1 ভাগবতের ষড়যন্ত্র ও মিথ্যা আনুগত্য

ভাগবতের অবস্থা বড় ভাল নহে। সে চুপচাপ বসিয়া কয়দিন ধরিয়া অনবরত তামাক ফুঁকিতেছে। ভাগবত যখন মনোযোগের সহিত তামাক ফুঁকিতে থাকে, তখন প্রতিবেশীদের আশঙ্কার কারণ উপস্থিত হয়। কারণ, তাহার মুখ দিয়া কালো কালো ধোঁয়া পাকাইয়া পাকাইয়া উঠিতে থাকে, তাহার মনের মধ্যেও তেমনি একটা কৃষ্ণবর্ণ পাকচক্রের কারখানা চলিতে থাকে। কিন্তু ভাগবত লোকটা বড় ধর্ম্মনিষ্ঠ। সে কাহারো সঙ্গে মেশে না এই যা তাহার দোষ, হরিনামের মালা লইয়া থাকে, অধিক কথা কয় না, পরচর্চ্চায় থাকে না। কিন্তু কেহ যখন ঘোরতর বিপদে পড়ে, তখন ভাগবতের মত পাকা পরামর্শ দিতে আর কেহ পারে না। ভাগবত কখন ইচ্ছা করিয়া পরের অনিষ্ট করে না, কিন্তু আর কেহ যদি তাহার অনিষ্ট করে, তবে ভাগবত ইহজন্মে তাহা কখন ভোলে না, তাহার শোধ তুলিয়া তবে সে হুঁকা নামাইয়া রাখে। এক কথায়—সংসারে যাহাকে ভাল বলে, ভাগবত তাহাই! পাড়ার লোকেরাও তাহাকে মান্য করে, দুরবস্থায় ভাগবত ধার করিয়াছিল, কিন্তু ঘটি বাটি বেচিয়া তাহা শোধ করিয়াছে।

একদিন সকালে সীতারাম আসিয়া ভাগবতকে জিজ্ঞাসা করিল “দাদা কেমন আছ হে?”

ভাগবত কহিল, “ভাল না।”

সীতারাম কহিল, “কেন বল দেখি?”

ভাগবত কিয়ৎক্ষণ তামাক টানিয়া সীতারামের হাতে হুঁকা দিয়া কহিল “বড় টানাটানি পড়িয়াছে।”

সীতারাম কহিল “বটে? তা কেমন করিয়া হইল?”

ভাগবত মনে মনে কিঞ্চিৎ রুষ্ট হইয়া কহিল, “কেমন করিয়া হইল? তোমাকেও তাহা বলিতে হইবে না কি? আমি ত জানিতাম আমারো যে দশা তোমারো সে দশা!”

সীতারাম কিছু অপ্রস্তুত হইয়া কহিল, “না, হে, আমি সে কথা কহিতেছি না, আমি বলিতেছি তুমি ধার কর না কেন?”

ভাগবত কহিল, “ধার করিলে ত শুধিতে হইবে। শুধিব কি দিয়া? বিক্রি করিবার ও বাঁধা দিবার জিনিষ বড় অধিক নাই।”

সীতারাম সগর্ব্বে কহিল, “তোমার কত টাকা ধার চাই, আমি দিব।”

ভাগবত কহিল, “বটে? তা এতই যদি তোমার টাকা হইয়া থাকে যে, এক মুঠা জলে ফেলিয়া দিলেও কিছু না আসে যায়, তা হইলে আমাকে গোটা দশেক দিয়া ফেল। কিন্তু আগে হইতে বলিয়া রাখিতেছি, আমার শুধিবার শক্তি নাই!”

সীতারাম কহিল, “সে জন্যে, দাদা, তোমাকে ভাবিতে হইবে না।”

সীতারামের কাছে এইরূপ সাহায্যপ্রাপ্তির আশা পাইয়া ভাগবত বন্ধুতার উচ্ছ্বাসে যে নিতান্ত উচ্ছ্বসিত হইয়া উঠিয়াছিল, তাহা নহে। আর এক ছিলিম তামাক সাজিয়া চুপ করিয়া বসিয়া টানিতে লাগিল।

সীতারাম আস্তে আস্তে কথা পাড়িল—“দাদা, রাজার অন্যায় বিচারে আমাদের ত অন্ন মারা গেল।”

ভাগবত কহিল—“কই, তোমার ভাবে ত তাহা বোধ হইল না!” সীতারামের বদান্যতা ভাগবতের বড় সহ্য হয় নাই, মনে মনে কিছু চটিয়াছিল!

