1 মঙ্গলার কাছে সীতারামের ঋণপ্রার্থনা

বিধবা রুক্মিণীর (মঙ্গলার) কিঞ্চিৎ নগদ টাকা আছে। সেই টাকা খাটাইয়া সুদ লইয়া সে জীবিকা নির্ব্বাহ করে। রূপ এবং রূপা এই দুয়ের জোরে সে অনেককে বশে রাখিয়াছে। সীতারাম সৌখীন লোক, অথচ ঘরে এক পয়সার সংস্থান নাই, এইজন্য রুক্মিণীর রূপ ও রূপা উভয়ের প্রতিই তাহার আন্তরিক টান আছে। যে দিন ঘরে হাঁড়ি কাঁদিতেছে, সে দিন সীতারামকে দেখ, দিব্য নিশ্চিন্ত মুখে হাতে লাঠি লইয়া পাতলা চাদর উড়াইয়া বুক ফুলাইয়া রাস্তা দিয়া চলিতেছে, মঙ্গলার বাড়ি যাইবে। পথে যদি কেহ জিজ্ঞাসা করে, “কেমন হে সীতারাম, সংসার কেমন চলিতেছে?” সীতারাম তৎক্ষণাৎ অম্লানবদনে বলে, “বেশ চলিতেছে! কাল আমাদের ওখানে নিমন্ত্রণ রহিল!” সীতারামের বড় বড় কথাগুলা কিছুমাত্র কমে নাই, বরঞ্চ অবস্থা যতই মন্দ হইতেছে কথার পরিমাণ লম্বা ও চওড়ার দিকে ততই বাড়িতেছে। সীতারামের অবস্থাও বড় মন্দ হইতে চলিল। সম্প্রতি এমন হইয়া দাঁড়াইয়াছে যে, পিসা তাঁহার অনারারি পিসা-বৃত্তি পরিত্যাগ করিয়া স্বদেশে ফিরিয়া যাইতে মানস করিতেছেন।

আজ টাকার বিশেষ আবশ্যক হইয়াছে, সীতারাম রুক্মিণীর বাড়িতে আসিয়াছে। হাসিয়া, কাছে ঘেঁসিয়া কহিল—

“ভিক্ষা যদি দেবে রাই,

(আমার) সোনা রূপায় কাজ নাই,

(আমি) প্রাণের দায়ে এসেছি হে,

মান রতন ভিক্ষা চাই।”

না ভাই, ছড়াটা ঠিক খাটিল না। মান রতনে আমার আপাতত তেমন আবশ্যক নাই, যদি আবশ্যক হয় পরে দেখা যাইবে; আপাতত কিঞ্চিৎ সোনা রূপা পাইলে কাজে লাগে!”

রুক্মিণী সহসা বিশেষ অনুরাগ প্রকাশ করিয়া কহিল, “তা’ তোমার যদি আবশ্যক হইয়া থাকে ত তোমাকে দিব না ত কাহাকে দিব?”

সীতারাম তাড়াতাড়ি কহিল, “নাঃ—আবশ্যক এমনিই কি! তবে কি জান ভাই, আমার মার কাছে টাকা থাকে, আমি নিজের হাতে টাকা রাখি না। আজ সকালে মা যোড়াঘাটায় তাঁর জামাইয়ের বাড়ি গিয়াছেন। টাকা বাহির করিয়া দিতে ভুলিয়া গেছেন। তা আমি কালই শোধ করিয়া দিব!”

মঙ্গলা মনে মনে হাসিয়া কহিল, “তোমার অত তাড়াতাড়ি করিবার আবশ্যক কি? যখন সুবিধা হয় শোধ দিলেই হইবে। তোমার হাতে দিতেছি, এ ত আর জলে ফেলিয়া দিতেছি না?” জলে ফেলিয়া দিলেও বরঞ্চ পাইবার সম্ভাবনা আছে, সীতারামের হাতে দিলে সে সম্ভাবনা টুকুও নাই, এই প্রভেদ।

2 সীতারামের প্রেম নিবেদন

মঙ্গলার এইরূপ অনুরাগের লক্ষণ দেখিয়া সীতারামের ভালবাসা একেবারে উথলিয়া উঠিল। সীতারাম রসিকতা করিবার উদ্যোগ করিল। বিনা টাকায় নবাবী করা ও বিনা হাস্যরসে রসিকতা করা সীতারামের স্বভাবসিদ্ধ। সে যাহা মুখে আসে তাহাই বলে, ও আর কাহারো অপেক্ষা না করিয়া নিজেই হাসিতে থাকে। তাহার হাসি দেখিয়া হাসি পায়! সে যখন রাজবাড়ির প্রহরী ছিল, তখন আন্যান্য প্রহরীদের সহিত সীতারামের প্রায় মাঝে মঝে দাঙ্গাহাঙ্গামা বাধিবার উদ্যোগ হইত, তাহার প্রধান কারণ, সীতারাম যাহাকে মজা মনে করিত, আর সকলে তাহাকে মজা মনে করিত না। হনুমানপ্রসাদ তেওয়ারি পাহারা দিতে দিতে ঢুলিতে ছিল, সীতারাম আস্তে আস্তে তাহার পশ্চাতে গিয়া হঠাৎ পিঠে এমন এক কিল মারিল যে, সেই হাড়ভাঙ্গা রসিকতার জ্বালায় তাহার পিঠ ও পিত্ত এক সঙ্গে জ্বলিয়া উঠিল। সীতারাম উচ্চৈঃস্বরে হাসিতে লাগিল, কিন্তু হনুমানপ্রসাদ সে হাসিতে যোগ না দিয়া, কিলের সহিত হাস্যরসের প্রভেদ ও করুণ রসের সম্বন্ধ উদাহরণ দ্বারা সীতারামকে অতিশয় স্পষ্ট করিয়া বুঝাইয়া দিয়াছিল। সীতারামের রসিকতার এমন আরো শত শত গল্প এইখানে উদ্ধৃত করা যাইতে পারে।

পূর্ব্বেই বলা হইয়াছে সীতারামের অনুরাগ সহসা উথলিত হইয়া উঠিল, সে রুক্মিণীর কাছে ঘেঁসিয়া প্রীতিভরে কহিল, ‘“তুমি আমার সুভদ্রা, আমি তোমার জগন্নাথ।”

রুক্মিণী কহিল, “মর্ মিন্সে। সুভদ্রা যে জগন্নাথের বোন!”

সীতারাম কহিল, “তাহা কেমন করিয়া হইবে? তাহা হইলে সুভদ্রাহরণ হইল কি করিয়া!”

রুক্মিণী হাসিতে লাগিল, সীতারাম বুক ফুলাইয়া কহিল, “না, তা হইবে না, হাসিলে হইবে না, জবাব দাও! সুভদ্রা যদি বোনই হইল তবে সুভদ্রা হরণ হইল কি করিয়া।”

সীতারামের বিশ্বাস যে, সে এমন প্রবল যুক্তি প্রয়োগ করিয়াছে যে, ইহার উপরে আর কথা কহিবার যো নাই।

রুক্মিণী অতি মিষ্টস্বরে কহিল, “দূর মূর্খ।”

সীতারাম গলিয়া গিয়া কহিল, “মূর্খই ত বটে তোমার কাছে আমি ত ভাই হারিয়াই আছি, তোমার কাছে আমি চিরকাল মূর্খ!” সীতারাম মনে মনে ভাবিল, খুব জবাব দিয়াছি, বেশ কথা যোগাইয়াছে।

আবার কহিল, “আচ্ছা ভাই, কথাটা যদি তোমার পছন্দ না হইল, কি বলিয়া ডাকিলে তুমি খুসী হইবে, আমাকে বল!”

রুক্মিণী হাসিয়া কহিল, “বল প্রাণ।”

সীতারাম কহিল, “প্রাণ!”

রুক্মিণী কহিল, “বল প্রিয়ে।”

সীতারাম কহিল, “প্রিয়ে!”

রুক্মিণী কহিল, “বল প্রিয়তমে!”

সীতারাম কহিল, “প্রিয়তমে!”

রুক্মিণী কহিল, “বল প্রাণপ্রিয়ে।”

সীতারাম কহিল, “প্রাণপ্রিয়ে!”

“আচ্ছা ভাই প্রাণ-প্রিয়ে, তুমি যে টাকাটা দিলে, তাহার সুদ কত লইবে?”

রুক্মিণী রাগ করিল, মুখ বাঁকাইয়া কহিল, “যাও যাও, এই বুঝি তোমার ভালবাসা! সুদের কথা কোন্ মুখে জিজ্ঞাসা করিলে?”

সীতারাম আনন্দে উচ্ছ্বসিত হইয়া কহিল, “না না, সে কি হয়? আমি কি ভাই সত্য বলিতেছিলাম? আমি যে ঠাট্টা করিতেছিলাম, এইটে আর বুঝিতে পারিলে না? ছি প্রিয়তমে!”

