1
বসন্ত রায় ও পাঠান প্রহরীর আলাপ
বিজন পথের ধারে অশথ গাছের তলায় বাহকশূন্য ভূতলস্থিত এক শিবিকার মধ্যে বৃদ্ধ বসন্তরায় বসিয়া আছেন। কাছে আর কেহ নাই, কেবল একটি পাঠান শিবিকার বাহিরে। একটা জনকোলাহল দূরে মিলাইয়া গেল। রজনী স্তব্ধ হইয়া গেল। বসন্তরায় জিজ্ঞাসা করিলেন—
“খাঁ সাহেব, তুমি যে গেলে না?”
পাঠান কহিল “হুজুর, কি করিয়া যাইব? আপনি আমাদের ধন প্রাণ রক্ষার জন্য আপনার সকল অনুচরগুলিকেই পাঠাইলেন। আপনাকে এই পথের ধারে রাত্রে অরক্ষিত অবস্থায় ফেলিয়া যাইব, এত বড় অকৃতজ্ঞ আমাকে ঠাহরাইবেন না। আমাদের কবি বলেন, যে আমার অপকার করে সে আমার কাছে ঋণী, পরকালে সে ঋণ তাহাকে শোধ করিতে হইবে; যে আমার উপকার করে আমি তাহার কাছে ঋণী, কিন্তু কোন কালে তাহার সে ঋণ শোধ করিতে পারিব না।”
বসন্তরায় মনে মনে করিলেন, বাহবা, নোকটা ত বড় ভাল। কিছুক্ষণ বিতর্ক করিয়া পাল্কী হইতে তাঁহার টাকবিশিষ্ট মাথাটি বাহির করিয়া কহিলেন, “খাঁ সাহেব, তুমি বড় ভাল লোক।”
খাঁ সাহেব তৎক্ষণাৎ এক সেলাম করিলেন। এ বিষয়ে বসন্তরায়ের সহিত খাঁ সাহেবের কিছুমাত্র মতের অনৈক্য ছিল না। বসন্তরায় মশালের আলোকে তাহার মুখ নিরীক্ষণ করিয়া কহিলেন “তোমাকে বড়ঘরের লোক বলিয়া মনে হইতেছে।”
পাঠান আবার সেলাম করিয়া কহিল “কেয়া তাজ্জব, মহারাজ, ঠিক ঠাহরাইয়াছেন।”
বসন্তরায় কহিলেন “এখন তোমার কি করা হয়?”
পাঠান নিশ্বাস ছাড়িয়া কহিল “হুজুর দুরবস্থায় পড়িয়াছি, এখন চাষ বাস করিয়া গুজরান্ চালাইতে হইতেছে। কবি বলিতেছেন—“হে অদৃষ্ট, তুমি যে তৃণকে তৃণ করিয়া গড়িয়াছ, ইহাতে তোমার নিষ্ঠুরতা প্রকাশ পায় না, কিন্তু তুমি যে অশথ গাছকে অশথ গাছ করিয়া গড়িয়া অবশেষে ঝড়ের হাতে তাহাকে তৃণের সহিত সমতল করিয়া শোয়াও ইহাতেই আন্দাজ করিতেছি, তোমার মনটা পাথরে গড়া!”
বসন্তরায় নিতান্ত উল্লসিত হইয়া বলিয়া উঠিলেন “বাহবা, বাহবা, কবি কি কথাই বলিয়াছেন। সাহেব, যে দুইটি বয়েৎ আজ বলিলে, ঐ দুইটি লিখিয়া দিতে হইবে।”
পাঠান ভাবিল, তাহার অদৃষ্ট সুপ্রসন্ন। বুড়া লোক বড় সরেস; গরীবের বহুৎ কাজে লাগিতে পারিবে। বসন্তরায় ভাবিলেন, আহা, এককালে যে ব্যক্তি বড়লোক ছিল আজ তাহার এমন দুরবস্থা! চপলা লক্ষ্মীর এ বড় অত্যাচার! মনে মনে তিনি কিছু কাতর হইলেন, পাঠানকে কহিলেন—
“তোমার যে রকম সুন্দর শরীর আছে, তাহাতে ত তুমি অনায়াসে সৈন্যশ্রেণীতে নিযুক্ত হইতে পার।”
পাঠান তৎক্ষণাৎ বলিয়া উঠিল “হুজুর পারি বৈকি! সেই ত আমাদের কাজ। আমার পিতা পিতামহেরা সকলেই তলোয়ার হাতে করিয়া মরিয়াছেন, আমারে সেই এক মাত্র সাধ আছে। কবি বলেন,—
বসন্তরায় হাসিতে হাসিতে কহিলেন “কবি যাহাই বলুন বাপু, আমার কাজ যদি গ্রহণ কর, তবে তলোয়ার হাতে করিয়া মরিবার সাধ মিটিতেও পারে, কিন্তু সে তলোয়ার খাপ হইতে খোলা তোমার ভাগ্যে ঘটিয়া উঠিবে না। বুড়া হইয়া পড়িয়াছি, প্রজারা সুখে স্বচ্ছন্দে আছে, ভগবান্ করুন্, আর যেন লড়াই করিবার দরকার না হয়। বয়স গিয়াছে; তলোয়ার ত্যাগ করিয়াছি। এখন তলোয়ারের পরিবর্ত্তে আর একজন আমার পাণিগ্রহণ করিয়াছে।” এই বলিয়াই পার্শ্বে শায়িত সহচরী সেতারটিকে দুই একটি ঝঙ্কার দিয়া একবার জাগাইয়া দিলেন।
পাঠান ঘাড় নাড়িয়া চোখ বুঁজিয়া কহিল, “আহা, যাহা বলিতেছেন, ঠিক বলিতেছেন। একটি বয়েৎ আছে যে, তলোয়ারে শত্রুকে জয় করা যায়, কিন্তু সঙ্গীতে শত্রুকে মিত্র করা যায়।”
বসন্তরায় বলিয়া উঠিলেন “কি বলিলে খাঁ সাহেব? সঙ্গীতে শত্রুকে মিত্র করা যায়, কি চমৎকার!” চুপ করিয়া কিয়ৎক্ষণ ভাবিতে লাগিলেন, যতই ভাবিতে লাগিলেন ততই যেন অধিকতর অবাক হইতে লাগিলেন। কিছুক্ষণ পরে বয়েৎটির ব্যাখ্যা করিয়া বলিতে লাগিলেন, “তলোয়ার যে এত বড় ভয়ানক দ্রব্য তাহাতেও শত্রুর শত্রুত্ব নাশ করা যায় না,—কেমন করিয়া বলিব নাশ করা যায়?—রোগীকে বধ করিয়া রোগ আরোগ্য করা সে কেমনতর আরোগ্য? কিন্তু সঙ্গীত যে এমন মধুর জিনিষ, তাহাতে শত্রু নাশ না করিয়াও শত্রুত্ব নাশ করা যায়। এ কি সাধারণ কবিত্বের কথা? বাঃ, কি তারিফ্!” বৃদ্ধ এত দূর উত্তেজিত হইয়া উঠিলেন যে, শিবিকার বাহিরে পা রাখিয়া বসিলেন, পাঠানকে আরো কাছে আসিতে বলিলেন ও কহিলেন “তলোয়ারে শত্রুকে জয় করা যায়, কিন্তু সঙ্গীতে শত্রুকেও মিত্র করা যায়, কেমন খাঁ সাহেব?”
পাঠান—“আজ্ঞা হাঁ হুজুর।”
বসন্তরায়—“তুমি একবার রায়গড়ে যাইও। আমি যশোর হইতে ফিরিয়া গিয়া তোমার যথাসাধ্য উপকার করিব!”
পাঠান উৎফুল্ল হইয়া কহিল “আপনি ইচ্ছা করিলে কি না করিতে পারেন!” পাঠান ভাবিল, একরকম বেশ গুছাইয়া লইয়াছি। জিজ্ঞাসা করিল “আপনার সেতার বাজানো আসে?”
বসন্তরায় কহিলেন “হাঁ।” ও তৎক্ষণাৎ সেতার তুলিয়া লইলেন। আঙুলে মেজরাপ আঁটিয়া বেহাগ আলাপ করিতে লাগিলেন। মাঝে মাঝে পাঠান মাথা নাড়িয়া বলিয়া উঠিল “বাহবা! খাসী।” ক্রমে উত্তেজনার প্রভাবে শিবিকার মধ্যে বসিয়া থাকা বসন্তরায়ের পক্ষে অসাধ্য হইয়া উঠিল। তিনি উঠিয়া দাঁড়াইয়া বাজাইতে লাগিলেন। মর্য্যাদা গাম্ভীর্য্য আত্মপর সমস্ত বিস্মৃত হইলেন ও বাজাইতে বাজাইতে অবশেষে গান ধরিলেন—“কেয়সে কাটোঙ্গী রয়ন, সো পিয়া বিনা।”
গান থামিলে পাঠান কহিল “বাঃ কি চমৎকার আওয়াজ।”
বসন্তরায় কহিলেন “তবে বোধ করি, নিস্তব্ধ রাত্রে, খোলা মাঠে সকলের আওয়াজই মিঠা গালে। কারণ, গলা অনেক সাধিয়াছি বটে, কিন্তু লোকে আমার আওয়াজের ত বড় প্রশংসা করে না। তবে কি না, বিধাতা যতগুলি রোগ দিয়াছেন তাহার সকল গুলিরই একটি না একটি ঔষধ দিয়াছেন, তেমনি যতগুলি গলা দিয়াছেন তাহার একটি না একটি শ্রোতা আছেই। আমার গলাও ভাল লাগে এমন দুটো অর্ব্বাচীন আছে। নহিলে, এত দিনে সাহেব, এ গলার দোকানপাট বন্ধ করিতাম; সেই দুটো আনাড়ি খরিদ্দার আছে, মাল চিনে না, তাহাদেরি কাছ হইতে বাহবা মিলে। অনেক দিন দুটাকে দেখি নাই, গীত গানও বন্ধ আছে; তাই ছুটিয়া চলিয়াছি; মনের সাধে গান শুনাইয়া, প্রাণের বোঝা নামাইয়া বাড়ি ফিরিব।” বৃদ্ধের ক্ষীণজ্যোতি চোখ দুটি স্নেহে ও আনন্দে দীপ্যমান হইয়া উঠিল।
পাঠান মনে মনে কহিল “তোমার একটা সাধ মিটিয়াছে, গান শুনানো হইয়াছে, এখন প্রাণের বোঝাটা আমিই নামাইব কি? তোবা, তোবা, এমন কাজও করে! কাফেরকে মারিলে পুণ্য আছে বটে, কিন্তু সে পুণ্য এত উপার্জ্জন করিয়াছি যে, পরকালের বিষয়ে আর বড় ভাবনা নাই, কিন্তু ইহকালের সমস্তই যে প্রকার বেবন্দোবস্ত দেখিতেছি, তাহাতে কাফেরটাকে না মারিয়া যদি তাহার একটা বিলিবন্দেজ করিয়া লইতে পারি তাহাতে আপত্তি দেখিতেছি না।”
বসন্তরায় কিয়ৎক্ষণ চুপ করিয়া আর থাকিতে পারিলেন না; তাঁহার কল্পনা উত্তেজিত হইয়া উঠিল; পাঠানের নিকটবর্ত্তী হইয়া অতি চুপি চুপি কহিলেন “কাহাদের কথা বলিতেছিলাম, সাহেব, জান? তাহারা আমার নাতি ও নাতনী।” বলিতে বলিতে অধীর হইয়া উঠিলেন, ভাবিলেন, “আমার অনুচরেরা কখন ফিরিয়া আসিবে।” আবার সেতার লইয়া গান। আরম্ভ করিলেন।
2
গুপ্তঘাতকের স্বীকারোক্তি ও বসন্ত রায়ের ক্ষমা
একজন অশ্বারোহী পুরুষ নিকটে আসিয়া কহিল “আঃ বাঁচিলাম। দাদা মহাশয়, পথের ধারে এত রাত্রে কাহাকে গান শুনাইতেছ?”