সীতারাম কহিল, “না, ভাই কথার কথা বলিতেছি! আজ না যায় ত দশদিন পরে ত যাইবে।”

ভাগবত কহিল—“তা, রাজা যদি অন্যায় বিচার করেন ত আমরা কি করিতে পারি।”

সীতারাম কহিল, “আহা যুবরাজ যখন রাজা হইবে, তখন যশোরে রামরাজত্ব হইবে ততদিন যেন আমরা বাঁচিয়া থাকি।”

ভাগবত চটিয়া গিয়া কহিল, “ওসব কথায় আমাদের কাজ কি ভাই? তুমি বড়মানুষ লোক, তুমি নিজের ঘরে বসিয়া রাজা উজীর মার, সে শোভা পায়—আমি গরীব মানুষ, আমার অতটা ভরসা হয় না!”

সীতারাম কহিল, “রাগ কর কেন দাদা? কথাটা মন দিয়া শোনই না কেন?” বলিয়া চুপি চুপি কি বলিতে লাগিল।

ভাগবত মহাক্রুদ্ধ হইয়া বলিল, “দেখ, সীতারাম আমি তোমাকে স্পষ্ট করিয়া বলিতেছি, আমার কাছে অমন কথা তুমি মুখে উচ্চারণ করিও না।”

সীতারাম সে দিন ত চলিয়া গেল। ভাগবত ভারি মনোযোগ দিয়া সমস্ত দিন কি একটা ভাবিতে লাগিল, তাহার পরদিন সকাল বেলায় সে নিজে সীতারামের কাছে গেল। সীতারামকে কহিল, “কাল যে কথাটা বলিয়াছিলে বড় পাকা কথা বলিয়াছিলে।”

সীতারাম গর্ব্বিত হইয়া উঠিয়া কহিল, “কেমন দাদা বলি নাই!”

ভাগবত কহিল, “আজ সেই বিষয়ে তোমার সঙ্গে পরামর্শ করিতে আসিয়াছি।”

সীতারাম আরো গর্ব্বিত হইয়া উঠিল। কয়দিন ধরিয়া ক্রমিক পরামর্শ চলিতে লাগিল।

পরামর্শ করিয়া যাহা স্থির হইল, তাহা এই, একটা জাল দরখাস্ত লিখিতে হইবে, যেন যুবরাজ প্রতাপাদিত্যের নামে সম্রাট-বিদ্রোহিতার অভিযোগ করিয়া নিজে রাজ্য পাইবার জন্য দরখাস্ত করিতেছেন। তাহাতে যুবরাজের শীল-মোহর মুদ্রিত থাকিবে। রুক্মিণী যে আংটিটি লইয়া আসিয়াছে, তাহাতে যুবরাজের নাম মুদ্রাঙ্কিত শীল আছে, অতএব কাজ অনেকটা অগ্রসর হইয়া আছে।

পরামর্শমত কাজ হইল। একখানা জাল দরখাস্ত লেখা হইল, তাহাতে যুবরাজের নাম মুদ্রিত রহিল। নির্ব্বোধ সীতারামের উপর নির্ভর করা যায় না, অতএব স্থির হইল, ভাগবত নিজে দরখাস্ত লইয়া দিলীশ্বরের হস্তে সমর্পণ করিবে।

ভাগবত সেই দরখাস্তখানি লইয়া দিল্লীর দিকে না গিয়া প্রতাপ আদিত্যের কাছে গেল। মহারাজকে কহিল, “উদয়াদিত্যের এক ভৃত্য এই দরখাস্তটি লইয়া দিল্লীর দিকে যাইতেছিল, আমি কোন সূত্রে জানিতে পারি। ভৃত্যটা দেশ ছাড়িয়া পলাইয়া গেছে, দরখাস্তটি লইয়া আমি মহারাজার নিকট আসিতেছি।” ভাগবত সীতারামের নাম করে নাই। দরখাস্ত পাঠ করিয়া প্রতাপাদিত্যের কি অবস্থা হইল তাহা আর বলিবার আবশ্যক করে না। ভাগবতের পুনর্ব্বার রাজবাড়িতে চাক্‌রী হইল।

