1 বসন্ত রায়ের বিদায় এবং উদয়াদিত্যের ভয়

বসন্তরায় উদয়াদিত্যের ঘরে আসিয়া কহিলেন, “দাদা তোর সঙ্গে আর দেখা হইবে না।” বলিয়া উদয়াদিত্যকে বৃদ্ধ দুই হাতে জড়াইয়া ধরিলেন।

উদয়াদিত্য বসন্তরায়ের হাত ধরিয়া কহিলেন, “কেন দাদামহাশয়?”

বসন্তরায় সমস্ত বলিলেন। কাঁদিয়া কহিলেন, “ভাই, তোকে আমি ভালবাসি বলিয়াই তোর এত দুঃখ। তা, তুই যদি সুখে থাকিস্ ত এক’টা দিন আমি একরকম কাটাইয়া দিব।”

উদয়াদিত্য মাথা নাড়িয়া কহিলেন, “না, তাহা কখনই হইবে না। তোমাতে আমাতে দেখা হইবেই। তাহাতে কেহ বাধা দিতে পারিবে না। তুমি গেলে দাদামহাশয়, আমি আর বাঁচিব না।”

বসন্তরায় ব্যাকুল হইয়া কহিলেন, “প্রতাপ আমাকে বধ করিল না, তোকে আমার কাছ হইতে কাড়িয়া লইল। দাদা, আমি যখন চলিয়া যাইব, আমার পানে ফিরিয়া চাহিস্‌নে, মনে করিস্‌ বসন্তরায় মরিয়া গেল!”

উদয়াদিত্য শয়নকক্ষে সুরমার নিকটে গেলেন। বসন্তরায় বিভার কাছে গিয়া বিভার চিবুক ধরিয়া কহিলেন, “বিভা দিদি আমার, একবার ওঠ্! বুড়ার এই মাথাটায় একবার ঐ হাত বুলাইয়া দে।” বিভা উঠিয়া বসিয়া দাদা মহাশয়ের মাথা লইয়া পাকা চুল তুলিয়া দিতে লাগিল।

উদয়াদিত্য সুরমাকে সমস্ত কহিলেন ও বলিলেন,—“সুরমা, পৃথিবীতে আমার যাহা কিছু অবশিষ্ট আছে তাহাই কাড়িয়া লইবার জন্য যেন একটা যড়যন্ত্র চলিতেছে।” সুরমার হাত ধরিয়া কহিলেন—“সুরমা, তোমাকে যদি কেহ আমার কাছ হইতে ছিনিয়া লইয়া যায়?”

সুরমা দৃঢ়ভাবে উদয়াদিত্যকে, আলিঙ্গন করিয়া দৃঢ়স্বরে কহিল, “সে যম পারে, আর কেহ পারে না।”

সুরমার মনেও অনেকক্ষণ ধরিয়া সেইরূপ একটা আশঙ্কা জন্মিতেছে। সে যেন দেখিতে পাইতেছে একটা কঠোর হস্ত তাহার উদয়াদিত্যকে তাহার কাছ হইতে সরাইয়া দিবার জন্য অগ্রসর হইতেছে। সে মনে মনে উদয়াদিত্যকে প্রাণপণে আলিঙ্গন করিয়া ধরিল, মনে মনে কহিল, “আমি ছাড়িব না, আমাকে কেহ ছাড়াইতে পারিবে না।”

সুরমা আবার কহিল, “আমি অনেকক্ষণ হইতে ভাবিয়া রাখিয়াছি আমাকে তোমার কাছ হইতে কেহই লইতে পারিবে না।”

সুরমা ঐ কথা বার বার করিয়া বলিল। সে মনের মধ্যে বল সঞ্চয় করিতে চায়, যে বলে সে উদয়াদিত্যকে দুই বাহু দিয়া এমন জড়াইয়া থাকিবে যে, কোন পার্থিব শক্তি তাহাদের বিচ্ছিন্ন করিতে পারিবে না। বার বার ঐ কথা বলিয়া মনকে সে বজ্রের বলে বাঁধিতেছে।

2 বসন্ত রায়ের বিদায়ের গান

উদয়াদিত্য সুরমার মুখের দিকে চাহিয়া নিশ্বাস ফেলিয়া কহিলেন সুরমা, দাদামহাশয়কে আর দেখিতে পাইব না!”

সুরমা নিশ্বাস ফেলিল।

উদয়াদিত্য কহিলেন, “আমি নিজের কষ্টের জন্য ভাবি না সুরমা,—কিন্তু দাদামহাশয়ের প্রাণে যে বড় বাজিবে। দেখি, বিধাতা আরো কি করেন। তাঁর আরও কি ইচ্ছা আছে!”

