1 রামচন্দ্রের পত্র ও রাজমহিষী

রামচন্দ্র রায় ভাবিলেন, বিভা যে চন্দ্রদ্বীপে আসিল না, সে কেবল প্রতাপাদিত্যের শাসনে ও উদয়াদিত্যের মন্ত্রণায়। বিভা যে নিজের ইচ্ছায় আসিল না, তাহা মনে করিলে তাঁহার আত্ম-গৌরবে অত্যন্ত আঘাত লাগে। তিনি ভাবিলেন, প্রতাপাদিত্য আমাকে অপমান করিতে চাহে, অতএব সে কখন বিভাকে আমার কাছে পাঠাইবে না। কিন্তু এ অপমান আমিই তাহাকে ফিরাইয়া দিই না কেন? আমিই তাহাকে এক পত্র লিখি না কেন যে, তোমার মেয়েকে আমি পরিত্যাগ করিলাম, তাহাকে যেন আর চন্দ্রদ্বীপে পাঠান না হয়। এইরূপ সাতপাঁচ ভাবিয়া পাঁচ জনের সহিত মন্ত্রণা করিয়া প্রতাপাদিত্যকে ঐ মর্ম্মে এক পত্র লেখা হইল। প্রতাপাদিত্যকে এরূপ চিঠি লেখা বড় সাধারণ সাহসের কর্ম্ম নহে। রামচন্দ্র রায়ের মনে মনে বিলক্ষণ ভয় হইতেছিল। কিন্তু ঢালু পর্ব্বতে বেগে নাবিতে নাবিতে হাজার ভয় হইলেও যেমন মাঝে মাঝে থামা যায় না, রামচন্দ্র রায়ের মনেও সেইরূপ একটা ভাবের উদয় হইয়াছিল!—সহসা একটা দুঃসাহসিকতায় প্রবৃত্ত হইয়াছেন, শেষ পর্য্যন্ত না পৌঁছিয়া যেন দাঁড়াইতে পারিতেছেন না। রামমোহনকে ডাকিয়া কহিলেন—“এই পত্র যশোহরে লইয়া যা।” রামমোহন যোড়হস্তে কহিল, “আজ্ঞা, না মহারাজ, আমি পারিব না। আমি স্থির করিয়াছি, আর যশোহরে যাইব না। এক যদি পুনরায় মা-ঠাকুরাণীকে আনিতে যাইতে বলেন ত আর একবার যাইতে পারি নতুবা, এ চিঠি লইয়া যাইতে পারিব না।” রামমোহনকে আর কিছু না বলিয়া বৃদ্ধ নয়ানচাঁদের হাতে রাজা সেই পত্রখানি দিলেন। সে সেই পত্র লইয়া যশোহরে যাত্রা করিল।

পত্র লইয়া গেল বটে, কিন্তু নয়ানচাঁদের মনে বড় ভয় হইল। প্রতাপ আদিত্যের হাতে এ পত্র পড়িলে না জানি তিনি কি করিয়া বসেন। অনেক ভাবিয়া চিন্তিয়া মহিষীর হাতে সে এই পত্র দিতে সংকল্প করিল। মহিষীর মনের অবস্থা বড় ভাল নয়। একদিকে বিভার জন্য তাঁহার ভাবনা, আর এক দিকে উদয়াদিত্যের জন্য তাঁহার কষ্ট। সংসারের গোলেমালে তিনি যেন একবারে ঝালাফালা হইয়া গিয়াছেন। মাঝে মাঝে প্রায় তাঁহাকে কাঁদিতে দেখা যায়। তাঁহার যেন আর ঘরকন্নায় মন লাগে না। এইরূপ অবস্থায় তিনি এই পত্রখানি পাইলেন—কি যে করিবেন কিছু ভাবিয়া পাইলেন না। বিভাকে কিছু বলিতে পারেন না; তাহা হইলে সুকুমার বিভা আর বাঁচিবে না। মহারাজের কানে এ চিঠির কথা উঠিলে কি যে অনর্থপাত হইবে তাহার ঠিকানা নাই। অথচ এমন সঙ্কটের অবস্থায় কাহাকে কিছু না বলিয়া, কাহারো নিকট কোন পরামর্শ না লইয়া মহিষী বাঁচিতে পারেন না, চারিদিক অকূল পাথার দেখিয়া মহিষী কাঁদিতে কাঁদিতে প্রতাপাদিত্যের কাছে গেলেন। কহিলেন—“মহারাজ, বিভার ত যাহা হয় একটা কিছু করিতে হইবে।”

প্রতাপাদিত্য কহিলেন, “কেন বল দেখি?”

