1
বিভার প্রত্যাখ্যান ও রামমোহনের শোক
যখন রামমোহন চন্দ্রদ্বীপে ফিরিয়া গিয়া একাকী যোড়হস্তে অপরাধীর মত রাজার সম্মুখে গিয়া দাঁড়াইল, তখন রামচন্দ্র রায়ের সর্ব্বাঙ্গ জ্বলিয়া উঠিল। তিনি স্থির করিয়াছিলেন,বিভা আসিলে পর তাহাকে প্রতাপাদিত্য ও তাহার বংশ সম্বন্ধে খুব দুচারিটা খরধার কথা শুনাইয়া তাঁহার শ্বশুরের উপর শোধ তুলিবেন। কি কি কথা বলিবেন, কেমন করিয়া বলিবেন, কখন্ বলিবেন, সমস্ত তিনি মনে মনে স্থির করিয়া রাখিয়াছিলেন। রামচন্দ্র রায় গোঁয়ার নহেন, বিভাকে যে কোন প্রকারে পীড়ন করিবেন, ইহা তাঁহার অভিপ্রায় ছিল না। কেবল বিভাকে তাহার পিতার সম্বন্ধে মাঝে মাঝে খুব লজ্জা দিবেন এই আনন্দেই তিনি অধীর ছিলেন। এমন কি, এই আনন্দের প্রভাবে তাঁহার মনেই হয় নাই যে, বিভার আসিবার পক্ষে কোন বাধা থাকিতে পারে। এমন সময়ে রামমোহনকে একাকী আসিতে দেখিয়া রামচন্দ্র রায় নিতান্ত বিস্মিত হইয়া বলিয়া উঠিলেন, “কি হইল, রামমোহন?”
রামমোহন কহিল, “সকলি নিষ্ফল হইয়াছে!”
রাজা চমকিয়া উঠিয়া কহিলেন, “আনিতে পারলিনে?”
রামমোহন—“আজ্ঞা, না মহারাজ! কুলগ্নে যাত্রা করিয়াছিলাম!”
রাজা অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হইয়া বলিয়া উঠিলেন, “বেটা তোকে যাত্রা করিতে কে বলিয়াছিল? তখন তোকে বার বার করিয়া বারণ করিলাম, তখন যে তুই বুক ফুলাইয়া গেলি, আর আজ—”
রামমোহন কপালে হাত দিয়া ম্লান মুখে কহিল, “মহারাজ, আমার অদৃষ্টের দোষ!”
রামচন্দ্র রায় আরো ক্রুদ্ধ হইয়া বলিলেন, “রামচন্দ্র রায়ের অপমান! তুই বেটা আমার নাম করিয়া ভিক্ষা চাহিতে গেলি, আর প্রতাপাদিত্য দিল না। এত বড় অপমান আমাদের বংশে আর কখন হয় নাই।”
তখন রামমোহন নতশির তুলিয়া ঈষৎ গর্ব্বিতভাবে কহিল, “ও কথা বলিবেন না। প্রতাপাদিত্য যদি না দিত, আমি কাড়িয়া আনিতাম। আপনার কাছে তাহা ত বলিয়াই গিয়াছিলাম। মহারাজ, যখন আপনার আদেশ পালন করিতে যাই, তখন কি আর প্রতাপাদিত্যকে ভয় করি? প্রতাপাদিত্য রাজা বটে, কিন্তু আমার রাজা ত সে নয়।”
রাজা কহিলেন, “তবে হইল না কেন?”
রামমোহন অনেক ক্ষণ চুপ করিয়া রহিল, তাহার চোখে জল দেখা দিল।
রাজা অধীর হইয়া কহিলেন, “রামমোহন, শীঘ্র বল্।”
রামমোহন যোড় হাতে কহিল—“মহারাজ—”
রাজা কহিলেন—“কি বল্।”
রামমোহন—“মহারাজ, মা-ঠাকরুণ আসিতে চাহিলেন না।” বলিয়া রামমোহনের চোখ দিয়া জল পড়িতে লাগিল। বুঝি এ সন্তানের অভিমানের অশ্রু। বোধ করি এ অশ্রুজলের অর্থ—“মায়ের প্রতি আমার এত বিশ্বাস ছিল যে সেই বিশ্বাসের জোরে আমি বুক ফুলাইয়া, আনন্দ করিয়া মাকে আনিতে গেলাম, আর মা আসিলেন না; মা আমার সম্মান রাখিলেন না।” কি জানি কি মনে করিয়া বৃদ্ধ রামমোহন চোখের জল সামলাইতে পারিল না।
2
রাজা রামচন্দ্র রায়ের অপমান ও প্রতিশোধ
রাজা কথাটা শুনিয়াই একেবারে দাঁড়াইয়া উঠিয়া চোখ পাকাইয়া বলিয়া উঠিলেন, “বটে—” অনেকক্ষণ পর্যন্ত তাঁহার আর বাক্যস্ফূর্তি হইল না