1 ভাগবতের ষড়যন্ত্র ও মিথ্যা আনুগত্য

ভাগবতের অবস্থা খুব ভালো নয়। সে চুপচাপ বসে বেশ কয়েকদিন ধরে অনবরত তামাক খাচ্ছে। ভাগবত যখন মনোযোগ দিয়ে তামাক টানতে থাকে, তখন প্রতিবেশীদের মনে আশঙ্কার জন্ম হয়। কারণ, তার মুখ দিয়ে যেমন কালো ধোঁয়া পাকিয়ে পাকিয়ে ওঠে, তার মনের মধ্যেও তেমনই একটা কালো ষড়যন্ত্রের চক্রান্ত চলতে থাকে। তবে ভাগবত লোকটি বেশ ধার্মিক। সে কারও সঙ্গে মেশে না, এটাই যা তার দোষ। সে হরিনামের মালা জপ করে, বেশি কথা বলে না, পরচর্চায় থাকে না। কিন্তু কেউ যখন ঘোর বিপদে পড়ে, তখন ভাগবতের মতো পাকা পরামর্শ আর কেউ দিতে পারে না। ভাগবত কখনো ইচ্ছে করে পরের ক্ষতি করে না, কিন্তু অন্য কেউ যদি তার ক্ষতি করে, তাহলে সে এ জীবনে তা কখনো ভোলে না, তার প্রতিশোধ নিয়েই তবে হুঁকো নামিয়ে রাখে। এক কথায়, সংসারে যাকে ভালো মানুষ বলা হয়, ভাগবত সে-ই! পাড়ার লোকেরাও তাকে মান্য করে। দুরাবস্থায় সে ধার করেছিল, কিন্তু ঘটিবাটি বিক্রি করে তা শোধও দিয়েছে।

একদিন সকালে সীতারাম এসে ভাগবতকে জিজ্ঞেস করল, “দাদা, কেমন আছো?”

ভাগবত বলল, “ভালো না।”

সীতারাম বলল, “কেন বলো তো?”

ভাগবত কিছুক্ষণ তামাক টেনে সীতারামের হাতে হুঁকোটা দিয়ে বলল, “খুব টানাটানিতে পড়েছি।”

সীতারাম বলল, “তাই নাকি? তা কেমন করে হলো?”

ভাগবত মনে মনে কিছুটা রেগে গিয়ে বলল, “কেমন করে হলো? তোমাকেও তা বলে দিতে হবে নাকি? আমি তো জানতাম, আমার যা অবস্থা, তোমারও সেই একই অবস্থা!”

সীতারাম একটু অপ্রস্তুত হয়ে বলল, “না হে, আমি সে কথা বলছি না। আমি বলছি, তুমি ধার করছ না কেন?”

ভাগবত বলল, “ধার করলে তো শোধ করতে হবে। শোধ করব কী দিয়ে? বিক্রি করার বা বাঁধা দেওয়ার মতো জিনিসপত্র তো আর বেশি নেই।”

সীতারাম গর্বের সাথে বলল, “তোমার কত টাকা ধার চাই, আমি দেব।”

ভাগবত বলল, “তাই নাকি? তা তোমার যদি এতই টাকা হয়ে থাকে যে, একমুঠো জলে ফেলে দিলেও কিছু আসে যায় না, তাহলে আমাকে গোটা দশেক টাকা দিয়েই ফেলো। কিন্তু আগেই বলে রাখছি, আমার শোধ করার ক্ষমতা নেই!”

সীতারাম বলল, “সেজন্য দাদা, তোমাকে ভাবতে হবে না।”

সীতারামের কাছে এমন সাহায্যের আশা পেয়ে ভাগবত যে বন্ধুত্বের উচ্ছ্বাসে খুব একটা উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠেছিল, তা নয়। সে আরও এক ছিলিম তামাক সেজে চুপ করে বসে টানতে লাগল।

সীতারাম আস্তে আস্তে কথা পাড়ল, “দাদা, রাজার অন্যায় বিচারে আমাদের তো অন্ন মারা গেল।”

ভাগবত বলল, “কই, তোমার ভাব দেখে তো তা মনে হলো না!” সীতারামের এই উদারতা ভাগবতের ঠিক সহ্য হয়নি, মনে মনে সে কিছুটা রেগে গিয়েছিল।

সীতারাম বলল, “না ভাই, কথার কথা বলছি! আজ না যাক, দশদিন পরে তো যাবেই।”

ভাগবত বলল, “তা, রাজা যদি অন্যায় বিচার করেন, তবে আমরা কী করতে পারি?”