মহিষী কহিলেন, “নাঃ, কিছু যে হইয়াছে তাহা নহে—তবে বিভাকে ত এক সময়ে না এক সময়ে শ্বশুরবাড়ি পাঠাইতেই হইবে!”

প্রতাপাদিত্য—“সে ত বুঝিলাম, তবে এত দিন পরে আজ যে সহসা তাহা মনে পড়িল?”

মহিষী ভীত হইয়া কহিলেন—“ঐ তোমার এক কথা, আমি কি বলিতেছি যে কিছু হইয়াছে? যদি কিছু হয়—”

প্রতাপাদিত্য বিরক্ত হইয়া কহিলেন “হইবে আর কি?”

মহিষী—“এই মনে কর যদি জামাই বিভাকে একেবারে ত্যাগ করে।” বলিয়া মহিষী রুদ্ধকণ্ঠ হইয়া কাঁদিতে লাগিলেন।

প্রতাপাদিত্য অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হইয়া উঠিলেন। তাঁহার চোখ দিয়া অগ্নিকণা বাহির হইল।

মহারাজের সেই মূর্ত্তি দেখিয়া মহিষী জল মুছিয়া তাড়াতাড়ি কহিলেন, “তাই বলিয়া জামাই কি আর সত্য সত্যই লিখিয়াছে যে, ওগো তোমাদের বিভাকে আমি ত্যাগ করিলাম, তাহাকে আর চন্দ্রদ্বীপে পাঠাইও না, তাহা ত নহে—তবে কথা এই, যদি কোন দিন তাই লিখিয়া বসে!”

প্রতাপাদিত্য কহিলেন—“তখন তাহার বিহিত বিধান করিব, এখন তাহার জন্য ভাবিবার অবসর নাই।”

মহিষী কাঁদিয়া কহিলেন,—“মহারাজ তোমার পায়ে পড়ি, আমার একটি কথা রাখ। একবার ভাবিয়া দেখ বিভার কি হইবে! আমার পাষাণ প্রাণ বলিয়া আজও রহিয়াছে, নহিলে আমাকে যতদূর যন্ত্রণা দিবার তা দিয়াছ। উদয়কে—আমার বাছাকে—রাজার ছেলেকে—সামান্য অপরাধীর মত রুদ্ধ করিয়াছ—সে-আমার কাহারো কোন অপরাধ করে না, কিছুতেই লিপ্ত থাকে না, দোষের মধ্যে সে কিছু বোঝে সোঝে না, রাজকার্য্য শেখে নাই, প্রজা শাসন করিতে জানে না, তাহার বুদ্ধি নাই, তা ভগবান্ তাহাকে যা করিয়াছেন, তাহার দোষ কি।” বলিয়া মহিষী দ্বিগুণ কাঁদিতে লাগিলেন।

প্রতাপাদিত্য ঈষৎ বিরক্ত হইয়া কহিলেন, “ও কথা ত অনেকবার হইয়া গিয়াছে। যে কথা হইতেছিল তাহাই বল না।”

মহিষী কপালে করাঘাত করিয়া কহিলেন, “আমারি পোড়া কপাল! বলিব আর কি? বলিলে কি তুমি কিছু শোন? একবার বিভার মুখপানে চাও মহারাজ! সে যে কাহাকেও কিছু বলে না—সে কেবল দিনে দিনে শুকাইয়া যায়, ছায়ার মত হইয়া আসে, কিন্তু সে কথা কহিতে জানে না! তাহার একটা উপায় কর।”