“আসিতে চাহিলেন না বটে! বেটা, তুই বেরো, বেরে আমার সুমুখ হইতে এখনি বেরো।”
রামনোহন একটি কথা না কহিয়া বাহির হইয়া গেল! সে জানিত তাহারি সমস্ত দোষ, অতএব সমুচিত দণ্ড পাওয়া কিছু অন্যায় নহে।
রাজা কি করিয়া যে ইহার শোধ তুলিবেন কিছুতেই ভাবিয়া পাইলেন না। প্রতাপাদিত্যের কিছু করিতে পারিবেন না, বিভাকেও হাতের কাছে পাইতেছেন না। রামচন্দ্র রায় অধীর হইয়া বেড়াইতে লাগিলেন।
দিন দুয়েকের মধ্যে সংবাদটা নানা আকারে নানা দিকে রাষ্ট্র হইয়া পড়িল। এমন অবস্থা হইয়া দাঁড়াইল যে, প্রতিশোধ না লইলে আর মুখ রক্ষা হয় না। এমন কি, প্রজারা পর্য্যন্ত প্রতিশোধ লইবার জন্য ব্যস্ত হইল। তাহারা কহিল, “আমাদের মহারাজার অপমান!” অপমানটা যেন সকলের গায়ে লাগিয়াছে! একে ত প্রতিহিংসা-প্রবৃত্তি রামচন্দ্র রায়ের মনে স্বভাবতই বলবান্ আছে, তাহার উপরে তাঁহার মনে হইতে লাগিল, প্রতিহিংসা না লইলে প্রজারা কি মনে করিবে, ভৃত্যেরা কি মনে করিবে, রমাই ভাঁড় কি মনে করিবে? তিনি যখন কল্পনায় মনে করেন, এই কথা লইয়া মাই আর একজন ব্যক্তির কাছে হাসি টিটকারী করিতেছে, তখন তিনি অত্যন্ত অস্থির হইয়া পড়েন।
একদিন সভায় মন্ত্রী প্রস্তাব করিলেন, “মহারাজ, আপনি আর একটি বিবাহ করুন!”
রমাই ভাঁড় কহিল, “আর প্রতাপাদিত্যের মেয়ে তাহার ভাইকে লইয়া থাকুক!”
রাজা রমাইয়ের দিকে চাহিয়া হাসিয়া কহিলেন, “ঠিক বলিয়াছ রমাই।”
রাজাকে হাসিতে দেখিয়া সকল সভাসদই হাসিতে লাগিল। কেবল ফর্ণাণ্ডিজ বিরক্ত হইল, সে হাসিল না। রামচন্দ্র রায়ের মত লোকেরা সম্ভ্রম রক্ষার জন্য সততই ব্যস্ত, কিন্তু সম্ভ্রম কাহাকে বলে ও কি করিয়া সম্ভ্রম রাখিতে হয় সে জ্ঞান তাহাদের নাই!
3
রাজার দ্বিতীয় বিবাহ ও রমাই ভাঁড়ের পরিহাস
দেওয়ানজি কহিলেন, “মন্ত্রী মহাশয় ঠিক বলিয়াছেন। তাহা হইলে প্রতাপাদিত্যকে ও তাঁহার কন্যাকে বিলক্ষণ শিক্ষা দেওয়া হইবে।”
রমাই ভাঁড় কহিল—“এ শুভকার্য্যে আপনার বর্ত্তমান শ্বশুর মহাশয়কে একখানা নিমন্ত্রণ পত্র পাঠাইতে ভুলিবেন না, নহিলে কি জানি তিনি মনে দুঃখ করিতে পারেন!” বলিয়া রমাই চোখ টিপিল। সভাস্থ সকলে হাসিতে লাগিল; যাহারা দূরে বসিয়াছিল, কথাটা শুনিতে পায় নাই, তাহারাও না হাসিয়া কিছুতেই থাকিতে পারিল না।
রমাই কহিল, “বরণ করিবার নিমিত্তে এয়োস্ত্রীদের মধ্যে যশোরে আপনার শ্বাশুড়ীঠাকুরুণকে ডাকিয়া পাঠাইবেন। আর মিষ্টান্নমিতরেজনাঃ, প্রতাপাদিত্যের মেয়েকে যখন একথাল মিষ্টান্ন পাঠাইবেন, তখন তাহার সঙ্গে দুটো কাঁচা রম্ভা পাঠাইয়া দিবেন।”
রাজা হাসিয়া অস্থির হইলেন। সভাসদেরা মুখে চাদর দিয়া মুখ বাঁকাইয়া হাসিতে লাগিল। ফর্ণাণ্ডিজ অলক্ষিতভাবে উঠিয়া চলিয়া গেল।
দেওয়ানজি একবার রসিকতা করিবার চেষ্টা করিলেন, কহিলেন, “মিষ্টান্নমিতরে জনাঃ, যদি ইতর লোকের ভাগ্যেই মিষ্টান্ন থাকে, তাহা হইলে ত যশোহরেই সমস্ত মিষ্টান্ন খরচ হইয়া যায়, চন্দ্রদ্বীপে আর মিষ্টান্ন খাইবার উপযুক্ত লোক থাকে না!”
