1 প্রতাপাদিত্যের প্রতি উদয়াদিত্যের অন্ধভয়

উদয়াদিত্য কিসে সুখে থাকেন, দিনরাত বিভার সেই একমাত্র চেষ্টা। নিজের হাতে সে তাঁহার সমস্ত কাজ করে। সে নিজে তাঁহার খাবার আনিয়া দেয়, আহারের সময় সম্মুখে বসিয়া থাকে, সামান্য বিষয়েও ত্রুটি হইতে দেয় না। যখন সন্ধ্যার সময় উদয়াদিত্য তাঁহার ঘরে আসিয়া বসেন, দুই হাতে চক্ষু আচ্ছাদন করিয়া বসিয়া থাকেন—বুঝি চোখ দিয়া জল পড়িতে থাকে, তখন বিভা আস্তে আস্তে তাঁহার পায়ের কাছে আসিয়া বসে—কথা উত্থাপন করিতে চেষ্টা করে, কিছুই কথা যোগায় না। দুই জনে স্তব্ধ, কাহারও মুখে কথা নাই। মলিন দীপের আলো মাঝে মাঝে কাঁপিয়া কাঁপিয়া উঠিতেছে, সেই সঙ্গে সঙ্গে দেওয়ালের উপরে একটা আঁধারের ছায়া কাঁপিতেছে, বিভা অনেকক্ষণ ধরিয়া চুপ করিয়া সেই ছায়ার দিকে চাহিয়া চাহিয়া বুক ফাটিয়া নিশ্বাস ফেলিয়া কাঁদিয়া উঠে, “দাদা সে কোথায় গেল?” উদয়াদিত্য চমকিয়া উঠেন, চক্ষুর আচ্ছাদন অপসারণ করিয়া বিভার মুখের দিকে চাহিয়া থাকেন, যেন বিভা কি বলিল ভাল বুঝিতে পারেন নাই, যেন তাহাই বুঝিতে চেষ্টা করিতেছেন, সহসা চৈতন্য হয়, তাড়াতাড়ি চোখের জল মুছিয়া বিভার কাছে আসিয়া বলেন, “আয় বিভা একটা গল্প বলি শোন্!”

বর্ষার দিন—খুব মেঘ করিয়াছে; সমস্ত দিন ঝুপ্ ঝুপ্ করিয়া বৃষ্টি হইতেছে। দিনটা আঁধার করিয়া রহিয়াছে, বাগানের গাছপালাগুলা স্থির ভাবে দাঁড়াইয়া ভিজিতেছে। এক একবার বাতাস দিতেছে ও ঘরের মধ্যে বৃষ্টির ছাঁট আসিতেছে। উদয়াদিত্য চুপ করিয়া বসিয়া আছেন; আকাশে মেঘ ডাকিতেছে, দিগন্তে বিদ্যুত হানিতেছে। বৃষ্টির অবিশ্রাম শব্দ কেবল যেন বলিতেছে, “সুরমা নাই—সে নাই।” মাঝে মাঝে আর্দ্রবাতাস হুহু করিয়া আসিয়া যেন বলিয়া যায়, “সুরমা কোথায়!” বিভা ধীরে ধীরে উদয়াদিত্যের কাছে আসিয়া কহে—“দাদা!” দাদা আর উত্তর দিতে পারেন না, বিভাকে দেখিয়াই তিনি মুখ ঢাকিয়া বাতায়নের উপরে মাথা রাখিয়া পড়েন, মাথার উপরে বৃষ্টি পড়িতে থাকে। এমনি করিয়া দিন চলিয়া যায়, সন্ধ্যা হইয়া আসে, রাত্রি হইতে থাকে। বিভা উদয়াদিত্যের আহারের আয়োজন করিয়া আবার আসিয়া বলে, “দাদা, খাবার আসিয়াছে, খাও’সে!” উদয়াদিত্য কোন উত্তর করেন না। রাত্রি অধিক হইতে লাগিল। বিভা কাঁদিয়া কহে, “দাদা, উঠ, রাত হইল।” উদয়াদিত্য মুখ তুলিয়া দেখেন, বিভা কাঁদিতেছে; তাড়াতাড়ি উঠিয়া বিভার চোখ মুছাইয়া খাইতে যান। ভাল করিয়া খান না। বিভা তাই দেখিয়া নিশ্বাস ফেলিয়া শুইতে যায়, সে আর আহার স্পর্শ করে না।

বিভা কথা কহিতে, গল্প করিতে চেষ্টা করে, কিন্তু বিভা অধিক কথা কহিতে পারে না; উদয়াদিত্যকে কি করিয়া যে সুখে রাখিবে ভাবিয়া পায় না। সে কেবল ভাবে, আহা যদি দাদামহাশয় থাকিতেন!