প্রতাপাদিত্য বিরক্ত হইয়া উঠিলেন—মহিষী আর কিছু না বলিয়া ফিরিয়া আসিলেন।

1 রামচন্দ্রের পত্র ও রাজমহিষী

রামচন্দ্র রায় ভাবলেন, বিভা যে চন্দ্রদ্বীপে আসেনি, তা কেবল প্রতাপাদিত্যের শাসনে আর উদয়াদিত্যের পরামর্শেই হয়েছে। বিভা যে নিজের ইচ্ছায় আসেনি, এটা ভাবতেই তাঁর আত্মমর্যাদায় প্রচণ্ড আঘাত লাগল। তিনি ভাবলেন, প্রতাপাদিত্য আমাকে অপমান করতে চায়, তাই সে কখনো বিভাকে আমার কাছে পাঠাবে না। কিন্তু এই অপমান আমিই তাকে ফিরিয়ে দিই না কেন? আমিই তাকে একটা চিঠি লিখি না কেন যে, তোমার মেয়েকে আমি পরিত্যাগ করলাম, তাকে যেন আর চন্দ্রদ্বীপে পাঠানো না হয়। এইরূপ সাতপাঁচ ভেবে এবং পাঁচজনের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রতাপাদিত্যকে এই মর্মে একটি চিঠি লেখা হলো। প্রতাপাদিত্যকে এমন চিঠি লেখা সাধারণ সাহসের কাজ নয়। রামচন্দ্র রায়ের মনে মনে বেশ ভয় হচ্ছিল। কিন্তু ঢালু পাহাড়ে বেগে নামতে নামতে হাজার ভয় করলেও যেমন মাঝে থামা যায় না, রামচন্দ্র রায়ের মনেও তেমনই একটা ভাব জেগেছিল!—হঠাৎ একটা দুঃসাহসিক কাজে প্রবৃত্ত হয়েছেন, শেষ পর্যন্ত না পৌঁছে যেন দাঁড়াতে পারছেন না। রামমোহনকে ডেকে বললেন—“এই চিঠি যশোরে নিয়ে যা।” রামমোহন জোড়হাতে বলল, “আজ্ঞে না মহারাজ, আমি পারব না। আমি ঠিক করেছি, আর যশোরে যাব না। যদি আবার মা-ঠাকরুনকে আনতে যেতে বলেন, তাহলে আর একবার যেতে পারি, নইলে এ চিঠি নিয়ে যেতে পারব না।” রামমোহনকে আর কিছু না বলে রাজা সেই পত্রখানি বৃদ্ধ নয়নচাঁদের হাতে দিলেন। সে সেই চিঠি নিয়ে যশোরের দিকে রওনা দিল।

চিঠি নিয়ে গেল বটে, কিন্তু নয়নচাঁদের মনে খুব ভয় হলো। প্রতাপাদিত্যের হাতে এই চিঠি পড়লে না জানি তিনি কী করে বসেন। অনেক ভেবেচিন্তে সে মহিষীর হাতে এই চিঠি দেওয়ার সংকল্প করল। মহিষীর মনের অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। একদিকে বিভার জন্য তাঁর চিন্তা, আর অন্যদিকে উদয়াদিত্যের জন্য তাঁর কষ্ট। সংসারের ঝামেলায় তিনি যেন একেবারে ঝালাপালা হয়ে গেছেন। মাঝে মাঝে প্রায়ই তাঁকে কাঁদতে দেখা যায়। তাঁর যেন আর ঘরকন্নার কাজে মন লাগে না। এই অবস্থায় তিনি চিঠিটা পেলেন—কী যে করবেন কিছুই ভেবে পেলেন না। বিভাকে কিছু বলতে পারেন না; বললে সুকুমারী বিভা আর বাঁচবে না। মহারাজের কানে এই চিঠির কথা উঠলে কী যে অনর্থ ঘটবে তার কোনো ঠিক নেই। অথচ এমন সংকটের অবস্থায় কাউকে কিছু না বলে, কারও কাছে কোনো পরামর্শ না নিয়ে মহিষী আর থাকতে পারছেন না। চারিদিক অকূল পাথার দেখে মহিষী কাঁদতে কাঁদতে প্রতাপাদিত্যের কাছে গেলেন। বললেন—“মহারাজ, বিভার তো যা হোক একটা কিছু করতে হবে।”

প্রতাপাদিত্য বললেন, “কেন বলো তো?”