উদয়াদিত্য বসন্তরায়ের কত গল্প করিলেন।

বসন্তরায় কোথায় কি কহিয়াছিলেন, কোথায় কি করিয়াছিলেন সমুদায় তাঁহার মনে পড়িতে লাগিল। বসন্তরায়ের করুণ হৃদয়ের কত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কাজ, কত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কথা, তাঁহার স্মৃতির ভাণ্ডারে ছোট ছোট রত্নের মত জমা করিয়া রাখিয়াছিলেন, তাহাই আজ একে একে সুরমার কাছে বাহির করিতে লাগিলেন।

সুরমা কহিল, “আ—হা, দাদামহাশয়ের মত কি আর লোক আছে?”

সুরমা ও উদয়াদিত্য বিভার ঘরে গেলেন।

তখন বিভা তাহার দাদা মহাশয়ের পাকা চুল তুলিতেছে, ও তিনি বসিয়া গান গাইতেছেন;—

“ওরে, যেতে হবে, আর দেরী নাই,

পিছিয়ে প’ড়ে র’বি কত, সঙ্গীরা তোর গেল, সবাই।

আয়রে ভবের খেলা সেরে, আঁধার করে এসেছেরে,

(ওরে) পিছন ফিরে বারে বারে কাহার পানে চাহিস্‌রে ভাই।

খেল্‌তে এল ভবের নাটে, নতুন লোকে নতুন খেলা,

হেথা হতে আয়রে সরে, নইলে তোরে মার্‌বে ঢেলা,

নামিয়ে দেরে প্রাণের বোঝা, আরেক দেশে চল্‌রে সোজা,

(সেথা) নতুন করে বাঁধবি বাসা, নতুন খেলা খেল্‌বি সে ঠাঁই।

3 বসন্ত রায়ের অশ্রুপূর্ণ শেষ বিদায়

উদয়াদিত্যকে দেখিয়া বসন্তরায় হাসিয়া কহিলেন, “দেখ ভাই, বিভা আমাকে ছাড়িতে চায় না। কি জানি আমাকে উহার কিসের আবশ্যক! এক কালে যে দুধ ছিল, বুড়া হইয়া সে ঘোল হইয়া উঠিয়াছে, তা, বিভা দুধের সাধ ঘোলে মিটাইতে চায় কেন? আমি যাব শুনিয়া বিভা কাঁদে! এমন আর কখন শুনিয়াছ? আমি ভাই, বিভার কান্না দেখিতে পারি না।” বলিয়া গাহিতে লাগিলেন,

“আমার যাবার সময় হল,

আমায় কেন রাখিস্ ধরে,

চোখের জলের বাঁধন দিয়ে

বাঁধিস্‌নে আর মায়া-ডোরে।

ফুরিয়েছে জীবনের ছুটি;

ফিরিয়ে নে তোর নয়ন দুটি,

নাম ধরে আর ডাকিস্‌নে ভাই,

যেতে হবে ত্বরা করে!”

“ঐ দেখ, ঐ দেখ, বিভার রকম দেখ! দেখ্ বিভা, তুই যদি অমন করিয়া কাঁদবি ত—” বলিতে বলিতে বসন্তরায়ের আর কথা বাহির হইল না। তিনি বিভাকে শাসন করিতে গিয়া নিজেকে আর সামলাইতে পারিলেন না, তাড়াতাড়ি চোখের জল মুছিয়া হাসিয়া কহিলেন, “দাদা, ঐ দেখ ভাই সুরমা কাঁদিতেছে! এই বেলা ইহার প্রতিবিধান কর; নহিলে আমি সত্য সত্যই থাকিয়া যাইব; তোমার জায়গাটি দখল করিয়া বসিব। ঐ দুই হাতে পাকাচুল তোলাইব, ঐ কানের কাছে এই ভাঙা দাঁতের পাটির মধ্য হইতে ফিস্‌ফিস্ করিব, আর কানের অত কাছে গিয়া আর যদি কোন প্রকার অঘটন সংঘটন হয় তবে তাহার দায়ী আমি হইব না!”

বসন্তরায় দেখিলেন, কেহ কোন কথা কহিল না, তখন তিনি কাতর হইয়া তাঁহার সেতারটা তুলিয়া লইয়া ঝন্ ঝন্ করিয়া বিষম বেগে বাজাইতে সুরু করিলেন। কিন্তু বিভার চখের জল দেখিয়া তাঁহার সেতার বাজাইবার বড়ই ব্যাঘাত হইতে লাগিল, তাঁহার চোখ মাঝে মাঝে ঝাপ্‌সা হইয়া আসিতে লাগিল, মাঝে মাঝে বিভাকে এবং উপস্থিত সকলকে তিরস্কারচ্ছলে রাশ রাশ কথা বলিবার বাসনা হইতে লাগিল, কিন্তু আর কথা যোগাইল না, কণ্ঠ রুদ্ধ হইয়া আসিল, সেতার বন্ধ করিয়া নামাইয়া রাখিতে হইল। অবশেষে বিদায়ের সময় আসিল।

উদয়াদিত্যকে দীর্ঘকাল আলিঙ্গন করিয়া শেষ কথা এই বলিয়া গেলেন, “এই সেতার রাখিয়া গেলাম দাদা, আর সেতার বাজাইব না। সুরমা ভাই সুখে থাক; বিভা—” কথা শেষ হইল না, অশ্রু মুছিয়া পাল্কীতে উঠিলেন।

1 বসন্ত রায়ের বিদায় এবং উদয়াদিত্যের ভয়

বসন্ত রায় উদয়াদিত্যের ঘরে এসে বললেন, “দাদা, তোর সঙ্গে আর দেখা হবে না।” এই বলে তিনি বৃদ্ধ দুই হাতে উদয়াদিত্যকে জড়িয়ে ধরলেন।

উদয়াদিত্য বসন্ত রায়ের হাত ধরে বললেন, “কেন দাদামশাই?”