আজ কাল উদয়াদিত্যের মনে কেমন একটা ভয় উপস্থিত হইয়াছে। তিনি প্রতাপাদিত্যকে অত্যন্ত ভয় করেন। আর সে পূর্ব্বেকার সাহস নাই। বিপদকে তৃণজ্ঞান করিয়া অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রাণপণ করিতে এখন আর পারেন না। সকল কাজেই ইতস্তত করেন, সকল বিষয়েই সংশয় উপস্থিত হয়।

একদিন উদয়াদিত্য শুনিলেন, ছাপরার জমিদারের কাছারীতে রাত্রিযোগে লাঠিয়াল পাঠাইয়া কাছারী লুট করিবার ও কাছারী বাটিতে আগুন লাগাইয়া দিবার আদেশ হইয়াছে। উদয়াদিত্য তৎক্ষণাৎ তাঁহার অশ্ব প্রস্তুত করিতে কহিয়া অন্তঃপুরে গেলেন। শয়নগৃহে প্রবেশ করিয়া একবার চারিদিক দেখিলেন। কি ভাবিতে লাগিলেন। ভাবিতে ভাবিতে অন্যমনস্ক হইয়া বেশ পরিবর্ত্তন করিতে লাগিলেন। বাহিরে আসিলেন। ভৃত্য আসিয়া কহিল, “যুবরাজ অশ্ব প্রস্তুত হইয়াছে। কোথায় যাইতে হইবে?” যুবরাজ কিছুক্ষণ অন্যমনস্ক হইয়া ভৃত্যের মুখের দিকে চাহিয়া রহিলেন ও অবশেষে কহিলেন, “কোথাও না। তুমি অশ্ব লইয়া যাও।”

এক দিন এক ক্রন্দনের শব্দ শুনিতে পাইয়া উদয়াদিত্য বাহির হইয়া আসিলেন, দেখিলেন রাজকর্ম্মচারী এক প্রজাকে গাছে বাঁধিয়া মারিতেছে। প্রজা কাঁদিয়া যুবরাজের মুখের দিকে চাহিয়া কহিল, “দোহাই যুবরাজ!” যুবরাজ তাহার যন্ত্রণা দেখিতে পারিলেন না, তাড়াতাড়ি ছুটিয়া গৃহের মধ্যে প্রবেশ করিলেন। আগে হইলে ফলাফল বিচার না করিয়া কর্ম্মচারীকে বাধা দিতেন, প্রজাকে রক্ষা করিতে চেষ্টা করিতেন।

ভাগবত ও সীতারামের বৃত্তি বন্ধ হইয়া গেছে। তাহাদিগকে প্রকাশ্যে অথবা গোপনে অর্থ সাহায্য করিতে যুবরাজের আর সাহস হয় না। যখনি তাহাদের কষ্টের কথা শুনেন, তথনি মনে করেন “আজই আমি টাকা পাঠাইয়া দেব।” তাহার পরেই ইতস্তত করিতে থাকেন, পাঠানো আর হয় না।