আনন্দে ও বিস্ময়ে অভিভূত বসন্তরায় তৎক্ষণাৎ তাঁহার সেতার শিবিকা উপরে রাখিয়া উদয়াদিত্যের হাত ধরিয়া নামাইলেন ও তাঁহাকে দৃঢ়রূপে আলিঙ্গন করিলেন; জিজ্ঞাসা করিলেন “খবর কি দাদা? দিদি ভাল আছে ত?”
উদয়াদিত্য কহিলেন “সমস্তই মঙ্গল।”
তখন বৃদ্ধ হাসিতে হাসিতে সেতার তুলিয়া লইলেন ও পা দিয়া তাল রাখিয়া মাথা নাড়িয়া গান আরম্ভ করিয়া দিলেন।
“বঁধুয়া অসময়ে কেন হে প্রকাশ?
সকলি যে স্বপ্ন বলে হতেছে বিশ্বাস।
চন্দ্রাবলীর কুঞ্জে ছিলে, সেথায় ত আদর মিলে?
এরি মধ্যে মিটিল কি প্রণয়েরি আশ!
এখনো ত রয়েছে রাত এখনো ত হয় নি প্রভাত,
এখনো এ রাধিকার ফুরায়নি ত অশ্রুপাত।
চন্দ্রাবলীর কুসুমসাজ এখনি কি শুকাল’ আজ?
চকোর হে, মিলাল, কি সে চন্দ্র মুখের মধুর হাস?”
উদয়াদিত্য পাঠানের দিকে চাহিয়া বসন্তরায়কে কানে কানে জিজ্ঞাসা করিলেন, “দাদা মহাশয় এ কাবুলি কোথা হইতে জুটিল?”
বসন্তরায় তাড়াতাড়ি কহিলেন “খাঁ সাহেব, বড় ভাল লোক। সমজ্দার ব্যক্তি। আজ রাত্রি বড় আনন্দে কাটান গিয়াছে।”
উদয়াদিত্যকে দেখিয়া খাঁ সাহেব মনে মনে বিশেষ চঞ্চল হইয়া পড়িয়াছিল, কি করিবে ভাবিয়া পাইতেছিল না।
উদয়াদিত্য পিতামহকে জিজ্ঞাসা করিলেন, “চটিতে না গিয়া এখানে যে?”
পাঠান সহসা বলিয়া উঠিল “হুজুর আশ্বাস পাই ত একটা বলি। আমরা রাজা প্রতাপাদিত্যের প্রজা। মহারাজ আমাকে ও আমার ভাইকে আদেশ করেন যে, আপনি যখন যশোহরের মুথে আসিবেন, তথন পথে আপনাকে খুন করা হয়!”
বসন্তরায় চমকিয়া কহিয়া উঠিলেন “রাম, রাম, রাম!”
উদয়াদিত্য কহিলেন “বলিয়া যাও!”
পাঠান—“আমরা কখন এমন কাজ করি নাই, সুতরাং আপত্তি করাতে তিনি আমাদিগকে নানাপ্রকার ভয় দেখান। সুতরাং বাধ্য হইয়া এই কাজের উদ্দেশে যাত্রা করিতে হইল। পথের মধ্যে আপনার সহিত সাক্ষাৎ হইল। আমার ভাই গ্রামে ডাকাত পড়িয়াছে বলিয়া কাঁদিয়া কাটিয়া আপনার অনুচরদের লইয়া গেলেন। আমার উপর এই কাজের ভার ছিল। কিন্তু, মহারাজ, যদিও রাজার আদেশ, তথাপি এমন কাজে আমার কোন মতেই প্রবৃত্তি হইল না। কারণ, আমাদের কবি বলেন, রাজার আদেশে প্রভুর আদেশে সমস্ত পৃথিবী ধ্বংস করিতে পার কিন্তু সাবধান, স্বর্গের এক কোণও ধ্বংস করিও না। এখন গরীব, মহারাজের শরণাপন্ন হইল। দেশে ফিরিয়া গেলে আমার সর্ব্বনাশ হইবে। আপনি রক্ষা না করিলে আমার আর উপায় নাই!” বলিয়া যোড়হাত করিয়া দাঁড়াইল।
বসন্তরায় অবাক হইয়া দাঁড়াইয়া রহিলেন। কিছুক্ষণ পরে পাঠানকে কহিলেন—“তোমাকে একটি পত্র দিতেছি তুমি রায়গড়ে চলিয়া যাও। আমি সেখানে ফিরিয়া গিয়া তোমার একটা সুবিধা করিয়া দিব।”
উদয়াদিত্য কহিলেন “দাদা মহাশয়, আবার যশোহরে যাইবে না কি?”
বসন্তরায় কহিলেন “হাঁ ভাই!”
উদয়াদিত্য অবাক হইয়া কহিলেন “সে কি কথা!”
বসন্তরায়—“প্রতাপ আমার ত আর কেহ নয়, সহস্র অপরাধ করুক, সে আমার নিতান্তই স্নেহভাজন! আমার নিজের কোন হানি হইবে বলিয়া ভয় করি না। আমি ত ভাই, ভবসমুদ্রের কুলে দাড়াইয়া; একটা ঢেউ লাগিলেই আমার সমস্ত ফুরাইল। কিন্তু এই পাপকার্য্য করিলে প্রতাপের ইহকালের ও পরকালের যে হানি হইত, তাহা ভাবিয়া কি আমি নিশ্চিন্ত থাকিতে পারি? তাহাকে আলিঙ্গন করিয়া একবার সমস্ত বুঝাইয়া বলি।”
বলিতে বলিতে বসন্তরায়ের চোখে জল আসিল। উদয়াদিত্য দুই হস্তে তাঁহার চক্ষু আচ্ছাদন করিলেন।
এমন সময়ে কোলাহল করিতে করিতে বসন্তরায়ের অনুচরগণ ফিরিয়া আসিল।
3
পথভ্রান্ত অনুচরদের কোলাহল
“মহারাজ কোথায়? মহারাজ কোথায়?”
“এইখানেই আছি বাপু, আর কোথায় যাইব?”
সকলে সমস্বরে বলিল—“সে নেড়ে বেটা কোথায়?”
বসন্তরায় বিব্রত হইয়া মাঝে পড়িয়া কহিলেন “হাঁ হাঁ বাপু, তোমার খাঁ সাহেবকে কিছু বলিও না।”
প্রথম—“আজ মহারাজ, বড় কষ্ট পাইয়াছি, আজ সে—”
দ্বিতীয়—“তুই থামনারে; আমি সমস্ত ভাল করিয়া গুছাইয়া বলি। সে পাঠান বেটা আমাদের বরাবর সোজা লইয়া গিয়া অবশেষে বাঁহাতি একটা আমবাগানের মধ্যে—”
তৃতীয়—“নারে সেটা বাব্লা বন।”
চতুর্থ—“সেটা বাঁহাতি নহে সেটা ডানহাতি!”
দ্বিতীয়—“দুর ক্ষেপা, সেটা বাঁহাতি।”
চতুর্থ—“তোর কথাতেই সেটা বাঁহাতি?”
দ্বিতীয়—“বাঁহাতি না যদি হইবে তবে সে পুকুরটা—”
উদয়াদিত্য—“হাঁ বাপু সেটা বাঁহাতি বলিয়াই বোধ হইতেছে তার পরে বলিয়া যাও।”
দ্বিতীয়—“আজ্ঞা হাঁ! সেই বাঁহাতি আম বাগানের মধ্যে দিয়া একটা মাঠে লইয়া গেল। কত চষা মাঠ জমি জলা বাঁশঝাড় পার হইয়া গেলাম, কিন্তু গাঁয়ের নাম গন্ধও পাইলাম না। এমনি করিয়া তিন ঘণ্টা ঘুরিয়া গাঁয়ের কাছাকাছি হইতেই সে বেটা যে কোথায় পালাইল খোঁজ পাইলাম না।”
প্রথম—“সে বেটাকে দেখিয়াই আমার ভাল ঠেকে নাই।”
দ্বিতীয়—“আমিও মনে করিয়াছিলাম এই রকম একটা কিছু হইবেই।”
তৃতীয়—“যখনি দেখিয়াছি নেড়ে, তখনই আমার সন্দেহ হইয়াছে!”
