royal family believed that Basanta Ray and Surma together had brought about Udayaditya’s ruin. For this reason, whenever Basanta Ray arrived, everyone would go on high alert. Samaraditya began to pull and tug to free himself from Basanta Ray’s grasp. But by giving him the sitar, putting him on his shoulders, and letting him wear his spectacles, Basanta Ray had so charmed him within moments that the boy followed his Dada Mahashay around all day, constantly strumming the sitar, breaking five of its strings, and snatching away the mezrab, which he refused to give back!
1
スルマとビバの悲しい会話
ビバの沈んだ顔を見て、スルマはもうじっとしていられなかった。彼女を抱き寄せて言った。「ビバ、どうして黙っているの? 心に思うことがあるなら、話してくれないかしら?」
ビバは静かに言った。「私に、これ以上何を話すことがあるというの?」
スルマは言った。「もう長いことあの方にお会いしていないのだから、寂しいのは当然でしょう! 来てくださるようにお手紙を書いたらどう? あなたのお兄様にお願いして、送る手はずを整えてあげるわ。」
話題はビバの夫、チャンドラドウィープの領主ラーマチャンドラ・ライについてであった。
ビバはうつむいて語り始めた。「ここで誰もあの方を気にかけず、誰もあの方をお呼びする必要があると考えないのなら、いらっしゃらない方がましですわ。もしご自分からいらっしゃることがあっても、私がお止めします。あの方は王様ですもの、歓迎されない場所にどうしていらっしゃる必要がありましょう? 私たちよりどこが劣っているというので、父上があの方を侮辱なさるのですか?」 言いながら、ビバはもうこらえきれなくなり、顔を赤らめて泣き出してしまった。
スルマはビバの顔を胸に抱き、涙を拭ってやりながら言った。「ねえ、ビバ、もしあなたが男だったらどうした? 招待状がないからといって、お舅様の家に行かなかったかしら?」
ビバは声を上げた。「いいえ、そんなことはできませんでしたわ。もし私が男だったら、今すぐにでも行ったでしょう。名誉も侮辱も何も考えはしませんでした。でもだからといって、あの方を丁重にお呼びしないのに、どうしていらっしゃるというのですか?」
ビバはこれほど多くを語ったことはなかった。今日、感情の昂ぶりのままに多くのことを話してしまったのだ。今になって少し恥ずかしくなってきた。「言い過ぎてしまった」。そう思った。それに、あんな言い方をしてしまって、とても恥ずかしい。次第に心の興奮は静まり、心のうちに重苦しい倦怠感がゆっくりと圧し掛かってきた。ビバは腕に顔をうずめ、スルマの膝に頭を預けて横になった。スルマは頭を垂れ、その豊かな髪を優しい手でそっと梳いてやった。しばらくそんな時間が過ぎた。二人の口からは一言も発せられない。ビバの目からはぽつりぽつりと涙がこぼれ、スルマがそれを静かに拭ってやっていた。
2
ビバとバサンタ・ライの軽口
長い時間が経ち、夕暮れが迫る頃、ビバはゆっくりと起き上がり、涙を拭ってかすかに微笑んだ。その微笑みには、「今日はなんて子供じみたことをしてしまったんだろう!」という意味が込められていた。そして、顔をそむけ、その場を去ろうと逃げるような素振りを見せ始めた。スルマは何も言わずに彼女の手を握った。先ほどの話には一切触れず、こう言った。「ビバ、聞いた?大おじ様がいらっしゃったのよ」
ビバ「大おじ様がいらっしゃったの?」
スルマ「ええ」
ビバは熱心に尋ねた。「いついらっしゃったの?」
スルマ「四半日が過ぎた頃よ」
ビバ「まだ私たちの顔を見に来てくださらないなんて」
ビバの心に、わずかなすねた気持ちが芽生えた。ビバは大おじ様を独り占めすることにかけては、非常に用心深い。かつて、バサンタ・ライがウダヤディティヤと長時間話し込み、奥御殿で三時間も待たせた挙句、一度も顔を見せずに帰ってしまったことがあった。その時ビバはあまりに辛く、その件について何も言いはしなかったものの、晴れやかな顔で大おじ様と話すことができなかったのだ。
バサンタ・ライは部屋に入ってくるなり、笑いながら歌い始めた。――
「今日は久しぶりにお前に会いに来たよ!