কথাটা শুনিয়া কাহারও হাসি পাইল না। রাজা চুপ করিয়া গুড়গুড়ি টানিতে লাগিলেন, সভাসদেরা গম্ভীর হইয়া রহিল, রমাই দেওয়ানের দিকে একবার অবাক হইয়া চাহিল, এমন কি, একজন অমাত্য বিষণ্ণভাবে জিজ্ঞাসা করিল—“সে কি কথা দেওয়ানজি মহাশয়? রাজার বিবাহে মিষ্টান্নের বন্দোবস্ত কি এত কম হইবে?” দেওয়ানজি মহাশয় মাথা চুলকাইতে লাগিলেন।
বিবাহের কথা সমস্ত স্থির হইয়া গেল।
1
বিভার প্রত্যাখ্যান ও রামমোহনের শোক
রামমোহন যখন চন্দ্রদ্বীপে ফিরে গিয়ে অপরাধীর মতো একা জোড়হাতে রাজার সামনে গিয়ে দাঁড়াল, তখন রামচন্দ্র রায়ের সারা শরীর জ্বলে উঠল। তিনি ঠিক করে রেখেছিলেন, বিভা এলে তাকে প্রতাপাদিত্য ও তাঁর বংশ নিয়ে বেশ কয়েকটা কড়া কথা শুনিয়ে শ্বশুরের ওপর শোধ তুলবেন। কী কী কথা বলবেন, কেমন করে বলবেন, কখন বলবেন, সব তিনি মনে মনে ঠিক করে রেখেছিলেন। রামচন্দ্র রায় গোঁয়ার নন, বিভাকে কোনোভাবে কষ্ট দেওয়ার ইচ্ছা তাঁর ছিল না। কেবল বিভাকে তার বাবার বিষয়ে মাঝে মাঝে খুব লজ্জা দেওয়ার আনন্দেই তিনি অধীর ছিলেন। এমনকি, এই আনন্দের প্রভাবে তাঁর মনেই হয়নি যে, বিভার আসার পথে কোনো বাধা থাকতে পারে। এমন সময় রামমোহনকে একা আসতে দেখে রামচন্দ্র রায় অত্যন্ত অবাক হয়ে বলে উঠলেন, “কী হল, রামমোহন?”
রামমোহন বলল, “সবই নিষ্ফল হয়েছে!”
রাজা চমকে উঠে বললেন, “আনতে পারলি না?”
রামমোহন—“আজ্ঞা না মহারাজ! অশুভক্ষণে যাত্রা করেছিলাম!”
রাজা অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়ে বলে উঠলেন, “বেটা তোকে যাত্রা করতে কে বলেছিল? তখন তোকে বারবার বারণ করলাম, তখন যে তুই বুক ফুলিয়ে গেলি, আর আজ—”
রামমোহন কপালে হাত দিয়ে ম্লান মুখে বলল, “মহারাজ, আমার ভাগ্যের দোষ!”
রামচন্দ্র রায় আরও রেগে গিয়ে বললেন, “রামচন্দ্র রায়ের অপমান! তুই বেটা আমার নাম করে ভিক্ষা চাইতে গেলি, আর প্রতাপাদিত্য দিল না। এত বড় অপমান আমাদের বংশে আর কখনো হয়নি।”
তখন রামমোহন নিচু করা মাথা তুলে কিছুটা গর্বের সাথে বলল, “ও কথা বলবেন না। প্রতাপাদিত্য যদি না দিত, আমি কেড়ে আনতাম। আপনার কাছে তা তো বলেই গিয়েছিলাম। মহারাজ, যখন আপনার আদেশ পালন করতে যাই, তখন কি আর প্রতাপাদিত্যকে ভয় করি? প্রতাপাদিত্য রাজা বটে, কিন্তু সে তো আমার রাজা নয়।”
রাজা বললেন, “তবে হল না কেন?”
রামমোহন অনেকক্ষণ চুপ করে রইল, তার চোখে জল দেখা দিল।
রাজা অধীর হয়ে বললেন, “রামমোহন, তাড়াতাড়ি বল।”
রামমোহন জোড়হাতে বলল—“মহারাজ—”
রাজা বললেন—“কী, বল।”
রামমোহন—“মহারাজ, মা-ঠাকরুণ আসতে চাইলেন না।” বলে রামমোহনের চোখ দিয়ে জল পড়তে লাগল। সম্ভবত এ হল সন্তানের অভিমানের অশ্রু। বোধহয় এই অশ্রুজলের অর্থ— “মায়ের প্রতি আমার এত বিশ্বাস ছিল যে সেই বিশ্বাসের জোরেই আমি বুক ফুলিয়ে, আনন্দ করে মাকে আনতে গেলাম, আর মা এলেন না; মা আমার সম্মান রাখলেন না।” কে জানে কী মনে করে বৃদ্ধ রামমোহন চোখের জল সামলাতে পারল না।
2
রাজা রামচন্দ্র রায়ের অপমান ও প্রতিশোধ
রাজা কথাটা শুনেই একেবারে উঠে দাঁড়িয়ে চোখ পাকিয়ে বলে উঠলেন, “বটে—” অনেকক্ষণ পর্যন্ত তাঁর মুখ দিয়ে আর কোনো কথা বেরোল না।
“আসতে চাইলেন না! বেটা, তুই বেরো, আমার সামনে থেকে এখনই বের হ।”
রামমোহন একটি কথাও না বলে বেরিয়ে গেল। সে জানত, সব দোষ তারই, তাই উপযুক্ত শাস্তি পাওয়াটা কোনো অন্যায় নয়।
রাজা কী করে যে এর শোধ তুলবেন, তা কিছুতেই ভেবে পেলেন না। প্রতাপাদিত্যের কিছু করতে পারবেন না, বিভাকেও হাতের কাছে পাচ্ছেন না। রামচন্দ্র রায় অধীর হয়ে পায়চারি করতে লাগলেন।
দিন দুয়েকের মধ্যে খবরটা নানাভাবে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল। পরিস্থিতি এমন দাঁড়াল যে, প্রতিশোধ না নিলে আর মুখ রক্ষা হয় না। এমনকি, প্রজারা পর্যন্ত প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে উঠল। তারা বলল, “আমাদের মহারাজার অপমান!” অপমানটা যেন সকলের গায়ে লেগেছে। একদিকে রামচন্দ্র রায়ের মনে প্রতিশোধ নেওয়ার ইচ্ছে স্বভাবতই প্রবল, তার উপর তাঁর মনে হতে লাগল, প্রতিশোধ না নিলে প্রজারা কী ভাববে, ভৃত্যরা কী ভাববে, ভাঁড় রমাই বা কী মনে করবে? তিনি যখন কল্পনা করতেন যে, এই ঘটনা নিয়ে রমাই অন্য কারো কাছে হাসাহাসি-ঠাট্টা করছে, তখন তিনি অত্যন্ত অস্থির হয়ে পড়তেন।
একদিন সভায় মন্ত্রী প্রস্তাব করলেন, “মহারাজ, আপনি আর একটি বিয়ে করুন!”