সীতারাম বলল, “আহা, যুবরাজ যখন রাজা হবেন, তখন যশোরে রামরাজত্ব হবে। ততদিন যেন আমরা বেঁচে থাকি।”

ভাগবত রেগে গিয়ে বলল, “ওসব কথায় আমাদের কাজ কী ভাই? তুমি বড়লোক মানুষ, নিজের ঘরে বসে রাজা-উজির মারো, সেটা তোমাকেই শোভা পায়। আমি গরিব মানুষ, আমার অত সাহস হয় না!”

সীতারাম বলল, “রাগ করছ কেন দাদা? কথাটা মন দিয়ে শোনই না?” এই বলে সে চুপিচুপি কী একটা বলতে লাগল।

ভাগবত প্রচণ্ড রেগে গিয়ে বলল, “দেখো সীতারাম, আমি তোমাকে স্পষ্ট করে বলছি, আমার কাছে এমন কথা মুখেও এনো না।”

সীতারাম সেদিন চলে গেল। ভাগবত খুব মনোযোগ দিয়ে সারাদিন কী একটা ভাবতে লাগল। পরদিন সকালে সে নিজেই সীতারামের কাছে গেল। সীতারামকে বলল, “কাল যে কথাটা বলেছিলে, খুব পাকা কথা বলেছিলে।”

সীতারাম গর্বিত হয়ে উঠে বলল, “কেমন দাদা, বলিনি!”

ভাগবত বলল, “আজ সেই বিষয়েই তোমার সঙ্গে পরামর্শ করতে এসেছি।”

সীতারাম আরও গর্বিত হয়ে উঠল। কয়েকদিন ধরে একটানা পরামর্শ চলতে লাগল।

পরামর্শ করে যা স্থির হলো, তা হলো—একটি জাল দরখাস্ত লিখতে হবে। তাতে এমনভাবে লেখা থাকবে, যেন যুবরাজ প্রতাপাদিত্যের বিরুদ্ধে সম্রাটের কাছে বিদ্রোহের অভিযোগ করে নিজে রাজ্য পাওয়ার জন্য আবেদন করছেন। সেই দরখাস্তে যুবরাজের সীলমোহর দেওয়া থাকবে। রুক্মিণী যে আংটিটা নিয়ে এসেছে, তাতে যুবরাজের নাম খোদাই করা সীলমোহর আছে, কাজেই কাজটা অনেকটাই এগিয়ে আছে।

পরামর্শ মতোই কাজ হলো। একটা জাল দরখাস্ত লেখা হলো, তাতে যুবরাজের নামের মোহর দেওয়া হলো। বোকা সীতারামের উপর ভরসা করা যায় না, তাই ঠিক হলো, ভাগবত নিজে দরখাস্ত নিয়ে দিল্লীশ্বরের হাতে তুলে দেবে।

ভাগবত সেই দরখাস্তটা নিয়ে দিল্লীর দিকে না গিয়ে প্রতাপাদিত্যের কাছে গেল। মহারাজকে বলল, “উদয়াদিত্যের এক ভৃত্য এই দরখাস্তটি নিয়ে দিল্লীর দিকে যাচ্ছিল, আমি কোনো সূত্রে তা জানতে পারি। ভৃত্যটা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে, আর দরখাস্তটি নিয়ে আমি মহারাজের কাছে এসেছি।” ভাগবত সীতারামের নাম করল না। দরখাস্তটা পড়ে প্রতাপাদিত্যের কী অবস্থা হলো, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ভাগবতের আবার রাজবাড়িতে চাকরি হয়ে গেল।