বসন্ত রায় সবটা বললেন। কেঁদে বললেন, “ভাই, আমি তোকে ভালোবাসি বলেই তোর এত দুঃখ। তা, তুই যদি সুখে থাকিস, তাহলে আমি কোনোমতে দিন কাটিয়ে দেব।”

উদয়াদিত্য মাথা নেড়ে বললেন, “না, তা কখনও হবে না। তোমার আর আমার দেখা হবেই। তাতে কেউ বাধা দিতে পারবে না। তুমি চলে গেলে দাদামশাই, আমি আর বাঁচব না।”

বসন্ত রায় ব্যাকুল হয়ে বললেন, “প্রতাপ আমাকে বধ করল না, তোকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিল। দাদা, আমি যখন চলে যাব, আমার দিকে ফিরে তাকাস না, মনে করিস বসন্ত রায় মরে গেছে!”

উদয়াদিত্য শোবার ঘরে সুরমার কাছে গেলেন। বসন্ত রায় বিভার কাছে গিয়ে তার চিবুক ধরে বললেন, “বিভা দিদি আমার, একবার ওঠ! এই বুড়োর মাথায় একবার তোর হাতটা বুলিয়ে দে।” বিভা উঠে বসে দাদামশাইয়ের মাথা কোলে নিয়ে পাকা চুল তুলে দিতে লাগল।

উদয়াদিত্য সুরমাকে সবটা বললেন এবং আরও বললেন, “সুরমা, পৃথিবীতে আমার যা কিছু অবশিষ্ট আছে, তা-ই কেড়ে নেওয়ার জন্য যেন একটা ষড়যন্ত্র চলছে।” সুরমার হাত ধরে তিনি বললেন, “সুরমা, তোমাকে যদি কেউ আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়?”

সুরমা দৃঢ়ভাবে উদয়াদিত্যকে আলিঙ্গন করে জোরালো স্বরে বলল, “সেটা শুধু যম পারে, আর কেউ পারে না।”

সুরমার মনেও অনেকক্ষণ ধরে সেরকমই একটা আশঙ্কা জন্ম নিচ্ছিল। সে যেন দেখতে পাচ্ছিল, একটা কঠোর হাত তার উদয়াদিত্যকে তার কাছ থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য এগিয়ে আসছে। সে মনে মনে উদয়াদিত্যকে প্রাণপণে আঁকড়ে ধরল, মনে মনে বলল, “আমি ছাড়ব না, আমাকে কেউ ছাড়াতে পারবে না।”

সুরমা আবার বলল, “আমি অনেকক্ষণ ধরেই ভেবে রেখেছি, আমাকে তোমার কাছ থেকে কেউই নিতে পারবে না।”

সুরমা ওই কথা বারবার বলল। সে মনের মধ্যে বল সঞ্চয় করতে চাইছিল, যে বলে সে উদয়াদিত্যকে দুই বাহু দিয়ে এমনভাবে জড়িয়ে থাকবে যে, কোনও পার্থিব শক্তি তাদের বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না। বারবার ওই কথা বলে সে নিজের মনকে বজ্রের মতো শক্ত করে বাঁধছিল।

2 বসন্ত রায়ের বিদায়ের গান

উদয়াদিত্য সুরমার মুখের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, “সুরমা, দাদামশাইকে আর দেখতে পাব না!”

সুরমাও একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

উদয়াদিত্য বললেন, “আমি নিজের কষ্টের জন্য ভাবছি না সুরমা,—কিন্তু দাদামশাইয়ের মনে যে খুব লাগবে। দেখি, বিধাতা আরও কী করেন। তাঁর আরও কী ইচ্ছা আছে!”

উদয়াদিত্য বসন্ত রায়ের কত গল্প করতে লাগলেন।

বসন্ত রায় কোথায় কী বলেছিলেন, কোথায় কী করেছিলেন, সব তাঁর মনে পড়তে লাগল। বসন্ত রায়ের দয়ালু হৃদয়ের কত ছোট ছোট কাজ, কত ছোট ছোট কথা, যা তিনি তাঁর স্মৃতির ভান্ডারে ছোট ছোট রত্নের মতো জমা করে রেখেছিলেন, আজ সেগুলোই একে একে সুরমার কাছে তুলে ধরছিলেন।

সুরমা বলল, “আহা, দাদামশাইয়ের মতো মানুষ কি আর হয়?”