ভাঁড় রমাই বলল, “আর প্রতাপাদিত্যের মেয়ে তার ভাইকে নিয়েই থাকুক!”
রাজা রমাইয়ের দিকে চেয়ে হেসে বললেন, “ঠিক বলেছ রমাই।”
রাজাকে হাসতে দেখে সব সভাসদই হাসতে লাগল। কেবল ফর্ণাণ্ডিজ বিরক্ত হল, সে হাসল না। রামচন্দ্র রায়ের মতো লোকেরা সম্মান রক্ষার জন্য সবসময় ব্যস্ত থাকে, কিন্তু সম্মান কাকে বলে বা কীভাবে তা রক্ষা করতে হয়, সেই জ্ঞান তাদের নেই।
3
রাজার দ্বিতীয় বিবাহ ও রমাই ভাঁড়ের পরিহাস
দেওয়ানজি বললেন, “মন্ত্রীমশাই ঠিকই বলেছেন। তাহলে প্রতাপাদিত্য আর তাঁর মেয়েকে ভালোমতো শিক্ষা দেওয়া যাবে।”
ভাঁড় রমাই বলল— “এই শুভকাজে আপনার বর্তমান শ্বশুরমশাইকে একখানা নিমন্ত্রণপত্র পাঠাতে ভুলবেন না, নইলে কী জানি তিনি মনে দুঃখ পেতে পারেন!” এই বলে রমাই চোখ টিপল। সভায় উপস্থিত সবাই হাসতে লাগল; যারা দূরে বসেছিল, কথাটা শুনতে পায়নি, তারাও না হেসে কিছুতেই থাকতে পারল না।
রমাই বলল, “বরণ করার জন্য এয়োস্ত্রীদের মধ্যে যশোর থেকে আপনার শাশুড়ি ঠাকরুণকে ডেকে পাঠাবেন। আর ‘মিষ্টান্নমিতরেজনাঃ’ (সাধারণের জন্য মিষ্টান্ন), প্রতাপাদিত্যের মেয়েকে যখন এক থালা মিষ্টি পাঠাবেন, তখন তার সাথে দুটো কাঁচকলা পাঠিয়ে দেবেন।”
রাজা হেসে অস্থির হলেন। সভাসদেরা মুখে চাদর দিয়ে মুখ বিকৃত করে হাসতে লাগল। ফর্ণাণ্ডিজ অলক্ষ্যে উঠে চলে গেল।
দেওয়ানজি একবার রসিকতা করার চেষ্টা করে বললেন, “মিষ্টান্নমিতরে জনাঃ, যদি ইতর লোকের ভাগ্যেই মিষ্টি থাকে, তাহলে তো যশোরই সব মিষ্টি শেষ করে দেবে, চন্দ্রদ্বীপে মিষ্টি খাওয়ার মতো যোগ্য লোক আর থাকবে না!”