মহিষী বললেন, “নাঃ, কিছু যে হয়েছে তা নয়—তবে বিভাকে তো কোনো না কোনো সময়ে শ্বশুরবাড়ি পাঠাতেই হবে!”

প্রতাপাদিত্য—“সে তো বুঝলাম, কিন্তু এতদিন পর আজ যে হঠাৎ তা মনে পড়ল?”

মহিষী ভয় পেয়ে বললেন—“ওই তোমার এক কথা, আমি কি বলছি যে কিছু হয়েছে? যদি কিছু হয়—”

প্রতাপাদিত্য বিরক্ত হয়ে বললেন, “হবে আর কী?”

মহিষী—“এই মনে করুন যদি জামাই বিভাকে একেবারে ত্যাগ করে।” বলে মহিষী রুদ্ধকণ্ঠে কাঁদতে লাগলেন।

প্রতাপাদিত্য অত্যন্ত রেগে উঠলেন। তাঁর চোখ দিয়ে যেন আগুন ঠিকরে বেরোতে লাগল।

মহারাজের সেই মূর্তি দেখে মহিষী চোখের জল মুছে তাড়াতাড়ি বললেন, “তাই বলে জামাই কি আর সত্যিই লিখেছে যে, ওগো তোমাদের বিভাকে আমি ত্যাগ করলাম, তাকে আর চন্দ্রদ্বীপে পাঠিও না, তা তো নয়—তবে কথা হলো, যদি কোনোদিন তাই লিখে বসে!”

প্রতাপাদিত্য বললেন—“তখন তার যোগ্য ব্যবস্থা করব, এখন তার জন্য ভাবার সময় নেই।”

মহিষী কেঁদে বললেন,—“মহারাজ তোমার পায়ে পড়ি, আমার একটা কথা রাখো। একবার ভেবে দেখো বিভার কী হবে! আমার প্রাণটা পাথরের মতো তাই আজও টিকে আছে, নইলে আমাকে যতদূর যন্ত্রণা দেওয়ার তা তো দিয়েছ। উদয়কে—আমার বাছাকে—রাজার ছেলেকে—সাধারণ অপরাধীর মতো বন্দী করেছ—সে আমার কারও কোনো ক্ষতি করে না, কিছুতে জড়িয়ে থাকে না, দোষের মধ্যে সে কিছু বোঝে-সোজ়ে না, রাজকার্য শেখেনি, প্রজা শাসন করতে জানে না, ওর বুদ্ধি নেই, তা ভগবান ওকে যা বানিয়েছেন, তাতে ওর দোষ কী।” বলে মহিষী দ্বিগুণ জোরে কাঁদতে লাগলেন।

প্রতাপাদিত্য সামান্য বিরক্ত হয়ে বললেন, “ওসব কথা তো অনেকবার হয়েছে। যে কথা হচ্ছিল সেটাই বলো না।”

মহিষী কপালে চাপড় মেরে বললেন, “আমারই পোড়া কপাল! আর কী বলব? বললে কি তুমি কিছু শোনো? একবার বিভার মুখের দিকে তাকাও মহারাজ! সে যে কাউকে কিছু বলে না—সে কেবল দিনে দিনে শুকিয়ে যাচ্ছে, ছায়ার মতো হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু সে কথা বলতে জানে না! তার একটা উপায় করো।”