3 উদয়াদিত্যের শোকে রুক্মিণীর অনুপ্রবেশ

সীতারামের মায়ের কি রোগ হইল, জানি না, আজ কাল প্রায় মাঝে মাঝে সে জামাই-বাড়ি যাইতে লাগিল ও টাকা বাহির করিয়া দিবার বিষয়ে তাহার স্মরণশক্তি একেবারে বিলুপ্ত হইয়া গেল! কাজেই সীতারামকে প্রায় মাঝে মাঝে রুক্মিণীর কাছে আসিতে হইত। আজ কাল দেখা যায় সীতারাম ও রুক্মিণীতে মিলিয়া অতি গোপনে কি একটা বিষয় লইয়া পরামর্শ চলিতেছে। অনেকদিন পরামর্শের পর সীতারাম কহিল, “আমার ভাই অত ফন্দি আসে না। এ বিষয়ে ভাগবতের সাহায্য না লইলে চলিবে না।”

সেই দিন সন্ধ্যাবেলায় অত্যন্ত ঝড় হইতেছে। রাজবাড়ির ইতস্তত দুম্‌দাম্ করিয়া দরজা পড়িতেছে। বাতাস এমন বেগে বহিতেছে যে, বাগানের বড় বড় গাছের শাখা হেলিয়া ভূমিস্পর্শ করিতেছে। বন্যার মুখে ভগ্ন চূর্ণ গ্রামপল্লীর মত, ঝড়ের মুখে ছিন্নভিন্ন মেঘ ছুটিয়া চলিয়াছে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ, ঘন ঘন গর্জ্জন। উদয়াদিত্য চারিদিকের দ্বার রুদ্ধ করিয়া ছোট একটি মেয়েকে কোলে লইয়া বসিয়া আছেন। ঘরের প্রদীপ নিভাইয়া দিয়াছেন। ঘর অন্ধকার। মেয়েটি কোলের উপর ঘুমাইয়া পড়িয়াছে। সুরমা যখন বাঁচিয়াছিল, এই মেয়েটিকে অত্যন্ত ভালবাসিত। সুরমার মৃত্যুর পর ইহার মা ইহাকে আর রাজবাড়িতে পাঠায় নাই। অনেক দিনের পর সে আজ একবার রাজবাড়িতে বেড়াইতে আসিয়াছিল। সহসা উদয়াদিত্যকে দেখিয়া “কাকা” “কাকা” বলিয়া সে তাঁহার কোলের উপরে ঝাঁপাইয়া পড়িয়াছিল। উদয়াদিত্য তাহাকে বুকে চাপিয়া ধরিয়া তাঁহার শয়নগৃহে লইয়া আসিয়াছেন। উদয়াদিত্যের মনের ভাব এই যে, “সুরমা এই মেয়েটিকে যদি একবার দেখিতে আসে! ইহাকে যে সে বড় ভালবাসিত! এত স্নেহের ছিল, সে কি না আসিয়া থাকিতে পারিবে!” মেয়েটি একবার জিজ্ঞাসা করিল, “কাকা, কাকীমা কোথায়?”

উদয়াদিত্য রুদ্ধকণ্ঠে কহিলেন—“একবার তাঁহাকে ডাক্ না।” মেয়েটি “কাকী মা কাকী মা” করিয়া ডাকিতে লাগিল। উদয়াদিত্যের মনে হইল, ঐ যেন কে সাড়া দিল। দূর হইতে ঐ যেন কে বলিয়া উঠিল, “এই যাই রে!” যেন স্নেহের মেয়েটির করুণ আহ্বান শুনিয়া স্নেহময়ী আর থাকিতে পারিল না, তাহাকে বুকে তুলিয়া লইতে আসিতেছে। বালিকা কোলের উপর ঘুমাইয়া পড়িল। উদয়াদিত্য প্রদীপ নিভাইয়া দিলেন। একটি ঘুমন্ত মেয়েকে কোলে করিয়া অন্ধকার ঘরে একাকী বসিয়া রহিলেন। বাহিরে হুহু করিয়া বাতাস বহিতেছে। ইতস্তত খট্ খট্ করিয়া শব্দ হইতেছে। ঐ না পদশব্দ শুনা গেল? পদশব্দই বটে। বুক এমন দুড়দুড় করিতেছে যে, শব্দ ভাল শুনা যাইতেছে না। দ্বার খুলিয়া গেল, ঘরের মধ্যে দীপালোক প্রবেশ করিল। ইহাও কি কখন সম্ভব! দীপ হস্তে চুপি চুপি ঘরে একটি স্ত্রীলোক প্রবেশ করিল। উদয়াদিত্য চক্ষু মুদ্রিত করিয়া কহিলেন, “সুরমা কি?” পাছে সুরমাকে দেখিলে সুরমা চলিয়া যায়। পাছে সুরমা না হয়।

রমণী প্রদীপ রাখিয়া কহিল, “কেন গা, আমাকে কি আর মনে পড়ে না?”

বজ্রধ্বনি শুনিয়া যেন স্বপ্ন ভাঙিল। উদয়াদিত্য চমকিয়া উঠিয়া চক্ষু চাহিলেন। মেয়েটি জাগিয়া উঠিয়া কাকা বলিয়া কাঁদিয়া উঠিল। তাহাকে বিছানার উপরে ফেলিয়া উদয়াদিত্য উঠিয়া দাঁড়াইলেন। কি করিবেন কোথায় যাইবেন যেন ভাবিয়া পাইতেছেন না। রুক্মিণী কাছে আসিয়া মুখ নাড়িয়া কহিল, “বলি, এখন মনে ত পড়িবেই না। তবে এককালে কেন আশা দিয়া আকাশে তুলিয়াছিলে?” উদয়াদিত্য চুপ করিয়া দাঁড়াইয়া রহিলেন, কিছুতেই কথা কহিতে পারিলেন না।

তখন রুক্মিণী তাহার ব্রহ্মাস্ত্র বাহির করিল। কাঁদিয়া কহিল, “আমি তোমার কি দোষ করিয়াছি, যাহাতে তোমার চক্ষুশূল হইলাম। তুমিই ত আমার সর্ব্বনাশ করিয়াছ। যে রমণী যুবরাজকে একদিন দেহ প্রাণ বিকাইয়াছে সে আজ ভিখারিণীর মত পথে পথে বেড়াইতেছে এ পোড়া কপালে বিধাতা কি এই লিখিয়াছিল?”

এইবার উদয়াদিত্যের প্রাণে গিয়া আঘাত লাগিল। সহসা তাহার মনে হইল আমিই বুঝি ইহার সর্ব্বনাশ করিয়াছি। অতীতের কথা ভুলিয়া গেলেন। ভুলিয়া গেলেন যৌবনের প্রমত্ত অবস্থায় রুক্মিণী কি করিয়া পদে পদে তাঁহাকে প্রলোভন দেখাইয়াছে, প্রতিদিন তাঁহার পথের সম্মুখে জাল পাতিয়া বসিয়াছিল, আবর্ত্তের মত তাঁহাকে তাহার দুই মোহময় বাহু দিয়া বেষ্টন করিয়া ঘুরাইয়া ঘুরাইয়া মুহূর্ত্তের মধ্যে পাতালের অন্ধকারে নিক্ষেপ করিয়াছিল—সে সমস্তই ভুলিয়া গেলেন। দেখিলেন রুক্মিণীর বসন মলিন, ছিন্ন; রুক্মিণী কঁদিতেছে! করুণহৃদয় উদয়াদিত্য কহিলেন, “তোমার কি চাই?”

রুক্মিণী কহিল, “আমার আর কিছু চাই না, আমার ভালবাসা চাই। আমি ঐ বাতায়নে বসিয়া তোমার বুকে মুখ রাখিয়া তোমার সোহাগ পাইতে চাই। কেন গা, সুরমার চেয়ে কি এ মুখ কালো? যদি কালোই হইয়া থাকে ত সে তোমার জন্যই পথে পথে ভ্রমণ করিয়া। আগে ত কালো ছিল না।”

এই বলিয়া রুক্মিণী উদয়াদিত্যের শয্যার উপর বসিতে গেল। উদয়াদিত্য আর থাকিতে পারিলেন না। কাতর হইয়া বলিয়া উঠিলেন, “ও বিছানায় বসিও না, বসিও না।”

রুক্মিণী আহত ফণিনীর মত মাথা তুলিয়া বলিল, “কেন বসিব না?”

উদয়াদিত্য তাহার পথ রোধ করিয়া কহিলেন, “না ও বিছানার কাছে তুমি যাইও না! তুমি কি চাও আমি এখনি দিতেছি।”

রুক্মিণী কহিল, “আচ্ছা তোমার আঙুলের ঐ আংটিটি দাও।”

উদয়াদিত্য তৎক্ষণাৎ তাঁহার হাত হইতে আংটি খুলিয়া ফেলিয়া দিলেন। রুক্মিণী কুড়াইয়া লইয়া বাহির হইয়া গেল। মনে ভাবিল ডাকিনীর মন্ত্রমোহ এখনো দূর হয় নি, আরো কিছুদিন যাক, তাহার পর আমার মন্ত্র খাটিবে। রুক্মিণী চলিয়া গেলে উদয়াদিত্য শয্যার উপরে আসিয়া পড়িলেন। দুই বাহুতে মুখ ঢাকিয়া কাঁদিয়া কহিলেন, “কোথায়, সুরমা কোথায়! আজ আমার এ দগ্ধ বজ্রাহত হৃদয়ে শান্তি দিবে কে?”