সুরমা আর উদয়াদিত্য বিভার ঘরে গেলেন।

তখন বিভা তার দাদামশাইয়ের পাকা চুল তুলে দিচ্ছিল আর তিনি বসে বসে গান গাইছিলেন:—

“ওরে, যেতে হবে, আর দেরি নাই,

পিছিয়ে পড়ে রইবি কত, সঙ্গীরা তোর গেল সবাই।

আয় রে ভবের খেলা সেরে, আঁধার করে এসেছে রে,

(ওরে) পিছন ফিরে বারে বারে কার পানে চাস রে ভাই।

খেলতে এল ভবের নাটে, নতুন লোকে নতুন খেলা,

এখান থেকে আয় রে সরে, নইলে তোরে মারবে ঢেলা,

নামিয়ে দে রে প্রাণের বোঝা, আরেক দেশে চল রে সোজা,

(সেথা) নতুন করে বাঁধবি বাসা, নতুন খেলা খেলবি সে ঠাঁই।”

3 বসন্ত রায়ের অশ্রুপূর্ণ শেষ বিদায়

উদয়াদিত্যকে দেখে বসন্ত রায় হেসে বললেন, "দেখো ভাই, বিভা আমাকে ছাড়তে চায় না। জানি না ওর আমাকে দিয়ে কী দরকার! এককালে যা দুধ ছিল, বুড়ো হয়ে তা ঘোল হয়ে গেছে, তা বিভা দুধের সাধ ঘোলে মেটাতে চায় কেন? আমি যাব শুনে বিভা কাঁদে! এমন কথা আর কখনও শুনেছ? আমি ভাই, বিভার কান্না দেখতে পারি না।" এই বলে তিনি গাইতে লাগলেন,

"আমার যাবার সময় হল,

আমায় কেন রাখিস্ ধরে,

চোখের জলের বাঁধন দিয়ে

বাঁধিস্‌নে আর মায়া-ডােরে।

ফুরিয়েছে জীবনের ছুটি;

ফিরিয়ে নে তোর নয়ন দুটি,

নাম ধরে আর ডাকিস্‌নে ভাই,

যেতে হবে ত্বরা করে!"

"ওই দেখো, ওই দেখো, বিভার কাণ্ড দেখো! দেখ্ বিভা, তুই যদি এমন করে কাঁদবি তো—" বলতে বলতে বসন্ত রায়ের গলা দিয়ে আর কথা বেরোল না। তিনি বিভাকে বকা দিতে গিয়ে নিজেকে আর সামলাতে পারলেন না, তাড়াতাড়ি চোখের জল মুছে হেসে বললেন, "দাদা, ওই দেখো ভাই সুরমা কাঁদছে! এখনই এর একটা বিহিত করো; না হলে আমি কিন্তু সত্যিই থেকে যাব; তোমার জায়গাটা দখল করে বসবো। এই দুই হাতে পাকা চুল তোলানো হবে, ওই কানের কাছে এই ভাঙা দাঁতের পাটি দিয়ে ফিসফিস করা হবে, আর কানের এত কাছে গিয়ে যদি অন্য কোনো অঘটন ঘটে যায়, তার জন্য কিন্তু আমি দায়ী থাকব না!"

বসন্ত রায় দেখলেন, কেউ কোনো কথা বলল না, তখন তিনি কাতর হয়ে তাঁর সেতারটা তুলে নিয়ে ঝনঝন করে প্রবল বেগে বাজাতে শুরু করলেন। কিন্তু বিভার চোখের জল দেখে তাঁর সেতার বাজানোয় খুব বাধা হতে লাগল, তাঁর চোখ মাঝে মাঝে ঝাপসা হয়ে আসছিল, মাঝে মাঝে বিভাকে এবং উপস্থিত সবাইকে তিরস্কারের ছলে অনেক কথা বলার ইচ্ছা হচ্ছিল, কিন্তু আর কথা জোগালো না, গলা আটকে এল, সেতার বন্ধ করে নামিয়ে রাখতে হল। অবশেষে বিদায়ের সময় এল।

উদয়াদিত্যকে অনেকক্ষণ ধরে জড়িয়ে ধরে শেষ কথা এই বলে গেলেন, "এই সেতার রেখে গেলাম দাদা, আর সেতার বাজাব না। সুরমা ভাই, সুখে থেকো; বিভা—" কথা শেষ হলো না, চোখের জল মুছে পালকিতে উঠলেন।

1 बसंत राय की विदाई और उदयादित्य का भय

बसंत राय उदयादित्य के कमरे में आकर बोले, “दादा, तुमसे अब और भेंट न होगी।” यह कहकर वृद्ध ने उदयादित्य को दोनों हाथों से कसकर गले लगा लिया।

उदयादित्य ने बसंत राय का हाथ पकड़कर कहा, “क्यों दादा महाशय?”