প্রতাপাদিত্য বিরক্ত হয়ে উঠলেন—মহিষী আর কিছু না বলে ফিরে এলেন।

1 रामचंद्र का पत्र और राजमहिषी

रामचंद्र राय ने सोचा, विभा जो चंद्रद्वीप नहीं आई, वह केवल प्रतापादित्य के शासन और उदयादित्य की सलाह के कारण। विभा अपनी इच्छा से नहीं आई, यह सोचने पर उनके आत्म-गौरव को अत्यंत ठेस पहुँचती है। उन्होंने सोचा, प्रतापादित्य मुझे अपमानित करना चाहता है, इसलिए वह कभी विभा को मेरे पास नहीं भेजेगा। लेकिन यह अपमान मैं ही उसे क्यों न लौटा दूँ? मैं ही उसे एक पत्र क्यों न लिखूँ कि, मैंने तुम्हारी बेटी को त्याग दिया, उसे अब और चंद्रद्वीप न भेजा जाए। इस प्रकार बहुत सोच-विचार कर और कुछ लोगों से सलाह-मशवरा करके प्रतापादित्य को इसी आशय का एक पत्र लिखा गया। प्रतापादित्य को ऐसा पत्र लिखना कोई साधारण साहस का काम नहीं था। रामचंद्र राय के मन में काफी डर हो रहा था। लेकिन जैसे ढलान वाले पर्वत से तेज़ी से उतरते हुए हज़ार डर लगने पर भी बीच में रुका नहीं जा सकता, रामचंद्र राय के मन में भी वैसी ही एक भावना उत्पन्न हुई थी!—सहसा एक दुस्साहसिक कार्य में प्रवृत्त हो गए हैं, अंत तक पहुँचे बिना जैसे रुक नहीं पा रहे हैं। राममोहन को बुलाकर कहा—"यह पत्र यशोर ले जाओ।" राममोहन ने हाथ जोड़कर कहा, “आज्ञा, नहीं महाराज, मैं नहीं कर सकूँगा। मैंने निश्चय किया है, अब यशोर नहीं जाऊँगा। हाँ, यदि आप फिर से माँ-ठकुरानी को लाने के लिए जाने को कहें तो एक बार और जा सकता हूँ, अन्यथा यह पत्र लेकर नहीं जा सकूँगा।" राममोहन को और कुछ न कहकर राजा ने वह पत्र वृद्ध नयनचंद के हाथों में दे दिया। वह उस पत्र को लेकर यशोर के लिए निकल पड़ा।

पत्र लेकर तो चला गया, लेकिन नयनचंद के मन में बड़ा डर हुआ। प्रतापादित्य के हाथ में यह पत्र पड़ने पर न जाने वह क्या कर बैठेंगे। बहुत सोच-विचार कर उसने यह पत्र महिषी के हाथ में देने का संकल्प किया। महिषी की मानसिक अवस्था अच्छी नहीं थी। एक ओर विभा के लिए उनकी चिंता, और दूसरी ओर उदयादित्य के लिए उनका कष्ट। संसार के झंझटों में वह जैसे पूरी तरह से त्रस्त हो गई थीं। बीच-बीच में अक्सर उन्हें रोते हुए देखा जाता था। उनका जैसे अब घर-गृहस्थी में मन नहीं लगता था। ऐसी अवस्था में उन्हें यह पत्र मिला—क्या करें, कुछ सोच नहीं पाईं। विभा से कुछ कह नहीं सकतीं; ऐसा करने पर सुकुमार विभा जीवित नहीं रहेगी। महाराज के कानों तक इस पत्र की बात पहुँचने पर क्या अनर्थ हो जाएगा, उसका कोई ठिकाना नहीं। फिर भी, ऐसी संकट की स्थिति में किसी से कुछ कहे बिना, किसी से कोई सलाह लिए बिना महिषी जी नहीं सकती थीं, चारों ओर अथाह सागर देखकर महिषी रोते-रोते प्रतापादित्य के पास गईं। बोलीं—"महाराज, विभा का तो जो भी हो, कुछ करना ही होगा।"

प्रतापादित्य ने कहा, “क्यों, बताओ तो?”

महिषी बोलीं, “नहीं, कुछ हुआ है ऐसी बात नहीं है—पर विभा को तो कभी न कभी ससुराल भेजना ही होगा!”

प्रतापादित्य—“वह तो समझा, लेकिन इतने दिनों बाद आज जो सहसा यह याद आया?”

महिषी ने डरकर कहा—“यही तो तुम्हारी एक बात है, मैं क्या कह रही हूँ कि कुछ हुआ है? यदि कुछ हो—”

प्रतापादित्य ने বিরক্ত होकर कहा “और होगा क्या?”