1 মঙ্গলার কাছে সীতারামের ঋণপ্রার্থনা

বিধবা রুক্মিণীর (মঙ্গলার) কিছু নগদ টাকা আছে। সেই টাকা খাটিয়ে সুদ নিয়ে সে তার জীবিকা নির্বাহ করে। রূপ এবং অর্থ—এই দুইয়ের জোরে সে অনেককে নিজের বশে রেখেছে। সীতারাম একজন শৌখিন লোক, কিন্তু ঘরে তার এক পয়সাও নেই। এই কারণে রুক্মিণীর রূপ এবং অর্থ, উভয়ের প্রতিই তার আন্তরিক টান। যেদিন ঘরে হাঁড়ি চড়ে না, সেদিনও সীতারামকে দেখা যায় দিব্যি নিশ্চিন্ত মুখে। হাতে লাঠি, গায়ে পাতলা চাদর উড়িয়ে বুক ফুলিয়ে সে মঙ্গলার বাড়ির দিকে হেঁটে যায়। পথে যদি কেউ জিজ্ঞেস করে, “কী হে সীতারাম, সংসার কেমন চলছে?”, সীতারাম সঙ্গে সঙ্গে অম্লানবদনে উত্তর দেয়, “খুব ভালো চলছে! কাল আমাদের বাড়িতে তোমার নেমন্তন্ন রইল!” সীতারামের বড়াই করার স্বভাব একটুও কমেনি, বরং অবস্থা যত খারাপ হচ্ছে, তার কথার বহর ততই বাড়ছে। সীতারামের অবস্থাও খুব খারাপ হতে শুরু করল। সম্প্রতি পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, তার পিসেমশাই তাঁর অবৈতনিক পিসেমশাই-এর পদ ছেড়ে নিজের দেশে ফিরে যাওয়ার কথা ভাবছেন।

আজ টাকার খুব দরকার হওয়ায় সীতারাম রুক্মিণীর বাড়িতে এসেছে। হেসে, কাছে ঘেঁষে সে বলল—

“ভিক্ষা যদি দেবে রাই,

(আমার) সোনা-রূপায় কাজ নাই,

(আমি) প্রাণের দায়ে এসেছি গো,

মান-রতন ভিক্ষা চাই।”

“না ভাই, ছড়াটা ঠিক খাটল না। মান-রতনের আমার আপাতত তেমন দরকার নেই, যদি দরকার হয় তো পরে দেখা যাবে। এখনকার মতো কিছু সোনা-রূপা পেলেই বরং কাজ চলে!”

রুক্মিণী হঠাৎ খুব স্নেহ দেখিয়ে বলল, “তা তোমার যদি দরকার হয়েই থাকে, তবে তোমাকে না দিয়ে আর কাকে দেব?”

সীতারাম তাড়াতাড়ি বলল, “না না, সেরকম বিশেষ কিছু দরকার না! আসলে কী জানো, টাকা তো মায়ের কাছে থাকে, আমি নিজের হাতে টাকা রাখি না। মা আজ সকালে জোড়াঘাটায় তাঁর জামাইয়ের বাড়ি গেছেন। টাকাটা বের করে দিতে ভুলে গেছেন। আমি কালই শোধ করে দেব!”

মঙ্গলা মনে মনে হেসে বলল, “তোমার এত তাড়াহুড়ো করার কী দরকার? যখন সুবিধা হবে, শোধ দিলেই হবে। তোমার হাতে দিচ্ছি, এ তো আর জলে ফেলে দিচ্ছি না?” জলে ফেলে দিলেও বরং টাকাটা ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, কিন্তু সীতারামের হাতে দিলে সেই সম্ভাবনাটুকুও নেই, তফাত শুধু এই।

2 সীতারামের প্রেম নিবেদন

মঙ্গলার এই ধরনের অনুরাগের লক্ষণ দেখে সীতারামের ভালোবাসা একেবারে উথলে উঠল। সীতারাম রসিকতা করার উদ্যোগ নিল। বিনা পয়সায় নবাবী করা আর রসবোধ ছাড়াই রসিকতা করা সীতারামের স্বভাব। তার যা মুখে আসত তাই বলত, এবং অন্য কারও হাসির অপেক্ষা না করে নিজেই হাসতে থাকত। তার হাসি দেখলে হাসি পেত! সে যখন রাজবাড়ির প্রহরী ছিল, তখন অন্যান্য প্রহরীদের সঙ্গে সীতারামের প্রায়ই দাঙ্গাহাঙ্গামা বেধে যাওয়ার উপক্রম হত। এর প্রধান কারণ ছিল, সীতারাম যেটাকে মজা মনে করত, অন্যরা সেটাকে মোটেও মজা মনে করত না। হনুমানপ্রসাদ তেওয়ারি পাহারা দিতে দিতে ঢুলছিল, সীতারাম আস্তে আস্তে তার পেছনে গিয়ে হঠাৎ পিঠে এমন এক কিল মারল যে, সেই হাড়ভাঙা রসিকতার জ্বালায় তার পিঠ আর পিত্ত একসঙ্গে জ্বলে উঠল। সীতারাম উচ্চৈঃস্বরে হাসতে লাগল, কিন্তু হনুমানপ্রসাদ সেই হাসিতে যোগ না দিয়ে, চড় আর রসিকতার মধ্যে পার্থক্য এবং তার সাথে করুণ রসের সম্পর্কটা কী, তা উদাহরণের মাধ্যমে সীতারামকে খুব স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিয়েছিল। সীতারামের রসিকতার এমন আরও শত শত গল্প এখানে বলা যেতে পারে।

আগেই বলা হয়েছে, সীতারামের অনুরাগ হঠাৎ উথলে উঠেছিল। সে রুক্মিণীর কাছে ঘেঁষে এসে ভালোবেসে বলল, “তুমি আমার সুভদ্রা, আমি তোমার জগন্নাথ।”

রুক্মিণী বলল, “মর্ মিনসে! সুভদ্রা তো জগন্নাথের বোন!”

সীতারাম বলল, “তা কী করে হবে? তাহলে সুভদ্রাহরণ হলো কী করে!”

রুক্মিণী হাসতে লাগল। সীতারাম বুক ফুলিয়ে বলল, “না, তা হবে না, হাসলে চলবে না, জবাব দাও! সুভদ্রা যদি বোনই হয়, তবে সুভদ্রাহরণ হলো কী করে?”

সীতারামের বিশ্বাস, সে এমন এক অকাট্য যুক্তি দিয়েছে যে এর উপর আর কোনো কথা চলে না।

রুক্মিণী খুব মিষ্টি সুরে বলল, “দূর মূর্খ।”

সীতারাম গলে গিয়ে বলল, “মূর্খ তো বটেই! তোমার কাছে আমি তো হেরেই আছি, তোমার কাছে আমি চিরকালই মূর্খ!” সীতারাম মনে মনে ভাবল, ‘খুব ভালো জবাব দিয়েছি, বেশ কথা জুগিয়েছে মাথায়।’

আবার বলল, “আচ্ছা ভাই, কথাটা যদি তোমার পছন্দ না হয়, তাহলে কী বলে ডাকলে তুমি খুশি হবে, আমাকে বলো!”

রুক্মিণী হেসে বলল, “বলো প্রাণ।”

সীতারাম বলল, “প্রাণ!”

রুক্মিণী বলল, “বলো প্রিয়ে।”

সীতারাম বলল, “প্রিয়ে!”

রুক্মিণী বলল, “বলো প্রিয়তমে!”

সীতারাম বলল, “প্রিয়তমে!”

রুক্মিণী বলল, “বলো প্রাণপ্রিয়ে।”

সীতারাম বলল, “প্রাণপ্রিয়ে!”

“আচ্ছা ভাই প্রাণপ্রিয়ে, তুমি যে টাকাটা দিলে, তার সুদ কত নেবে?”

রুক্মিণী রাগ করে মুখ বাঁকিয়ে বলল, “যাও যাও, এই বুঝি তোমার ভালোবাসা! সুদের কথা কোন মুখে জিজ্ঞেস করলে?”

সীতারাম আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে বলল, “না না, তা কি হয়? আমি কি সত্যি বলছিলাম? আমি যে ঠাট্টা করছিলাম, এটা আর বুঝতে পারলে না? ছি প্রিয়তমে!”