बसंत राय ने सब कुछ बताया। रोते हुए उन्होंने कहा, “भाई, मैं तुमसे प्यार करता हूँ इसीलिए तुम्हारे इतने दुख हैं। खैर, अगर तुम सुखी रहो, तो मैं भी किसी तरह अपने दिन काट लूँगा।”

उदयादित्य ने सिर हिलाकर कहा, “नहीं, ऐसा कभी नहीं होगा। हमारी भेंट अवश्य होगी। इसमें कोई बाधा नहीं डाल सकेगा। आप चले गए तो दादा महाशय, मैं जीवित नहीं रहूँगा।”

बसंत राय ने व्याकुल होकर कहा, “प्रताप ने मेरा वध नहीं किया, बल्कि तुम्हें मुझसे छीन लिया। दादा, जब मैं चला जाऊँगा, तो मुड़कर मेरी ओर मत देखना, बस यही सोचना कि बसंत राय मर गया!”

उदयादित्य शयनकक्ष में सुरमा के पास गए। बसंत राय विभा के पास जाकर उसकी ठोड़ी पकड़कर बोले, “मेरी विभा दीदी, एक बार उठो! इस बूढ़े के सिर पर एक बार अपना हाथ फेर दो।” विभा उठकर बैठ गई और दादा महाशय के सिर से पके बाल चुनने लगी।

उदयादित्य ने सुरमा को सब कुछ बताया और कहा, “सुरमा, इस दुनिया में मेरे पास जो कुछ भी बचा है, उसे भी छीन लेने के लिए जैसे कोई षड्यंत्र चल रहा हो।” सुरमा का हाथ पकड़कर उन्होंने कहा, “सुरमा, अगर तुम्हें कोई मुझसे छीन ले गया तो?”

सुरमा ने उदयादित्य को दृढ़ता से गले लगाकर दृढ़ स्वर में कहा, “वह तो बस यम ही कर सकता है, और कोई नहीं।”

सुरमा के मन में भी बहुत देर से ऐसी ही एक आशंका जन्म ले रही थी। उसे जैसे दिखाई दे रहा था कि कोई कठोर हाथ उसके उदयादित्य को उससे दूर करने के लिए आगे बढ़ रहा है। उसने मन ही मन उदयादित्य को पूरी शक्ति से गले लगा लिया और मन ही मन कहा, “मैं नहीं छोडूँगी, मुझे कोई छुड़ा नहीं पाएगा।”

सुरमा ने फिर कहा, “मैंने बहुत पहले से सोच रखा है कि मुझे तुमसे कोई नहीं ले जा सकता।”

सुरमा ने यह बात बार-बार दोहराई। वह अपने मन में शक्ति का संचार करना चाहती थी, जिस बल से वह उदयादित्य को अपनी दोनों भुजाओं से ऐसे जकड़े रहेगी कि कोई भी सांसारिक शक्ति उन्हें अलग नहीं कर सकेगी। बार-बार यह बात कहकर वह अपने मन को वज्र की शक्ति से बाँध रही थी।

2 बसंत राय का विदाई गीत

उदयादित्य ने सुरमा के चेहरे की ओर देखकर एक ठंडी साँस ली और कहा, "सुरमा, अब दादा महाशय के दर्शन नहीं होंगे!"

सुरमा ने एक ठंडी साँस ली।

उदयादित्य ने कहा, "सुरमा, मैं अपने कष्ट के बारे में नहीं सोच रहा हूँ—लेकिन दादा महाशय के दिल को बहुत ठेस पहुँचेगी। देखें, विधाता और क्या करते हैं। उनकी और क्या इच्छा है!"

उदयादित्य बसंत राय के कितने ही किस्से सुनाने लगे।

बसंत राय ने कहाँ क्या कहा था, कहाँ क्या किया था, सब उन्हें याद आने लगा। बसंत राय के करुणामय हृदय के कितने ही छोटे-छोटे काम, कितनी ही छोटी-छोटी बातें, जो उन्होंने अपनी स्मृति के भंडार में छोटे-छोटे रत्नों की तरह संजोकर रखी थीं, आज वे एक-एक करके सुरमा के सामने निकालने लगे।

सुरमा ने कहा, "आह! दादा महाशय जैसा और कौन है?"

सुरमा और उदयादित्य विभा के कमरे में गए।

उस समय विभा अपने दादा महाशय के पके बाल बीन रही थी, और वे बैठे-बैठे गीत गा रहे थे;—

"अरे, अब जाना होगा, और देर नहीं,

कितना पीछे रहोगे, तुम्हारे सब साथी तो चले गए।

आओ, इस संसार का खेल समाप्त करो, अँधेरा घिर आया है,

(अरे) बार-बार पीछे मुड़कर किसकी ओर देखते हो, भाई।

संसार के इस मंच पर नए लोग नया खेल खेलने आ गए हैं,

यहाँ से हट जाओ, वरना वे तुम पर पत्थर फेंकेंगे,

प्राणों का बोझ उतार दो, सीधे दूसरे देश चलो,

(वहाँ) नया घर बसाओगे, उस जगह नया खेल खेलोगे।"