অবশেষে সকলেই ব্যক্ত করিল যে তাহারা পূর্ব্ব হইতেই সমস্ত বুঝিতে পারিয়াছিল।
1
বসন্ত রায় ও পাঠান প্রহরীর আলাপ
নির্জন পথের ধারে অশ্বত্থ গাছের তলায় বাহকহীন, মাটিতে রাখা একটি পালকির মধ্যে বৃদ্ধ বসন্ত রায় বসে আছেন। কাছে আর কেউ নেই, কেবল একজন পাঠান পালকির বাইরে দাঁড়িয়ে। মানুষের কোলাহল দূরে মিলিয়ে গেল। রাত স্তব্ধ হয়ে গেল। বসন্ত রায় জিজ্ঞাসা করলেন—
“খাঁ সাহেব, তুমি যে গেলে না?”
পাঠান বলল, “হুজুর, কী করে যাব? আপনি আমাদের ধনপ্রাণ রক্ষার জন্য আপনার সব অনুচরকেই পাঠিয়ে দিলেন। আপনাকে এই পথের ধারে রাতে অরক্ষিত অবস্থায় ফেলে যাব, আমাকে এত বড় অকৃতজ্ঞ মনে করবেন না। আমাদের কবি বলেন, যে আমার ক্ষতি করে সে আমার কাছে ঋণী, পরকালে তাকে সেই ঋণ শোধ করতে হবে; যে আমার উপকার করে আমি তার কাছে ঋণী, কিন্তু কোনোদিনও তার সেই ঋণ শোধ করতে পারব না।”
বসন্ত রায় মনে মনে ভাবলেন, বাহবা, লোকটা তো বেশ ভালো। কিছুক্ষণ ইতস্তত করে পালকি থেকে তাঁর টাকওয়ালা মাথাটা বের করে বললেন, “খাঁ সাহেব, তুমি খুব ভালো লোক।”
খাঁ সাহেব সঙ্গে সঙ্গে এক সেলাম করল। এ বিষয়ে বসন্ত রায়ের সঙ্গে খাঁ সাহেবের সামান্যতম মতপার্থক্য ছিল না। বসন্ত রায় মশালের আলোয় তার মুখ ভালো করে দেখে বললেন, “তোমাকে সম্ভ্রান্ত ঘরের লোক বলে মনে হচ্ছে।”
পাঠান আবার সেলাম করে বলল, “কী আশ্চর্য, মহারাজ, ঠিক ধরেছেন।”
বসন্ত রায় বললেন, “এখন তুমি কী করো?”
পাঠান দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, “হুজুর, দুরবস্থায় পড়েছি, এখন চাষবাস করে দিন চালাতে হচ্ছে। কবি বলছেন—‘হে অদৃষ্ট, তুমি যে ঘাসকে ঘাস করে গড়েছ, এতে তোমার নিষ্ঠুরতা প্রকাশ পায় না, কিন্তু তুমি যে অশ্বত্থ গাছকে অশ্বত্থ গাছ করে গড়ে অবশেষে ঝড়ের হাতে তাকে ঘাসের সাথে মাটিতে শুইয়ে দাও, এতেই অনুমান করি, তোমার মনটা পাথরে গড়া!’”
বসন্ত রায় অত্যন্ত উল্লসিত হয়ে বলে উঠলেন, “বাহবা, বাহবা, কবি কী কথাই না বলেছেন! সাহেব, আজ যে দুটি বয়েৎ বললে, ওই দুটি লিখে দিতে হবে।”
পাঠান ভাবল, তার ভাগ্য সুপ্রসন্ন। বুড়ো লোকটা বেশ রসিক; গরীবের অনেক কাজে লাগতে পারে। বসন্ত রায় ভাবলেন, আহা, এককালে যে ব্যক্তি বড়লোক ছিল আজ তার এমন দুরবস্থা! চঞ্চলা লক্ষ্মীর এ কী ভীষণ অত্যাচার! মনে মনে তিনি কিছুটা ব্যথিত হলেন, পাঠানকে বললেন—
“তোমার যেরকম সুন্দর শরীর, তাতে তো তুমি অনায়াসে সৈন্যদলে যোগ দিতে পার।”
পাঠান তৎক্ষণাৎ বলে উঠল, “পারি বইকি হুজুর! সেটাই তো আমাদের কাজ। আমার বাবা-দাদারা সবাই তলোয়ার হাতে নিয়েই মরেছেন, আমারও সেই একমাত্র সাধ আছে। কবি বলেন—”
বসন্ত রায় হাসতে হাসতে বললেন, “কবি যা-ই বলুন বাপু, আমার চাকরি যদি নাও, তবে তলোয়ার হাতে মরার সাধ মিটতেও পারে, কিন্তু সেই তলোয়ার খাপ থেকে বের করা তোমার ভাগ্যে ঘটবে না। বুড়ো হয়ে পড়েছি, প্রজারা সুখে-শান্তিতে আছে, ভগবান করুন, আর যেন যুদ্ধ করার দরকার না হয়। বয়স হয়েছে; তলোয়ার ছেড়ে দিয়েছি। এখন তলোয়ারের বদলে আর একজন আমার হাত ধরেছে।” এই বলেই পাশে শোয়ানো সঙ্গিনী সেতারটিকে দু-একটা ঝঙ্কার দিয়ে একবার জাগিয়ে দিলেন।
পাঠান ঘাড় নেড়ে চোখ বুজে বলল, “আহা, যা বলছেন, ঠিক বলছেন। একটা বয়েৎ আছে যে, তলোয়ারে শত্রুকে জয় করা যায়, কিন্তু সঙ্গীতে শত্রুকেও বন্ধু করা যায়।”
বসন্ত রায় বলে উঠলেন, “কী বললে খাঁ সাহেব? সঙ্গীতে শত্রুকেও বন্ধু করা যায়, কী চমৎকার!” চুপ করে কিছুক্ষণ ভাবতে লাগলেন, যতই ভাবতে লাগলেন ততই যেন আরও বেশি অবাক হতে লাগলেন। কিছুক্ষণ পরে বয়েৎটির ব্যাখ্যা করে বলতে লাগলেন, “তলোয়ার যে এত ভয়ানক জিনিস, তা দিয়েও শত্রুর শত্রুতা নাশ করা যায় না—কীভাবে বলব নাশ করা যায়? রোগীকে মেরে রোগ সারানো, সে কেমন আরোগ্য? কিন্তু সঙ্গীত এমন মধুর জিনিস, যা দিয়ে শত্রুকে বিনাশ না করেও শত্রুতা বিনাশ করা যায়। এ কি সাধারণ কবির কথা? বাহ্, কী প্রশংসা!” বৃদ্ধ এত উত্তেজিত হয়ে উঠলেন যে, পালকির বাইরে পা রেখে বসলেন, পাঠানকে আরও কাছে আসতে বললেন এবং বললেন, “তলোয়ারে শত্রুকে জয় করা যায়, কিন্তু সঙ্গীতে শত্রুকেও বন্ধু করা যায়, কেমন খাঁ সাহেব?”
পাঠান—“আজ্ঞে হ্যাঁ হুজুর।”
বসন্ত রায়—“তুমি একবার রায়গড়ে যেও। আমি যশোর থেকে ফিরে গিয়ে তোমার যথাসাধ্য উপকার করব!”
পাঠান উৎফুল্ল হয়ে বলল, “আপনি ইচ্ছে করলে কী না করতে পারেন!” পাঠান ভাবল, একরকম বেশ গুছিয়ে নিয়েছি। জিজ্ঞাসা করল, “আপনি সেতার বাজাতে পারেন?”
বসন্ত রায় বললেন, “হ্যাঁ।” ও তৎক্ষণাৎ সেতার তুলে নিলেন। আঙুলে মেজরাপ পরে বেহাগ আলাপ করতে লাগলেন। মাঝে মাঝে পাঠান মাথা নেড়ে বলে উঠল, “বাহবা! খাসা।” ক্রমে উত্তেজনার বশে পালকির মধ্যে বসে থাকা বসন্ত রায়ের পক্ষে অসম্ভব হয়ে উঠল। তিনি উঠে দাঁড়িয়ে বাজাতে লাগলেন। মর্যাদা, গাম্ভীর্য, আত্মপর—সব ভুলে গেলেন এবং বাজাতে বাজাতে অবশেষে গান ধরলেন—“ক্যায়সে কাটুঙ্গি রয়ন, সো পিয়া বিনা।”
গান থামলে পাঠান বলল, “বাহ্, কী চমৎকার আওয়াজ।”
বসন্ত রায় বললেন, “তবে বোধহয়, নিস্তব্ধ রাতে, খোলা মাঠে সবার গলাই মিষ্টি শোনায়। কারণ, গলা অনেক সেধেছি বটে, কিন্তু লোকে তো আমার গলার তেমন প্রশংসা করে না। তবে কিনা, বিধাতা যত রোগ দিয়েছেন, তার সবগুলোরই একটা না একটা ওষুধ দিয়েছেন, তেমনি যত গলা দিয়েছেন, তার এক-না-একজন শ্রোতা আছেই। আমার গলাও ভালো লাগে এমন দুটো অবুঝ আছে। নইলে, এতদিন সাহেব, এই গলার দোকানপাট বন্ধ করে দিতাম; সেই দুটো আনাড়ি খরিদ্দার আছে, যারা মাল চেনে না, তাদের কাছ থেকেই বাহবা মেলে। অনেকদিন দুজনকে দেখিনি, গান-বাজনাও বন্ধ আছে; তাই ছুটে চলেছি; মনের সাধে গান শুনিয়ে, প্রাণের বোঝা নামিয়ে বাড়ি ফিরব।” বৃদ্ধের ক্ষীণজ্যোতি চোখদুটি স্নেহ ও আনন্দে উজ্জ্বল হয়ে উঠল।
পাঠান মনে মনে বলল, “তোমার একটা সাধ মিটেছে, গান শোনানো হয়েছে, এখন প্রাণের বোঝাটা আমিই নামিয়ে দেব নাকি? তওবা, তওবা, এমন কাজও করে মানুষ! কাফেরকে মারলে পুণ্য আছে বটে, কিন্তু সে পুণ্য এত উপার্জন করেছি যে, পরকালের বিষয়ে আর তেমন ভাবনা নেই। কিন্তু ইহকালের সবকিছু যেরকম বিশৃঙ্খল দেখছি, তাতে কাফেরটাকে না মেরে যদি তার একটা ব্যবস্থা করে নিতে পারি, তাতে আপত্তি দেখছি না।”
বসন্ত রায় কিছুক্ষণ চুপ করে আর থাকতে পারলেন না; তাঁর কল্পনা উত্তেজিত হয়ে উঠল; পাঠানের কাছে গিয়ে খুব চুপিচুপি বললেন, “কাদের কথা বলছিলাম, সাহেব, জানো? তারা আমার নাতি আর নাতনি।” বলতে বলতে অধীর হয়ে উঠলেন, ভাবলেন, “আমার অনুচরেরা কখন ফিরে আসবে।” আবার সেতার নিয়ে গান আরম্ভ করলেন।
2
গুপ্তঘাতকের স্বীকারোক্তি ও বসন্ত রায়ের ক্ষমা
একজন অশ্বারোহী কাছে এসে বলল, “আঃ, বাঁচলাম! দাদামশাই, পথের ধারে এত রাতে কাকে গান শোনাচ্ছেন?”