কথাটা শুনে কারও হাসি পেল না। রাজা চুপচাপ গড়গড়া টানতে লাগলেন, সভাসদেরা গম্ভীর হয়ে রইল, রমাই অবাক হয়ে দেওয়ানের দিকে তাকাল, এমনকি একজন অমাত্য বিষণ্ণভাবে জিজ্ঞাসা করলেন— “এ কী কথা দেওয়ানজি মশাই? রাজার বিয়েতে মিষ্টির আয়োজন কি এতই কম হবে?” দেওয়ানজি মহাশয় মাথা চুলকাতে লাগলেন।
বিয়ের কথা সব পাকা হয়ে গেল।
1
विभा का इनकार और राममोहन का शोक
जब राममोहन चंद्रद्वीप लौटकर, अपराधी की तरह अकेले हाथ जोड़े राजा के सामने खड़ा हुआ, तो रामचंद्र राय का तन-बदन आग से जल उठा। उन्होंने निश्चय कर रखा था कि विभा के आने पर उसे प्रतापादित्य और उसके वंश के बारे में दो-चार खरी-खोटी बातें सुनाकर अपने ससुर से बदला लेंगे। क्या-क्या बातें कहेंगे, कैसे कहेंगे, कब कहेंगे, यह सब उन्होंने मन ही मन तय कर रखा था। रामचंद्र राय निष्ठुर नहीं थे, विभा को किसी भी प्रकार से पीड़ा पहुँचाने का उनका कोई इरादा नहीं था। केवल विभा को उसके पिता के बारे में बार-बार शर्मिंदा करने के आनंद में ही वह अधीर थे। यहाँ तक कि इस आनंद के प्रभाव में उनके मन में यह विचार ही नहीं आया कि विभा के आने में कोई बाधा भी हो सकती है। ऐसे में राममोहन को अकेले आते देख रामचंद्र राय अत्यंत चकित होकर बोल उठे, “क्या हुआ, राममोहन?”
राममोहन ने कहा, “सब निष्फल हो गया!”
राजा चौंककर उठ खड़े हुए और बोले, “ला नहीं सका?”
राममोहन—“आज्ञा, नहीं महाराज! मैं कुलग्न में ही यात्रा पर निकला था!”
राजा अत्यंत क्रोधित होकर बोल उठे, “अरे! तुझे यात्रा करने के लिए किसने कहा था? तब मैंने तुझे बार-बार मना किया, तब तो तू सीना फुलाकर गया था, और आज—”
राममोहन ने माथे पर हाथ रखकर उदास मुख से कहा, “महाराज, यह मेरे भाग्य का दोष है!”
रामचंद्र राय और भी क्रोधित होकर बोले, “रामचंद्र राय का अपमान! तू मेरे नाम पर भीख माँगने गया था, और प्रतापादित्य ने नहीं दिया। इतना बड़ा अपमान हमारे वंश में आज तक कभी नहीं हुआ।”
तब राममोहन ने अपना झुका हुआ सिर उठाकर थोड़े गर्व से कहा, “ऐसी बात न कहें। यदि प्रतापादित्य नहीं देते, तो मैं छीनकर ले आता। मैं तो आपसे यह कहकर ही गया था। महाराज, जब मैं आपका आदेश पालन करने जाता हूँ, तो क्या प्रतापादित्य से डरता हूँ? प्रतापादित्य राजा भले ही हों, पर मेरे राजा तो वे नहीं हैं।”
राजा ने कहा, “तो फिर हुआ क्यों नहीं?”
राममोहन बहुत देर तक चुप रहा, उसकी आँखों में आँसू भर आए।
राजा अधीर होकर बोले, “राममोहन, जल्दी बोल।”
राममोहन ने हाथ जोड़कर कहा—“महाराज—”
राजा बोले—“क्या, बोल।”
राममोहन—“महाराज, माँ-ठकुरानी ने आना नहीं चाहा।” यह कहते-कहते राममोहन की आँखों से आँसू बहने लगे। शायद ये एक संतान के आहत अभिमान के आँसू थे। शायद इन आँसुओं का अर्थ था—“माँ पर मुझे इतना विश्वास था कि उसी विश्वास के बल पर मैं सीना फुलाकर, आनंद से माँ को लाने गया था, और माँ नहीं आईं; माँ ने मेरा मान नहीं रखा।” न जाने क्या सोचकर वृद्ध राममोहन अपने आँसू नहीं रोक सका।
2
राजा रामचंद्र राय का अपमान और प्रतिशोध
राजा यह बात सुनते ही एकदम खड़े हो गए और आँखें तरेरकर बोले, “अच्छा—” बहुत देर तक उनके मुँह से कोई शब्द नहीं निकला।
“तो वह आना नहीं चाहती! अरे बदमाश, निकल जा, निकल जा मेरे सामने से अभी निकल जा।”
राममोहन बिना एक भी शब्द कहे बाहर चला गया। वह जानता था कि सारा दोष उसी का है, इसलिए उचित दंड पाना कोई अन्याय नहीं है।
राजा यह सोच ही नहीं पा रहे थे कि इसका बदला कैसे लें। वे प्रतापादित्य का कुछ नहीं कर सकते थे, और विभा भी उनके हाथ में नहीं थी। रामचंद्र राय अधीर होकर टहलने लगे।
दो-एक दिन में यह खबर तरह-तरह से चारों ओर फैल गई। स्थिति ऐसी हो गई कि बदला लिए बिना अब मान-सम्मान बचाना मुश्किल था। यहाँ तक कि प्रजा भी बदला लेने के लिए बेचैन हो उठी। उन्होंने कहा, “हमारे महाराजा का अपमान!” ऐसा लगा मानो यह अपमान सबको व्यक्तिगत रूप से चुभा हो! एक तो रामचंद्र राय के मन में बदले की भावना स्वाभाविक रूप से प्रबल है ही, उस पर से उन्हें यह लगने लगा कि यदि उन्होंने बदला नहीं लिया तो प्रजा क्या सोचेगी, सेवक क्या सोचेंगे, रमाई भांड क्या सोचेगा? जब वह कल्पना करते कि रमाई इस बात को लेकर किसी और के साथ हँसी-ठिठोली कर रहा है, तो वह अत्यंत बेचैन हो उठते थे।
एक दिन सभा में मंत्री ने प्रस्ताव रखा, “महाराज, आप एक और विवाह कर लीजिए!”