3 बसंत राय की अश्रुपूर्ण अंतिम विदाई

उदयादित्य को देखकर बसंत राय ने हँसकर कहा, “देखो भाई, विभा मुझे छोड़ना नहीं चाहती। पता नहीं उसे मेरी क्या ज़रूरत है! एक ज़माने में जो दूध था, बूढ़ा होकर वह छाछ बन गया है, तो फिर, विभा दूध की प्यास छाछ से क्यों बुझाना चाहती है? यह सुनकर कि मैं जाऊँगा, विभा रोती है! ऐसा कभी सुना है? मैं भाई, विभा के आँसू नहीं देख सकता।” यह कहकर वे गाने लगे,

“मेरे जाने का समय हो गया,

मुझे क्यों रोके रखती हो,

आँसुओं के बंधन से

और मोह की डोरी में मत बाँधो।

जीवन की छुट्टी समाप्त हो गई है;

अपनी दोनों आँखें फेर लो,

नाम लेकर और मत पुकारो भाई,

जल्दी जाना होगा!”

“वह देखो, वह देखो, विभा के ढंग देखो! देख विभा, अगर तू ऐसे ही रोएगी तो—” कहते-कहते बसंत राय के मुँह से और बात न निकली। वह विभा को डाँटने जाकर खुद को और नहीं सँभाल पाए, जल्दी से आँसू पोंछकर हँसते हुए बोले, “दादा, वह देखो, सुरमा रो रही है! अभी इसका कोई उपाय करो; नहीं तो मैं सचमुच यहीं रह जाऊँगा; तुम्हारी जगह पर कब्ज़ा कर लूँगा। उन्हीं दो हाथों से अपने पके बाल नुचवाऊँगा, उन्हीं के कान के पास अपने इन टूटे दाँतों के बीच से फुसफुसाऊँगा, और कान के इतने पास जाकर अगर कोई अनहोनी हो गई तो उसका ज़िम्मेदार मैं नहीं होऊँगा!”

बसंत राय ने देखा कि कोई कुछ नहीं बोला, तब उन्होंने व्याकुल होकर अपना सितार उठाकर झन-झन करके बड़े वेग से बजाना शुरू कर दिया। लेकिन विभा के आँसू देखकर उनके सितार बजाने में बहुत बाधा होने लगी, उनकी आँखें बीच-बीच में धुँधली हो जातीं, बीच-बीच में उन्हें विभा और उपस्थित सभी को डाँटने के बहाने ढेरों बातें कहने की इच्छा होती, लेकिन और शब्द नहीं सूझे, कंठ अवरुद्ध हो गया, सितार बंद करके नीचे रखना पड़ा। अंततः विदा का समय आ गया।

उदयादित्य को देर तक गले लगाकर अंतिम बात यह कहकर गए, “यह सितार यहीं छोड़े जा रहा हूँ दादा, अब सितार नहीं बजाऊँगा। सुरमा बेटी, सुखी रहो; विभा—” बात पूरी नहीं हुई, आँसू पोंछकर पालकी में बैठ गए।

1 Basanta Ray's Farewell and Udayaditya's Fear

Coming to Udayaditya’s room, Basanta Ray said, “Dada, I will not see you anymore.” With these words, the old man embraced Udayaditya with both arms.

Udayaditya took Basanta Ray’s hand and said, “Why, Grand-uncle?”

Basanta Ray explained everything. Crying, he said, “My boy, you suffer so much only because I love you. But, if you can be happy, I will somehow get through my days.”

Shaking his head, Udayaditya said, “No, that will never happen. We will see each other. No one can prevent it. If you leave, Grand-uncle, I will not survive.”

Basanta Ray said in distress, “Pratap did not kill me; he snatched you away from me. Dada, when I leave, do not look back at me, just think that Basanta Ray has died!”

Udayaditya went to Surma in the bedchamber. Basanta Ray went to Vibha, held her chin, and said, “My dear Vibha, get up for a moment! Run your hand over this old man’s head just once.” Vibha sat up, took her grand-uncle’s head, and began to pluck out his grey hairs.

Udayaditya told Surma everything and said, “Surma, it is as if a conspiracy is afoot to snatch away whatever little I have left in this world.” Holding Surma’s hand, he said, “Surma, what if someone snatches you away from me?”

Surma embraced Udayaditya firmly and said in a resolute voice, “Only Yama can do that, and no one else.”

A similar fear had been growing in Surma's mind for some time. It was as if she could see a cruel hand advancing to push her Udayaditya away from her. In her mind, she held Udayaditya in a desperate embrace and said to herself, “I will not let go, no one can make me let go.”

Surma said again, “I have been resolved for a long time that no one can take me from you.”

Surma repeated those words again and again. She wanted to gather strength within her mind, the kind of strength with which she could wrap Udayaditya in her arms so tightly that no earthly power could separate them. By repeating those words, she was binding her mind with the force of a thunderbolt.