কেহ যেন না মনে করেন, উদয়াদিত্য প্রাণের ভয়ে এরূপ করিতেছেন। সম্প্রতি জীবনের প্রতি তাঁহার যে পূর্ব্বাপেক্ষা বিশেষ আসক্তি জন্মিয়াছে, তাহা নহে। তাঁহার মনে একটা অন্ধ ভয় উপস্থিত হইয়াছে। প্রতাপাদিত্যকে তিনি যেন রহস্যময় কি একটা মনে করেন! যেন উদয়াদিত্যের অদৃষ্ট, উদয়াদিত্যের ভবিষ্যৎ-জীবনের প্রতিদিন প্রতি মুহূর্ত্ত প্রতাপাদিত্যের মুষ্টির মধ্যে রহিয়াছে। উদয়াদিত্য যখন মৃত্যুকে আলিঙ্গন করিতে যাইতেছেন, জীবনের শেষ মুহূর্ত্তে অবস্থান করিতেছেন, তখনও যদি প্রতাপাদিত্য ভ্রূকুঞ্চিত করিয়া বাঁচিতে আদেশ করেন, তাহা হইলে যেন তখনো তাঁহাকে মৃত্যুর মুখ হইতে ফিরিয়া আসিতে হইবে।

1 প্রতাপাদিত্যের প্রতি উদয়াদিত্যের অন্ধভয়

উদয়াদিত্য কীসে সুখে থাকেন, দিনরাত বিভার সেই একমাত্র চেষ্টা। সে নিজের হাতে তাঁর সমস্ত কাজ করে। সে নিজে তাঁর খাবার এনে দেয়, খাওয়ার সময় সামনে বসে থাকে, সামান্য বিষয়েও ত্রুটি হতে দেয় না। যখন সন্ধ্যার সময় উদয়াদিত্য তাঁর ঘরে এসে বসেন, দুহাতে চোখ ঢেকে থাকেন—যেন চোখ দিয়ে জল পড়তে থাকে, তখন বিভা আস্তে আস্তে তাঁর পায়ের কাছে এসে বসে—কোনো কথা তোলার চেষ্টা করে, কিন্তু কিছুই কথা খুঁজে পায় না। দুজনেই চুপচাপ, কারও মুখে কথা নেই। মলিন প্রদীপের আলো মাঝে মাঝে কেঁপে কেঁপে উঠছে, সেই সঙ্গে দেওয়ালের উপর একটা অন্ধকারের ছায়া কাঁপছে, বিভা অনেকক্ষণ ধরে চুপ করে সেই ছায়ার দিকে চেয়ে চেয়ে বুকফাটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে কেঁদে ওঠে, “দাদা, সে কোথায় গেল?” উদয়াদিত্য চমকে ওঠেন, চোখ থেকে হাত সরিয়ে বিভার মুখের দিকে চেয়ে থাকেন, যেন বিভা কী বলেছে তা ঠিক বুঝতে পারেননি, যেন সেটাই বোঝার চেষ্টা করছেন। হঠাৎ হুঁশ ফিরলে, তাড়াতাড়ি চোখের জল মুছে বিভার কাছে এসে বলেন, “আয় বিভা, একটা গল্প বলি শোন!”

বর্ষার দিন—খুব মেঘ করেছে; সারাদিন ঝুপ ঝুপ করে বৃষ্টি হচ্ছে। দিনটা অন্ধকার করে রেখেছে, বাগানের গাছপালাগুলো স্থিরভাবে দাঁড়িয়ে ভিজছে। মাঝে মাঝে বাতাস দিচ্ছে আর ঘরের মধ্যে বৃষ্টির ছাঁট আসছে। উদয়াদিত্য চুপ করে বসে আছেন; আকাশে মেঘ ডাকছে, দিগন্তে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। বৃষ্টির একটানা শব্দ কেবল যেন বলছে, “সুরমা নেই—সে নেই।” মাঝে মাঝে ভেজা বাতাস হুহু করে এসে যেন বলে যায়, “সুরমা কোথায়!” বিভা ধীরে ধীরে উদয়াদিত্যের কাছে এসে ডাকে—“দাদা!” দাদা আর উত্তর দিতে পারেন না, বিভাকে দেখেই তিনি মুখ ঢেকে জানালার ওপর মাথা রেখে ঝুঁকে পড়েন, মাথার ওপরে বৃষ্টি পড়তে থাকে। এভাবেই দিন চলে যায়, সন্ধ্যা হয়ে আসে, রাত হতে থাকে। বিভা উদয়াদিত্যের খাবারের আয়োজন করে আবার এসে বলে, “দাদা, খাবার এসেছে, খেয়ে নাও!” উদয়াদিত্য কোনো উত্তর করেন না। রাত বাড়তে লাগল। বিভা কেঁদে বলে, “দাদা, ওঠো, রাত হলো।” উদয়াদিত্য মুখ তুলে দেখেন, বিভা কাঁদছে; তাড়াতাড়ি উঠে বিভার চোখ মুছিয়ে খেতে যান। ভালো করে খান না। বিভা তাই দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলে শুতে যায়, সে আর খাবার স্পর্শও করে না।