रमाई भांड ने कहा, “और प्रतापादित्य की बेटी अपने भाई के साथ ही रहे!”
राजा ने रमाई की ओर देखकर हँसते हुए कहा, “ठीक कहा, रमाई।”
राजा को हँसते देखकर सभी दरबारी हँसने लगे। केवल फर्नांडीज़ বিরক্ত हुआ, वह नहीं हँसा। रामचंद्र राय जैसे लोग अपना सम्मान बचाने के लिए हमेशा बेचैन रहते हैं, लेकिन सम्मान किसे कहते हैं और उसे कैसे बचाया जाता है, इसका उन्हें कोई ज्ञान नहीं होता!
3
राजा का दूसरा विवाह और रमाई भांड का परिहास
दीवानजी ने कहा, “मंत्री महाशय ने ठीक कहा है। इससे प्रतापादित्य और उनकी कन्या को अच्छी शिक्षा मिलेगी।”
रमाई भांड ने कहा—“इस शुभ कार्य में अपने वर्तमान ससुर महाशय को निमंत्रण पत्र भेजना मत भूलिएगा, नहीं तो क्या पता वे मन में दुखी हो जाएँ!” कहकर रमाई ने आँख मारी। सभा में उपस्थित सभी लोग हँसने लगे; जो लोग दूर बैठे थे, और जिन्होंने बात नहीं सुनी थी, वे भी बिना हँसे नहीं रह सके।
रमाई ने कहा, “स्वागत करने के लिए सुहागिनों में से यशोर से अपनी सासु माँ को बुलवा भेजिएगा। और मिष्टान्नमितरेजनाः, जब प्रतापादित्य की बेटी को एक थाल मिठाई भेजिएगा, तो उसके साथ दो कच्चे केले भी भेज दीजिएगा।”
राजा हँसते-हँसते लोटपोट हो गए। सभासदों ने मुँह पर चादर डालकर, मुँह टेढ़ा करके हँसना शुरू कर दिया। फर्नांडीज़ चुपके से उठकर चला गया।
दीवानजी ने एक बार रसिकता करने की कोशिश की, उन्होंने कहा, “मिष्टान्नमितरेजनाः, यदि मिठाई इतर लोगों के भाग्य में ही है, तो फिर तो सारी मिठाई यशोर में ही खर्च हो जाएगी, चंद्रद्वीप में मिठाई खाने के योग्य कोई व्यक्ति ही नहीं बचेगा!”
यह बात सुनकर किसी को हँसी नहीं आई। राजा चुपचाप गुड़गुड़ी पीते रहे, सभासद गंभीर बने रहे, रमाई ने एक बार आश्चर्य से दीवान की ओर देखा, यहाँ तक कि एक अमात्य ने उदास होकर पूछा—“यह क्या बात हुई दीवानजी महाशय? क्या राजा के विवाह में मिठाई का प्रबंध इतना कम होगा?” दीवानजी महाशय सिर खुजलाने लगे।
विवाह की सारी बातें तय हो गईं।
1
Vibha's Refusal and Rammohan's Grief
When Rammohan returned to Chandradwip and stood alone before the king with folded hands like a culprit, Ramchandra Ray's entire body burned with rage. He had decided that after Vibha arrived, he would take revenge on his father-in-law by making a few sharp-edged remarks to her about Pratapaditya and his lineage. What he would say, how he would say it, when he would say it—he had planned it all out in his mind. Ramchandra Ray was not a brute; it was not his intention to torment Vibha in any way. He was simply impatient for the pleasure of thoroughly embarrassing Vibha about her father. In fact, so consumed was he by this anticipated pleasure that it never even occurred to him that there could be any obstacle to Vibha's arrival. And so, seeing Rammohan return alone, Ramchandra Ray was utterly astonished and cried out, “What happened, Rammohan?”
Rammohan said, “Everything has been in vain!”
The king, startled, shot up and said, “You couldn’t bring her?”
Rammohan replied, “No, Maharaj. I set out at an inauspicious time!”
Furious, the king exclaimed, “Who told you to consult the time of your departure, you fellow? I warned you again and again, yet you went with your chest puffed out, and today—”
Rammohan touched his forehead and said with a grim face, “Maharaj, it is the fault of my destiny!”
Ramchandra Ray grew even angrier and said, “An insult to Ramchandra Ray! You fellow went to beg for her in my name, and Pratapaditya refused. Such a great insult has never before befallen our dynasty.”
Then Rammohan raised his bowed head and said with a hint of pride, “Do not say such things. If Pratapaditya had refused, I would have snatched her away. I told you as much before I left. Maharaj, when I go to carry out your command, do I fear Pratapaditya? Pratapaditya may be a king, but he is not my king.”
The king asked, “Then why did it not happen?”
Rammohan remained silent for a long time; tears appeared in his eyes.
The king said impatiently, “Rammohan, speak quickly.”