2 Basanta Ray's Song of Farewell

Udayaditya, looking at Surma's face, sighed and said, “Surma, I will never see Grand-uncle again!”

Surma sighed.

Udayaditya said, “I don't worry about my own suffering, Surma—but it will hurt Grand-uncle's heart so much. Let's see what more Vidhat will do. What more does He wish!”

Udayaditya told many stories of Basanta Ray.

He began to remember everything Basanta Ray had said and done, here and there. The many small acts and small words from Basanta Ray's compassionate heart, which he had stored like little gems in the treasury of his memory, he now brought them out one by one before Surma.

Surma said, “Ah, is there anyone else like Grand-uncle?”

Surma and Udayaditya went to Vibha's room.

At that moment, Vibha was plucking her Grand-uncle's grey hairs, and he was sitting and singing a song:—

“O, it's time to go, there's no more delay,

How long will you stay behind? All your companions have gone.

Come, finish the games of this world, for darkness has descended,

(O) looking back again and again, at whom do you gaze, brother?

New people have come to the world's stage to play new games,

Come, move away from here, or they will throw stones at you.

Set down the burden of your soul, go straight to another land,

(There) you will build a new home and play new games in that place.”

3 Basanta Ray's Tearful, Final Farewell

Seeing Udayaditya, Basanta Ray laughed and said, “Look, my boy, Vibha doesn’t want to let me go. I don't know what need she has of me! The milk that once was has turned to buttermilk in old age, so why does Vibha want to quench her thirst for milk with buttermilk? She cries hearing I will leave! Have you ever heard of such a thing? My boy, I cannot bear to see Vibha’s tears.” Saying this, he began to sing,

“My time to leave has come,

Why do you hold me back?

With the shackles of your tears,

Don’t bind me in the threads of affection anymore.

My life’s leave is over;

Avert your two eyes,

Don’t call my name anymore, my dear,

I must leave in haste!”

“Look there, look at Vibha’s behavior! See here, Vibha, if you cry like that then—” As he spoke, Basanta Ray’s words failed him. Trying to scold Vibha, he could no longer control himself. He quickly wiped his tears and said with a laugh, “Dada, look, my dear Surma is crying! Do something about it right now; otherwise, I will truly stay behind and usurp your place. I will have her pluck my grey hairs with those two hands, I will whisper in her ear from between these broken rows of teeth, and if some other mishap occurs from getting so close to her ear, I will not be the one responsible!”

Basanta Ray saw that no one said a word. Distressed, he picked up his sitar and began to play it furiously with a great clatter. But seeing Vibha's tears, his sitar playing was greatly hindered. His eyes kept blurring with tears, and at times he felt an urge to unleash a torrent of scolding words upon Vibha and everyone present, but the words would not come. His throat became choked, and he had to stop playing and put the sitar down. At last, the time for departure arrived.

Embracing Udayaditya for a long time, these were his last words: “I am leaving this sitar behind, Dada, I will not play it anymore. Surma, my dear, be happy; Vibha—” His words remained unfinished. Wiping away his tears, he climbed into the palanquin.

1 バサンタ・ライとの別れとウダヤディティヤの恐れ

バサンタ・ライはウダヤディティヤの部屋へ来て言った。「ウダヤディティヤよ、もうお前とは会えなくなるだろう。」そう言って、老人は両手でウダヤディティヤを抱きしめた。

ウダヤディティヤはバサンタ・ライの手を取り、尋ねた。「なぜです、大おじ様?」

バサンタ・ライは全てを話した。そして涙ながらに言った。「坊や、わしがお前を可愛がっているからこそ、お前はこんなに辛い思いをするのだ。だがな、お前が幸せでいられるなら、わしはなんとか日々を過ごしていくさ。」

ウダヤディティヤは首を横に振って言った。「いいえ、決してそんなことにはなりません。僕たちは必ず会えます。誰もそれを邪魔することはできません。あなたが行ってしまわれたら、大おじ様、僕はもう生きていけません。」

バサンタ・ライは取り乱して言った。「プラタープはわしを殺しはしなかった。わしからお前を奪い取ったのだ。ウダヤディティヤよ、わしが去る時は、決して振り返るな。バサンタ・ライは死んだものと思え!」

ウダヤディティヤは寝室のスルマのもとへ行った。一方、バサンタ・ライはビバのところへ行き、その顎に手をかけて言った。「ビバちゃん、わしの可愛い子よ、一度起きなさい! この年寄りの頭を、その手で一度撫でておくれ。」ビバは起き上がって座り、大おじ様の頭を膝に乗せ、白髪を抜き始めた。

ウダヤディティヤはスルマに全てを話し、そして言った。「スルマ、この世で僕に残されたなけなしのものを全て奪い取るために、まるで陰謀が巡らされているかのようだ。」彼はスルマの手を取り、尋ねた。「スルマ、もし誰かが君を僕から奪い去ったら?」