1 भागवत का षड्यंत्र और झूठी वफ़ादारी

भागवत की हालत बहुत अच्छी नहीं है। वह चुपचाप बैठकर कई दिनों से लगातार हुक्का पी रहा है। जब भागवत ध्यान लगाकर हुक्का पीने लगता है, तो पड़ोसियों के लिए चिंता का कारण बन जाता है। क्योंकि, जैसे उसके मुँह से काला-काला धुआँ चक्कर काट-काटकर उठता है, वैसे ही उसके मन के अंदर भी एक काले रंग के षड्यंत्र का कारखाना चलने लगता है। लेकिन भागवत बहुत धर्मनिष्ठ व्यक्ति है। वह किसी से घुलता-मिलता नहीं, बस यही उसका दोष है, हरिनाम की माला जपता रहता है, ज्यादा बात नहीं करता, और परनिंदा में नहीं पड़ता। लेकिन जब कोई बड़ी मुसीबत में पड़ता है, तो भागवत जैसी पक्की सलाह और कोई नहीं दे सकता। भागवत कभी जानबूझकर किसी का बुरा नहीं करता, लेकिन अगर कोई उसका बुरा करे, तो भागवत इस जन्म में उसे कभी नहीं भूलता, उसका बदला चुकाकर ही वह हुक्का नीचे रखता है। एक शब्द में कहें तो - संसार में जिसे भला आदमी कहते हैं, भागवत वही है! मुहल्ले के लोग भी उसका सम्मान करते हैं, बुरे वक्त में भागवत ने कर्ज लिया था, लेकिन अपने लोटे-कटोरे बेचकर उसे चुका दिया था।

एक दिन सुबह सीताराम ने आकर भागवत से पूछा, "दादा, कैसे हो?"

भागवत ने कहा, "अच्छा नहीं।"

सीताराम ने कहा, "क्यों, बताओ तो?"

भागवत ने कुछ देर हुक्का पीकर सीताराम के हाथ में हुक्का देते हुए कहा, "बड़ी तंगी आ पड़ी है।"

सीताराम ने कहा, "सच में? यह कैसे हो गया?"

भागवत मन ही मन थोड़ा नाराज़ होकर बोला, "कैसे हो गया? यह भी तुम्हें बताना पड़ेगा क्या? मैं तो जानता था कि जैसी मेरी दशा है, वैसी ही तुम्हारी दशा है!"

सीताराम कुछ सकपकाकर बोला, "नहीं, रे, मैं वह बात नहीं कह रहा, मैं कह रहा हूँ कि तुम उधार क्यों नहीं ले लेते?"

भागवत ने कहा, "उधार लूँगा तो चुकाना भी पड़ेगा। चुकाऊँगा किस चीज़ से? बेचने और गिरवी रखने के लिए ज़्यादा सामान नहीं है।"

सीताराम ने गर्व से कहा, "तुम्हें कितने रुपये का उधार चाहिए, मैं दूँगा।"

भागवत ने कहा, "सच में? तो अगर तुम्हारे पास इतने ही पैसे हो गए हैं कि एक मुट्ठी पानी में फेंक देने से भी कुछ फर्क नहीं पड़ता, तो मुझे दस-एक दे डालो। लेकिन पहले ही बता दे रहा हूँ, मुझमें चुकाने की शक्ति नहीं है!"

सीताराम बोला, "उसके लिए, दादा, तुम्हें चिंता करने की ज़रूरत नहीं है।"

सीताराम से इस तरह की सहायता की उम्मीद पाकर भागवत दोस्ती के उत्साह में बहुत ज़्यादा उत्साहित हो गया हो, ऐसा नहीं था। उसने एक और चिलम तंबाकू भरकर चुपचाप बैठकर पीना शुरू कर दिया।

सीताराम ने धीरे-धीरे बात छेड़ी—"दादा, राजा के अन्यायपूर्ण फैसले से तो हमारी रोजी-रोटी ही छिन गई।"

भागवत ने कहा—"कहाँ, तुम्हारे हाव-भाव से तो ऐसा नहीं लगता!" सीताराम की उदारता भागवत को ज़्यादा सहन नहीं हो रही थी, वह मन ही मन कुछ चिढ़ा हुआ था!

सीताराम बोला, "नहीं, भाई, यूँ ही कह रहा हूँ! आज नहीं तो दस दिन बाद तो जाएगी ही।"

भागवत ने कहा—"तो, अगर राजा अन्यायपूर्ण फैसला करते हैं तो हम क्या कर सकते हैं।"

सीताराम बोला, "आह! जब युवराज राजा बनेंगे, तब यशोर में रामराज्य होगा, तब तक हम जीवित रहें।"

भागवत चिढ़कर बोला, "उन सब बातों से हमारा क्या काम, भाई? तुम बड़े आदमी हो, तुम अपने घर में बैठकर राजा-वज़ीर के खेल खेलो, वह तुम्हें शोभा देता है - मैं गरीब आदमी हूँ, मेरी इतनी हिम्मत नहीं होती!"