বিভা কথা বলতে, গল্প করতে চেষ্টা করে, কিন্তু বিভা বেশি কথা বলতে পারে না; উদয়াদিত্যকে কীভাবে যে সুখে রাখবে ভেবে পায় না। সে কেবল ভাবে, আহা যদি দাদামশাই থাকতেন!

আজকাল উদয়াদিত্যের মনে কেমন একটা ভয় জন্মেছে। তিনি প্রতাপাদিত্যকে অত্যন্ত ভয় করেন। তাঁর আর আগের মতো সেই সাহস নেই। বিপদকে তুচ্ছজ্ঞান করে অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রাণপণ লড়তে এখন আর পারেন না। সব কাজেই ইতস্তত করেন, সব বিষয়েই সন্দেহ হয়।

একদিন উদয়াদিত্য শুনলেন, ছাপরার জমিদারের কাছারিতে রাতের বেলা লাঠিয়াল পাঠিয়ে কাছারি লুট করার ও কাছারি বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার আদেশ হয়েছে। উদয়াদিত্য তৎক্ষণাৎ তাঁর ঘোড়া প্রস্তুত করতে বলে অন্তঃপুরে গেলেন। শোবার ঘরে ঢুকে একবার চারদিক দেখলেন। কী যেন ভাবতে লাগলেন। ভাবতে ভাবতে অন্যমনস্ক হয়ে পোশাক বদলাতে লাগলেন। বাইরে এলেন। ভৃত্য এসে বলল, “যুবরাজ, ঘোড়া প্রস্তুত। কোথায় যেতে হবে?” যুবরাজ কিছুক্ষণ অন্যমনস্ক হয়ে ভৃত্যের মুখের দিকে চেয়ে রইলেন এবং অবশেষে বললেন, “কোথাও না। তুমি ঘোড়া নিয়ে যাও।”

একদিন এক কান্নার শব্দ শুনতে পেয়ে উদয়াদিত্য বাইরে বেরিয়ে এলেন, দেখলেন রাজকর্মচারী এক প্রজাকে গাছে বেঁধে মারছে। প্রজা কেঁদে যুবরাজের মুখের দিকে চেয়ে বলল, “দোহাই যুবরাজ!” যুবরাজ তার যন্ত্রণা দেখতে পারলেন না, তাড়াতাড়ি ছুটে ঘরের মধ্যে ঢুকলেন। আগে হলে ফলাফল বিচার না করে কর্মচারীকে বাধা দিতেন, প্রজাকে রক্ষা করার চেষ্টা করতেন।

ভাগবত ও সীতারামের ভাতা বন্ধ হয়ে গেছে। তাদের প্রকাশ্যে অথবা গোপনে অর্থ সাহায্য করতে যুবরাজের আর সাহস হয় না। যখনই তাদের কষ্টের কথা শোনেন, তখনই মনে করেন “আজই আমি টাকা পাঠিয়ে দেব।” তার পরেই ইতস্তত করতে থাকেন, পাঠানো আর হয় না।

কেউ যেন মনে না করেন, উদয়াদিত্য প্রাণের ভয়ে এমনটা করছেন। সম্প্রতি জীবনের প্রতি তাঁর যে আগের চেয়ে বিশেষ আসক্তি জন্মেছে, তা নয়। তাঁর মনে একটা অন্ধ ভয় জন্মেছে। প্রতাপাদিত্যকে তিনি যেন রহস্যময় কিছু একটা মনে করেন! যেন উদয়াদিত্যের ভাগ্য, উদয়াদিত্যের ভবিষ্যৎ জীবনের প্রতিদিন প্রতি মুহূর্ত প্রতাপাদিত্যের মুঠোর মধ্যে রয়েছে। উদয়াদিত্য যখন মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে যাচ্ছেন, জীবনের শেষ মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আছেন, তখনও যদি প্রতাপাদিত্য ভ্রূকুটি করে বাঁচতে আদেশ করেন, তাহলে তখনও যেন তাঁকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসতে হবে।