আনন্দে ও বিস্ময়ে অভিভূত বসন্ত রায় সঙ্গে সঙ্গে তাঁর সেতার পালকির ওপর রেখে উদয়াদিত্যের হাত ধরে নামালেন এবং তাঁকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলেন। জিজ্ঞাসা করলেন, “খবর কী দাদা? দিদি ভালো আছে তো?”
উদয়াদিত্য বললেন, “সবই মঙ্গল।”
তখন বৃদ্ধ হাসতে হাসতে সেতারটা তুলে নিলেন এবং পা দিয়ে তাল রেখে মাথা নেড়ে গান শুরু করে দিলেন।
“বঁধুয়া অসময়ে কেন হে প্রকাশ?
সকলি যে স্বপ্ন বলে হতেছে বিশ্বাস।
চন্দ্রাবলীর কুঞ্জে ছিলে, সেথায় ত আদর মিলে?
এরি মধ্যে মিটিল কি প্রণয়েরি আশ!
এখনো ত রয়েছে রাত এখনো ত হয় নি প্রভাত,
এখনো এ রাধিকার ফুরায়নি ত অশ্রুপাত।
চন্দ্রাবলীর কুসুমসাজ এখনি কি শুকাল’ আজ?
চকোর হে, মিলাল, কি সে চন্দ্র মুখের মধুর হাস?”
উদয়াদিত্য পাঠানের দিকে তাকিয়ে বসন্ত রায়কে কানে কানে জিজ্ঞাসা করলেন, “দাদামশাই, এই কাবুলি কোথা থেকে জুটল?”
বসন্ত রায় তাড়াতাড়ি বললেন, “খাঁ সাহেব, খুব ভালো লোক। সমঝদার মানুষ। আজ রাতটা খুব আনন্দে কেটেছে।”
উদয়াদিত্যকে দেখে খাঁ সাহেব মনে মনে বেশ চঞ্চল হয়ে পড়েছিল, কী করবে ভেবে পাচ্ছিল না।
উদয়াদিত্য দাদামশাইকে জিজ্ঞাসা করলেন, “চটিতে না গিয়ে এখানে যে?”
পাঠান হঠাৎ বলে উঠল, “হুজুর, আশ্বাস পেলে একটা কথা বলি। আমরা রাজা প্রতাপাদিত্যের প্রজা। মহারাজ আমাকে আর আমার ভাইকে আদেশ দিয়েছিলেন যে, আপনি যখন যশোরের দিকে আসবেন, তখন যেন পথে আপনাকে খুন করা হয়!”
বসন্ত রায় চমকে উঠে বলে উঠলেন, “রাম, রাম, রাম!”
উদয়াদিত্য বললেন, “বলে যাও!”
পাঠান—“আমরা কখনও এমন কাজ করিনি, তাই আপত্তি করায় তিনি আমাদের নানারকম ভয় দেখান। তাই বাধ্য হয়েই এই কাজের জন্য রওনা হতে হল। পথে আপনার সঙ্গে দেখা হল। আমার ভাই গ্রামে ডাকাত পড়েছে বলে কান্নাকাটি করে আপনার অনুচরদের নিয়ে গেল। আমার ওপর এই কাজের ভার ছিল। কিন্তু, মহারাজ, যদিও এটা রাজার আদেশ, তবুও এমন কাজে আমার কিছুতেই মন সায় দিল না। কারণ, আমাদের কবি বলেন, রাজার আদেশে বা প্রভুর আদেশে সমস্ত পৃথিবী ধ্বংস করতে পারো, কিন্তু সাবধান, স্বর্গের একটা কোণও যেন ধ্বংস কোরো না। এখন আমি গরিব, মহারাজের শরণাপন্ন হলাম। দেশে ফিরে গেলে আমার সর্বনাশ হবে। আপনি রক্ষা না করলে আমার আর কোনো উপায় নেই!” বলে সে জোড়হাতে দাঁড়াল।
বসন্ত রায় অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন। কিছুক্ষণ পর পাঠানকে বললেন, “তোমাকে একটা চিঠি দিচ্ছি, তুমি রায়গড়ে চলে যাও। আমি সেখানে ফিরে গিয়ে তোমার একটা ব্যবস্থা করে দেব।”
উদয়াদিত্য বললেন, “দাদামশাই, আবার যশোরে যাবেন নাকি?”
বসন্ত রায় বললেন, “হ্যাঁ ভাই!”
উদয়াদিত্য অবাক হয়ে বললেন, “সে কী কথা!”
বসন্ত রায়—“প্রতাপ তো আমার পর কেউ নয়, হাজার অপরাধ করলেও সে আমার অত্যন্ত স্নেহের পাত্র! আমার নিজের কোনো ক্ষতি হবে বলে ভয় করি না। আমি তো ভাই, ভবসমুদ্রের কূলে দাঁড়িয়ে আছি; একটা ঢেউ লাগলেই আমার সব শেষ। কিন্তু এই পাপকাজটা করলে প্রতাপের ইহকাল ও পরকালের যে ক্ষতি হতো, তা ভেবে আমি কি নিশ্চিন্ত থাকতে পারি? ওকে জড়িয়ে ধরে একবার সবটা বুঝিয়ে বলি।”
বলতে বলতে বসন্ত রায়ের চোখে জল এসে গেল। উদয়াদিত্য দুই হাতে তাঁর চোখ ঢেকে দিলেন।
এমন সময় কোলাহল করতে করতে বসন্ত রায়ের অনুচরেরা ফিরে এল।
3
পথভ্রান্ত অনুচরদের কোলাহল
“মহারাজ কোথায়? মহারাজ কোথায়?”
“এইখানেই আছি বাপু, আর কোথায় যাব?”
সকলে একসঙ্গে বলে উঠল—“ওই নেড়ে বেটা কোথায়?”
বসন্ত রায় বিব্রত হয়ে মাঝখানে পড়ে বললেন, “হ্যাঁ হ্যাঁ বাপু, তোমাদের খাঁ সাহেবকে কিছু বোলো না।”
প্রথমজন—“আজ মহারাজ, খুব কষ্ট পেয়েছি, আজ সে—”
দ্বিতীয়জন—“তুই থাম না রে; আমি সবটা ভালো করে গুছিয়ে বলছি। ওই পাঠানটা আমাদের সোজা পথে নিয়ে গিয়ে শেষে বাঁদিকের একটা আমবাগানের মধ্যে—”
তৃতীয়জন—“না রে, ওটা বাবলা বন ছিল।”
চতুর্থজন—“ওটা বাঁদিকের নয়, ডানদিকের ছিল!”
দ্বিতীয়জন—“দুর ক্ষেপা, ওটা বাঁদিকেরই ছিল।”
চতুর্থজন—“তোর কথাতেই ওটা বাঁদিকের হয়ে গেল?”
দ্বিতীয়জন—“বাঁদিকের না হলে ওই পুকুরটা—”
উদয়াদিত্য—“হ্যাঁ বাপু, ওটা বাঁদিকেরই ছিল বলে মনে হচ্ছে। তারপর বলে যাও।”
দ্বিতীয়জন—“আজ্ঞে হ্যাঁ! সেই বাঁদিকের আমবাগানটার মধ্যে দিয়ে একটা মাঠে নিয়ে গেল। কত চাষ করা মাঠ, জমি, জলা, বাঁশঝাড় পার হলাম, কিন্তু গ্রামের নামগন্ধও পেলাম না। এইভাবে তিন ঘণ্টা ঘুরিয়ে গ্রামের কাছাকাছি আসতেই লোকটা যে কোথায় পালাল, তার খোঁজই পেলাম না।”
প্রথমজন—“লোকটাকে দেখেই আমার ভালো লাগেনি।”
দ্বিতীয়জন—“আমিও মনে মনে ভেবেছিলাম এইরকম একটা কিছু হবেই।”
তৃতীয়জন—“যখনই দেখেছি নেড়ে, তখনই আমার সন্দেহ হয়েছে!”
অবশেষে সবাই বলতে লাগল যে তারা আগে থেকেই সবকিছু বুঝতে পেরেছিল।
1
बसंत राय और पठान अंगरक्षक का वार्तालाप
सुनसान रास्ते के किनारे पीपल के पेड़ के नीचे, कहारों से रहित, ज़मीन पर रखी एक पालकी में वृद्ध बसंत राय बैठे हैं। पास में और कोई नहीं है, केवल एक पठान पालकी के बाहर है। लोगों का शोरगुल दूर कहीं विलीन हो गया। रात्रि शांत हो गई। बसंत राय ने पूछा—
"ख़ान साहब, तुम गए नहीं?"