スルマは固くウダヤディティヤを抱きしめ、毅然とした声で言った。「それができるのはヤマ様だけです。他の誰にもできません。」

スルマの心にも、しばらく前から同じような不安が生まれていた。まるで、無慈悲な手が彼女のウダヤディティヤを自分から引き離そうと迫ってくるのが見えるかのようだった。彼女は心の中で必死にウダヤディティヤを抱きしめ、こう思った。「私は離さない。誰にも私を引き離すことなんてできない。」

スルマは再び言った。「ずっと前から考えていました。誰も私をあなたから奪うことはできないと。」

スルマはその言葉を何度も繰り返した。彼女は心の中に力を蓄えようとしていたのだ。その力でウダヤディティヤを両腕で固く抱きしめ、いかなるこの世の力も二人を引き裂くことはできないと信じるために。その言葉を繰り返すことで、彼女は自らの心を鋼の力で固めていたのである。

2 バサンタ・ライの別れの歌

ウダヤディティヤはスルマの顔を見てため息をつき、言った。「スルマ、もう大おじ様には会えなくなるのだ!」

スルマもため息をついた。

ウダヤディティヤは言った。「私は自分の苦しみのために考えているのではない、スルマ。しかし、大おじ様のお心がどれほど痛むことか。見ていよう、ビダータがこれから何をなさるのか。神の御心は、他に何があるというのか!」

ウダヤディティヤはバサンタ・ライの思い出話をいくつも語った。

バサンタ・ライがどこで何を言い、どこで何をしたか、そのすべてが彼の心に甦ってきた。バサンタ・ライの慈悲深い心から生まれた数々のささやかな行いや言葉、それらを彼は記憶という宝箱に小さな宝石のようにしまっていたが、今日、一つまた一つとスルマに打ち明けていった。

スルマは言った。「まあ、大おじ様のような方が他にいるでしょうか?」

スルマとウダヤディティヤはビバの部屋へ行った。

その時、ビバは大おじ様の白髪を抜いており、彼は座って歌を歌っていた。——

「おお、行かねばならぬ、もう時はない、

どれほど遅れをとるのか、仲間は皆、行ってしまった。

さあ、この世の遊びを終えよ、闇が訪れた、

(おお)何度も振り返り、誰を見ているのだ、友よ。

この世の舞台には、新しい人々が新しい遊びをしにやって来た、

ここから立ち去れ、さもなくば石を投げつけられよう、

魂の荷を下ろし、別の国へまっすぐ進め、

(そこでは)新たに住処を構え、その場所で新たな遊びをするのだ」

3 バサンタ・ライの涙の最後の別れ

ウダヤディティヤの姿を見ると、バサンタ・ライは笑って言った。「なあ、友よ、見てくれ。ビバがわしを行かせたくないと言うのだ。いったいこのわしに何の用があるというのか!かつては牛乳だったものも、年を取れば酸っぱい乳になる。だのに、ビバはなぜ牛乳の代わりにそんなもので満足しようとするのか?わしが行くと聞いてビバが泣くとは!こんなこと、聞いたことがあるかね?なあ、友よ、わしはビバの涙を見るに忍びないのだよ。」そう言って歌い始めた。

「わが行く時は来たれり、

なにゆえ我を留むるや。

涙の縄もて、

情けの綱もて我を縛るなかれ。

人生の休みは終わりぬ。

その眼を我より逸らせよ、

名を呼ぶなかれ友よ、

疾く行かねばならぬ故に!」

「見ろ、見ろ、ビバのあの様子を!おいビバ、お前がそんなに泣くというなら…」言いかけたバサンタ・ライの言葉は続かなかった。ビバをたしなめようとして、自分自身を抑えきれなくなったのだ。彼は急いで涙を拭うと、笑って言った。「兄さん、見なさい、友よ、スルマが泣いているぞ!今のうちに何とかしてくれ。さもないと、わしは本当にここに残ってしまうぞ。お前の場所を乗っ取って居座ってやろう。あの両手でわしの白髪を抜かせ、この欠けた歯の間から耳元で囁いてやる。そんなに耳に近づいて、もし何か間違いが起きても、わしは責任を負わんからな!」

誰も何も言わないのを見て、バサンタ・ライは切なくなり、シタールを手に取ると、ジャンジャンと激しい勢いで掻き鳴らし始めた。しかし、ビバの涙が目に入ると、演奏の大きな妨げとなった。時折、彼の目はかすみ、ビバやその場にいる皆を冗談めかして叱りつけたいという思いがこみ上げてきたが、もはや言葉は続かず、声が詰まってしまった。彼はシタールを弾くのをやめ、下に置かざるを得なかった。そしてついに、別れの時が来た。

ウダヤディティヤを長く抱きしめた後、彼は最後の言葉を告げた。「このシタールは置いていくよ、兄さん。もうシタールは弾かん。スルマ、友よ、幸せにな。ビバ…」言葉は最後まで結ばれなかった。彼は涙を拭い、駕籠に乗り込んだ。