1 प्रतापादित्य के प्रति उदयादित्य का अंधभय

उदयादित्य कैसे सुखी रहें, दिन-रात विभा की यही एकमात्र चेष्टा रहती है। वह अपने हाथों से उनके सारे काम करती है। वह खुद उनका भोजन लाती है, भोजन के समय सामने बैठी रहती है, और छोटी-छोटी बातों में भी कोई कमी नहीं होने देती। जब शाम को उदयादित्य अपने कमरे में आकर बैठते हैं, और दोनों हाथों से अपनी आँखें ढँक लेते हैं—शायद आँखों से आँसू बह रहे होते हैं—तब विभा धीरे-धीरे उनके पैरों के पास आकर बैठ जाती है—बात शुरू करने की कोशिश करती है, पर कोई बात सूझती नहीं। दोनों चुपचाप हैं, किसी के मुँह में कोई बात नहीं। धीमे दीये की लौ बीच-बीच में काँप रही है, और उसके साथ ही दीवार पर एक अंधेरी परछाई भी काँप रही है। विभा देर तक चुपचाप उस परछाई को देखती रहती है और फिर उसका कलेजा फट जाता है, वह गहरी साँस लेकर रो पड़ती है, “दादा, वह कहाँ चली गई?” उदयादित्य चौंक उठते हैं, आँखों से हाथ हटाकर विभा के चेहरे की ओर देखने लगते हैं, मानो समझ न पाए हों कि विभा ने क्या कहा, मानो वही समझने की कोशिश कर रहे हों। सहसा उन्हें होश आता है, और वे जल्दी से अपने आँसू पोंछकर विभा के पास आकर कहते हैं, “आ विभा, तुझे एक कहानी सुनाता हूँ, सुन!”

बरसात का दिन है—घने बादल छाए हैं; दिन भर झमाझम बारिश हो रही है। दिन में अँधेरा छाया हुआ है, बगीचे के पेड़-पौधे स्थिर खड़े भीग रहे हैं। बीच-बीच में हवा चल रही है और कमरे के अंदर बारिश की बौछारें आ रही हैं। उदयादित्य चुपचाप बैठे हैं; आकाश में बादल गरज रहे हैं, और क्षितिज पर बिजली चमक रही है। बारिश की लगातार आवाज़ मानो यही कह रही है, “सुरमा नहीं है—वह नहीं है।” बीच-बीच में नम हवा सनसनाती हुई आती है और मानो पूछ जाती है, “सुरमा कहाँ है!” विभा धीरे-धीरे उदयादित्य के पास आकर कहती है— “दादा!” दादा और उत्तर नहीं दे पाते, विभा को देखते ही वह अपना मुँह ढँककर खिड़की पर सिर रख देते हैं, और उनके सिर पर बारिश की बूँदें पड़ने लगती हैं। इसी तरह दिन बीत जाता है, शाम हो आती है, और रात होने लगती है। विभा उदयादित्य के भोजन का प्रबंध करके फिर आकर कहती है, “दादा, खाना आ गया है, खा लीजिए!” उदयादित्य कोई उत्तर नहीं देते। रात गहराने लगती है। विभा रोते हुए कहती है, “दादा, उठिए, रात हो गई।” उदयादित्य मुँह उठाकर देखते हैं कि विभा रो रही है; वह जल्दी से उठकर विभा के आँसू पोंछकर खाने चले जाते हैं। वह ठीक से नहीं खाते। यह देखकर विभा गहरी साँस लेकर सोने चली जाती है, वह भी भोजन को हाथ नहीं लगाती।

विभा बात करने, कहानी सुनाने की कोशिश करती है, लेकिन विभा ज़्यादा बात नहीं कर पाती; वह सोच नहीं पाती कि उदयादित्य को कैसे सुखी रखे। वह बस यही सोचती है, आह! काश दादा महाशय होते!