पठान ने कहा, "हुज़ूर, कैसे जाता? आपने हमारे धन-प्राण की रक्षा के लिए अपने सभी अनुचरों को भेज दिया। आपको रात में इस रास्ते के किनारे असुरक्षित अवस्था में छोड़कर चला जाऊँ, मुझे इतना बड़ा कृतघ्न मत समझिएगा। हमारे कवि कहते हैं, जो मेरा अपकार करता है वह मेरा ऋणी है, परलोक में उसे यह ऋण चुकाना होगा; जो मेरा उपकार करता है, मैं उसका ऋणी हूँ, पर किसी भी जन्म में उसका यह ऋण नहीं चुका पाऊँगा।"
बसंत राय ने मन ही मन सोचा, वाह! यह आदमी तो बहुत अच्छा है। कुछ देर सोच-विचार कर पालकी से अपना गंजा सिर बाहर निकालकर कहा, "ख़ान साहब, तुम बहुत अच्छे आदमी हो।"
ख़ान साहब ने तुरंत एक सलाम किया। इस विषय में बसंत राय के साथ ख़ान साहब का किंचित भी मतभेद नहीं था। बसंत राय ने मशाल की रोशनी में उसका चेहरा ध्यान से देखकर कहा, "तुम्हें देखकर लगता है कि तुम किसी बड़े घराने के हो।"
पठान ने फिर सलाम करके कहा, "क्या ताज्जुब है, महाराज, आपने बिल्कुल ठीक पहचाना।"
बसंत राय ने कहा, "अब तुम क्या करते हो?"
पठान ने एक लंबी साँस छोड़कर कहा, "हुज़ूर, दुर्दशा में पड़ गया हूँ, अब खेती-बाड़ी करके गुज़ारा करना पड़ रहा है। कवि कहते हैं—'हे भाग्य, तूने जो तिनके को तिनका बनाया, इसमें तेरी निष्ठुरता प्रकट नहीं होती, पर तूने जो पीपल के पेड़ को पीपल का पेड़ बनाकर अंत में आँधी के हाथों उसे तिनके के साथ समतल सुला दिया, इसी से अंदाज़ा होता है कि तेरा मन पत्थर का बना है!'"
बसंत राय अत्यंत उल्लासित होकर बोल उठे, "वाह! वाह! कवि ने क्या बात कही है। साहब, आज जो दो शेर तुमने कहे हैं, वे तुम्हें लिखकर देने होंगे।"
पठान ने सोचा, उसका भाग्य मेहरबान है। बूढ़ा आदमी बड़ा रसिक है; ग़रीब के बहुत काम आ सकेगा। बसंत राय ने सोचा, अहा, जो व्यक्ति कभी बड़ा आदमी था, आज उसकी ऐसी दुर्दशा! चंचल लक्ष्मी का यह बड़ा अत्याचार है! मन ही मन वे कुछ दुखी हुए, पठान से कहा—
"तुम्हारा जैसा सुंदर शरीर है, उससे तो तुम आसानी से सेना में भर्ती हो सकते हो।"
पठान तुरंत बोल उठा, "हुज़ूर, क्यों नहीं हो सकता! वही तो हमारा काम है। मेरे पिता और दादा-परदादा सभी तलवार हाथ में लेकर मरे हैं, मेरी भी वही एकमात्र इच्छा है। कवि कहते हैं—"
बसंत राय हँसते-हँसते बोले, "कवि चाहे जो भी कहें, भाई, अगर मेरा काम स्वीकार करते हो, तो तलवार हाथ में लेकर मरने की इच्छा पूरी हो भी सकती है, पर वह तलवार म्यान से निकालना तुम्हारे भाग्य में नहीं होगा। बूढ़ा हो गया हूँ, प्रजा सुख-चैन से है, भगवान करें, अब और लड़ने की ज़रूरत न पड़े। उम्र बीत गई है; तलवार छोड़ दी है। अब तलवार के बदले किसी और ने मेरा हाथ थाम लिया है।" यह कहकर उन्होंने बगल में लेटी अपनी सहचरी सितार को दो-एक झंकार देकर एक बार जगा दिया।
पठान ने सिर हिलाकर, आँखें मूँदकर कहा, "आहा, जो कह रहे हैं, ठीक कह रहे हैं। एक शेर है कि, तलवार से शत्रु को जीता जा सकता है, लेकिन संगीत से शत्रु को मित्र बनाया जा सकता है।"
बसंत राय बोल उठे, "क्या कहा ख़ान साहब? संगीत से शत्रु को मित्र बनाया जा सकता है, कितना अद्भुत है!" चुप होकर कुछ देर सोचते रहे, जितना सोचते, उतने ही अधिक चकित होते जाते। कुछ देर बाद उस शेर की व्याख्या करते हुए कहने लगे, "तलवार जो इतनी भयानक चीज़ है, उससे भी शत्रु का शत्रुत्व नष्ट नहीं किया जा सकता—कैसे कहूँ कि नष्ट किया जा सकता है?—रोगी को मारकर रोग ठीक करना, यह कैसा इलाज है? लेकिन संगीत जो इतनी मधुर चीज़ है, उससे शत्रु को नष्ट किए बिना भी शत्रुता नष्ट की जा सकती है। यह क्या साधारण कवित्व की बात है? वाह, क्या तारीफ़ है!" वृद्ध इतने उत्तेजित हो गए कि पालकी से बाहर पैर रखकर बैठ गए, पठान को और पास आने को कहा और बोले, "तलवार से शत्रु को जीता जा सकता है, लेकिन संगीत से शत्रु को भी मित्र बनाया जा सकता है, क्यों ख़ान साहब?"
पठान—"जी हाँ, हुज़ूर।"
बसंत राय—"तुम एक बार रायगढ़ आना। मैं यशोर से लौटकर तुम्हारी यथासंभव मदद करूँगा!"
पठान उत्साहित होकर बोला, "आप चाहें तो क्या नहीं कर सकते!" पठान ने सोचा, एक तरह से मैंने अच्छा इंतज़ाम कर लिया है। पूछा, "क्या आपको सितार बजाना आता है?"
बसंत राय ने कहा, "हाँ।" और तुरंत सितार उठा लिया। उँगली में मिज़राब पहनकर बिहाग का आलाप करने लगे। बीच-बीच में पठान सिर हिलाकर बोल उठता, "वाह! बहुत खूब!" धीरे-धीरे उत्तेजना के प्रभाव में पालकी के अंदर बैठे रहना बसंत राय के लिए असंभव हो गया। वे खड़े होकर बजाने लगे। मान-मर्यादा, गंभीरता, अपना-पराया सब कुछ भूल गए और बजाते-बजाते अंत में गाना शुरू कर दिया—"कैसे काटूँगी रैन, सो पिया बिना।"
गाना थमने पर पठान ने कहा, "वाह! क्या अद्भुत आवाज़ है।"
बसंत राय ने कहा, "तो शायद, शांत रात में, खुले मैदान में सबकी आवाज़ मीठी लगती होगी। क्योंकि, गला तो बहुत साधा है मैंने, पर लोग मेरी आवाज़ की ज़्यादा तारीफ़ नहीं करते। हाँ, यह बात है कि विधाता ने जितने रोग दिए हैं, उन सब की कोई न कोई औषधि भी दी है, वैसे ही जितने गले दिए हैं, उनका कोई न कोई श्रोता भी होता ही है। मेरा गला भी अच्छा लगे, ऐसे दो नासमझ हैं। वरना, साहब, इतने दिनों में इस गले की दुकान-वुकान बंद कर देता; वही दो अनाड़ी ख़रीददार हैं, माल पहचानते नहीं, उन्हीं से वाहवाही मिलती है। बहुत दिनों से उन दोनों को देखा नहीं है, गीत-संगीत भी बंद है; इसीलिए भागा जा रहा हूँ; मन की साध पूरी करके गाना सुनाकर, प्राणों का बोझ उतारकर घर लौटूंगा।" वृद्ध की धुँधली आँखें स्नेह और आनंद से चमक उठीं।
पठान ने मन ही मन कहा, "तुम्हारी एक इच्छा तो पूरी हो गई, गाना सुना दिया गया, अब क्या प्राणों का बोझ मैं ही उतारूँ? तौबा, तौबा, ऐसा काम भी कोई करता है! काफ़िर को मारने से पुण्य तो मिलता है, पर वह पुण्य इतना कमा चुका हूँ कि परलोक की कोई खास चिंता नहीं है, लेकिन इहलोक का जिस तरह का बेइंतज़ामी देख रहा हूँ, उसमें इस काफ़िर को मारने के बजाय अगर उससे कोई व्यवस्था कर लूँ तो कोई आपत्ति नहीं दिखती।"
बसंत राय कुछ देर चुप नहीं रह सके; उनकी कल्पना उत्तेजित हो उठी; पठान के पास आकर बहुत धीरे से बोले, "किनकी बात कर रहा था, साहब, जानते हो? वे मेरे पोता और पोती हैं।" कहते-कहते अधीर हो उठे, सोचा, "मेरे अनुचर कब लौटकर आएँगे।" फिर से सितार लेकर गाना आरंभ कर दिया।
2
गुप्तघाती की स्वीकारोक्ति और बसंत राय की क्षमा
एक घुड़सवार पास आकर बोला, “आह! जान में जान आई। दादा महाशय, रास्ते के किनारे इतनी रात को किसे गाना सुना रहे हैं?”
आनंद और आश्चर्य से अभिभूत बसंत राय ने तुरंत अपना सितार पालकी के ऊपर रखकर उदयादित्य का हाथ पकड़कर उन्हें नीचे उतारा और उन्हें दृढ़ता से गले लगा लिया; पूछा, “क्या समाचार है, दादा? दीदी ठीक तो है?”
उदयादित्य ने कहा, “सब मंगल है।”
तब वृद्ध ने हँसते-हँसते सितार उठा लिया और पैर से ताल देते हुए सिर हिलाकर गाना शुरू कर दिया।
“हे प्रिय, असमय में क्यों प्रकट हुए?