महिषी—“यही मान लो यदि दामाद विभा को पूरी तरह से त्याग दें।” कहकर महिषी रुंधे गले से रोने लगीं।

प्रतापादित्य अत्यंत क्रुद्ध हो उठे। उनकी आँखों से चिंगारियाँ निकलने लगीं।

महाराज का वह रूप देखकर महिषी आँसू पोंछकर जल्दी से बोलीं, “तो क्या दामाद ने सच में लिख दिया है कि, ओहो तुम्हारी विभा को मैंने त्याग दिया, उसे और चंद्रद्वीप मत भेजना, ऐसा तो नहीं है—लेकिन बात यह है, यदि किसी दिन ऐसा लिख बैठे!”

प्रतापादित्य ने कहा—“तब उसका उचित विधान करेंगे, अभी उसके लिए सोचने का अवसर नहीं है।"

महिषी ने रोकर कहा,—“महाराज तुम्हारे पैरों पड़ती हूँ, मेरी एक बात रखो। एक बार सोचकर देखो विभा का क्या होगा! मेरा हृदय पत्थर का है, इसलिए आज भी धड़क रहा है, वरना आपने मुझे जितनी पीड़ा देनी थी, दे ही दी है। उदय को—मेरे बच्चे को—राजा के बेटे को—एक साधारण अपराधी की तरह बंदी बना रखा है—वह मेरा किसी का कोई अपराध नहीं करता, किसी चीज़ में लिप्त नहीं रहता, उसका दोष केवल इतना है कि वह कुछ समझता नहीं है, उसने राज-काज नहीं सीखा, प्रजा पर शासन करना नहीं जानता, उसमें बुद्धि नहीं है, तो भगवान ने उसे जैसा बनाया है, उसका क्या दोष।” कहकर महिषी दोगुनी रोने लगीं।

प्रतापादित्य ने थोड़ा বিরক্ত होकर कहा, “यह बात तो कई बार हो चुकी है। जो बात हो रही थी, वही कहो न।"

महिषी ने अपने माथे पर हाथ पटककर कहा, “मेरा ही भाग्य खराब है! और क्या कहूँ? कहने से क्या तुम कुछ सुनते हो? एक बार विभा के मुख की ओर देखो महाराज! वह किसी से कुछ नहीं कहती—वह तो बस दिन-प्रतिदिन सूखती जा रही है, छाया जैसी होती जा रही है, लेकिन वह बात करना नहीं जानती! उसका कोई उपाय करो।"

प्रतापादित्य বিরক্ত हो उठे—महिषी और कुछ न कहकर लौट आईं।

1 Ramchandra's Letter and the Queen

Ramchandra Ray concluded that Vibha had not come to Chandradwip solely because of Pratapaditya’s command and Udayaditya’s counsel. The thought that Vibha might have refused of her own accord was a great blow to his self-esteem. He thought, ‘Pratapaditya wants to insult me, therefore he will never send Vibha to me. But why don't I turn this insult back on him? Why don't I write him a letter saying that I have renounced your daughter, and she should not be sent to Chandradwip again?’ After much deliberation and consultation with five people, a letter to that effect was written to Pratapaditya. To write such a letter to Pratapaditya was no act of ordinary courage. Ramchandra Ray was quite afraid in his heart. But just as it is impossible to stop midway while descending a steep mountain at high speed, a similar feeling had arisen in Ramchandra Ray's mind!—having suddenly embarked on a reckless course, it was as if he could not stop until he reached the very end. Calling Rammohan, he said, “Take this letter to Jessore.” Rammohan, with folded hands, replied, “Maharaj, no, I cannot. I have resolved not to go to Jessore again. If you command me to go once more to bring back our lady mother, then perhaps I could go, but otherwise, I cannot take this letter.” Saying nothing more to Rammohan, the king handed the letter to the old Nayanchand. He set off for Jessore with that letter.