आजकल उदयादित्य के मन में एक अजीब सा डर बैठ गया है। वह प्रतापादित्य से बहुत डरते हैं। अब उनमें पहले जैसा साहस नहीं रहा। अब वह विपत्ति को तिनके के समान समझकर अत्याचार के विरुद्ध जान की बाज़ी नहीं लगा सकते। हर काम में हिचकिचाते हैं, हर बात में संदेह होता है।

एक दिन उदयादित्य ने सुना कि छपरा के ज़मींदार की कचहरी में रात के समय लठैत भेजकर कचहरी लूटने और कचहरी की इमारत में आग लगाने का आदेश हुआ है। उदयादित्य ने तुरंत अपना घोड़ा तैयार करने को कहकर अंतःपुर में गए। शयनकक्ष में प्रवेश करके उन्होंने एक बार चारों ओर देखा। कुछ सोचने लगे। सोचते-सोचते अनमने होकर कपड़े बदलने लगे। बाहर आए। सेवक ने आकर कहा, “युवराज, घोड़ा तैयार है। कहाँ जाना है?” युवराज कुछ देर अनमने होकर सेवक के चेहरे की ओर देखते रहे और अंत में कहा, “कहीं नहीं। तुम घोड़ा ले जाओ।”

एक दिन रोने की आवाज़ सुनकर उदयादित्य बाहर आए और देखा कि एक राजकर्मचारी एक प्रजाजन को पेड़ से बाँधकर मार रहा है। प्रजाजन ने रोते हुए युवराज के मुँह की ओर देखकर कहा, “दुहाई युवराज!” युवराज उसकी पीड़ा देख न सके, और जल्दी से भागकर कमरे के अंदर चले गए। पहले होते तो परिणाम का विचार किए बिना कर्मचारी को रोकते, प्रजाजन की रक्षा करने की कोशिश करते।

भागवत और सीताराम की वृत्ति बंद हो गई है। उन्हें প্রকাশ্যে या गुप्त रूप से आर्थिक सहायता देने का साहस अब युवराज में नहीं है। जब भी उनके कष्ट के बारे में सुनते हैं, तो सोचते हैं, “आज ही मैं पैसे भिजवा दूँगा।” उसके बाद हिचकिचाने लगते हैं, और भेजना नहीं हो पाता।

कोई यह न समझे कि उदयादित्य अपनी जान के डर से ऐसा कर रहे हैं। ऐसा नहीं है कि हाल ही में जीवन के प्रति उनका पहले से कोई विशेष लगाव पैदा हो गया है। उनके मन में एक अंधा भय बैठ गया है। वह प्रतापादित्य को मानो कोई रहस्यमयी चीज़ समझते हैं! मानो उदयादित्य का भाग्य, उदयादित्य के भविष्य के जीवन का हर दिन, हर पल प्रतापादित्य की मुट्ठी में है। उदयादित्य जब मृत्यु का आलिंगन करने जा रहे हों, जीवन के अंतिम क्षणों में हों, तब भी यदि प्रतापादित्य भौंहें सिकोड़कर जीने का आदेश दें, तो मानो उन्हें तब भी मौत के मुँह से लौटना पड़ेगा।

1 Udayaditya's Blind Fear of Pratapaditya

Day and night, Vibha’s only effort was to find a way to make Udayaditya happy. She did all his work with her own hands. She herself brought his food, sat before him during his meal, and did not allow even the slightest thing to be amiss. When Udayaditya came to his room in the evening and sat with his eyes covered by both hands—perhaps with tears streaming from them—Vibha would quietly come and sit by his feet. She would try to start a conversation, but no words would come. The two of them were silent; not a word passed their lips. The light of the dim lamp flickered from time to time, and with it, a dark shadow trembled on the wall. After staring silently at that shadow for a long time, Vibha would let out a heart-rending sigh and cry out, “Brother, where has she gone?” Udayaditya would be startled, remove the hands covering his eyes and stare at Vibha’s face, as if he had not quite understood what she had said, as if he were trying to comprehend it. Suddenly, he would come to his senses, quickly wipe his tears, and coming to Vibha, say, “Come, Vibha, let me tell you a story!”