Rammohan, with folded hands, said, “Maharaj—”
The king said, “What is it? Speak.”
Rammohan said, “Maharaj, our lady mother did not wish to come.” As he said this, tears began to fall from Rammohan’s eyes. Perhaps these were the tears of a child's hurt pride. Perhaps the meaning of these tears was—“I had such faith in my mother that, on the strength of that faith, I went with a puffed-out chest and great joy to bring her, and she did not come; my mother did not keep my honor.” For whatever reason, the old Rammohan could not hold back his tears.
2
King Ramchandra Ray's Humiliation and Revenge
When the king heard this, he shot to his feet, his eyes bulging, and exclaimed, “Indeed—” For a long time, he could not utter another word.
“So she refused to come! You wretch, get out! Get out of my sight this instant!”
Rammohan left without saying a word. He knew it was all his fault; therefore, receiving a fitting punishment was not unjust.
The king could not conceive of any way to take revenge. He could do nothing to Pratapaditya, nor could he get his hands on Vibha. Ramchandra Ray began to pace impatiently.
Within a couple of days, the news had spread far and wide in various forms. The situation became such that his honor could not be preserved without taking revenge. Even the subjects grew eager for retaliation. They said, “An insult to our Maharaja!” It was as if the insult had been felt personally by everyone. Firstly, the instinct for revenge was naturally strong in Ramchandra Ray's mind. On top of that, he began to think: if I do not take revenge, what will the subjects think, what will the servants think, what will Ramai Bhand think? When he imagined Ramai laughing and mocking him about this with someone else, he became extremely agitated.
One day in court, the minister proposed, “Maharaja, you should take another wife!”
Ramai Bhand said, “And let Pratapaditya's daughter stay with her brother!”
The king looked at Ramai, laughed, and said, “You are right, Ramai.”
Seeing the king laugh, all the courtiers began to laugh as well. Only Fernandez was annoyed; he did not laugh. People like Ramchandra Ray are always busy protecting their honor, but they have no knowledge of what honor truly is or how it is to be protected.
3
The King's Second Marriage and Ramai Bhand's Jests
The Dewanji said, “The minister has spoken correctly. That will teach Pratapaditya and his daughter a good lesson.”
Ramai Bhand said—“For this auspicious occasion, don't forget to send an invitation to your current father-in-law, sir. Otherwise, who knows, he might feel hurt!” Saying this, Ramai winked. Everyone in the court began to laugh; even those sitting far away who hadn't heard the words couldn't help but laugh as well.
Ramai said, “For the welcoming ceremony, among the married women, you should summon your mother-in-law from Jessore. And, mistannamitarejanah—when you send a platter of sweets to Pratapaditya's daughter, send a couple of green bananas along with it.”
The king was beside himself with laughter. The courtiers covered their faces with their shawls and contorted their faces as they laughed. Fernandez got up unnoticed and left.
The Dewanji tried to make a joke, saying, “Mistannamitare janah—if sweets are destined only for the base people, then all the sweets will be used up in Jessore, leaving no one in Chandradwip worthy of eating them!”