He took the letter, it is true, but Nayanchand was greatly afraid. He did not know what Pratapaditya might do if this letter fell into his hands. After much thought, he resolved to give this letter to the Mahishi. The Mahishi’s state of mind was not good at all. On one hand, she worried for Vibha, and on the other, she was pained for Udayaditya. It was as if she had become completely overwhelmed by the chaos of the household. She was often seen crying. It seemed she no longer had any heart for her domestic duties. It was in this state that she received the letter—she could not think what to do. She could not say anything to Vibha; if she did, the delicate Vibha would not survive. There was no telling what disaster would befall if word of this letter reached the Maharaj's ears. Yet, in such a crisis, the Mahishi could not bear to live without telling someone, without seeking advice from anyone. Seeing a shoreless ocean on all sides, the Mahishi went to Pratapaditya, weeping. She said, “Maharaj, something must be done about Vibha.”

Pratapaditya said, “Why do you say that?”

The Mahishi said, “No, it’s not that anything has happened—but at some point or other, Vibha will have to be sent to her in-laws’ house!”

Pratapaditya—“I understand that, but why has this suddenly occurred to you today after all this time?”

The Mahishi said fearfully—“That’s just like you, what am I saying that anything has happened? If something were to happen—”

Pratapaditya said in annoyance, “What more could happen?”

The Mahishi—“Just imagine if our son-in-law were to abandon Vibha completely.” Saying this, the Mahishi’s voice choked, and she began to cry.

Pratapaditya became extremely angry. Sparks of fire shot from his eyes.

Seeing the Maharaj in that state, the Mahishi wiped away her tears and said hurriedly, “But that is not to say that our son-in-law has actually written saying, ‘Hey, I have abandoned your Vibha, do not send her to Chandradwip anymore,’ that is not the case—the point is, what if one day he does write that!”

Pratapaditya said—“When that happens, I will take the appropriate measures. For now, there is no time to worry about it.”

The Mahishi cried and said, “Maharaj, I fall at your feet, please grant me this one request. Think for a moment what will become of Vibha! My heart must be made of stone that it still endures, otherwise you have given me as much pain as one can be given. Uday—my darling child—the son of a king—you have imprisoned him like a common criminal. He does no wrong to anyone, he doesn't get involved in anything, his only fault is that he doesn't understand things, hasn't learned statecraft, doesn't know how to rule subjects, he has no cleverness, but whatever Bhagavan has made him, what is his fault in that?” Saying this, the Mahishi cried twice as hard.

Pratapaditya, slightly annoyed, said, “That topic has been discussed many times. Just stick to the matter at hand.”

The Mahishi struck her forehead and said, “It is my cursed fate! What more can I say? Do you ever listen when I speak? Just look at Vibha’s face for once, Maharaj! She says nothing to anyone—she just wastes away day by day, becoming like a shadow, but she doesn’t know how to speak up! Do something for her.”

Pratapaditya grew annoyed—the Mahishi, saying nothing more, returned.

1 ラーマチャンドラの手紙と王妃

ラーマチャンドラ・ライは考えた。ビバがチャンドラドウィープに来なかったのは、ひとえにプラタパディティヤの命令とウダヤディティヤの入れ知恵のせいだと。ビバが自らの意志で来なかったのだと思うと、彼の自尊心はひどく傷つけられた。彼は思った。「プラタパディティヤは私を侮辱したいのだ。だからビバを私の元に送ってくるはずがない。だが、この侮辱を私の方から返してやったらどうだ?『そなたの娘を私は離縁する。二度とチャンドラドウィープに送ってはならぬ』という手紙を、私の方から書いてやったらどうだろうか」。あれこれと考え、数人と相談した末、プラタパディティヤ宛にその趣旨の手紙が書かれた。プラタパディティヤにこのような手紙を書くのは、並大抵の勇気でできることではなかった。ラーマチャンドラ・ライは内心、少なからず恐れていた。しかし、急な坂道を勢いよく下りている時に、いくら怖くても途中で止まれないように、ラーマチャンドラ・ライの心にもそのような感情が湧き上がっていた。――突如として無謀な行いに身を投じてしまい、最後まで行き着くまで止まることができないかのようだった。ラムモハンを呼びつけ、彼は言った。「この手紙をジョソールへ持って行け」。ラムモハンは手を組み、「マハラジャ、ご命令ですが、私にはできかねます。私はもうジョソールへは行かぬと決めております。もし再び奥方様をお迎えに行くようにと仰せでしたら、もう一度は参るかもしれませんが、さもなくば、この手紙を持って行くことはできません」と答えた。王はラムモハンにはそれ以上何も言わず、老いたナヤンチャンドにその手紙を渡した。彼はその手紙を携え、ジョソールへと旅立った。