It was a day of monsoon rains—heavily overcast; rain had been falling in a steady patter all day. The day was dark, and the plants in the garden stood still, getting drenched. Now and then, a gust of wind would blow, and a spray of rain would enter the room. Udayaditya sat in silence; thunder rumbled in the sky, and lightning struck on the horizon. The incessant sound of the rain seemed to say only, “Surma is not here—she is gone.” At times, the damp wind would come rushing with a whoosh, as if to say, “Where is Surma!” Vibha would slowly approach Udayaditya and say—“Brother!” Her brother could no longer answer; upon seeing Vibha, he covered his face and rested his head on the window frame, the rain falling upon him. In this way the day passed, evening approached, and night began to fall. Vibha, having arranged Udayaditya's meal, would come again and say, “Brother, the food has come, please eat!” Udayaditya would not answer. The night grew late. Vibha would say through her tears, “Brother, get up, it is late.” Udayaditya would lift his face to see Vibha crying; he would quickly get up, wipe Vibha’s eyes, and go to eat. He did not eat properly. Seeing this, Vibha would sigh and go to bed; she would not touch her food either.

Vibha would try to talk, to tell stories, but Vibha could not talk much; she could not figure out how to keep Udayaditya happy. She only thought, ah, if only grand-uncle were here!

These days, a strange fear had taken hold of Udayaditya’s mind. He was extremely afraid of Pratapaditya. His former courage was gone. He could no longer treat danger as a trifle and fight against oppression with all his might. He hesitated in every task; doubt arose in every matter.

One day, Udayaditya heard that an order had been given to send club-wielding men at night to the estate office of the zamindar of Chhapra to loot it and set the building on fire. Udayaditya immediately ordered his horse to be readied and went to the inner quarters. Entering his bedchamber, he looked around once. What was he thinking? Lost in thought, he began to change his clothes absentmindedly. He came outside. A servant came and said, “Yubaraj, the horse is ready. Where must we go?” The Yubaraj stared at the servant's face absentmindedly for a while and finally said, “Nowhere. Take the horse away.”

One day, hearing the sound of crying, Udayaditya came out and saw a royal official beating a subject who was tied to a tree. The subject, crying, looked at the Yubaraj’s face and said, “Mercy, Yubaraj!” The Yubaraj could not bear to see his suffering; he quickly ran and entered his house. Before, he would have stopped the official without considering the consequences, would have tried to protect the subject.

The stipends for Bhagavat and Sitaram had been stopped. The Yubaraj no longer had the courage to help them with money, either openly or secretly. Whenever he heard of their hardship, he would think, “I will send the money today itself.” Immediately after, he would begin to hesitate, and the money would never be sent.

Let no one think that Udayaditya was doing this out of fear for his life. It is not that he had recently developed a greater attachment to life than before. A blind fear had taken hold of his mind. He regarded Pratapaditya as some kind of mysterious entity! It was as if Udayaditya’s fate, every day and every moment of Udayaditya’s future life, was in Pratapaditya’s fist. Even if Udayaditya were going to embrace death, standing in the final moments of his life, and Pratapaditya were to frown and order him to live, it seemed he would have to return from the jaws of death even then.

1 プラタパディティヤに対するウダヤディティヤの盲目的な恐怖

ウダヤディティヤがどうすれば幸せでいられるか、昼も夜もビバはそればかりを考えていた。彼女は自らの手で兄の身の回りの世話をすべてこなした。食事を運び、食事中は向かいに座り、些細なことにも落ち度がないよう気を配った。夕方、ウダヤディティヤが自室に来て座り、両手で目を覆っていると――おそらく涙がこぼれ落ちているのだろう――ビバはそっと彼の足元に寄り添って座る。何か話そうとするが、言葉が何も出てこない。二人は静まり返り、どちらの口からも言葉はなかった。薄暗い灯火が時折揺らめき、それに合わせて壁に映る影も揺れる。ビバは長い間黙ってその影を見つめていたが、やがて胸が張り裂けるようなため息をつき、泣きながら叫んだ。「お兄様、あの方はどこへ行ってしまったの?」ウダヤディティヤははっとし、目から手をどけてビバの顔を見つめる。まるで彼女が何を言ったのかよく分からず、それを理解しようとしているかのようだ。ふと我に返ると、急いで涙をぬぐい、ビバのそばに来て言った。「ビバ、こっちへおいで。物語を聞かせてやろう!」