3 উদয়াদিত্যের শোকে রুক্মিণীর অনুপ্রবেশ

সীতারামের মায়ের কী রোগ হলো কে জানে, আজকাল প্রায়ই সে জামাইবাড়ি যেতে লাগল এবং টাকা দেওয়ার বিষয়ে তার স্মৃতিশক্তি পুরোপুরি লোপ পেল! কাজেই সীতারামকে প্রায়শই রুক্মিণীর কাছে আসতে হতো। আজকাল দেখা যায়, সীতারাম আর রুক্মিণী মিলে অত্যন্ত গোপনে কোনো একটা বিষয় নিয়ে পরামর্শ করছে। অনেকদিন পরামর্শের পর সীতারাম বলল, “আমার ভাই অত ফন্দি মাথায় আসে না। এই ব্যাপারে ভাগবতের সাহায্য না নিলে চলবে না।”

সেদিন সন্ধ্যায় ভয়ানক ঝড় বইছে। রাজবাড়ির এদিক-ওদিক সশব্দে দরজা আছড়ে পড়ছে। বাতাস এমন বেগে বইছে যে বাগানের বড় বড় গাছের ডাল নুয়ে মাটি ছুঁয়ে যাচ্ছে। বন্যার স্রোতে ভেসে যাওয়া ভাঙাচোরা গ্রামের মতো ঝড়ের মুখে ছিন্নভিন্ন মেঘ ছুটে চলেছে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে, ঘন ঘন গর্জন হচ্ছে। উদয়াদিত্য চারদিকের দরজা বন্ধ করে একটি ছোট্ট মেয়েকে কোলে নিয়ে বসে আছেন। ঘরের প্রদীপ নিভিয়ে দিয়েছেন। ঘর অন্ধকার। মেয়েটি কোলের উপর ঘুমিয়ে পড়েছে। সুরমা যখন বেঁচে ছিল, এই মেয়েটিকে খুব ভালোবাসত। সুরমার মৃত্যুর পর ওর মা ওকে আর রাজবাড়িতে পাঠায়নি। অনেকদিন পর সে আজ একবার রাজবাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। হঠাৎ উদয়াদিত্যকে দেখেই “কাকা, কাকা” বলে সে তাঁর কোলে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। উদয়াদিত্য তাকে বুকে চেপে ধরে তাঁর শোবার ঘরে নিয়ে এসেছেন। উদয়াদিত্যের মনে হচ্ছিল, “সুরমা যদি মেয়েটিকে একবার দেখতে আসে! ও তো ওকে খুব ভালোবাসত! এত আদরের ছিল, সে কি না এসে থাকতে পারবে!” মেয়েটি একবার জিজ্ঞেস করল, “কাকা, কাকিমা কোথায়?”

উদয়াদিত্য রুদ্ধকণ্ঠে বললেন, “একবার ওঁকে ডাক্ না।” মেয়েটি “কাকিমা, কাকিমা” করে ডাকতে লাগল। উদয়াদিত্যের মনে হলো, ওই যেন কেউ সাড়া দিল। দূর থেকে ওই যেন কেউ বলে উঠল, “এই যে আসছি!” যেন স্নেহের মেয়েটির করুণ ডাক শুনে স্নেহময়ী আর থাকতে পারল না, তাকে বুকে তুলে নিতে আসছে। বালিকা কোলের উপর ঘুমিয়ে পড়ল। উদয়াদিত্য প্রদীপ নিভিয়ে দিলেন। একটি ঘুমন্ত মেয়েকে কোলে করে অন্ধকার ঘরে একা বসে রইলেন। বাইরে হু হু করে বাতাস বইছে। এদিক-ওদিক খট্ খট্ শব্দ হচ্ছে। ওই না পায়ের শব্দ শোনা গেল? পায়ের শব্দই তো! বুক এমন ধড়ফড় করছে যে, শব্দ ভালো করে শোনা যাচ্ছে না। দরজা খুলে গেল, ঘরের মধ্যে প্রদীপের আলো প্রবেশ করল। এটাও কি কখনও সম্ভব! প্রদীপ হাতে চুপিচুপি ঘরে একজন নারী প্রবেশ করল। উদয়াদিত্য চোখ বন্ধ করে বললেন, “সুরমা নাকি?” পাছে সুরমাকে দেখলে সুরমা চলে যায়। পাছে সে সুরমা না হয়।

নারীটি প্রদীপ রেখে বলল, “কেন গো, আমাকে আর মনে পড়ে না?”

বজ্রপাতের শব্দে যেন স্বপ্ন ভেঙে গেল। উদয়াদিত্য চমকে উঠে চোখ চাইলেন। মেয়েটি জেগে উঠে ‘কাকা’ বলে কেঁদে উঠল। তাকে বিছানার উপর ফেলে দিয়ে উদয়াদিত্য উঠে দাঁড়ালেন। কী করবেন, কোথায় যাবেন যেন ভেবে পাচ্ছেন না। রুক্মিণী কাছে এসে মুখ নেড়ে বলল, “বলছি, এখন তো মনে পড়বেই না। কিন্তু এককালে কেন আশা দিয়ে আকাশে তুলেছিলে?” উদয়াদিত্য চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলেন, কিছুতেই কথা বলতে পারলেন না।

তখন রুক্মিণী তার ব্রহ্মাস্ত্র বের করল। কেঁদে বলল, “আমি তোমার কী দোষ করেছি, যাতে তোমার চক্ষুশূল হলাম? তুমিই তো আমার সর্বনাশ করেছ। যে নারী যুবরাজকে একদিন দেহ-মন সঁপে দিয়েছিল, সে আজ ভিখারিনীর মতো পথে পথে ঘুরছে, এই পোড়া কপালে বিধাতা কি এটাই লিখেছিল?”

এইবার উদয়াদিত্যের মনে গিয়ে আঘাত লাগল। হঠাৎ তাঁর মনে হলো, আমিই বুঝি এর সর্বনাশ করেছি। অতীতের কথা ভুলে গেলেন। ভুলে গেলেন যৌবনের উন্মত্ত দিনগুলিতে রুক্মিণী কীভাবে পদে পদে তাঁকে প্রলুব্ধ করেছিল, প্রতিদিন তাঁর পথের সামনে জাল পেতে বসে থাকত, ঘূর্ণির মতো তাঁর দুই মোহময় বাহু দিয়ে জড়িয়ে ধরে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে মুহূর্তের মধ্যে পাতালের অন্ধকারে ফেলে দিয়েছিল—সে সমস্তই ভুলে গেলেন। দেখলেন রুক্মিণীর পোশাক মলিন, ছেঁড়া; রুক্মিণী কাঁদছে! করুণাহৃদয় উদয়াদিত্য বললেন, “তোমার কী চাই?”

রুক্মিণী বলল, “আমার আর কিছু চাই না, আমার ভালোবাসা চাই। আমি ওই জানালায় বসে তোমার বুকে মুখ রেখে তোমার সোহাগ পেতে চাই। কেন গো, সুরমার চেয়ে কি এই মুখ কালো? যদি কালো হয়েই থাকে, তবে সে তোমার জন্যই পথে পথে ঘুরে। আগে তো কালো ছিল না।”

এই বলে রুক্মিণী উদয়াদিত্যের বিছানার উপর বসতে গেল। উদয়াদিত্য আর থাকতে পারলেন না। কাতর হয়ে বলে উঠলেন, “ওই বিছানায় বসো না, বসো না।”

রুক্মিণী আহত ফণিনীর মতো মাথা তুলে বলল, “কেন বসব না?”

উদয়াদিত্য তার পথ আটকে বললেন, “না, ওই বিছানার কাছে তুমি যেও না! তুমি কী চাও আমি এখনই দিচ্ছি।”

রুক্মিণী বলল, “আচ্ছা, তোমার আঙুলের ওই আংটিটা দাও।”

উদয়াদিত্য তৎক্ষণাৎ তাঁর হাত থেকে আংটি খুলে ফেলে দিলেন। রুক্মিণী সেটা কুড়িয়ে নিয়ে বাইরে চলে গেল। মনে মনে ভাবল, ডাকিনীর (সুরমার) জাদু এখনো কাটেনি, আরও কিছুদিন যাক, তারপর আমার মন্ত্র খাটবে। রুক্মিণী চলে গেলে উদয়াদিত্য বিছানার উপর লুটিয়ে পড়লেন। দুই হাতে মুখ ঢেকে কেঁদে বললেন, “কোথায়, সুরমা কোথায়! আজ আমার এই দগ্ধ, বজ্রাহত হৃদয়ে কে শান্তি দেবে?”