सीताराम बोला, "गुस्सा क्यों करते हो दादा? बात को ध्यान से सुनो तो सही?" कहकर वह धीरे-धीरे कुछ कहने लगा।

भागवत बहुत क्रोधित होकर बोला, "देखो, सीताराम, मैं तुमसे साफ-साफ कह रहा हूँ, मेरे सामने ऐसी बात मुँह से भी मत निकालना।"

सीताराम उस दिन तो चला गया। भागवत बड़ी तल्लीनता से पूरे दिन कुछ सोचता रहा, और अगले दिन सुबह वह खुद सीताराम के पास गया। सीताराम से कहा, "कल जो बात कही थी, बड़ी पक्की बात कही थी।"

सीताराम गर्व से फूलकर बोला, "क्यों दादा, मैंने कहा नहीं था!"

भागवत बोला, "आज उसी विषय पर तुमसे सलाह करने आया हूँ।"

सीताराम और भी गर्वित हो उठा। कई दिनों तक लगातार सलाह-मशविरा चलता रहा।

सलाह करके जो तय हुआ, वह यह था: एक जाली दरख्वास्त लिखनी होगी, मानो युवराज प्रतापादित्य के नाम पर सम्राट-विद्रोह का आरोप लगाकर खुद राज्य पाने के लिए अर्जी दे रहे हों। उस पर युवराज की मुहर छपी होगी। रुक्मिणी जो अँगूठी लेकर आई है, उसमें युवराज के नाम की मुहर है, इसलिए काम काफी आगे बढ़ चुका है।

सलाह के अनुसार काम हुआ। एक जाली दरख्वास्त लिखी गई, जिसमें युवराज का नाम मुद्रित था। मूर्ख सीताराम पर भरोसा नहीं किया जा सकता, इसलिए यह तय हुआ कि भागवत खुद दरख्वास्त लेकर दिल्लीश्वर के हाथों में सौंपेगा।

भागवत वह दरख्वास्त लेकर दिल्ली की ओर न जाकर प्रतापादित्य के पास गया। महाराज से कहा, "उदयादित्य का एक सेवक यह अर्जी लेकर दिल्ली की ओर जा रहा था, मुझे किसी तरह पता चल गया। वह सेवक देश छोड़कर भाग गया है, और मैं यह अर्जी लेकर महाराजा के पास आया हूँ।" भागवत ने सीताराम का नाम नहीं लिया। दरख्वास्त पढ़कर प्रतापादित्य की क्या हालत हुई, यह कहने की ज़रूरत नहीं है। भागवत की राजमहल में फिर से नौकरी लग गई।

1 Bhagavat's Conspiracy and Feigned Loyalty

Bhagavat's situation was not very good. For several days, he sat quietly, incessantly smoking his hookah. When Bhagavat smoked with such concentration, it was a cause for alarm among his neighbors. Because, just as dark smoke coiled and rose from his mouth, a workshop of similarly dark, coiling schemes would be at work inside his mind. But Bhagavat was a very devout man. His only fault was that he did not mix with anyone; he kept to his rosary of Hari's name, did not speak much, and did not engage in gossip. But when someone fell into grave danger, no one else could give advice as sound as Bhagavat's. Bhagavat never willingly harmed another, but if someone harmed him, he would never forget it in this lifetime; he would only set down his hookah after taking his revenge. In short—in worldly terms, Bhagavat was what you would call a good man! The neighborhood people also respected him. Bhagavat had taken loans during his hard times, but he had paid them off by selling his pots and pans.

One morning, Sitaram came and asked Bhagavat, “Brother, how are you?”

Bhagavat replied, “Not well.”

Sitaram said, “Why do you say that?”

After taking a few puffs of his hookah, Bhagavat handed it to Sitaram and said, “I've fallen on very hard times.”

Sitaram said, “Really? How did that happen?”

Feeling a little annoyed, Bhagavat said, “How did that happen? Do I really need to tell you? I thought I was in the same boat as you!”

Sitaram, somewhat embarrassed, said, “No, brother, that's not what I meant. I was saying, why don't you take a loan?”