雨季のある日――空は厚い雲に覆われ、一日中ざあざあと雨が降り続いていた。日中も薄暗く、庭の木々は静かに佇んで雨に濡れていた。時折風が吹き、部屋の中に雨のしぶきが舞い込んでくる。ウダヤディティヤは黙って座っている。空では雷が鳴り、地平線では稲妻が光る。絶え間なく続く雨音は、ただ「スルマはいない――もういない」と語りかけているかのようだ。時折、湿った風が吹き込んできては、「スルマはどこに!」と問いかけているようだった。ビバが静かにウダヤディティヤのそばに来て「お兄様!」と呼びかける。兄はもう答えることができない。ビバの顔を見るやいなや、彼は顔を覆い、窓枠に頭をもたせかける。その頭上を雨が降り注ぐ。こうして日は過ぎ、夕暮れが訪れ、夜が更けていく。ビバはウダヤディティヤの食事の支度をして、再びやって来て言う。「お兄様、お食事ができましたわ。さあ、召し上がって!」ウダヤディティヤは何も答えない。夜はますます更けていく。ビバは泣きながら言う。「お兄様、起きて。夜になりましたわ。」ウダヤディティヤが顔を上げると、ビバが泣いていた。急いで立ち上がり、ビバの涙をぬぐって食事に向かう。だが、ろくに食べられない。それを見たビバはため息をついて寝室へ向かう。彼女もまた、食事に手をつけなかった。

ビバは話しかけたり、物語を語ったりしようとするが、多くの言葉を紡ぐことはできない。どうすればウダヤディティヤを幸せにしてあげられるのか、彼女には分からなかった。彼女はただ思う、「ああ、もし大おじ様がいらっしゃったら!」

この頃、ウダヤディティヤの心には、ある種の恐怖が芽生えていた。彼はプラタパディティヤをひどく恐れている。かつてのような勇気はもうない。危険をものともせず、圧政に対して命がけで立ち向かうことは、もはや彼にはできなかった。何事にも躊躇し、あらゆることに疑念を抱くようになった。

ある日、ウダヤディティヤは、チャプラの地主の役場へ夜間に棍棒隊を送り込み、略奪して建物に火を放てという命令が下されたことを耳にした。ウダヤディティヤはすぐさま馬の準備を命じ、奥御殿へ向かった。寝室に入ると、一度あたりを見回した。何かを考え込んでいる。考え事をしながら、上の空で服を着替え始めた。外へ出ると、従者が来て言った。「王太子、馬の準備ができました。どちらへ向かわれますか?」王太子はしばらく上の空で従者の顔を見つめていたが、やがて言った。「どこへも行かぬ。馬を連れて行け。」

ある日、泣き叫ぶ声を聞いてウダヤディティヤが外へ出てみると、王の役人が民の一人を木に縛りつけて殴っていた。その民は泣きながら王太子の顔を見て言った。「王太子様、お助けを!」王太子はその苦痛に耐えきれず、急いで駆け足で建物の中へ入ってしまった。以前の彼なら、結果を顧みずに役人を制止し、民を救おうとしただろう。

バーガヴァタとシタラムへの俸給は止められてしまった。彼らを公に、あるいは密かに金銭で助ける勇気は、もはや王太子にはなかった。彼らの苦境を聞くたびに、いつも思う。「今日にでも金を送ってやろう」。しかしその直後には躊躇し始め、結局送られることはないのだった。

ウダヤディティヤが命を惜しんでこのように振る舞っていると、誰も思わないでほしい。最近になって以前より特に生命への執着が生まれたわけではないのだ。彼の心には、ある種の盲目的な恐怖が芽生えていた。プラタパディティヤを、彼は何か不可解な存在のように感じていた。まるでウダヤディティヤの運命、彼の未来の人生の毎日、毎瞬間が、プラタパディティヤの掌中にあるかのようだ。たとえウダヤディティヤが死を迎え入れようとし、人生の最後の瞬間にあったとしても、もしプラタパディティヤが眉をひそめて生きよと命じれば、その時でさえ彼は死の淵から引き返さねばならないかのようだった。