1 रुक्मिणी से सीताराम की ऋण-प्रार्थना

विधवा रुक्मिणी (मंगला) के पास कुछ नकद रुपये हैं। वह उस रुपये को ब्याज पर चलाकर अपना गुज़ारा करती है। रूप और रुपये, इन दोनों के बल पर उसने कई लोगों को अपने वश में कर रखा है। सीताराम शौक़ीन आदमी है, पर घर में एक पैसे का भी जुगाड़ नहीं है, इसीलिए रुक्मिणी के रूप और रुपये, दोनों के प्रति ही उसका गहरा लगाव है। जिस दिन घर में हाँडी रो रही होती है, उस दिन सीताराम को देखो, एकदम निश्चिंत भाव से हाथ में लाठी लिए, पतली चादर ओढ़े, सीना फुलाए सड़क पर चल रहा होता है, मंगला के घर जाएगा। रास्ते में अगर कोई पूछ ले, “क्यों जी सीताराम, घर-गृहस्थी कैसी चल रही है?” सीताराम तुरंत बिना किसी शिकन के कहता है, “बढ़िया चल रही है! कल हमारे यहाँ तुम्हारा निमंत्रण रहा!” सीताराम की बड़ी-बड़ी बातें ज़रा भी कम नहीं हुईं, बल्कि हालत जितनी खराब हो रही है, बातों का आकार लंबाई और चौड़ाई में उतना ही बढ़ रहा है। सीताराम की हालत भी बहुत खराब होती जा रही थी। हाल यह हो गया है कि उसके चाचा अपनी मानद चाचा-गिरी छोड़कर अपने देश लौटने का मन बना रहे हैं।

आज पैसों की खास ज़रूरत पड़ी है, सो सीताराम रुक्मिणी के घर आया है। हँसकर, पास सरककर बोला—

“भिक्षा यदि दोगी राई,

(मुझे) सोने-चाँदी से काम नहीं,

(मैं तो) प्राणों के संकट में आया हूँ,

मान-रत्न की भिक्षा चाहता हूँ।”

नहीं भाई, यह कविता ठीक बैठी नहीं। मान-रत्न की मुझे फिलहाल उतनी ज़रूरत नहीं है, अगर ज़रूरत पड़ी तो बाद में देखा जाएगा; फिलहाल थोड़े सोने-चाँदी मिल जाएँ तो काम बन जाए!”

रुक्मिणी ने अचानक बहुत स्नेह जताते हुए कहा, “तो, अगर तुम्हें ज़रूरत है तो तुम्हें नहीं दूँगी तो किसे दूँगी?”

सीताराम ने जल्दी से कहा, “नहीं-नहीं, ऐसी भी क्या ज़रूरत है! पर क्या है न भाई, पैसे मेरी माँ के पास रहते हैं, मैं अपने हाथ में पैसे नहीं रखता। आज सुबह माँ जोड़ाघाटा अपने दामाद के घर गई हैं। पैसे निकालकर देना भूल गई हैं। तो मैं कल ही चुका दूँगा!”

मंगला ने मन-ही-मन हँसकर कहा, “तुम्हें इतनी जल्दी करने की क्या ज़रूरत है? जब सुविधा हो, तब चुका देना। तुम्हारे हाथ में दे रही हूँ, कोई पानी में तो नहीं फेंक रही हूँ न?” पानी में फेंकने पर तो फिर भी मिलने की संभावना है, सीताराम के हाथ में देने पर वह संभावना भी नहीं है, बस यही फ़र्क है।

2 सीताराम का प्रेम-निवेदन

मंगला के ऐसे अनुराग के लक्षण देखकर सीताराम का प्यार एकदम उमड़ पड़ा। सीताराम ने रसिकता करने का प्रयास किया। बिना पैसे के नवाबी करना और बिना हास्यरस के रसिकता करना सीताराम का स्वभाव था। वह जो मुँह में आता है, वही बोल देता है, और किसी का इंतज़ार किए बिना खुद ही हँसने लगता है। उसकी हँसी देखकर हँसी आती है! जब वह राजमहल का पहरेदार था, तब अन्य पहरेदारों के साथ सीताराम की अक्सर दंगे-फसाद की नौबत आ जाती थी, जिसका मुख्य कारण यह था कि सीताराम जिसे मज़ाक समझता था, उसे बाकी लोग मज़ाक नहीं समझते थे। हनुमानप्रसाद तिवारी पहरा देते-देते ऊँघ रहे थे, सीताराम ने धीरे-धीरे उनके पीछे जाकर अचानक पीठ पर ऐसा घूँसा मारा कि उस हाड़तोड़ रसिकता की जलन से उनकी पीठ और पित्त एक साथ जल उठे। सीताराम ज़ोर-ज़ोर से हँसने लगा, लेकिन हनुमानप्रसाद ने उस हँसी में साथ न देकर, घूँसे और हास्यरस के बीच का अंतर तथा करुण रस के साथ उसका संबंध, उदाहरण सहित सीताराम को बहुत स्पष्ट रूप से समझा दिया था। सीताराम की रसिकता के ऐसे और भी सैकड़ों किस्से यहाँ सुनाए जा सकते हैं।

जैसा कि पहले ही कहा गया है, सीताराम का अनुराग अचानक उमड़ पड़ा, वह रुक्मिणी के पास खिसककर प्रेमपूर्वक बोला, “तुम मेरी सुभद्रा हो, और मैं तुम्हारा जगन्नाथ।”

रुक्मिणी ने कहा, “अरे मूर्ख! सुभद्रा तो जगन्नाथ की बहन हैं!”

सीताराम बोला, “ऐसा कैसे हो सकता है? अगर ऐसा होता तो सुभद्राहरण कैसे होता!”

रुक्मिणी हँसने लगी, सीताराम ने सीना फुलाकर कहा, “नहीं, यह नहीं होगा, हँसने से काम नहीं चलेगा, जवाब दो! अगर सुभद्रा बहन ही थी, तो सुभद्राहरण कैसे हुआ?”

सीताराम को विश्वास था कि उसने ऐसा प्रबल तर्क दिया है कि इसके आगे कुछ कहने की गुंजाइश ही नहीं है।

रुक्मिणी ने बहुत मीठी आवाज़ में कहा, “हटो मूर्ख।”

सीताराम पिघलकर बोला, “मूर्ख तो हूँ ही। तुम्हारे सामने तो मैं, भाई, हारा हुआ ही हूँ, तुम्हारे सामने मैं हमेशा मूर्ख ही रहूँगा!” सीताराम ने मन-ही-मन सोचा, ‘खूब जवाब दिया है, बढ़िया बात सूझी है।’

फिर बोला, “अच्छा भाई, अगर तुम्हें यह बात पसंद नहीं आई, तो बताओ मैं तुम्हें क्या कहकर बुलाऊँ जिससे तुम खुश हो जाओ!”

रुक्मिणी ने हँसकर कहा, “बोलो, प्राण।”

सीताराम ने कहा, “प्राण!”

रुक्मिणी ने कहा, “बोलो, प्रिये।”

सीताराम ने कहा, “प्रिये!”

रुक्मिणी ने कहा, “बोलो, प्रियतमे!”

सीताराम ने कहा, “प्रियतमे!”

रुक्मिणी ने कहा, “बोलो, प्राणप्रिये।”

सीताराम ने कहा, “प्राणप्रिये!”

“अच्छा भाई प्राणप्रिये, तुमने जो पैसे दिए हैं, उसका ब्याज कितना लोगी?”

रुक्मिणी ने गुस्सा किया, मुँह बनाकर बोली, “जाओ-जाओ, यही है तुम्हारा प्यार! ब्याज की बात तुमने किस मुँह से पूछी?”

सीताराम खुशी से गदगद होकर बोला, “नहीं-नहीं, ऐसा क्या? मैं क्या सच में कह रहा था, भाई? मैं तो मज़ाक कर रहा था, इतनी सी बात नहीं समझी? छी, प्रियतमे!”

3 उदयादित्य के शोक में रुक्मिणी का अनुप्रवेश

सीताराम की माँ को क्या बीमारी हुई, पता नहीं, आजकल वह अक्सर दामाद के घर जाने लगी और पैसे निकालने के मामले में उसकी याददाश्त पूरी तरह से चली गई! इसलिए सीताराम को अक्सर रुक्मिणी के पास आना पड़ता था। आजकल देखा जाता है कि सीताराम और रुक्मिणी मिलकर बहुत गुप्त रूप से किसी विषय पर सलाह-मशविरा कर रहे हैं। बहुत दिनों तक सलाह-मशविरा करने के बाद सीताराम ने कहा, “भाई, मुझे इतनी चालें नहीं आतीं। इस मामले में भागवत की मदद लिए बिना काम नहीं चलेगा।”

उस दिन शाम को बहुत ज़ोरों की आँधी चल रही थी। राजमहल में इधर-उधर धड़ाम-धड़ाम करके दरवाज़े बंद हो रहे थे। हवा इतने ज़ोर से बह रही थी कि बाग़ के बड़े-बड़े पेड़ों की शाखाएँ झुककर ज़मीन को छू रही थीं। बाढ़ के सामने टूटे-फूटे गाँवों की तरह, आँधी के सामने छिन्न-भिन्न बादल भागे जा रहे थे। बार-बार बिजली चमक रही थी, बार-बार गर्जना हो रही थी। उदयादित्य चारों ओर के दरवाज़े बंद करके एक छोटी सी बच्ची को गोद में लिए बैठे थे। उन्होंने कमरे का दीपक बुझा दिया था। कमरा अँधेरा था। बच्ची गोद में ही सो गई थी। सुरमा जब जीवित थी, तो इस बच्ची से बहुत प्यार करती थी। सुरमा की मृत्यु के बाद उसकी माँ ने उसे फिर राजमहल नहीं भेजा। बहुत दिनों बाद वह आज एक बार राजमहल घूमने आई थी। अचानक उदयादित्य को देखकर 'काका-काका' कहकर वह उनकी गोद में कूद पड़ी थी। उदयादित्य उसे सीने से लगाकर अपने शयनकक्ष में ले आए थे। उदयादित्य के मन में यह भाव था, “काश सुरमा इस बच्ची को एक बार देखने आए! वह इससे कितना प्यार करती थी! इतनी प्यारी थी, क्या वह बिना आए रह सकेगी!” बच्ची ने एक बार पूछा, “काका, काकी माँ कहाँ हैं?”