Bhagavat said, “If I take a loan, I'll have to repay it. What will I repay it with? I don't have many things left to sell or pawn.”

Sitaram said proudly, “How much money do you need? I will give it to you.”

Bhagavat said, “Is that so? Well, if you have so much money that throwing a handful into the water wouldn't make a difference, then give me ten or so. But I'm telling you beforehand, I don't have the means to repay it!”

Sitaram said, “You don't have to worry about that, brother.”

Receiving the hope of such help from Sitaram, Bhagavat was not exactly overcome with an outpouring of friendship. He packed another bowl of tobacco, sat down quietly, and began to smoke.

Sitaram slowly brought up the subject— “Brother, the king's unjust decision has destroyed our livelihood.”

Bhagavat said, “Really? Your demeanor doesn't suggest that!” Sitaram's generosity did not sit well with Bhagavat; he was feeling rather irritated!

Sitaram said, “No, brother, I'm just making conversation! If not today, then in ten days, it will be gone.”

Bhagavat said, “Well, if the king makes an unjust decision, what can we do?”

Sitaram said, “Ah, when the Yubaraj becomes king, it will be the reign of Ram in Jessore. May we live to see that day.”

Bhagavat, getting angry, said, “What business do we have with such talk, brother? You are a big shot, you can sit in your house and play at deposing kings and ministers, that suits you—I am a poor man, I don't have such courage!”

Sitaram said, “Why are you getting angry, brother? Just listen to what I have to say.” And he began to whisper something.

Bhagavat, becoming furious, said, “Look, Sitaram, I am telling you plainly, do not utter such words to me.”

Sitaram left for the day. Bhagavat, with great concentration, spent the whole day thinking about something. The next morning, he himself went to Sitaram. He said to Sitaram, “That idea you mentioned yesterday was a very solid one.”

Sitaram, puffing up with pride, said, “Didn't I tell you, brother!”

Bhagavat said, “I have come today to consult with you on that matter.”

Sitaram became even more proud. For several days, they consulted continuously.

What they decided after consultation was this: a forged petition had to be written, as if the Yubaraj were lodging a complaint of treason against Pratapaditya with the Emperor in order to get the kingdom for himself. It would be printed with the Yubaraj's seal. The ring that Rukmini had brought had a seal with the Yubaraj's name engraved on it, so the work was already well advanced.

The plan was put into action. A forged petition was written and stamped with the Yubaraj's name. The foolish Sitaram could not be trusted, so it was decided that Bhagavat himself would take the petition and deliver it into the hands of the Dillishwar.

Taking the petition, Bhagavat went not toward Delhi, but to Pratapaditya. He said to the Maharaj, “A servant of Udayaditya was taking this petition toward Delhi. I found out about it through certain channels. The servant has fled the country, and I have brought the petition to Maharaj.” Bhagavat did not mention Sitaram's name. There is no need to describe what state Pratapaditya was in after reading the petition. Bhagavat got his job back at the palace.

1 バーガヴァタの陰謀と偽りの忠誠

バーガヴァタの暮らし向きは、あまり良いものではなかった。彼は黙って座り込み、何日も絶え間なく水パイプをふかしていた。バーガヴァタが熱心に水パイプをふかし始めると、近隣の者たちは不安を覚えるのが常だった。なぜなら、彼の口から黒い煙が渦を巻いて立ち上るように、彼の心の中でも同じように、黒々とした陰謀が渦巻いているのだった。しかし、バーガヴァタという男は信心深い。誰とも交わろうとしないのが欠点といえば欠点だが、聖なる御名の数珠を手放さず、口数も少なく、他人の噂話もしない。だが、誰かが大変な苦境に陥った時、バーガヴァタほど的確な助言ができる者はいなかった。バーガヴァタは自ら進んで他人に害をなすことはないが、もし誰かが彼に害をなせば、この世にいる限り決して忘れず、その仕返しを果たすまでは水パイプを手放さないのだ。要するに、世間で言うところの善人、それがバーガヴァタなのである。近所の人々も彼を尊敬していた。困窮した際に借金をしたこともあったが、鍋釜を売ってでも返済した。