सब कुछ सपना है, ऐसा विश्वास हो रहा है।
चंद्रावली के कुंज में थे, वहाँ तो आदर मिला न?
इतने में ही क्या प्रेम की आशा मिट गई!
अभी तो रात बाकी है, अभी तो भोर नहीं हुई,
अभी इस राधिका के आँसू भी नहीं थमे हैं।
क्या चंद्रावली का फूलों का श्रृंगार आज ही सूख गया?
हे चकोर, क्या उस चंद्रमुख की मधुर हँसी विलीन हो गई?”
उदयादित्य ने पठान की ओर देखकर बसंत राय से कानाफूसी में पूछा, “दादा महाशय, यह काबुली कहाँ से आ मिला?”
बसंत राय ने जल्दी से कहा, “ख़ान साहब, बड़े अच्छे आदमी हैं। समझदार व्यक्ति हैं। आज की रात बड़े आनंद में बीती है।”
उदयादित्य को देखकर ख़ान साहब मन ही मन बहुत बेचैन हो गया था, वह सोच नहीं पा रहा था कि क्या करे।
उदयादित्य ने दादा महाशय से पूछा, “सराय में न जाकर यहाँ क्यों?”
पठान अचानक बोल पड़ा, “हुज़ूर, यदि आश्वासन पाऊँ तो एक बात कहूँ। हम राजा प्रतापादित्य की प्रजा हैं। महाराज ने मुझे और मेरे भाई को आदेश दिया था कि जब आप यशोर की ओर आएँ, तो रास्ते में आपकी हत्या कर दी जाए!”
बसंत राय चौंककर बोल उठे, “राम, राम, राम!”
उदयादित्य ने कहा, “कहते जाओ!”
पठान—“हमने कभी ऐसा काम नहीं किया, इसलिए आपत्ति करने पर उन्होंने हमें तरह-तरह से डराया-धमकाया। इसलिए मजबूर होकर इस काम के लिए निकलना पड़ा। रास्ते में आपसे भेंट हो गई। मेरा भाई गाँव में डाकू पड़ने का बहाना बनाकर रो-पीटकर आपके अनुचरों को ले गया। इस काम का भार मुझ पर था। लेकिन, महाराज, यद्यपि यह राजा का आदेश था, तथापि ऐसे काम में मेरी ज़रा भी प्रवृत्ति नहीं हुई। क्योंकि, हमारे कवि कहते हैं, राजा के आदेश पर, प्रभु के आदेश पर तुम पूरी पृथ्वी का विनाश कर सकते हो, लेकिन सावधान, स्वर्ग का एक कोना भी नष्ट मत करना। अब यह ग़रीब, महाराज की शरण में आया है। देश लौटकर जाने पर मेरा सर्वनाश हो जाएगा। यदि आप रक्षा नहीं करेंगे तो मेरे पास कोई उपाय नहीं है!” कहकर वह हाथ जोड़कर खड़ा हो गया।
बसंत राय हैरान होकर खड़े रहे। कुछ देर बाद उन्होंने पठान से कहा, “मैं तुम्हें एक पत्र दे रहा हूँ, तुम रायगढ़ चले जाओ। मैं वहाँ लौटकर तुम्हारी कोई व्यवस्था कर दूँगा।”
उदयादित्य ने कहा, “दादा महाशय, क्या आप फिर यशोर जाएँगे?”
बसंत राय ने कहा, “हाँ भाई!”
उदयादित्य ने आश्चर्यचकित होकर कहा, “यह क्या कह रहे हैं!”
बसंत राय—“प्रताप मेरे लिए कोई और नहीं है, वह हज़ार अपराध करे, फिर भी वह मेरा परम स्नेही है! मुझे अपनी किसी हानि का भय नहीं है। मैं तो भाई, भवसागर के किनारे पर खड़ा हूँ; एक लहर लगते ही मेरा सब कुछ समाप्त हो जाएगा। किंतु यह पाप-कर्म करने से प्रताप की इस लोक और परलोक में जो हानि होती, क्या यह सोचकर मैं निश्चिंत रह सकता हूँ? उसे गले लगाकर एक बार सब कुछ समझाना चाहता हूँ।”
कहते-कहते बसंत राय की आँखों में आँसू आ गए। उदयादित्य ने दोनों हाथों से उनकी आँखें ढँक दीं।
उसी समय शोर मचाते हुए बसंत राय के अनुचर लौट आए।
3
भटके हुए साथियों का कोलाहल
“महाराज कहाँ हैं? महाराज कहाँ हैं?”
“यहीं तो हूँ बापू, और कहाँ जाऊँगा?”
सबने एक स्वर में कहा—“वो बदमाश पठान कहाँ है?”
बसंत राय ने परेशान होकर बीच-बचाव करते हुए कहा, “हाँ-हाँ बापू, तुम लोग ख़ान साहब से कुछ मत कहना।”
पहला—“आज महाराज, बड़ा कष्ट पाया है, आज उसने—”
दूसरा—“तू चुप रह रे; मैं सब ठीक से समझाकर बताता हूँ। वो बदमाश पठान हमें सीधे ले जाकर आखिर में बाईं ओर एक आम के बाग़ में—”
तीसरा—“नहीं रे, वह बबूल का जंगल था।”
चौथा—“वह बाईं ओर नहीं, दाहिनी ओर था!”
दूसरा—“दूर पागल, वह बाईं ओर ही था।”
चौथा—“तेरे कहने से क्या वह बाईं ओर हो गया?”
दूसरा—“अगर बाईं ओर नहीं होता तो वह तालाब—”
उदयादित्य—“हाँ बापू, वह बाईं ओर ही लग रहा है, उसके बाद की बात बताओ।”
दूसरा—“जी हाँ! उसी बाईं ओर के आम के बाग़ से होते हुए वह एक मैदान में ले गया। कितने ही जुते हुए खेत, ज़मीन, दलदल और बाँस की झाड़ियाँ पार कीं, लेकिन गाँव का नामोनिशान भी नहीं मिला। इस तरह तीन घंटे तक भटकने के बाद जब गाँव के पास पहुँचे, तो वह बदमाश न जाने कहाँ भाग गया, कुछ पता नहीं चला।”
पहला—“उसे देखते ही मुझे वह ठीक नहीं लगा था।”
दूसरा—“मैंने भी सोचा था कि ऐसा कुछ ज़रूर होगा।”
तीसरा—“जब से देखा कि वह एक पठान है, तभी से मुझे शक हो गया था!”
अंत में, सभी ने यही कहा कि वे पहले से ही सब कुछ समझ गए थे।
1
The Dialogue Between Basanta Ray and the Pathan Guard
By a deserted road, under an Ashvattha tree, the old Basanta Ray sat inside a palanquin that rested on the ground, its bearers gone. No one else was near, only a Pathan outside the palanquin. The clamor of a crowd faded into the distance. The night grew still. Basanta Ray asked—
“Khan Saheb, why didn't you leave?”
The Pathan replied, “Huzur, how could I leave? You sent all your own retainers away to protect our lives and property. Do not consider me so ungrateful as to abandon you here, unprotected on the road at night. Our poet says, 'He who harms me is in my debt, and he must repay it in the afterlife; but he who does me good, I am indebted to him, and I can never repay that debt.'”
Basanta Ray thought to himself, “Bravo, this man is truly good.” After a moment's reflection, he stuck his bald head out of the palanquin and said, “Khan Saheb, you are a very good man.”
Khan Saheb immediately made a salaam. On this matter, he had no disagreement whatsoever with Basanta Ray. Basanta Ray, observing his face in the torchlight, said, “You seem to be a man from a noble family.”
The Pathan salaamed again and said, “How astonishing, Maharaj, you have perceived it exactly.”
Basanta Ray said, “What do you do now?”
The Pathan sighed and said, “Huzur, I have fallen on hard times. I now get by with farming. The poet says—‘Oh, Fate, there is no cruelty in your making grass as grass, but when you make a great Ashvattha tree, only to lay it level with the grass in the hands of a storm, I surmise that your heart is made of stone!’”
Utterly delighted, Basanta Ray exclaimed, “Bravo, bravo, what words the poet has spoken! Saheb, the two couplets you've recited today, you must write them down for me.”
The Pathan thought that his fortune was smiling on him. The old man was excellent; he could be of great use to a poor man. Basanta Ray thought, “Alas, a man who was once of high standing is now in such a sorry state! What tyranny from the fickle Lakshmi!” Feeling somewhat distressed in his heart, he said to the Pathan—
“With a fine physique like yours, you could easily be employed in the army.”
The Pathan immediately exclaimed, “Of course I can, Huzur! That is our profession. My father and grandfathers all died with a sword in hand, and that is my only wish as well. The poet says—”
Basanta Ray said with a laugh, “Whatever the poet may say, my dear man, if you accept my employment, your wish to die with a sword in hand may yet be fulfilled, but it will not be your fate to draw that sword from its sheath. I have grown old; my subjects are happy and at peace. May Bhagavan grant that there be no more need for war. My fighting days are past; I have given up the sword. Now, in place of the sword, another has taken my hand.” Saying this, he gave a strum or two to awaken his companion, the sitar, lying beside him.
The Pathan, nodding and closing his eyes, said, “Ah, what you say is true. There is a couplet: ‘The sword can conquer an enemy, but music can turn an enemy into a friend.’”
Basanta Ray exclaimed, “What did you say, Khan Saheb? Music can turn an enemy into a friend, how wonderful!” He fell silent, thinking for a moment, and the more he thought, the more amazed he seemed to become. After a while, he began to explain the couplet, “That a thing as terrible as the sword cannot destroy enmity itself—how can one say it destroys it? Curing a disease by killing the patient, what kind of cure is that? But music, such a sweet thing, can destroy enmity without destroying the enemy. Is this the stuff of ordinary poetry? Bravo, what praise!” The old man became so agitated that he put his feet outside the palanquin and sat up, beckoning the Pathan closer and saying, “The sword can conquer an enemy, but music can turn even an enemy into a friend, isn't that so, Khan Saheb?”