उदयादित्य ने रुंधे गले से कहा—“एक बार उन्हें बुलाओ तो।” बच्ची “काकी माँ, काकी माँ” कहकर पुकारने लगी। उदयादित्य को लगा, जैसे किसी ने जवाब दिया। जैसे दूर से किसी ने कहा हो, “अभी आई रे!” मानो प्यारी बच्ची की करुण पुकार सुनकर स्नेहमयी और रह न सकी, उसे गोद में उठाने आ रही हो। बालिका गोद में सो गई। उदयादित्य ने दीपक बुझा दिया। एक सोती हुई बच्ची को गोद में लिए अँधेरे कमरे में अकेले बैठे रहे। बाहर हू-हू करके हवा बह रही थी। इधर-उधर खट-खट की आवाज़ हो रही थी। क्या वह पदचाप सुनाई दी? हाँ, पदचाप ही है। दिल इतनी ज़ोर से धड़क रहा था कि आवाज़ ठीक से सुनाई नहीं दे रही थी। द्वार खुल गया, कमरे के अंदर दीपक का प्रकाश आया। क्या यह भी कभी संभव है! हाथ में दीपक लिए चुपके-चुपके एक स्त्री ने कमरे में प्रवेश किया। उदयादित्य ने आँखें बंद करके कहा, “सुरमा हो क्या?” इस डर से कि कहीं सुरमा को देखने पर सुरमा चली न जाए। इस डर से कि कहीं वह सुरमा न हो।

स्त्री ने दीपक रखकर कहा, “क्यों जी, क्या मैं अब याद नहीं आती?”

जैसे वज्रध्वनि सुनकर सपना टूट गया हो। उदयादित्य चौंककर उठ बैठे और आँखें खोलीं। बच्ची जागकर 'काका' कहकर रो उठी। उसे बिस्तर पर डालकर उदयादित्य उठ खड़े हुए। क्या करें, कहाँ जाएँ, जैसे कुछ सोच नहीं पा रहे थे। रुक्मिणी पास आकर मुँह बनाकर बोली, “कहती हूँ, अब तो याद आएँगे ही नहीं। पर एक ज़माने में क्यों आशा देकर आसमान में चढ़ाया था?” उदयादित्य चुपचाप खड़े रहे, कुछ भी कह नहीं पाए।

तब रुक्मिणी ने अपना ब्रह्मास्त्र निकाला। रोकर बोली, “मैंने तुम्हारा ऐसा क्या बिगाड़ा है, जो तुम्हारी आँखों का काँटा बन गई। तुम्हीं ने तो मेरा सर्वनाश किया है। जिस स्त्री ने एक दिन युवराज को अपना तन-मन बेच दिया था, वह आज भिखारिन की तरह दर-दर भटक रही है, क्या विधाता ने इस जले भाग्य में यही लिखा था?”

इस बार उदयादित्य के हृदय पर चोट लगी। अचानक उन्हें लगा कि शायद मैंने ही इसका सर्वनाश किया है। वह अतीत की बातें भूल गए। वह भूल गए कि जवानी के उन्माद में रुक्मिणी ने कैसे कदम-कदम पर उन्हें प्रलोभन दिया था, हर रोज़ उनके रास्ते में जाल बिछाकर बैठती थी, एक भँवर की तरह उन्हें अपनी दो मोहक भुजाओं से लपेटकर घुमाते-घुमाते पल भर में पाताल के अँधेरे में फेंक दिया था—वह सब कुछ भूल गए। उन्होंने देखा कि रुक्मिणी के वस्त्र मैले और फटे हुए हैं; रुक्मिणी रो रही है! करुणाहृदय उदयादित्य ने कहा, “तुम्हें क्या चाहिए?”

रुक्मिणी ने कहा, “मुझे और कुछ नहीं चाहिए, मुझे तुम्हारा प्यार चाहिए। मैं उस खिड़की पर बैठकर, तुम्हारी छाती पर सिर रखकर तुम्हारा दुलार पाना चाहती हूँ। क्यों जी, क्या यह चेहरा सुरमा से ज़्यादा काला है? और अगर काला हो भी गया है तो तुम्हारी ही वजह से दर-दर भटककर। पहले तो काला नहीं था।”

यह कहकर रुक्मिणी उदयादित्य के बिस्तर पर बैठने लगी। उदयादित्य और सहन नहीं कर सके। कातर होकर बोल उठे, “उस बिस्तर पर मत बैठो, मत बैठो।”

रुक्मिणी ने घायल नागिन की तरह सिर उठाकर कहा, “क्यों न बैठूँ?”

उदयादित्य ने उसका रास्ता रोककर कहा, “नहीं, उस बिस्तर के पास तुम मत जाओ! तुम्हें क्या चाहिए, मैं अभी देता हूँ।”

रुक्मिणी ने कहा, “अच्छा, तुम्हारी उँगली की वह अँगूठी दे दो।”

उदयादित्य ने तुरंत अपने हाथ से अँगूठी निकालकर फेंक दी। रुक्मिणी ने उसे उठाकर बाहर चली गई। मन में सोचा, डायन का जादू-टोना अभी दूर नहीं हुआ है, कुछ दिन और बीतने दो, उसके बाद मेरा मंत्र काम करेगा। रुक्मिणी के चले जाने के बाद उदयादित्य बिस्तर पर गिर पड़े। दोनों हाथों से मुँह ढककर रोते हुए बोले, “कहाँ हो, सुरमा कहाँ हो! आज मेरे इस जले हुए, वज्रपात से आहत हृदय को शांति कौन देगा?”

1 Sitaram's Loan Request to Rukmini

The widow Rukmini (Mangala) had some ready cash. She earned her living by lending this money out at interest. By the power of her beauty and silver, she kept many under her control. Sitaram was a stylish man, yet there wasn't a penny in his house, which is why he had a sincere attraction to both Rukmini's beauty and her silver. On days when there was no food in the house, you would see Sitaram, with a perfectly carefree expression, strolling down the street with a staff in hand and a thin shawl draped over his shoulders, his chest puffed out, on his way to Mangala's house. If someone on the road asked, 'Well, Sitaram, how is life treating you?' Sitaram would instantly reply without batting an eye, 'Wonderfully! You are invited to our place for a meal tomorrow!' Sitaram's grand pronouncements had not diminished in the slightest; rather, the worse his situation became, the more his words grew in length and breadth. Sitaram's situation was indeed becoming quite bad. It had recently reached a point where his uncle-in-law was contemplating giving up his honorary position and returning to his own land.

Today, having a special need for money, Sitaram came to Rukmini's house. Smiling, he sidled up to her and said—

'Oh Rai, if you will give me alms,

I have no need for gold or silver,

I have come for my life's sake,

I beg for the jewel of your favor.'

No, my friend, that rhyme didn't quite work out. I don't have much need for the jewel of your favor at the moment; if the need arises, we'll see later. For now, a little gold and silver would be quite useful!'

Rukmini, suddenly feigning great affection, said, 'Well, if you need it, who else would I give it to if not you?'

Sitaram quickly said, 'No—it's not that I truly need it! But you see, my friend, my mother keeps my money, I don't keep cash on me. This morning, my mother went to her son-in-law's house in Joraghata. She forgot to give me the money. But I will pay you back tomorrow!'

Mangala laughed to herself and said, 'What's your hurry? You can pay me back whenever it's convenient. I'm giving it to your hands, I'm not throwing it in the water, am I?' Had she thrown it in the water, there might have been some chance of getting it back; giving it to Sitaram, even that sliver of a chance was gone—that was the difference.

2 Sitaram's Courtship

Seeing these signs of affection from Mangala, Sitaram’s love absolutely overflowed. Sitaram set about being witty. Playing the nawab without money and being a wit without humor were second nature to Sitaram. He would say whatever came to his mind and, without waiting for anyone else, would start laughing himself. His laugh was enough to make one laugh! When he was a guard at the palace, altercations often threatened to break out between Sitaram and the other guards. The main reason was that what Sitaram considered fun, not everyone else did. Hanumanprasad Tewari was dozing off while on watch when Sitaram crept up behind him and suddenly struck such a blow on his back that the sting of that bone-breaking joke set both his back and his temper ablaze at once. Sitaram laughed loudly, but Hanumanprasad did not join in the laughter; instead, with a clear example, he explained to Sitaram the difference between a punch and humor, and its connection to the sentiment of pathos.

It has already been said that Sitaram's affection suddenly overflowed. He sidled up to Rukmini and said with affection, “You are my Subhadra, and I am your Jagannath.”