心配するな、元気でな、
長くはいないよ、
ほんの少しの間のことさ!
ただお前の顔を見て、
甘い言葉を二言三言聞いて、
陰から笑顔を覗いたら、よその国へ旅立つからさ!」
歌を聞いてビバはうつむいて微笑んだ。彼女はとても喜んでいた。その喜びようがばれてしまうのが恥ずかしくて、そわそわしていた。
スルマはビバの顔を持ち上げて言った。「大おじ様、ビバの笑顔を見るために、物陰に隠れる必要はありませんでしたね?」
バサンタ・ライ「いやいや。ビバは、どうしても笑わないとこの爺さんが帰らないというなら、仕方ないから少し笑ってやろう、と思ったに違いない。この小悪魔の魂胆はよく分かっている。わしを追い払うための策略だな!だが、そう簡単にはいかんぞ。来たからには、とことん困らせていってやる。次に会うまで覚えていられるようにな!」
スルマは笑って言った。「ねえ、大おじ様、ビバが私の耳元で囁きましたわ。『覚えておいてもらうのが目的なら、今まで困らせられただけで十分です。これ以上新しく困らせてもらう必要はありません』ですって」
その言葉を聞いてバサンタ・ライはたいそう面白がり、声を出して笑った。
ビバはきまり悪くなって叫んだ。「いいえ、そんなこと絶対に言っていません!私は何も言っていません!」
スルマは言った。「大おじ様、あなたの願いは叶いましたね!笑顔が見たいと言ってそれを見て、話が聞きたいと言ってそれも聞かせました。さあ、もうよその国へお行きなさいな」
バサンタ・ライ「いや、おまえさん、それはできんな!わしは十五曲ほどの歌と、頭いっぱいの白髪を持ってきた。そのすべてを披露し終えるまでは、帰るわけにはいかないのだ!」
ビバはもうこらえきれず、笑い出して言った。「だって大おじ様、髪の毛なんて半分もないじゃありませんか!」
大おじ様の狙いは成功した。久しぶりに会った最初の会話でビバの口を開かせるには、少し工夫が必要だった。しかし、大おじ様の前で一度口を開いたビバを黙らせるには、またそれ以上の工夫が必要になる。だが、大おじ様以外の誰の前では、どんな状況でもビバの口は開かないのだった。
バサンタ・ライは禿げ頭を撫でながら言った。「そんな時代もあったのだよ、おまえさん!このバサンタ・ライの頭に髪がふさふさしていた頃は、こんなに歩いてお前たちのご機嫌伺いに来たりしたものか?白髪が一本でもできようものなら、お前たちのような美人が五人も、その髪を抜こうと志願してきたものだ。そして、その熱意のあまり、黒い髪を十本も抜いてしまったりな!」
ビバは真面目な声で尋ねた。「ねえ、大おじ様、髪がふさふさだった頃は、今よりもっと素敵だったの?」
内心、ビバはそのことに大きな疑いを抱いていた。大おじ様の禿げ頭、口髭のない唇に広がる大きな笑顔、熟したマンゴーのような円熟した雰囲気を、心の中で変えてみようとしたが、どうしてもしっくりこなかった。彼女には、あの禿げ頭がなければ大おじ様はちっとも似合わないと思えた。そして、口髭を付け加えてみると、大おじ様の顔はまったくひどい見栄えになってしまう。あまりにひどくて、それを想像すると笑いをこらえることができなかった。大おじ様に口髭だなんて!大おじ様が禿げていないだなんて!