手紙は受け取ったものの、ナヤンチャンドはひどく恐ろしくなった。この手紙がプラタパディティヤの手に渡れば、王が何をなさるか分からない。彼はさんざん考えた末、この手紙を王妃の手に渡すことを決心した。王妃の心境は、決して穏やかではなかった。一方ではビバを案じ、また一方ではウダヤディティヤのことで心を痛めていた。宮中のごたごたに、彼女はすっかり疲れ果てているようだった。時折、涙を流す姿が見かけられた。もはや家政に心を配る気力もないかのようだった。そのような状態で彼女はこの手紙を受け取った――どうすればよいのか、皆目見当がつかなかった。ビバに何かを言うことはできない。そんなことをすれば、か弱いビバは生きてはいられないだろう。マハラジャの耳にこの手紙のことが入れば、どのような災いが降りかかるか知れたものではない。しかし、このような危機的状況で誰にも何も言わず、誰からの助言も得ずにいることなど、王妃には耐えられなかった。四方八方が絶望の海のように思え、王妃は泣きながらプラタパディティヤのもとへ向かった。そして言った。「マハラジャ、ビバのこと、何とかしなければなりません」。

プラタパディティヤは言った。「なぜだ、申してみよ」。

王妃は答えた。「いえ、何かが起きたというわけでは…ただ、ビバをいつかは嫁ぎ先に送らなければなりませんでしょう!」

プラタパディティヤは言った。「それは分かっている。だが、なぜ今になって、突然それを思い出したのだ?」

王妃は怯えて言った。「またそのようなことを…。私が何かあったと申しましたか? もし、もしものことがあったらと――」

プラタパディティヤは苛立って言った。「何が起きるというのだ?」

王妃は言った。「もし…もし婿殿がビバを完全に離縁したらと…」そう言うと、王妃は声を詰まらせて泣き始めた。

プラタパディティヤは激怒した。その眼からは火花が散るようであった。

マハラジャのその形相を見て、王妃は涙を拭い、慌てて言った。「だからと言って、婿殿が本当に『そなたたちのビバを離縁する。二度とチャンドラドウィープに送ってはならぬ』などと書いてきたわけではございません。そうではありませぬが――ただ、もし、いつかそう書いてきたら、という話でございます!」

プラタパディティヤは言った。「その時はその時で、然るべき処置を取る。今はそのようなことを考える暇はない」。

王妃は泣きながら訴えた。「マハラジャ、お願いです、どうか一つだけ私の言葉をお聞き入れください。一度でいいから、ビバがどうなるかお考えください! 私の心臓が石でできているからこそ、今もまだこうしておりますが、でなければ、あなたは私に与えうる限りの苦痛をお与えになりました。ウダヤを――あの子を――王の御子を――ただの罪人のように閉じ込めて。あの子は誰にも何の罪も犯さず、何事にも関わろうとしない。欠点と言えば、物事をよく理解せず、国事を学ばず、民を治める術を知らず、知恵がないことだけ。ですが、それはバガヴァーンがそのようにお作りになったのです。あの子に何の罪がありましょう」。そう言うと、王妃は声を上げて泣いた。

プラタパディティヤはやや苛立って言った。「その話はもう何度もした。さっきの話を続けよ」。

王妃は額を打ち、「ああ、私のこの不幸な運命!これ以上何を申せましょう。私が何かを言って、あなたがお聞き入れになったことがおありですか?一度でいいからビバの顔をご覧になってください、マハラジャ!あの子は誰にも何も言いません――ただ日に日にやつれていき、影のようになっていくばかり。でも、その苦しみを口にすることを知らないのです!どうか、あの子のために何か手を打ってください」。

プラタパディティヤは苛立ちを募らせた――王妃はそれ以上何も言わずに引き下がった。