The Pathan replied, “Yes, Huzur.”
Basanta Ray said, “You must visit me in Raigarh. When I return from Jessore, I will help you as best I can!”
Overjoyed, the Pathan said, “Is there anything you cannot do if you wish it!” The Pathan thought, “I've arranged things quite nicely.” He asked, “Do you know how to play the sitar?”
Basanta Ray said, “Yes,” and immediately picked up the sitar. Fastening the plectrum to his finger, he began to play an alap in the raga Vehag. From time to time, the Pathan would nod his head and exclaim, “Bravo! Exquisite!” Gradually, under the influence of his excitement, it became impossible for Basanta Ray to remain seated in the palanquin. He stood up and continued to play. He forgot all about dignity, solemnity, and his own self, and while playing, he finally began to sing—“Keyse katongi rayan, so piya bina.” (How will I pass the night, without my beloved.)
When the song ended, the Pathan said, “Wah! What a wonderful voice.”
Basanta Ray replied, “Perhaps, then, in the still of the night, in an open field, everyone's voice sounds sweet. Because, though I have practiced my voice a great deal, people do not often praise its quality. But then again, for every ailment Vidhata has given, he has also given a cure; similarly, for every voice He has created, there is at least one listener. I, too, have a couple of foolish youngsters to whom my voice sounds good. If not for them, Saheb, I would have closed down this singing shop long ago. I have those two amateur customers who don't know the quality of the goods, and it is from them I receive praise. I haven't seen the two of them for a long time, and so my music and singing have also stopped. That is why I am rushing to them now; I shall sing to them to my heart's content, unburden my soul, and then return home.” The old man's dimly lit eyes shone with affection and joy.
The Pathan thought to himself, “One of your wishes has been fulfilled—you've had your song. Now, shall I be the one to unburden your soul? Toba, toba, to think of doing such a thing! There is merit, it's true, in killing a kafir, but I have earned so much of that merit that I have little worry for the afterlife. But seeing how disorganized my worldly affairs are, I see no objection to making some arrangement with this kafir instead of killing him.”
Basanta Ray could not remain silent for long; his imagination stirred. Drawing close to the Pathan, he whispered, “Do you know who I was speaking of, Saheb? They are my grandson and granddaughter.” As he spoke, he grew impatient, thinking, “When will my retainers return?” He took up the sitar again and began to sing.
2
The Assassin's Confession and Basanta Ray's Forgiveness
A horseman approached and said, “Ah, what a relief. Grand-uncle, who are you playing music for on the roadside at this late hour?”
Overcome with joy and surprise, Basanta Ray immediately set his sitar down inside the palanquin, took Udayaditya’s hand to help him down, and embraced him tightly. He asked, “What is the news, my boy? Is your sister well?”
Udayaditya replied, “All is well.”
The old man then laughed, picked up his sitar, and tapping his foot to the rhythm and shaking his head, began to sing.
“My love, why appear at such an odd hour?
I believe this must all be a dream.
You were in Chandrabali’s grove, where you found much adoration, no?
Did your heart’s desire for love end so soon?
The night is still here, the dawn has not yet broken,
And this Radhika’s tears have not yet ceased to fall.
Has Chandrabali’s floral garland already withered today?
O Chakor bird, has the sweet smile of that moon-like face faded away?”
Looking towards the Pathan, Udayaditya whispered in Basanta Ray’s ear, “Grand-uncle, where did this Kabuli turn up from?”
Basanta Ray hastily replied, “Khan Saheb is a very good man. A discerning person. This night has been spent in great delight.”
Seeing Udayaditya, Khan Saheb had become very agitated in his mind, unable to decide what to do.
Udayaditya asked his grand-uncle, “Why are you here, instead of at the inn?”
The Pathan suddenly spoke up. “Your Highness, if I have your assurance, I have something to say. We are subjects of King Pratapaditya. The Maharaj ordered me and my brother to kill you on the road as you were heading towards Jessore!”
Startled, Basanta Ray cried out, “Ram, Ram, Ram!”
Udayaditya said, “Continue!”
The Pathan— “We have never done such a thing, and when we objected, he threatened us in various ways. So we were forced to set out on this task. We met you on the road. My brother took your followers away, wailing that dacoits had attacked the village. The burden of this task fell upon me. But, Maharaj, although it is the king’s order, I could not bring myself to do such a deed. Because, our poet says, ‘By the king’s command, by the master’s command, you may destroy the whole earth, but beware, do not destroy even a corner of heaven.’ Now this poor man seeks the Maharaja’s refuge. If I return to my country, I will be ruined. I have no other hope if you do not protect me!” Saying this, he stood with folded hands.
Basanta Ray stood there, stunned. After a while, he said to the Pathan— “I will give you a letter. You go to Raigarh. When I return there, I will arrange something for you.”
Udayaditya said, “Grand-uncle, are you still going to Jessore?”
Basanta Ray said, “Yes, my boy!”
Udayaditya asked, stunned, “What are you saying!”
Basanta Ray— “Pratap is not a stranger to me. Even if he commits a thousand offenses, he is still very dear to me! I do not fear any harm to myself. My boy, I am standing on the shore of the ocean of existence; a single wave is enough to end it all for me. But can I rest easy thinking of the harm this sinful act would bring to Pratap in this life and the next? I will embrace him and explain everything to him once.”
As he spoke, tears welled up in Basanta Ray’s eyes. Udayaditya covered his eyes with both his hands.
At that moment, Basanta Ray’s retainers returned, making a commotion.
3
The Uproar of the Lost Retainers
“Where is the Maharaj? Where is the Maharaj?”
“I'm right here, my boy, where else would I go?”
Everyone said in unison, “Where is that Nere scoundrel?”
A flustered Basanta Ray intervened, saying, “Yes, yes, my boy, don't you say anything to your Khan Saheb.”
First: “Today, Maharaj, we have suffered greatly. Today he—”