バサンタ・ライは言った。「その点については、多くの意見の相違がある。わしの孫娘たちは、わしの禿げ頭を見てうっとりするが、彼女たちはわしの髪を見たことがない。わしの祖母たちは、わしの豊かな髪を見てうっとりしたが、彼女たちはわしの禿げ頭を見たことがない。両方を見た者たちは、未だにどちらが良いか意見を決めかねているようだ」
ビバは言った。「でも、だからといって大おじ様、今以上に禿げたら、もう素敵には見えませんよ!」
3
ビバの悲しみの理由
スルマは言った。「大おじ様、禿げのお話は後にして。今はビバのこと、何とかしてあげてください!」
ビバは急いでバサンタ・ライのそばへ行き、声を上げた。「大おじ様、私が白髪を抜いてあげますわ」
スルマ「私が言いたいのは…」
ビバ「ねえ、大おじ様、あなたの…」
スルマ「ビバ、黙りなさい。私が言いたいのは、あなた、一度行って…」
ビバ「大おじ様、あなたの頭には白髪しか残っていませんから、抜いてしまったら、全部禿げちゃいますわ!」
バサンタ・ライ「わしに話を聞かせないのなら、邪魔をするのなら、ラーガ・ヒンドールを奏で始めるぞ」
そう言うと、彼は小ぶりなシタールの糸巻きをひねり始めた。ビバはラーガ・ヒンドールが特に嫌いだった。
ビバは「なんてこと!それなら私は逃げますわ」と言って部屋から出ていった。
そこでスルマは真剣な面持ちで言った。「ビバが黙って昼も夜も心に抱えている苦しみを知れば、きっとマハラジャでさえお心を痛めることでしょう!」
「なぜだ!どうしてだ!あの子に何があったのだ!」そう言って、バサンタ・ライは非常に熱心な様子でスルマのそばに寄って座った。
スルマは言った。「一年のうちたった一日でも、ビバの旦那様を招待しようと誰もお考えにならないのでしょうか?」
バサンタ・ライは考えて言った。「確かにその通りだ!」
スルマ「夫に対してこのようなないがしろな扱いを、どれほどの娘が耐えられるでしょう?ビバは人が良いですから、誰にも何も言わず、心の中で隠れて泣いているのです」
バサンタ・ライは心をかき乱され、声を上げた。「心の中で隠れて泣いていると?」
スルマ「今日の午後、私のところでずいぶん泣いていました」
バサンタ・ライ「ビバが、今日の午後に泣いていたと?」
スルマ「はい!」
バサンタ・ライ「ああ、あの子を一度呼んできておくれ、わしが会おう!」
4
ビバのためのバサンタ・ライの計らい
スルマがビバを連れてきた。バサンタ・ライは彼女の顎に手をやり、言った。「どうして泣いているんだい、お嬢ちゃん?何か辛いことがあったら、どうしてこの大おじ様に言わないんだ?そうすれば、わしにできる限りのことをしてやるのに。よし、今すぐ行って、プラタープに話してこよう!」
ビバは叫んだ。「大おじ様、どうかお願いします!私のことで父に何も言わないでください。大おじ様、お願いです、行かないで!」
そう言う間にもバサンタ・ライは出て行き、プラタパディティヤのもとへ行って言った。「お前が婿殿を久しく招待しないのは、彼を甚だしく軽んじていることになる。ジョソールの王の婿として受けるべき敬意を彼が受けないのであれば、それはお前自身の不名誉になる。何の誉れにもならぬことだ。」
プラタパディティヤは叔父の言葉に一言も反論しなかった。従者を付けて招待状をチャンドラドウィープに送るよう命令が下された。
奥御殿では、ビバとスルマのもとに戻ったバサンタ・ライが、陽気にシタールを弾き始めた。
「悲しい顔に笑みが咲き、その両眼が癒されますように!」
ビバは恥ずかしそうに言った。「大おじ様、父に私のことを全部話してしまったのですか?」バサンタ・ライは歌い続けた。
「悲しい顔に笑みが咲き、その両眼が癒されますように。
友よ、地味な衣を脱ぎ捨て、晴れ着をまといなさい。」
ビバはシタールの弦に手を置いて演奏を止めさせ、再び尋ねた。「父に私のことを話したのですか?」
その時、ウダヤディティヤの弟で八歳のサマラディティヤが部屋をのぞき込み、叫んだ。「あっ、お姉様!大おじ様とおしゃべりしてる!お母様に言いつけに行くからね。」
「おいで、おいで、坊や!」と言って、バサンタ・ライは彼を捕まえた。
王家では、バサンタ・ライとスルマが一緒になってウダヤディティヤを破滅させたと信じられていた。そのため、バサンタ・ライが来ると、皆が警戒態勢に入るのだった。サマラディティヤはバサンタ・ライの手から逃れようと、もがき始めた。しかしバサンタ・ライは、彼にシタールを与え、肩車をし、自分の眼鏡をかけさせ、たちまちのうちに彼を手なずけてしまった。サマラディティヤは一日中大おじ様の後をついて回り、絶えずシタールをかき鳴らして弦を五本も切ってしまい、ミズラーブを奪い取って返さなかった!