Rukmini said, “Oh, you man! Subhadra is Jagannath’s sister!”

Sitaram replied, “How can that be? If that were so, how did the Subhadraharan happen?”

Rukmini began to laugh. Sitaram, puffing out his chest, said, “No, that won’t do, laughing won’t do, give me an answer! If Subhadra was his sister, then how was she abducted?”

Sitaram believed that he had presented such a powerful argument that there was no room for further debate.

In a very sweet voice, Rukmini said, “Go on, you fool.”

Melting, Sitaram said, “A fool I am indeed. Before you, my friend, I am always at a loss. Before you, I will always be a fool!” Sitaram thought to himself, 'I've given a great answer, the words came to me perfectly.'

He spoke again, “Alright, my friend, if you didn’t like that, tell me what you would be happy for me to call you!”

Rukmini said with a laugh, “Say ‘Pran’.”

Sitaram said, “Pran!”

Rukmini said, “Say ‘Priye’.”

Sitaram said, “Priye!”

Rukmini said, “Say ‘Priyatame’.”

Sitaram said, “Priyatame!”

Rukmini said, “Say ‘Pranpriye’.”

Sitaram said, “Pranpriye!”

“Alright, my dear Pranpriye, that money you gave me, how much interest will you charge?”

Rukmini got angry. Pouting, she said, “Go on, go on, is this your love? How could you bring yourself to ask about interest?”

Overjoyed and effusive, Sitaram said, “No, no, how can that be? Was I being serious, my friend? I was just joking, couldn’t you understand that? Shame on you, Priyatame!”

3 Rukmini's Intrusion on Udayaditya's Grief

I don't know what illness Sitaram's mother contracted, but nowadays he began visiting his in-laws' house quite often, and his memory of having to pay back money vanished completely. Consequently, Sitaram had to visit Rukmini quite frequently. Lately, Sitaram and Rukmini could be seen conferring together on some matter in great secrecy. After many days of discussion, Sitaram said, “Brother, I’m not that good at scheming. I won’t be able to proceed without Bhagavat’s help in this matter.”

That evening, a terrible storm was raging. Doors throughout the palace were slamming shut. The wind blew with such force that the branches of the large trees in the garden bent down to touch the ground. Like shattered village debris in the mouth of a flood, torn clouds rushed across the face of the storm. Frequent lightning, frequent thunder. Udayaditya had bolted the doors all around and was sitting with a little girl on his lap. He had extinguished the lamp in the room. The room was dark. The girl had fallen asleep on his lap. When Surma was alive, she loved this girl dearly. After Surma's death, the girl's mother had stopped sending her to the palace. After a long time, she had come to visit the palace today. Upon suddenly seeing Udayaditya, she had cried, “Uncle! Uncle!” and jumped into his lap. Udayaditya had clutched her to his chest and brought her to his bedchamber. Udayaditya's thought was this: “What if Surma comes to see this girl just once! She loved her so much! Could she stay away from one so dear?” The girl asked once, “Uncle, where is Aunty?”

With a choked voice, Udayaditya said, “Why don’t you call for her once.” The girl began to call out, “Aunty! Aunty!” It seemed to Udayaditya that someone had answered. As if someone called out from a distance, “I’m coming, dear!” As if, hearing the sorrowful call of the affectionate child, the loving woman could no longer stay away and was coming to take her into her arms. The girl fell asleep on his lap. Udayaditya extinguished the lamp. He sat alone in the dark room, holding a sleeping girl on his lap. Outside, the wind howled. There were creaking sounds here and there. Was that not the sound of footsteps? It was indeed footsteps. His heart was pounding so hard that he could not hear the sound properly. The door opened, and lamplight entered the room. Is this even possible! A woman holding a lamp quietly entered the room. Udayaditya, closing his eyes, whispered, “Surma?” Lest Surma leave if he looked at her. Lest it not be Surma.

The woman put down the lamp and said, “Why, my dear, do you not remember me anymore?”

It was as if a clap of thunder shattered his dream. Udayaditya, startled, sat up and opened his eyes. The girl woke up, cried out “Uncle,” and began to weep. Laying her on the bed, Udayaditya stood up. He seemed unable to decide what to do or where to go. Rukmini came closer and, with a toss of her head, said, “I say, of course you won’t remember me now. But why did you once give me hope and raise me to the skies?” Udayaditya remained standing in silence, unable to say a word.

Then Rukmini brought out her Brahmastra. Crying, she said, “What wrong have I done to you, that I have become a thorn in your side? It was you who ruined me. The woman who once sold her body and soul to the Yubaraj now wanders the streets like a beggar. Is this what Providence had written on my cursed forehead?”

This time, the blow struck Udayaditya's heart. It suddenly occurred to him that perhaps he had indeed ruined her. He forgot the past. He forgot how, in the folly of his youth, Rukmini had tempted him at every step, how she had laid a trap in his path every day, how, like a whirlpool, she had encircled him with her two enchanting arms, spinning him round and round before casting him into the darkness of the abyss in an instant—he forgot all of it. He saw Rukmini’s clothes, soiled and torn; Rukmini was crying! The kind-hearted Udayaditya said, “What do you want?”

Rukmini said, “I want nothing else, I want your love. I want to sit at that window with my head on your chest and receive your affection. Why, dear, is this face darker than Surma’s? And if it has become dark, it is from wandering the streets for your sake. It was not dark before.”

Saying this, Rukmini went to sit on Udayaditya's bed. Udayaditya could bear it no longer. He cried out in anguish, “Do not sit on that bed, do not sit!”

Rukmini raised her head like a wounded serpent and said, “Why shouldn’t I sit?”

Udayaditya blocked her path and said, “No, do not go near that bed! Whatever you want, I will give it to you right now.”

Rukmini said, “Alright, give me that ring on your finger.”

Udayaditya immediately pulled the ring from his hand and threw it down. Rukmini picked it up and went out. She thought to herself, ‘The witch’s enchanting spell has not yet faded. Let a few more days pass, then my mantra will work.’ After Rukmini left, Udayaditya collapsed onto the bed. Hiding his face in his arms, he cried, “Where, where is Surma! Who will bring peace to this scorched, thunderstruck heart of mine today?”

1 ルクミニーへのシタラムの借金願い

未亡人のルクミニー(マンガラ)は、いくらかの現金を持っている。その金を貸して利子を取り、生計を立てている。美貌と金銭、その二つの力で、彼女は多くの者を意のままに操っていた。シタラムは洒落者だが、家には一銭の蓄えもない。そのため、彼はルクミニーの美貌と金銭の両方に心から惹かれていた。家の鍋が泣いている日(食うに困っている日)のシタラムを見よ。彼は実に平然とした顔で、手に杖を持ち、薄い肩掛けをなびかせ、胸を張って道を歩いている。マンガラの家へ向かうのだ。道で誰かに「よう、シタラム、暮らし向きはどうだ?」と尋ねられると、シタラムは即座に平然と答える。「上々だ!明日はうちでご馳走するからな!」シタラムの大言壮語は少しも減らず、むしろ暮らし向きが悪くなるにつれて、その言葉はますます大袈裟になっていく。シタラムの暮らし向きも、いよいよ悪化してきた。最近では、彼の叔父が名誉叔父の役目を辞め、故郷に帰ろうと考えているほどであった。

今日は特にお金が必要になり、シタラムはルクミニーの家にやって来た。彼は笑いながら彼女に寄り添い、言った——

「『施しをくださるなら、ライよ、

(わしに)金銀は要らぬ、

(わしは)命からがら来たのだ、

名誉という宝石を乞う』とね。

いや、お嬢さん、この詩はしっくりこないな。今は名誉の宝石なんてものは特に必要ない。必要になったらその時考えよう。差し当たっては、いくらかの金銀でもあれば役に立つんだが!」

ルクミニーは突然、ことさらな好意を示して言った。「まあ、あなたが必要だというのなら、あなたにあげなくて誰にあげるというの?」

シタラムは慌てて言った。「いやいや、それほど必要というわけでもないんだ!ただ、ほら、金は母が持っていてね、俺は自分で金を持たない主義なんだ。今朝、母がジョラガタの婿殿の家に行ってしまってね。金を出すのを忘れていったんだ。だから、明日には必ず返すよ!」

マンガラは心の中で笑いながら言った。「そんなに急ぐ必要がどこにあるの?都合の良い時に返してくれればいいわ。あなたの手に渡すのだもの、水に捨てるわけでもあるまいし?」水に捨てた方がまだ返ってくる可能性があるが、シタラムの手に渡ればその可能性すらない。違いはそこであった。