Second: “You be quiet! I'll explain it all properly. That Pathan scoundrel led us straight on and finally into a mango grove on the left—”
Third: “No, it was an acacia wood.”
Fourth: “It wasn't on the left, it was on the right!”
Second: “You fool, it was on the left.”
Fourth: “Just because you say so, that makes it on the left?”
Second: “If it wasn't on the left, then that pond—”
Udayaditya: “Yes, my boy, it does seem it was on the left. Please continue.”
Second: “Yes, sir! He led us through that mango grove on the left and into a field. We crossed so many ploughed fields, marshlands, and bamboo thickets, but there wasn't a trace of any village. After wandering like this for three hours, just as we neared a village, we couldn't find where that scoundrel had fled.”
First: “I didn't have a good feeling about that fellow from the moment I saw him.”
Second: “I also thought something like this was bound to happen.”
Third: “The moment I saw he was a Nere, I grew suspicious!”
In the end, they all declared that they had understood everything from the very beginning.
1
バサンタ・ライとパターン人の対話
人気のない道端のアシュワッタの木の下、担ぎ手のいない輿が地面に置かれ、その中に老バサンタ・ライが座っていた。近くには誰もおらず、輿の外に一人のパターン人がいるだけだった。人々の喧騒が遠くに消えていき、夜は静まり返った。バサンタ・ライは尋ねた。
「カーン・サーヘブ、あなたは行かなかったのか?」
パターン人は言った。「殿、どうして行けましょうか。あなたは我々の財産と命を守るために、ご自身の従者たちを皆お遣わしになりました。あなた様を夜の道端に無防備なまま置き去りにするほど、私を恩知らずな者とお考えになりませぬよう。我々の詩人はこう申しております。私に害をなす者は私に借りがあり、来世でその借りを返さねばならない。私を助ける者には私が借りがあるが、その借りはいつになっても返すことはできぬ、と」
バサンタ・ライは心の中で思った。「素晴らしい、なかなかの男だ」。しばらく考えた後、輿から禿げ上がった頭を突き出して言った。「カーン・サーヘブ、おぬしは実に良い男だ。」
カーン・サーヘブはすぐさま一礼した。この点において、バサンタ・ライとカーン・サーヘブの意見に食い違いは微塵もなかった。バサンタ・ライは松明の光で彼の顔をよく見て言った。「おぬしは高貴な家の出のように見えるな。」
パターン人は再び一礼して言った。「これは驚きました、マハラジャ。まさしくその通りでございます。」
バサンタ・ライは言った。「今は何をしておるのだ?」
パターン人はため息をついて言った。「殿、私は落ちぶれまして、今は農業で生計を立てております。詩人はこう申しております――『おお運命よ、お前が草を草として創ったことに、お前の残酷さはない。しかし、お前がアシュワッタの木をアシュワッタの木として創りながら、ついには嵐の手でそれを草と共に平らにしてしまうこと、それによって私は推測する、お前の心は石でできているのだと!』」
バサンタ・ライはすっかり歓喜して叫んだ。「素晴らしい、素晴らしい、詩人はなんと見事なことを言ったものだ。サーヘブ、今日おぬしが詠んだ二つの句、それを書き留めてもらわねばならん。」
パターン人は思った。「運が向いてきた。この老人はなかなかの人物だ。貧しい者にとっては大いに役に立つだろう」。バサンタ・ライは思った。「ああ、かつては立派な身分だった者が、今日ではこのような落ちぶれた姿に! これぞ移り気なラクシュミー女神の非道な仕打ちよ!」彼は心の中で少し心を痛め、パターン人に言った――
「おぬしほどの立派な体格があれば、たやすく軍隊に職を得られるだろうに。」
パターン人は即座に言った。「殿、もちろんでございます! それこそ我々の仕事。私の父も祖父たちも皆、剣を手に死にました。それが私の唯一の望みでございます。詩人はこう申しております――」
バサンタ・ライは笑いながら言った。「詩人が何と言おうと、なあ若いの、もし私の家臣となるなら、剣を手に死にたいというおぬしの望みは叶うやもしれぬが、その剣を鞘から抜く運命には恵まれまいぞ。わしは年を取り、民は幸せに暮らしておる。バガヴァーンの御心により、もう戦の必要がないことを願うばかりだ。年は過ぎ去り、剣は捨てた。今は剣の代わりに、別の者がわしの手を取っておるのだ。」そう言うと、傍らに横たわる友、シタールを二、三度かき鳴らして目を覚まさせた。
パターン人は頷き、目を閉じて言った。「ああ、おっしゃる通り、まことにその通りでございます。剣は敵を征服するが、音楽は敵を友に変える、という句がございます。」
バサンタ・ライは声を上げた。「何と申した、カーン・サーヘブ? 音楽は敵を友に変える、なんと素晴らしいことだ!」彼は黙ってしばらく考え込んでいたが、考えれば考えるほど、ますます驚きが増していくようだった。しばらくして、その句を解釈して語り始めた。「剣というあれほど恐ろしい物でも、敵の敵意を滅ぼすことはできん――いや、どうして滅ぼせると言えようか? 患者を殺して病を治すなど、それがどうして治療と言えよう? しかし音楽というこれほど甘美なものは、敵を滅ぼすことなく敵意を滅ぼすことができる。これは並の詩人の言葉ではないぞ。おお、なんという賞賛に値する言葉か!」老人はすっかり興奮して、輿の外に足を置いて座り、パターン人をさらに近くに来るよう言って、こう言った。「剣は敵を征服するが、音楽は敵をも友に変える、そうであろう、カーン・サーヘブ?」
パターン人「はっ、殿。」
バサンタ・ライ「一度ライガルに来るがよい。わしがジョソールから戻ったら、おぬしにできる限りの助力をしよう!」
パターン人は大喜びで言った。「あなた様がお望みになれば、できないことなどありましょうか!」パターン人は思った。「なかなかうまくとりまとめたぞ」。彼は尋ねた。「シタールはお弾きになれるのですか?」
バサンタ・ライは「うむ」と答え、すぐさまシタールを手に取った。指にミズラブをはめ、ベハーグの旋律を奏で始めた。時折、パターン人は首を振って「素晴らしい! 見事だ!」と叫んだ。次第に興奮のあまり、バサンタ・ライは輿の中に座っていることができなくなった。彼は立ち上がって演奏を続けた。威厳も、重々しさも、我も他人も、すべてを忘れ、演奏しながら、ついに歌い始めた――「ケヤセ・カトンギ・ラヤン、ソ・ピヤ・ビナ(あの愛しい人なしで、どうやってこの夜を過ごそうか)」
歌が終わると、パターン人は言った。「おお、なんと素晴らしいお声だ。」
バサンタ・ライは言った。「おそらく、静かな夜、開けた野では誰の声も甘く聞こえるのだろう。というのも、喉はだいぶ鍛えたのだが、人々は私の声をあまり褒めてはくれぬのでな。だが、ビダータは与えたもうた病のすべてに一つ一つ薬を与えたもうたように、与えたもうた声のすべてに一人一人聞き手というものがいるものだ。私の声を好いてくれる若者が二人おるのだ。でなければ、サーヘブ、とうの昔にこの喉の店は畳んでおったろう。その二人の素人客がいてな、物の価値が分からんのだが、彼らから喝采をもらうのだ。長いことその二人に会っておらず、歌もやめておった。だからこうして駆けつけているのだ。心ゆくまで歌を聴かせ、心の重荷を下ろして家に帰るつもりだ。」老人の弱々しい光を宿す両目は、愛情と喜びに輝いた。
パターン人は心の中で言った。「あなたの望みは一つ叶えられた。歌を聴かせることはできた。さて、その命の重荷をこの私が下ろしてやろうか? いやいや、とんでもない、そんなことをする者がいるものか! 異教徒を殺せば功徳があるのは確かだが、その功徳は来世の心配がなくなるほど稼いできた。しかしこの世の暮らしがこれほどままならぬ有様では、異教徒を殺さずに、そいつから何かしら便宜を図ってもらうことに異存はない。」
バサンタ・ライはしばらく黙っていることができなかった。彼の想像力はかき立てられ、パターン人に近寄り、ひそひそ声で言った。「誰のことを話していたか分かるかな、サーヘブ? わしの孫と孫娘なのだ。」そう言ううちに彼はいてもたってもいられなくなり、「わしの従者たちはいつ戻ってくるのだろうか」と思った。そして再びシタールを手に取り、歌い始めた。
2
刺客の告白とバサンタ・ライの慈悲
一人の騎馬の男が近づいてきて言った。「ああ、助かった。大おじ様、こんな夜更けに道端で誰に歌を聴かせているのですか?」
喜びと驚きに満たされたバサンタ・ライは、すぐにシタールを輿の上に置き、ウダヤディティヤの手を取って降ろすと、固く抱きしめた。そして尋ねた。「何か知らせかい、坊や?姉上は元気かね?」
ウダヤディティヤは言った。「すべて恙ありません」
すると老人は笑いながらシタールを取り上げ、足で拍子を取り、頭を揺らして歌い始めた。
「愛しき人よ、なぜ思いがけぬ時に現れたのか?
すべては夢ではないかと信じたくなるほどだ。
チャンドラバリの園におられたのだろう、そこでは愛されたであろうに?
もう恋の望みは満たされたというのか!
まだ夜は明けず、夜明けはまだ遠い、
このラディカの涙もまだ尽きてはいない。
チャンドラバリの花飾りがもう今日萎んでしまったとでも?
チャコールの鳥よ、あの月のような顔の甘い微笑みは消えてしまったのか?」
ウダヤディティヤはパターン人の方を見て、バサンタ・ライに小声で尋ねた。「大おじ様、このカーブル人はどこから来たのですか?」
バサンタ・ライは急いで言った。「カーン・サーヘブは、実に良い男だ。話の分かるお方だよ。今夜は実に楽しく過ごせた。」
ウダヤディティヤを見て、カーン・サーヘブは内心ひどく動揺し、どうすべきか考えあぐねていた。
ウダヤディティヤは祖父の兄弟に尋ねた。「宿場に行かず、なぜここに?」
パターン人が突然口を開いた。「殿、お許しいただけるなら、一言申し上げます。我々はプラタパディティヤ王の民でございます。マハラジャは私と私の兄に、あなたがジョソールへ向かう道中であなた様を殺害するよう命じました!」
バサンタ・ライは驚いて叫んだ。「ラーマ、ラーマ、ラーマ!」
ウダヤディティヤは言った。「続けよ!」
パターン人「我々はこのようなことをしたことがなく、反対すると、王は我々を様々に脅しました。故に、やむを得ずこの仕事のために出発いたしました。道中、あなた様にお会いしました。私の兄は、村に盗賊が出たと嘘をつき、あなた様のお供の方々を連れて行ってしまいました。この仕事の責任は私にありました。しかし、マハラジャ、王の命令とはいえ、このような行いに私の心は少しも向かいませんでした。なぜなら、我々の詩人はこう申します。『王の命により、主の命により、全世界を滅ぼすことはできても、ご用心なされ。天の一角たりとも滅ぼしてはなりませぬ』と。今や、この貧しい者はマハラジャの保護を求めております。国へ帰れば、私は破滅するでしょう。あなた様がお助けくださらねば、私に道はありません!」そう言って、彼は手を合わせて立った。
バサンタ・ライは呆然と立ち尽くしていた。しばらくして、パターン人に言った。「そなたに手紙を一つ渡そう。ライガルへ行くがよい。私がそこへ戻ったら、そなたのために便宜を図ってやろう。」
ウダヤディティヤは言った。「大おじ様、またジョソールへお戻りになるのですか?」
バサンタ・ライは言った。「そうだとも、坊や!」
ウダヤディティヤは驚いて言った。「何を仰るのですか!」
バサンタ・ライ「プラタープはわしにとっては他人ではない。千の罪を犯そうとも、わしにとっては、ただただ可愛い甥なのだ!わが身に何か害が及ぶことを恐れてはおらぬ。わしはな、坊や、この世という大海の岸辺に立っておる。波が一度打ち寄せれば、わしのすべては終わるのだ。だが、この罪深い行いをすればプラタープの現世と来世に及ぶであろう害を思うと、どうして安閑としていられようか。あやつを抱きしめて、一度すべてを言い聞かせてやりたい。」
話しているうちに、バサンタ・ライの目に涙が浮かんだ。ウダヤディティヤは両手でその目を覆った。
その時、バサンタ・ライのお供たちが騒ぎ立てながら戻ってきた。
3
道に迷った護衛たちの騒ぎ
「マハラジャはどこだ?マハラジャはどこにおられる?」
「ここにいるよ、お前たち。他にどこへ行くというのだ?」
皆が声を揃えて言った。「あのムスリム野郎はどこだ?」
バサンタ・ライは困惑して間に入り、言った。「まあまあ、お前たち。そなたのカーン・サーヘブに何か言うでないぞ。」
一人目「今日という日はマハラジャ、実にひどい目に遭いました。今日、あいつが…」
二人目「お前は黙ってろ!俺がちゃんと整理して話す。あのパターン人の野郎、我々をまっすぐ連れて行ったかと思えば、しまいには左手にあるマンゴー園の中に…」
三人目「いや、あれはアカシアの森だ。」
四人目「左手じゃない、右手だ!」
二人目「馬鹿を言え、左手だ。」
四人目「お前が言うからって左手になるのか?」
二人目「左手でなかったら、あの池は…」
ウダヤディティヤ「うむ、お前たち。それは左手だったのだろう。それで、続きを話してくれ。」
二人目「はっ!その左手のマンゴー園を抜けて、野原に連れて行かれました。耕された畑、土地、沼地、竹藪をいくつも越えましたが、村の気配すらありません。そのようにして三時間もさまよい、村に近づいたかと思うと、あの野郎はどこへともなく消えてしまい、見つけられませんでした。」
一人目「あいつを一目見たときから、どうも気に食わなかったんだ。」
二人目「俺も、こんなことになるとは思っていたよ。」
三人目「ムスリムだと見た時から、怪しいとは思っていたんだ!」
とうとう、全員が自分たちは最初からすべてお見通しだったのだと口にした。