ある朝、シタラムがやって来てバーガヴァタに尋ねた。「大将、元気かい?」

バーガヴァタは言った。「良くないね。」

シタラムは言った。「どうしてだい?」

バーガヴァタはしばらく水パイプを吸ってから、それをシタラムの手に渡し言った。「暮らしがひどく逼迫している。」

シタラムは言った。「そうかい? それで、どうしてそうなったんだい?」

バーガヴァタは内心少し腹を立てて言った。「どうしてそうなっただと? それをお前にまで説明しなきゃならんのか? 俺の境遇はお前の境遇と同じだと思っていたがな!」

シタラムは少し気まずそうに言った。「いやいや、そういう話じゃないんだ。借金をしないのかって言ってるんだよ。」

バーガヴァタは言った。「借りたら返さねばならん。何で返すんだ? 売ったり質に入れたりする物は、そう多くは残っていない。」

シタラムは得意げに言った。「いくら借りたいんだい、俺が貸してやるよ。」

バーガヴァタは言った。「ほう? そんなに金があるというのか。一握りの金を水に投げ捨てても痛くも痒くもないというのなら、十枚ほど俺にくれ。だが、先に言っておくが、俺に返すあてはないぞ!」

シタラムは言った。「そのことなら、大将、心配しなくていい。」

シタラムからこのような援助の申し出を受けても、バーガヴァタは友情のあまり感激に打ち震えるというわけではなかった。もう一服タバコを詰め、黙って座り吸い始めた。

シタラムはゆっくりと話を切り出した。「大将、王様の不正な裁きで、俺たちの食い扶持はなくなったも同然だ。」

バーガヴァタは言った。「そうかい、お前の様子からはそうは見えんがな!」シタラムの気前の良さは、バーガヴァタにはどうにも我慢ならず、内心少し立腹していたのだ。

シタラムは言った。「いや、兄貴、言葉のあやだよ! 今日はどうにかなっても、十日後にはどうなるか。」

バーガヴァタは言った。「まあ、王様が不正な裁きをするなら、俺たちに何ができる。」

シタラムは言った。「ああ、若君様が王になられたら、ジョソールはラーマの治世のようになるだろうに。それまで俺たちが生きていられればな。」

バーガヴァタは腹を立てて言った。「そんな話は俺たちには関係ないだろう、兄弟? お前さんは大物だから、自分の家で王様だの大臣だのと言っていればいい。そりゃ見栄えもするだろう。俺は貧乏人だ、そんな大それたことは考えられん!」

シタラムは言った。「怒るなよ、大将。まあ、話だけでも聞いてくれよ。」そう言って、小声で何かを話し始めた。

バーガヴァタは激怒して言った。「おい、シタラム、はっきり言っておく。俺の前で二度とそのようなことを口にするな。」

その日、シタラムは帰って行った。バーガヴァタは一日中、真剣な面持ちで何かを考え込んでいた。そして翌朝、彼の方からシタラムの元を訪れた。シタラムに言った。「昨日言っていた話だが、なかなか良い考えだったな。」

シタラムは得意満面で言った。「どうだい、大将、言っただろう!」

バーガヴァタは言った。「今日はお前と、その件で相談に来た。」

シタラムはさらに得意になった。何日にもわたって、二人の相談が続いた。

相談の結果、決まったのは次のことだった。偽の嘆願書を作成する。あたかも王太子が、父プラタパディティヤを皇帝への反逆罪で告発し、自らが王国を得ようと嘆願しているかのように見せかけるのだ。それには王太子の印章が押されていなければならない。ルクミニーが持ってきた指輪には王太子の名の印章が刻まれている。したがって、仕事はかなり進んでいた。

計画通りに事が進められた。偽の嘆願書が作成され、そこには王太子の名が押印された。愚かなシタラムに頼ることはできない。そこで、バーガヴァタ自身が嘆願書を持ってデリー皇帝の手に渡すことになった。

バーガヴァタはその嘆願書を手に取ると、デリーへは向かわず、プラタパディティヤの元へ向かった。マハラジャに言った。「ウダヤディティヤのある家来がこの嘆願書を持ってデリーへ向かおうとしておりましたのを、ある筋から知りました。家来は国を捨てて逃亡し、嘆願書は私がマハラジャの元へとお持ちした次第です。」バーガヴァタはシタラムの名を口にしなかった。嘆願書を読んだプラタパディティヤがどうなったか、もはや語るまでもないだろう。バーガヴァタは再び王宮での職を得た。