2 シタラムの求愛

マンガラのこのような好意の兆しを見て、シタラムの愛情は一気に込み上げてきた。シタラムは気の利いたことを言おうとした。金もないのに殿様のように振る舞い、面白くもないのに冗談を言うのがシタラムの性分だった。彼は口から出まかせを言い、誰が笑うでもなく自分一人で笑い出すのだ。その笑い方には、かえって笑いを誘われるものがあった!彼が王宮の衛兵だった頃、他の衛兵たちとシタラムとの間では、しばしば乱闘騒ぎが起きかかったが、その主な理由は、シタラムが面白いと思うことを、他の者たちは面白いと思わなかったからである。ハヌマーンプラサード・テワリが見張り中に居眠りをしていた時、シタラムはそっと背後に忍び寄り、突然背中を拳で殴りつけた。その骨身にしみる冗談の痛みに、彼の背中と腹わたは共に燃え上がるようだった。シタラムは大声で笑ったが、ハヌマーンプラサードはその笑いに加わらず、拳と冗談の違い、そして(殴られて)哀れみを乞うという感情との関係性を、実例をもってシタラムにはっきりと教えてやったのだ。シタラムの冗談については、このような話が他にも百ほど挙げられるだろう。

前述の通り、シタラムの愛情はにわかに込み上げ、彼はルクミニーに寄り添い、親しみを込めて言った。「お前は俺のスバドラ、俺はお前のジャガンナートだ」

ルクミニーは言った。「馬鹿な人ね。スバドラはジャガンナートの妹じゃないの!」

シタラムは言った。「そんなはずがあるか? それならスバドラハランはどうなるんだ!」

ルクミニーは笑い出した。シタラムは胸を張って言った。「いや、そんなはずはない。笑っていてはだめだ、答えろ! もしスバドラが妹なら、どうしてスバドラハランが起こり得たんだ」

シタラムは、これ以上反論のしようがないほど強力な論拠を示したと信じていた。

ルクミニーはとても甘い声で言った。「このお馬鹿さん」

シタラムはとろけてしまい言った。「いかにも馬鹿さ。お前の前では、俺は負けっぱなしだよ。お前の前では、俺はいつだって馬鹿さ!」シタラムは心の中で、見事な返事をした、うまい言葉が思いついたものだと考えた。

彼は再び言った。「なあ、もしその言葉が気に入らないなら、何て呼んだらお前は喜ぶんだい、教えてくれ!」

ルクミニーは笑って言った。「『我が命』と言って」

シタラムは言った。「我が命!」

ルクミニーは言った。「『愛しい人』と言って」

シタラムは言った。「愛しい人!」

ルクミニーは言った。「『最愛の人』と言って」

シタラムは言った。「最愛の人!」

ルクミニーは言った。「『命より愛しい人』と言って」

シタラムは言った。「命より愛しい人!」

「なあ、命より愛しい人よ、お前がくれたあの金だが、利息はいくら取るんだ?」

ルクミニーは怒ったふりをし、顔をしかめて言った。「もういいわ、もういい! それがあなたの愛情なの? よくもまあ利息の話なんて口にできたものね?」

シタラムは喜びで有頂天になり、言った。「いやいや、そんなわけないじゃないか! 俺が本気で言ったとでも? 冗談を言っていたんだよ、それが分からなかったのかい? やれやれ、最愛の人よ!」

3 ウダヤディティヤの悲嘆へのルクミニーの侵入

シタラムの母が何の病にかかったのかは知らないが、近頃彼は頻繁に妻の実家へ通うようになり、金を返すという記憶は完全に消え去ってしまったようだ!そのため、シタラムはたびたびルクミニーのもとへ来なければならなかった。近頃、シタラムとルクミニーがひそかに何かについて相談しているのが見受けられる。長い相談の末、シタラムは言った。「私には、それほどの策略は思いつきません。この件はバーガヴァタの助けを借りなければ、うまくいかないでしょう。」

その日の夕方、ひどい嵐が吹き荒れていた。王宮のあちこちで、扉がバタンバタンと音を立てて閉まっている。風はあまりに強く吹き、庭の大木の枝がしなって地面に触れるほどだった。洪水の前に砕け散る村々のように、嵐の前に引き裂かれた雲が空を駆け抜けていく。稲妻が頻繁に光り、雷鳴がとどろく。ウダヤディティヤは四方の扉を閉ざし、小さな女の子を膝に乗せて座っていた。部屋の灯りは消してある。部屋は暗い。女の子は膝の上で眠ってしまった。スルマが生きていた頃、この子をたいそう可愛がっていた。スルマが亡くなってから、この子の母親はもう王宮に寄こさなくなった。久しぶりに今日、一度だけ王宮に遊びに来ていたのだ。ふとウダヤディティヤを見つけると、「おじ様、おじ様」と言って彼の膝に飛びついてきた。ウダヤディティヤは彼女を胸に抱きしめ、自分の寝室へ連れてきた。ウダヤディティヤはこう思っていた。「スルマがこの子を一目見に来てくれるかもしれない! あれほど可愛がっていたのだ。こんなにも愛した子に、会いに来ずにいられようか!」 女の子が一度尋ねた。「おじ様、おば様はどこ?」

ウダヤディティヤは詰まった声で言った。「一度、呼んでごらん」。女の子が「おば様、おば様」と呼び始めた。ウダヤディティヤには、誰かが返事をしたように思えた。遠くから誰かが「今、行くわよ!」と言ったかのようだ。愛しい子の哀れな呼び声を聞いて、情け深い彼女がもうじっとしていられず、その子を胸に抱きしめに来るかのようだった。少女は膝の上で眠りについた。ウダヤディティヤは灯りを消した。眠った子を一人膝に乗せ、暗い部屋で独り座り続けた。外では風がごうごうと吹き荒れている。あちこちでカツ、カツと音がする。今のは足音ではなかったか? まさしく足音だ。胸の動悸が激しくて、音がよく聞こえない。扉が開き、部屋の中に灯火の光が差し込んだ。こんなことがあり得るのだろうか! 灯りを手に、一人の女がそっと部屋に入ってきた。ウダヤディティヤは目を閉じ、囁いた。「スルマか?」。スルマの姿を見ると彼女が消えてしまうかもしれない、あるいはスルマでなかったらと恐れたのだ。

女は灯りを置くと、言った。「まあ、私のことなど、もうお忘れかしら?」

雷鳴を聞いて夢から覚めたかのようだった。ウダヤディティヤははっと我に返り、目を見開いた。女の子は目を覚まし、「おじ様」と言って泣き出した。ウダヤディティヤは彼女を寝台の上に放り出すようにして立ち上がった。何をすべきか、どこへ行くべきか、まるで考えがまとまらない。ルクミニーが近寄ってきて、顔をしかめて言った。「申し上げますわ、今となっては思い出しもしないでしょうね。でも、昔はどうして希望を持たせて、天にも昇る気持ちにさせたのですか?」 ウダヤディティヤは黙って立ち尽くし、一言も発することができなかった。

その時、ルクミニーは彼女の切り札(ブラフマーストラ)を抜いた。泣きながら言った。「私があなた様の目の敵になるような、どんな悪いことをしたというのです。私のすべてを台無しにしたのは、あなた様ではありませんか。かつて王太子様に身も心も捧げた女が、今では物乞いのように路頭に迷っている。この不幸な運命を、創造神はお書きになったのでしょうか?」

今度こそウダヤディティヤの心にその言葉が突き刺さった。ふと、自分が彼女のすべてを台無しにしたのかもしれない、と思った。過去のことは忘れてしまった。青春の狂おしいさなかに、ルクミニーがいかにして一歩一歩彼を誘惑したか、毎日彼の行く手に網を張って待ち構えていたか、渦のようにその二本の蠱惑的な腕で彼を抱きしめ、ぐるぐると回して一瞬のうちに奈落の闇へと突き落としたか――そのすべてを忘れてしまった。彼が見たのは、ルクミニーの衣服が汚れ、破れていること、そしてルクミニーが泣いていることだけだった! 心優しいウダヤディティヤは言った。「何が望みだ?」

ルクミニーは言った。「もう何もいりませんわ、あなたの愛が欲しいのです。あの窓辺に座り、あなたの胸に顔をうずめて、あなたの愛撫を受けたいのです。ねえ、この顔はスルマよりも醜いですか? もし醜くなったのだとしたら、それはあなた様のために路頭をさまよったからですわ。昔はこんなに醜くはありませんでした。」

そう言うと、ルクミニーはウダヤディティヤの寝台の上に座ろうとした。ウダヤディティヤはもう耐えられなかった。苦しげに叫んだ。「その寝台に座らないでくれ、座らないで!」

ルクミニーは傷ついた雌コブラのように鎌首をもたげ、言った。「なぜ座ってはいけないのです?」

ウダヤディティヤは彼女の道を塞いで言った。「いや、その寝台のそばへは行かないでくれ! 君が望むものは今すぐ与えよう。」

ルクミニーは言った。「では、あなたの指のその指輪をくださいな。」

ウダヤディティヤはすぐさま手から指輪を抜き、投げ捨てた。ルクミニーはそれを拾い上げ、外へ出て行った。心の中ではこう思った。(あの魔女の呪縛はまだ解けていないようね。もう少し時が経てば、私の呪文が効くようになるだろう。)ルクミニーが去ると、ウダヤディティヤは寝台の上に崩れ落ちた。両腕で顔を覆い、泣きながら言った。「どこだ、スルマはどこだ! 今、この焼け焦げ、雷に打たれた心に、誰が安らぎを与えてくれるのだ?」