No one found his words funny. The king silently smoked his hookah, the courtiers remained grave, and Ramai stared at the Dewan in amazement. One of the ministers even asked mournfully, “What are you saying, Dewanji sir? Will the arrangements for sweets at the king's wedding be so meager?” The Dewanji began to scratch his head.
All the wedding plans were finalized.
1
ビバの拒絶とラムモハンの悲嘆
ラムモハンがチャンドラドウィープに戻り、一人、罪人のように王の前で手を組んで立ったとき、ラーマチャンドラ・ライ王は全身に怒りが燃え上がるのを感じた。王は、ビバが到着したら、彼女にプラタパディティヤとその一族について痛烈な言葉を二言三言浴びせかけ、舅への仕返しをしようと心に決めていた。何を、どのように、いつ言うか、そのすべてを心の中で用意していたのである。ラーマチャンドラ・ライは粗暴な男ではない。ビバをいかなる形であれ苦しめようという意図はなかった。ただ、ビバに彼女の父親のことでたびたび恥をかかせる、その喜びに心を躍らせ、いてもたってもいられなかったのだ。その喜びに夢中で、ビバが来るのに何か障害があり得ることなど、思いもよらなかった。そんな時、ラムモハンが一人でやって来るのを見て、ラーマチャンドラ・ライはひどく驚いて叫んだ。「どうした、ラムモハン?」
ラムモハンは言った。「すべて、無駄に終わりました!」
王ははっと立ち上がって言った。「連れて来れなかったのか?」
ラムモハンは答えた。「はっ、左様でございます、マハラジャ!不吉な時に旅立ってしまったのでございます!」
王は激怒して叫んだ。「馬鹿者め、誰がお前に不吉な時に出立しろと言った?あの時、あれほど止めただろうに。お前は胸を張って出て行ったではないか。それなのに今になって――」
ラムモハンは額に手を当て、沈んだ顔で言った。「マハラジャ、私の不運のせいでございます!」
ラーマチャンドラ・ライはさらに怒りを募らせて言った。「このラーマチャンドラ・ライへの侮辱だ!馬鹿者め、お前は私の名をかたって物乞いに行ったのに、プラタパディティヤは与えなかった。これほどの侮辱は、我が一族の歴史にかつてなかったぞ。」
するとラムモハンはうつむいていた顔を上げ、わずかに誇りをにじませて言った。「そのようなことはおっしゃらないでください。もしプラタパディティヤがお許しにならなければ、私は力ずくで連れてまいりました。そのように申し上げて出立したはずでございます。マハラジャ、あなたの命令を遂行しに行くのに、私がプラタパディティヤを恐れるとでも?プラタパディティヤは確かに王ですが、私の王ではございません。」
王は言った。「では、なぜだめだったのだ?」
ラムモハンは長い間黙り込み、その目には涙が浮かんだ。
王はしびれを切らして言った。「ラムモハン、早く言え。」
ラムモハンは手を組み、言った。「マハラジャ――」
王は言った。「何だ、申してみよ。」
ラムモハンは言った。「マハラジャ、奥方様が、お越しになりたくないと…。」そう言うと、ラムモハンの目から涙がこぼれ落ちた。それはあたかも、子供がすねている涙のようであった。おそらく、その涙の意味はこうであったろう。「奥方様への絶大な信頼があったからこそ、私はその信頼を力に、胸を張り、喜び勇んで奥方様を迎えに行った。だというのに、奥方様はお越しにならなかった。奥方様は、私の面目を保ってはくださらなかった。」何を思ったのか、老ラムモハンは涙をこらえることができなかった。
2
ラーマチャンドラ・ライ王の屈辱と復讐
王はその言葉を聞くやいなや、さっと立ち上がり、目をむいて叫んだ。「なんだと──」 しばらくの間、王はそれ以上言葉を発することができなかった。
「来たくないと申しただと! こやつめ、出て行け、今すぐわしの前から出て行け。」
ラムモハンは一言も言わずに退出した。彼には、すべてが自分の過ちであり、それ相応の罰を受けるのは不当ではないと分かっていた。
王は、どうやってこの仕返しをすればよいのか、まったく思いつかなかった。プラタパディティヤには手出しができず、ビバも手の届くところにはいない。ラーマチャンドラ・ライは落ち着きなく歩き回った。
二、三日のうちに、その知らせは様々な形で方々へ広まった。もはや、仕返しをしなければ面目が立たないという状況になった。それどころか、民衆までもが復讐を求めて騒ぎ出した。彼らは言った。「我らのマハラジャへの侮辱だ!」と。その侮辱は、まるで皆が自分自身の身に受けたかのようだった。元来ラーマチャンドラ・ライは復讐心の強い男であったが、それに加えて、復讐しなければ民衆はどう思うだろう、家臣たちはどう思うだろう、道化のラマイ・バンドはどう思うだろうか、と考え始めた。この一件をネタに、ラマイが誰かと嘲笑している様を想像すると、王はたまらなく落ち着かなくなった。
ある日の評議会で、大臣が提案した。「マハラジャ、もう一度ご結婚なされてはいかがでしょう!」
道化のラマイ・バンドが言った。「そして、プラタパディティヤの娘は、兄と一緒にいればよろしいのです!」
王はラマイの方を見て笑いながら言った。「ラマイ、その通りだ。」
王が笑うのを見て、廷臣たちは皆笑った。ただフェルナンデスだけは不快そうにしており、笑わなかった。ラーマチャンドラ・ライのような人間は、常に体面を保つことに躍起になっているが、体面とは何か、どうすればそれを保てるのかという知識は、彼らにはないのである。
3
王の再婚とラマイの冗談
ディーワーンジーは言った。「大臣殿のおっしゃる通りです。そうなれば、プラタパディティヤとその娘に良い灸を据えることになりましょう。」
道化のラマイは言った。「この吉事に、今の舅殿に招待状をお送りするのをお忘れなきよう。さもなくば、もしや心を痛められるやもしれませんぞ!」そう言ってラマイは片目をつぶった。廷臣たちは皆笑い出した。遠くに座っていて話が聞こえなかった者たちでさえ、笑わずにはいられなかった。
ラマイは続けた。「歓迎の儀式には、既婚の女性方の中からジョソールの姑君様をお呼び寄せなされませ。それから『甘味はその他大勢に』と申しますが、プラタパディティヤの娘君に甘味を一皿お送りになる際には、青いままのバナナを二本添えておやりなさい。」
王は堪えきれずに笑い出した。廷臣たちはショールで口元を覆い、顔を歪めて笑った。フェルナンデスは人知れず席を立って去っていった。
ディーワーンジーは一度、気の利いたことを言おうと試みた。「『甘味はその他大勢(イタル)に』と申しますが、もし甘味が卑しい(イタル)者たちの運命にあるのなら、ジョソールで全ての甘味が使い果たされてしまい、チャンドラドウィープには甘味を食べるにふさわしい者が一人もいなくなってしまいますな!」
その言葉を聞いて、誰も笑わなかった。王は黙って水煙草を吸い始め、廷臣たちは真顔のままであった。ラマイは驚いてディーワーンの方を一度見た。一人の重臣などは、悲しそうな顔で尋ねさえした。「それはどういうことでございますか、ディーワーンジー殿?王の御婚儀で、甘味の用意がそれほど少ないとでも?」ディーワーンジーは頭を掻いた。
婚礼の話はすべて決まった。